ads

শনিবার , ৫ অক্টোবর ২০১৩ | ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

ভারীবর্ষণে তলিয়ে গেছে উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ শাহজাদপুর কাপড়ের হাট : তাঁতশিল্পে কোটি টাকার ক্ষতি

শ্যামলবাংলা ডেস্ক
অক্টোবর ৫, ২০১৩ ১০:৩২ অপরাহ্ণ

bisti hatপাবনা প্রতিনিধি : গত দু’দিনের ভারীবর্ষণে উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর কাপড়ের হাট বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। ৫ অক্টোবর শনিবার শাহজাদপুর কাপড়ের হাটে দেশীয় তাঁতবস্ত্র বিক্রি করতে আসা অগণিত তাঁতী তাঁতবস্ত্র বিক্রি করতে হাটে এসে বেগতিক পরিস্থিতি দেখে চাটাই (ুদ্রাকৃতির চৌকি) বসাতে পারেননি। ফলে আসন্ন কোরবানীর ঈদ ও শারদীয় দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে তাঁতবস্ত্র বিক্রির ভরা মৌসুমে দেশীয় তাঁতবস্ত্র বিক্রি করতে না পেরে অগণিত তাঁতী দিশেহারা হয়ে পড়েছে। গত দু’দিনের ভারীবর্ষণ জনিত কারনে তাঁতবস্ত্র উৎপাদন ও বিক্রিতে মারাত্বক ধ্বস নামায় শাহজাদপুরসহ পাবনা-সিরাজগঞ্জের তাঁতীদের কমপে এক কোটি টাকার তি হয়েছে বলে তাঁতী নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন। শাহজাদপুর কাপড়ের হাটকে আধুনিকায়ন না করা ও বিশেষত বৃষ্টির পানি অপসারণের অ-কার্যকর ব্যাবস্থাই এজন্য দায়ী বলে তাঁতীরা অভিযোগ করেছেন।
শনিবার বিকেলে শাহজাদপুর কাপড়ের হাট পরিদর্শন, তাঁতী ও তাঁতী নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ঈদুল ফিতরের পরই ঈদুল আযহা ও শারদীয় দুর্গাপূজায় দেশীয় তাঁতের কাপড়ের চাহিদা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পায়। ওই ৩টি উৎসবকে উপল করেই পাবনা-সিরাজগঞ্জের লাখ লাখ তাঁতীরা সারা বছরের সার্বিক ব্যয় পুষিয়ে থাকেন এবং উৎপাদিত হাজার হাজার, লাখ লাখ জোড়া তাঁতবস্ত্র বিক্রি করে লাভবান হয়ে থাকেন। মূলতঃ ওই ৩টি উৎসবকে কেন্দ্র করে এ অঞ্চলের তাঁতীরা দেশীয় তাঁতবস্ত্র উৎপাদনের টার্গেট নিয়ে সারা বছরের সকল কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকেন। ঈদুল আযহা ও শারদীয় দুর্গাপূজার আর মাত্র কয়েক দিনে বাকি রয়েছে। এই সময়ই তাঁতীদের কাছে সবচেয়ে মূল্যবান ও তাঁত ব্যবসায়ের উর্বোত্তম মৌসুম। সেই হিসাবে এদিনের অর্ধবেলার হাটে হাজার হাজার কোটি টাকার তাঁতবস্ত্র বিক্রি হবার কথা। কিন্তু ভারীবর্ষণে শাহজাদপুর কাপড়ের হাটের টিনশেড এলাকার সিংহভাগ তলিয়ে যাওয়ায় শনিবার পানির ভেতরে হাটে আগত সহ¯্রাধিক তাঁতীরা দেশীয় তাঁতবস্ত্র বিক্রি করতে হাটে বসতে পারেনি। জানা গেছে,দেশের তাঁতবস্ত্র বিপনন কেন্দ্রের অন্যতম ও উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ শাহজাদপুর কাপড়ের হাটে প্রতি সপ্তাহের দুইদিন রোববার ও বুধবারে  খুলনা, সাতীরা, বাগেরহাট, যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুড়া, নড়াইল, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, বরগুনা, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, ভোলা, ঢাকা,
সিলেট, মুন্সিগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, বগুড়া, গাইবান্ধা, গাজীপুর, বরিশাল, লীপুর, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, নাটোর, পাবনা, গোপালগঞ্জ, চট্রগাম, ব্রাহ্মনবাড়িয়া, চাদপুর, ময়মনসিংহসহ দেশের প্রায় প্রত্যেক জেলার অসংখ্য  উপজেলা থেকেই হাজার হাজার পাইকার ও ব্যাপারীরা শাহজাদপুর কাপড়ের হাটে আসেন তাঁতবস্ত্র ক্রয় করার জন্য। শাহজাদপুর কাপড়ের হাট শুরু হয় মূলতঃ শনিবার ও মঙ্গলবার বিকেল থেকেই। আগের দিনেই তাঁতীরা তাদের উৎপাদিত সিংহভাগ তাঁতবস্ত্র বিক্রি করে থাকেন। শনিবার বৃষ্টির পানিতে হাটের টিনশেড এরিয়ার চলাচলের যায়গা তলিয়ে যাওয়ায় হাজার হাজার তাঁতী ও হাটে আগত পাইকারদের পোহাতে হয়েছে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ, সীমাহীন দুর্গতি। বৃষ্টির নোংড়া পানি ও কাঁদার মধ্যে দিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হয়ে অনেক প্রান্তিক তাঁতী দেশীয় তাঁতবস্ত্র বিক্রি করতে চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তাদের ওই চেষ্টা আলোর  মুখ দেখতে সম হয়নি। শাহজাদপুর কাপড়ের হাটে আগত তাঁতী শহিদ সাংবাদিকদের জানান, ‘বর্তমান সময়ে তার শত শত জোড়া কাপড় বিক্রি হবার কথা। নোংড়া পানি ও কাঁদা ভেদ করেও তিনি এদিন হাটে কাপড় নিয়ে বসেছিলেন।কিন্তু নোংড়া বৃষ্টির পানিজনিত কারনে তিনি মাত্র কয়েক জোড়া কাপড় বিক্রি করেছেন। বাংলাদেশ হ্যান্ডলুম এন্ড পাওয়ারলুম ওনার্স এ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি আলহাজ্ব হায়দার আলী জানান, ‘গত দু’দিনের ভারীবর্ষণে পাবনা-সিরাজগঞ্জের তাঁতশিল্পের প্রায় এক কোটি টাকার তি হয়েছে। শাহজাদপুর কাপড়ের হাটে পানি অপসারণের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় তাঁত ব্যবসায়ের ভরা মৌসুমে এদিনের হাটে তাঁতীদের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে এবং আর্থিক তি হয়েছে। অবিলম্বে শাহজাদপুর কাপড়ের হাটকে আধুনিকায়ন, হাটের উন্নয়ন ও পানি নিষ্কাষণের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন করা না হলে তাঁতী ও তাঁতশিল্পে বিপর্যয় দেখা দেবে। ’শাহজাদপুর কাপড়ের হাট তাঁত ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি আলমাছঁ আনছারী জানান, ‘শাহজাদপুর কাপড়ের প্রতিটি হাটে ছোট বড় প্রায় ১০ হাজার দেশীয় তাঁতবস্ত্র বিক্রয়কারী দোকান ও চাটাই বসে থাকে। গত দু’দিনের ভারীবর্ষণে একদিকে পাবনা-সিরাজগঞ্জের তাঁতীরা তাঁতবস্ত্র উৎপাদনে মারাত্বকভাবে মার খেয়েছেন। অন্যদিকে, শাহজাদপুর কাপড়ের হাটের টিনশেড এরিয়া ও ওই এরিয়ার পূর্বভাগে বৃষ্টির নোংড়া পানি জমে থাকায় তাঁতী ও ক্রেতারা উভয়ই চরমভাবে তিগ্রস্থ হয়েছেন। ’শাহজাদপুর উপজেলা তাঁতশ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি তাঁতী ওমর ফারুক ও সাধারণ সম্পাদক আল-মাহমুদ জানান, গত দু’দিনের ভারীবর্ষণে শাহজাদপুরসহ পাবনা-সিরাজগঞ্জের লাধিক শ্রমিকেরা স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারেনি। ফলে দিন এনে দিন খাওয়া এসব শ্রমিকদের মধ্যে অর্থাভাব দেখা দিয়েছে। বৃষ্টিজনিত কারনে হাটে বেচাকেনায় মারাত্বক নেতিবাচক প্রভাব পড়ায় তাঁতী মহাজনেরা শ্রমিকদের বিলও ঠিকমতো দিতে পারছেন না। ফলে সর্বদিক বিবেচনায় ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পের শুধু তিই হয়েছে। ’শাহজাদপুর কাপড়ের হাটের  রুনা শাড়ী বিতানের মালিক লুৎফর রহমান লিটন আকন্দ জানান, ‘সারা বছরের লোকসান ৩টি সিজনে তারা পুষিয়ে থাকেন। বৃষ্টিপাত জনিত কারনে এদিনের হাটে তার শতশত জোড়া কাপড় বিক্রি হবার কথা থাকলেও তিনি মাত্র কয়েক জোড়া কাপড় বিক্রি করেছেন।এভাবে আর দু’চারদিন চলতে থাকলে প্রান্তিক তাঁতীরা অচিরেই পথে বসে যাবে এবং ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পতিত হবে।

সর্বশেষ - ব্রেকিং নিউজ

error: কপি হবে না!