এইচ,এম নাসির উদ্দিন আকাশ, ঝালকাঠি : ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার হয়বৎপুর-তৌকাঠি দাখিল মাদ্রাসা নানা সমস্যায় জর্জরিত। প্রতিষ্ঠার ৪০ বছর পার হলেও এখনও এমপিওভুক্তি করা হয়নি এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি। ফলে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে খুড়িয়ে খুড়িয়ে।
জানা গেছে, ১৯৭১ সালে সর্ম্পূণ নিজস্ব অর্থায়নে উপজেলার তৌকাঠী গ্রামের বাসিন্দা শিক্ষানুরাগী মরহুম মাষ্টার আলি আহম্মেদ দু’টো গ্রামের নামের সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠা করেন হয়বৎপুর-তৌকাঠী দাখিল মাদ্রাসা। এলাকার হতদরিদ্র মানুষের লেখা-পড়ার সুযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে তাঁর এ প্রচেষ্টায় এ যাবৎ অনেক প্রতিকুল অবস্থার মধ্যে ও প্রতিষ্ঠানটি টিকে আছে স্ব-মহিমায়। মাদ্রাসাটিতে বর্তমানে প্রায় ৩ শত ছাত্র-ছাত্রী অধ্যয়ন করছে। শিক্ষক আছেন ১২ জন। কিন্তু এখন অল্প সংখ্যক শ্রেনীকক্ষ আর জরাজীর্ণ পাঠকক্ষে ছাত্র-ছাত্রীদের স্থান সংকুলান হয় না। মাদ্রাসাটিতে নেই প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র। মান্দাতার আমলের গভীর নলকূপটিও অকেজো হয়ে পড়ে থাকায় শিক্ষক শিক্ষার্থীরা বিশুদ্ধ খাবার পানি পান করতে পারছে না। শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীদের সকলের জন্য একটি মাত্র টয়লেট থাকলেও তা বর্তমানে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে আছে। মাদ্রাসার সামনে শিক্ষার্থীদের খেলার মাঠটি বর্ষার মৌসুমে পানিতে তলিয়ে থাকে। বর্তমানে গণিত ও কৃষি বিষয় ভিত্তিক শিক্ষকের পদ বহুদিন যাবত শূন্য রয়েছে। কোন কোন শিক্ষক নিয়মিত ক্লাস না করেই মাস গেলে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে মাসিক বেতন তুলে নেন। প্রতিষ্ঠানটির মাঠ ভরাটের জন্য গম/চাল টি আর বরাদ্ধ প্রদান করে থাকলেও তা শাসক দলের নেতারা কাজ না করে আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, এ আসনের এমপি আলহাজ্ব আমির হোসেন আমু ২০০৯ সালে মাদ্রাসাটি সরেজমিনে পরিদর্শনে এসে ভবন নির্মাণ, ছাত্র-ছাত্রীদের খেলাধুলার মাঠ ভরাট ও একটি ঘাটলা নির্মাণ করার প্রতিশ্র“তি দিয়েছিলেন। গত সাড়ে ৪ বছরেও তার দেয়া ওয়াদা বাস্তবায়ন হয়নি। এ ব্যাপারে হয়বৎপুর-তৌকাঠি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সাইদুর রহমান জানান, নলছিটি উপজেলার এমপিওভুক্ত হওয়া অনেক মাদ্রাসার চেয়ে ফলাফল এগিয়ে থেকেও শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তাদের নজর পড়েনি এ মাদ্রাসাটির দিকে। এখন সরকারি বা বেসরকারি কোন পৃষ্ঠপোষকতা না পেলে বন্ধ হওয়ার পথে এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি।




