জামালপুর সংবাদদাতা : টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জামালপুরের ৬টি উপজেলার প্রায় ৩০টি ইউনিয়ন বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় দেড় লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং প্রায় ১৬ হাজার হেক্টর জমির রোপা আমন ফসল বন্যায় তলিয়ে গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ২০ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে জামালপুর বাহাদুরবাদ পয়েন্টে বিপদ সীমার ৪১.৮৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
অব্যাহত পানি বৃদ্ধির ফলে জেলার ইসলামপুর, দেওয়ানগঞ্জ, বকশীগঞ্জ, সরিষাবাড়ী, মেলান্দহ ও মাদারগঞ্জ উপজেলার ৩০টি ইউনিয়ন বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। বন্যায় ইসলামপুর উপজেলার সাপধরি, চিনাডুলি, নোয়ারপাড়া, বেলগাছা, কুলকান্দি, পাথর্শী ও ইসলামপুর সদর ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমির রোপা আমন ফসল বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।
দেওয়ানগঞ্জের খোলাবাড়ি, চুকাইবাড়ি, চিকাজানি ও সানন্দাবাড়ি এলাকার প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমির রোপা আমন ফসল বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।
বকশীগঞ্জের সাধুর পাড়া, মেরুরচর, নিলক্ষিয়া ইউনিয়নের ১৪টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে এবং এক হাজার হেক্টর জমির রোপা আমনের ক্ষতি হয়েছে।
মেলান্দহ উপজেলার মাহমুদপুর ও কুলিয়া ইউনিয়নের প্রায় ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। ওই ২ ইউনিয়নের প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমির রোপা আমন ফসল বন্যার পানির নিচে তলিয়ে গেছে। মাদারগঞ্জ উপজেলার ৩টি ইউনিয়নের প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি রয়েছে।
সরিষাবাড়ীর পিংনা, আওনা, পোগলদিঘা, সাতপোয়া ও কামরাবাদ ইউনিয়নের ৪০টি গ্রামের কমপক্ষে ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়েছে। এসব এলাকার প্রায় পাঁচ হাজার হেক্টর জমির রোপা আমন ধান তলিয়ে গেছে।
ইসলামপুরের নোয়ারপাড়া ইউনিয়নে বন্যার পানিতে ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এছাড়াও বন্যার পানিতে ওই ইউনিয়নের তাড়তাপাড়া এলাকায় স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত ২ কিলোমিটারের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ কাজলা-কাঠমা এলাকার ২শ ঘর-বাড়ি যমুনাগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এদিকে, চিনাডুলি ইউনিয়নের প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। এসব পানিবন্দি মানুষের ঘরে ঘরে বিশুদ্ধ পানি ও রান্না করা খাবারের দেখা দিয়েছে।
জামালপুর জেলা কৃষি সম্পসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবুল কাশেম জানান, এ পর্যন্ত জেলার ১০ হাজার হেক্টর জমির রোপা আপন বন্যায় নষ্ট হয়েছে।
জামালপুর জেলা প্রশাসক দেলওয়ার হায়দার জানান, এ পর্যন্ত বন্যা দুর্গতদের জন্য সরকারিভাবে ১০ মেট্রিক টন চাউল বরাদ্দ করা হয়েছে।




