ads

বৃহস্পতিবার , ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৩ | ১১ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

শেরপুরের শ্রীবরদীতে এক অসহায় মুক্তিযোদ্ধা পরিবার

রফিকুল ইসলাম আধার , সম্পাদক
সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৩ ২:৪৩ অপরাহ্ণ

Morshed Aliএম.আর.টি.মিন্টু, শ্রীবরদী (শেরপুর) : কবির ভাষায় ‘সংসার সাগর দু:খ তরঙ্গের খেলা, আশা তার একমাত্র ভেলা।’- শত দু:খ কষ্ট অবহেলা বঞ্চনা আর দরিদ্রতার কষাঘাতে স্পৃষ্ট এক প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা মোরশেদ আলীর পরিবার। ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার ডেফুলিয়ার বাঁশতলা হাওর অঞ্চলে জন্ম গ্রহণ করেন মোরশেদ আলী। তিনি প্রয়াত আছর উদ্দিনের পুত্র। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত অবস্থায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু’র আহ্বানে সাড়া দিয়ে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। বৃহত্তর ময়মনসিংহের ১১নং সেক্টরের অধীনে সক্রিয়ভাবে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে বীরত্বের স্বাক্ষর স্থাপন করেন। দেশ মাতৃকাকে ভালবেসে দীর্ঘ ৯ মাস বিরামহীনভাবে যুদ্ধ করে প্রশংসা কুৃড়িয়েছেন তিনি। তীক্ষè বুদ্ধিসম্পন্ন মোরশেদ আলী ১১নং সেক্টরের কমান্ডার কালজয়ী পুরুষ কর্ণেল আবু তাহেরের আস্থাভাজন হতে সক্ষম হয়েছিলেন। যুদ্ধচলাকালীন সময়ে পাকসেনাদের হাতে পাকড়াও হয়ে সেনাশিবিরে নির্মম নির্যাতনের শিকার হন তিনি। এক পর্যায়ে পাকসেনারা তাকে হত্যার পরিকল্পনা নিলে তার দূর সম্পর্কিয় আত্মীয় রাজাকার হওয়ার সুবাদে পাক সেনাদের হাত থেকে মুক্তি পান তিনি।  নতুন উদ্যমে ফের মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েন তিনি। এরই এক পর্যায়ে সম্মুখযুদ্ধে হানাদার বাহিনীর গুলিতে গুরুতর আহত হয়ে ময়মনসিংহের একটি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়ে সামান্যতম সুস্থ্য হয়ে আবারও যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা মোরশেদ আলীর অদম্য সাহসিকতা, সুক্ষ্ম রণকৌশল- কবি সুকান্তের অমিয় বাণী এখানেই যথার্থতা পেয়েছে ‘সাবাস বাংলাদেশ! এ পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়, জ্বুলে-পুড়ে-মরে ছারখার তবু মাথা নোয়াবার নয়’। ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর বাংলাদেশ নামে স্বাধীন রাষ্ট্রে ১৯৭৩ সনে পুলিশ কনস্টেবল পদে যোগদান করে সাহসিকতা ও সুনামের সাথে ২০০৩ সালে অবসর গ্রহণ করেন। চাকুরি শেষে প্রাপ্ত পেনশনের টাকা দিয়ে শেরপুর জেলার শ্রীবরদীর উত্তর বাজারস্থ ১৩ ডেসিমেল জমি খরিদ করে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে থাকেন। মোরশেদ আলী পৌরবাসীর কাছে অকৃতিম বন্ধু হিসেবে স্থান দখল করে নেন। যে কোন ব্যক্তির বিপদ-আপদের নিত্যসঙ্গী হয়ে নন্দিত এই মুক্তিযোদ্ধা বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদের বিশ্বাসী হিসেবে বিভিন্ন সমাজ কল্যাণ মূলক সংগঠনের সাথে জড়িয়ে পড়েন।
ওই মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী মেরিনা বেগম শ্যামলবাংলাকে জানান, পেনশনের টাকায় ব্যবসা করতে গিয়ে লোকসান গুণতে হয় তাকে। এ অবস্থায় চাকরিকালীন অবসরভাতা ও সামান্য মুক্তিযোদ্ধা ভাতায় সংসার চালানো দুর্বিষহ হয়ে পড়লে শ্রীবরদী সোনালী ব্যাংক শাখা থেকে ১ লাখ টাকা সিসি ঋণ ও বিভিন্ন এনজিও হতে আরও ৫০ হাজার টাকা ঋণ গ্রহণ করেন। কিন্তু তার কোন আয়-রোজগার না থাকায় ঋণের কিস্তি পরিশোধ কষ্টাসাধ্য হয়ে পড়ায় ঋণের চাপে অতিষ্ট হয়ে পিতৃভূমিতে গিয়ে পৈত্রিকসূত্রে প্রাপ্ত ৫ শতাংশ জমি বিক্রি করার জন্য জ্ঞাতী-গোষ্ঠীদের নিকট ধর্ণা দিয়ে ব্যর্থ হলে ১২ জুন ৬২ বছর বয়সে নিজ জন্মভিটায় ‘হার্টএটাক’ এ মৃত্যুবরণ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মোরশেদ আলী। মৃত্যুকালে স্ত্রী মেরিনা বেগম, ৪ কন্যা মৌসুমী আক্তার ময়না, বিবিএ ২য় বর্ষের ছাত্রী মাহমুদা আক্তার মুক্তা, বিজ্ঞানের দশম শ্রেনীর ছাত্রী রাজিয়া আক্তার মিশু, চতুর্থ শ্রেনীর ছাত্রী মনিকা আক্তার ও ২ পুত্র জন্মলগ্ন হতে মানসিক প্রতিবন্ধী মানিক মিয়া ও প্রথম শ্রেনীর ছাত্র মাহফুজুল হক। বর্তমানে সংসারে উপার্জনক্ষম কোন ব্যক্তি না থাকায় বিধবা মেরিনা আক্তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অতিকষ্টে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। মেরিনা বেগম জানান, বিবাহযোগ্য মেয়ে ও শিশু ও প্রতিবন্ধী সন্তানদের নিয়ে দুশ্চিন্তায়  নির্ঘূম রাত কাটে তার। তার দুই কন্যা মৌসুমী আক্তার ও মাহমুদা আক্তার সহকারী প্রাথমিক শিক্ষক পদে লিখিত পরীক্ষায় কৃতকার্য হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসাবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হলে সংসারের অভাব-অনটন সামান্য হলেও লাঘব হবে।
জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও সচিব কর্তৃক সাক্ষরিত ২০০২ সালে প্রকাশিত গেজেটে ৪২৬৫ নং ক্রমিকে শুদ্ধভাবে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে মোরশেদ আলীর নাম লিপিবদ্ধ আছে। এছাড়া ২০ অক্টোবর/২০১০ ইং তারিখে নবনির্বাচিত মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল, জেলা ও উপজেলা কমান্ডের অভিষেক/২০১০ জমকালো আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে শপথ বাক্য পাঠ করান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধান মন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। সেখানেও উপস্থিত থেকে শপথ বাক্য পাঠ করেন প্রয়াত বঙ্গবন্ধু’র আদর্শের সৈনিক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের নিবেদিত প্রাণ যুদ্ধাহত এই বীর মুক্তিযোদ্ধা মোরশেদ আলী। মেরিনা বেগম আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, অনেক আশায় বুক বেধে প্রয়াত স্বামী মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে ন্যায়ের প্রতি আজীবন অবিচল ছিলেন তিনি। অবশেষে তার ২ মেয়ে মৌসুমী আক্তার ও মাহমুদা আক্তার এর সহকারী প্রাথমিক শিক্ষক পদে নিয়োগ দিয়ে অসহায়, এতিম ও অভাবগ্রস্থ পরিবারকে রক্ষা করতে বঙ্গবন্ধু কন্যা, জননেত্রী প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

Need Ads

সর্বশেষ - ব্রেকিং নিউজ

Shamol Bangla Ads
error: কপি হবে না!