ads

বুধবার , ৯ অক্টোবর ২০১৩ | ৯ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় আলীমের আমৃত্যু কারাদণ্ড

রফিকুল ইসলাম আধার , সম্পাদক
অক্টোবর ৯, ২০১৩ ৩:২৬ অপরাহ্ণ

alim-2শ্যামলবাংলা ডেস্ক : একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বিএনপি নেতা ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল আলীমকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। ৯ অক্টোবর বুধবার দুপুরে বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ রায় ঘোষণা করেন। তাঁর অপরাধ মৃত্যুদণ্ডের যোগ্য ছিল বলে উল্লেখ করে ট্রাইব্যুনাল বলেছেন, আব্দুল আলীম যে অপরাধ করেছেন তা মৃত্যুদণ্ড পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু তাঁর শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে তাঁকে মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত কারাবাসের প্রদান করা হয়েছে।
তাঁর বিরুদ্ধে আনা ১৭টি অভিযোগের মধ্যে হামলা ও দেশান্তরিত হতে বাধ্য করা, গণহত্যা, হত্যা, লুণ্ঠনসহ ৯টি অভিযোগ (১, ২, ৬, ৭, ৮, ৯, ১০, ১২, ১৪) প্রমাণিত হয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে ২, ৮, ১০ ও ১৪ এ ৪টি অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমানিত হওয়ায় আদালত তার বিরুদ্ধে আমৃত্যু কারাদণ্ডাদেশ প্রদান করেন। সেইসাথে ৬, ৭, ৯ ও ১২ নম্বর অভিযোগের প্রত্যেকটিতে ২০ বছর করে এবং এক নম্বর অভিযোগে ১০ বছরের কারাদণ্ড ঘোষণা করা হয়। বাকিগুলো প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। এর মধ্যে চতুর্থ ও পঞ্চম অভিযোগে রাষ্ট্রপক্ষ কোনো সাক্ষী হাজির করতে পারেনি।
সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে আবদুল আলীমকে ট্রাইব্যুনালের হাজতখানা থেকে আসামির কাঠগড়ায় নেওয়া হয়। ট্রাইব্যুনালে আবদুল আলীমের পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর দুই ছেলে সাজ্জাদ বিন আলীম ও খালিদ বিন আলীম উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সকাল পৌনে ১০টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিজন সেল থেকে আবদুল আলীমকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ট্রাইব্যুনালে নেওয়া হয়।
সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে ৩ বিচারপতি ট্রাইব্যুনালে আসেন। রায় পড়া শুরুর আগে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেন, আব্দুল আলীমের রায়টি মূলত: ১শ ৯১ পৃষ্ঠার। তবে এটি সংক্ষিপ্ত আকারে পড়া হবে।’ রায় পড়া শুরু হলে রায়ের প্রথম অংশ পড়েন বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলাম ও দ্বিতীয় অংশ পড়েন বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া। এরপর চূড়ান্ত অংশ পড়েন ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। এটি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার অষ্টম এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর পঞ্চম রায়।
২২ সেপ্টেম্বর এই মামলার কার্যক্রম শেষে রায় অপেক্ষাধীন রাখা হয়। ওই দিন বিচারপতি ওবায়দুল হাসান, বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত ৩ সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-২-এ আলীমের বিরুদ্ধে মামলায় রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষ হয়। যুক্তি উপস্থাপন শেষে ট্রাইব্যুনাল বলেন, যেকোনো দিন এ মামলার রায় ঘোষণা করা হবে। ট্রাইব্যুনাল আলীমের জামিন বহাল রাখার আবেদন বাতিল করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আব্দুল আলীমকে ২০১১ সালের ২৭ মার্চ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জয়পুরহাটের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই বছরের ৩১ মার্চ শারীরিক অবস্থার কারণে তাঁকে জামিন দেন ট্রাইব্যুনাল-১। গত বছরের ২৭ মার্চ ট্রাইব্যুনাল-১ আলীমের বিরুদ্ধে মামলাটি আমলে নেন। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ১৬ এপ্রিল মামলাটি ট্রাইব্যুনাল-২-এ স্থানান্তর করা হয়। ওই বছরের ১১ জুন ট্রাইব্যুনাল-২ আলীমের বিরুদ্ধে ১৭টি অভিযোগ গঠন করেন। এর মধ্যে গণহত্যার ৩টি অভিযোগ রয়েছে। এগুলো হলো জয়পুরহাটের কড়ইকাঁদিপুর গ্রামে ৩শ ৭০ জন হিন্দুকে হত্যা, উত্তর হাটশহরে ৯ জনকে এবং জয়পুরহাট চিনিকলে বিচার বসিয়ে ২৫ জনকে হত্যা। অন্যান্য অভিযোগের মধ্যে হত্যার ১০টি এবং দেশান্তরকরণের একটি অভিযোগ আনা হয়েছে।
ওই মামলায় গত বছরের ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয় এবং রাষ্ট্রপক্ষের ৩৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয় চলতি বছরের ২২ আগস্ট। আসামিপক্ষের ৩ সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয় ২৭ আগস্ট থেকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। রাষ্ট্রপক্ষ ৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ কার্যদিবস এবং আসামিপক্ষ ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে পাঁচ কার্যদিবস যুক্তি দেয়। ২২ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপক্ষের আইনগত যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায় অপেক্ষামান রাখেন ট্রাইব্যুনাল।

error: কপি হবে না!