শ্যামলবাংলা ডেস্ক : বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গণতন্ত্রের লেবাসে একদলীয় বাকশালী আইন জনগণ কখনও মেনে নেবে না। যে আইন জনগণের অধিকার হরণ করে, সে আইন দেশের জনগণ প্রত্যাখান করবে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলা বন্ধ করতেই তথ্যপ্রযুক্তি আইন সংশোধন করা হচ্ছে। ১১ সেপ্টেম্বর বুধবার বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ষষ্ঠ কারামুক্তি দিবসে বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি ওইসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, আজকের লড়াই কঠিন লড়াই, আজকের সংগ্রাম কঠিন সংগ্রাম। জনগণ জেগে উঠেছে। তাই মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের জনগণকে অবরুদ্ধ করে রাখা যাবে না। জনগণ অবশ্যই দেশনেত্রীর নেতৃত্বে কঠিন আন্দোলনের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন আদায় করে ছাড়বে।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ জেনে গেছে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে তাদের পক্ষে জয়লাভ করা সম্ভব নয়। বর্তমান সরকার অতীতের ন্যায় গণতন্ত্রের লেবাসে ভিন্ন পোশাকে একদলীয় বাকশাল কায়েম করতে চাচ্ছে। এদেশে জাতীয়তাবাদী শক্তি থাকতে আওয়ামী সরকারের ওই দিবাস্বপ্ন কখনও পূরণ করতে দেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়ার অবদান দেশবাসী কখনও ভূলতে পারে না, ভূলবে না।

স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, জাতিসংঘের অধিবেশনে দেশের পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বনেতাদের জবাব দিতে পারবেন না বলেই তিনি সেখানে যেতে চাননি। কিন্তু আমরা বিরোধী দল যখন এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছি, তাই প্রধানমন্ত্রী এখন যেতে চাইছেন। নির্দলীয় সরকারের অধীনে ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় উল্লেখ করে বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরামের ওই নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে গেছেন। এজন্য তিনি কারো কথাই শুনছেন না। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে জনগণের দাবির কাছে মাথানত করতে হবে।
স্থায়ী কমিটির সদস্য আ স ম হান্নান শাহ বলেন, আমাদের দাবি নির্দলীয় সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে, তা না হলে নেত্রী যে কর্মসূচি দেবেন তা শত প্রতিবন্ধকতা স্বত্বেও যে কোন মূল্যে সফল করা হবে। তিনি বলেন, যদি দাবি না মেনে নেয়া হয় তাহলে রেলপথ, রাজপথ, নৌপথ বন্ধ হয়ে যাবে। দাবি আদায়ে আন্দোলন চলবে।

স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, বিএনপিকে বেকায়দায় ফেলে নির্বাচনে নিতে একটি চক্র কাজ করছে। চক্রান্ত করে হয়তো বিএনপিকে সাময়িকভাবে দমানো যায় কিন্তু চিরকালের জন্য নয়। তিনি বলেন, বিএনপির ভেতরে-বাইরে এমনকি দেশের বাইরেও এ চক্রান্ত চলছে। এ ব্যাপারে বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহবান জানান তিনি।
আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা, যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, প্রচার সম্পাদক জয়নুল আবদিন ফারুক, অর্থ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সালাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি এমাজউদ্দিন আহমেদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি মোস্তাহিদুর রহমান প্রমুখ।
