ads

রবিবার , ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৩ | ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

চালু হচ্ছে না পাকশী পেপার মিল, প্রতি মাসে সরকারের গচ্ছা ১০ লাখ টাকা : পাঁচ বছরেও বাস্তবায়ন হলোনা প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা

শ্যামলবাংলা ডেস্ক
সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৩ ৮:৪৭ অপরাহ্ণ

Paksey Paper Millপাবনা প্রতিনিধি : নির্বাচনী ইস্তেহার ও টেলিকনফারেন্সে বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণার পাঁচ বছর পার হয়ে গেলেও চালুর কোন উদ্যোগ নেই উত্তরাঞ্চলের একমাত্র সরকারি ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠান পাবনার ঈশ্বরদীর পাকশী পেপার মিলস্। ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে পাবনায় এক টেলিকনফারেন্সে আওয়ামীলীগ সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছিলেন তার সরকার মতায় গেলে পাকশী পেপার মিল চালু করা হবে।
বর্তমান সরকার মতায় এলে শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়–য়া ও স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু এবং পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী সেই প্রক্রিয়ার বাস্তবায়ন ঘটাতে ঈশ্বরদীর পাকশী পেপার মিল পরিদর্শন করে অচিরেই তা চালুর ঘোষণা দেন। কিন্তু সেই ঘোষণার ৪ বছর অতিবাহিত হলেও পাকশীস্থ নর্থ বেঙ্গল পেপার মিল চালুর কোন সম্ভাবনাই দেখছেন না মিল কর্তৃপ। আগামী ২ অক্টোবর রুপপুর পরমানু বিদ্যুৎ কেন্দ্র উদ্বোধনের জন্য ঈশ্বরদীতে আসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই উপল্েয গত ১১ সেপ্টেম্বর সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভা করেন স্থানীয় সাংসদ শামসুর রহমান শরীফ ডিলু। সে সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বর্তমান সরকারের মেয়াদে পাকশী পেপার মিল চালু করা সম্ভব হবে না। আগামীতে সরকার গঠন করা হলে পেপার মিল চালু করা হবে। অথচ মিলের ৯১ জন কর্মকর্তা কর্মচারীকে বসিয়ে বসিয়ে বেতন বাবদ প্রতি মাসে ৭/৮ লাখ টাকা ও বিদ্যুত বিল বাবদ প্রায় দেড় লাখ টাকাসহ প্রতি মাসে প্রায় ১০ লাখ টাকা অযথা গচ্ছা দিচ্ছে সরকার।
পাকশী পেপার মিলে সরেজমিন খোঁজ নিতে গেলে মিল কর্তৃপ সাংবাদিকদের জানান, মিল চালুর নুন্যতম কোন অগ্রগতির খবর তাদের কাছে নেই। তারা জানান, ২০০৯ সালের ২০ অক্টোবর পাকশী পেপার মিল চালুর উদ্যোগ হিসেবে বর্তমান সরকারের শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়–য়া ও স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু পাকশী পেপার মিল পরিদর্শন শেষে এক জনসভায় যৌথ ভাবে ঘোষণা দেন, খুব অল্প সময়ের মধ্যে পাকশী পেপার মিল চালু করা হবে। আবার তার কিছুদিন পরেই পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী পাকশীতে এসে মিল পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, সরকার নীতিগত ভাবে এই মিলটি চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মন্ত্রীদের ঘোষণায় আশার আলো দেখতে পেয়েছিল ঈশ্বরদীবাসি। অথচ ৯ বছর আগে বন্ধ হওয়া এই পেপার মিলে তিন মন্ত্রীর পরিদর্শন ও ঘোষণার ৪ বছর পেরিয়ে গেলেও পাকশী পেপার মিল চালুকরণের নুন্যতম কোন খবর না হওয়ায় হতাশা ও ােভ জানিয়েছেন ঈশ্বরদীবাসী ও খোদ মিলের কর্মকর্তারা।
তথ্য সূত্রে জানা যায়, তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে ২০০৩ সালের ৩০ নভেম্বর এই মিলটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপর বিগত নির্বাচনের আগে তত্বাবধায়ক সরকার একাধিকবার উদ্যোগ নিয়েও মিলটি চালু করতে পারেনি। এক পর্যায়ে বেসরকারি ভাবে চালুর প্রক্রিয়া হিসেবে প্রাইভেটাইজেশন বোর্ডের মাধ্যমে মিলটি বিক্রি করার জন্য একাধিকবার টেন্ডার আহবান করা হয়। একটি গ্র“প অব কোম্পানি ৫২ কোটি টাকায় দরপত্র দাখিল করলে সেটিও বাতিল হয়। পরবর্তিতে এই টেন্ডার নিয়ে প্রাইভেটাইজেশন বোর্ডের সঙ্গে মামলাও হয়। ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে আওয়ামীলীগের নির্বাচনী ইশতেহারে মিলটি চালুর ঘোষণা এবং সে সময় টেলিকনফারেন্সের ভাষণে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামীলীগ মতায় গেলে পাকশী পেপার মিল চালু করবে বলে প্রতিশ্র“তিও দিয়েছিলেন। সর্বশেষ পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকি সাড়ে তিন বছর আগে পাকশীতে এসে মিল পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, সরকার নীতিগত ভাবে এই মিলটি চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সে মতে বিজিএমসি, চীনা প্রতিনিধিদলসহ মন্ত্রণালয়ের উর্ধতন কর্মকর্তারাও একাধিকবার মিলটির খুঁটিনাটি পর্যবেণ করেছেন। অথচ মিলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে এখন পর্যন্ত মিল চালুর বিষয়ে নুন্যতম কোন প্রক্রিয়াই শুরু হয়নি। ওই সব পর্যবেণ আর ঘোষণার বাস্তব কোন পদপে এখনো গ্রহণ করেনি সরকার।
পাকশী পেপার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শাহীন কামাল জানান, এখন পর্যন্ত মিল চালুর কোন খবর তাদের কাছে নেই। মিলটি রণাবেণ করতে এখনো এম.ডি, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও হিসাব রকসহ ৩ জন কর্মকর্তা, ১৮ জন কর্মচারী, ১০ জন সিকিউরিটি এবং ৬০ জন আনসার মিলিয়ে ৯১ জনের বেতন বাবদ প্রতিমাসে ৭/৮ লাখ টাকা এবং প্রতি মাসে বিদ্যুৎ বিল বাবদ প্রায় দেড় লাখ টাকাসহ প্রায় ১০ লাখ টাকা অযথাই গুনতে হচ্ছে সরকারকে। এক সময়ের জমজমাট মিল এলাকা এখন পরিণত হয়েছে ভুতুরে ভূমিতে। যন্ত্রপাতি ও ভবনসহ নানা স্থাপনা ধীরে ধীরে অকেজো হয়ে যাচ্ছে। বিশাল এলাকার জমি-জমাও ঠিকমত রনাবেণ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।

error: কপি হবে না!