ads

শনিবার , ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৩ | ২রা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

সঞ্জীব চন্দ বিল্টু’র ভ্রমণ কাহিনী : আমার দেখা নয়াদিল্লী

শ্যামলবাংলা ডেস্ক
সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৩ ৪:১৯ অপরাহ্ণ

Biltu
এবার ঘুরে এলাম ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লী। নয়াদিল্লীর এখন নতুন পরিচিতি ‘বনায়নের রাজধানী’।
চলতি বছরের মে মাসে স্বদেশের রাজধানী ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে ভারতীয় একটি বিমানে সকাল সোয়া ৯টায় নয়াদিল্লীর উদ্দেশ্যেই ছিল আমার যাত্রা। সঙ্গে ছিলেন ঐতিহ্যবাহী শেরপুর পৌরসভার মেয়র হুমায়ুন কবীর রুমান। ভারতীয় সময় সকাল সাড়ে ১১টায় দিল্লী এয়ারপোর্টে পৌছি আমরা। আমাদেরকে স্বাগত জানানোর জন্য সেখানে পূর্ব থেকেই অপেক্ষা করছিলেন দিল্লীস্থ বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) এর ব্যুরোচীফ সুভাস চন্দ বাদল। সরকারী গাড়ী নিয়ে এয়ারপোর্ট ১নং গেটে ছিল তার অপেক্ষা। এয়ারপোর্ট থেকে বেরিয়ে বাদল দা’র সাথে কুশল বিনিময়। স্বদেশের পৈত্রিক নিবাস থেকে যাওয়া অনুজ আর যে শহরের ধুলি-মাটির সাথে মিশে আছে অস্তিত্ব, সেই পুরনো শহরের নগরপিতাকে কাছে পেয়ে আমাদের চেয়ে আনন্দের বেশিরভাগ অনুভূতির ছাপ লক্ষ্য করি বাদল দা’র মাঝেই। অত:পর তার গাড়ীতে ওঠেই প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে নয়া দিল্লীস্থ বাঙ্গালী অধ্যুষিত এলাকা সি’আর পার্কে তার বাসভবনে গিয়ে উঠি আমরা। এরই মধ্যে বাদল দা’র স্ত্রী আমাদের জন্য খাওয়ার ব্যবস্থা করে ফেলেন। খাওয়া দাওয়া সারতেই আমাদের দু’জনকে দেখিয়ে দিলেন একই বাসভবনের দু’টি থাকার রুম।
এরপর আমরা দু’জন বাদল দা’র সরকারী গাড়ীতে দিল্লী শহর ঘুরতে বেরিয়ে পড়লাম। তার বাস ভবন থেকে সফর সঙ্গী হলেন ড্রাইভার প্রবীর ও বাদল দা’র ছেলে অয়ন। সে দিল্লীর একটি স্কুলে পড়াশুনা করে এবং ৫টি ভাষায় কথা বলতে পারে। সেদিন দিল্লীতে তাপমাত্রা ছিল ৪৭০ সে:। দিল্লীর ব্যস্ততম সেন্ট্রাল মার্কেটে গিয়ে মেয়র সাহেব ৪টি আইসক্রীম কিনলেন। আমরা ৪ জন গাড়ীতে খেয়ে ৩ জনই আইসক্রীমের খোসা দিল্লীর রাজপথে ফেলে দেই। কিন্তু অয়ন তার খোসাটি হাতে রেখে গাড়ী থামিয়ে নির্ধারিত ডাস্টবিনে তা ফেলে দেয়। তখন মেয়র আমাকে বললেন, এখান থেকে আমাদের শিক্ষা নেওয়া উচিত।
এদিন রাত ৮টায় বাদল দা’র বাসভবনে আমরা ফিরলাম। তারপর বাদল দা বললেন রুমান তোমাদের সফরের কর্মসূচী কী? তখন রুমান বললেন, কাকা আমরা জয়পুর, আজমীর শরীফ, আগ্রার তাজমহল, মথুরা বৃন্দাবন ঘুরতে যাবো। বাদল দা বললেন, সে তো তিন দিনের যাত্রা। বাদল দা একটি রেন্ট-এ-কারের ড্রাইভারকে খবর দিলেন। তিনি আসলেন এবং এই সফরের জন্য ভাড়া বাবদ ১৪ হাজার রুপি চাইলেন। সাথে সাথে মেয়র সাহেব রাজি হলেন। পর দিন সকাল সাতটায় ড্রাইভার মাসুম তার গাড়ীটি নিয়ে বাদল দা’র বাসার সামনে হাজির হলেন। আমরা গাড়ীতে উঠে এককালের মরুভূমি বর্তমানে সুজলা-সুফলা শষ্যের ভান্ডার রাজস্থান রাজ্যের রাজধানী জয়পুরের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। দিল্লী থেকে আমরা হরিয়ানা হয়ে জয়পুুর পৌছলাম। তখন দুপুর ১টা। আমরা দু’ঘন্টার মধ্যে পিংক সিটি জয়পুর শহর ঘুরে ফেললাম। ৪টার সময় ড্রাইভার বললেন, আমরা কোথায় থাকবো? আমি বললাম, এখান থেকে আজমীর শরীফ কত দূর? মাসুম বললেন, ১৩৫ কিলোমিটার। এরপর আমরা সন্ধ্যার আগে আজমীর শরীফ পৌছলাম। মেয়র রুমান আজমীর শরীফের মাজার জিয়ারত করলেন। এরই মধ্যে আমরা রাস্তায় খাওয়া সেরে ফেলেছি। একটি কথা জানা ভালো। ভারতীয় ওই অঞ্চলে মাছ, মাংসের প্রভাব কম। সেখানে যে কোন হোটেলে নিরামিষ পাওয়া যায়। আজমীর শরীফ থেকে আমরা রাতেই আবার জয়পুরে ফিরে যাই। সেখানে একটি হোটেলে রাত যাপন করে সকালে আবার আগ্রার উদ্দেশ্যে রওনা হই। সকাল ১১টায় আমরা আগ্রা পৌছি। আগ্রার তাজমহল দেখতে হলে ভারতীয়দের জন্য মাত্র ২০ রুপি প্রবেশ মূল্য দিতে হয়। অন্যান্য দেশের জন্য ৭৫০ রুপি। আর সার্কভুক্ত দেশের জন্য ৪৯০ রুপি। মেয়র সাহেব ২০ রুপি দিয়ে পৃথিবীর সপ্তম আচার্য স্থাপনা তাজমহলে ঢুকে গেলেন। আর আমাকে ৪৯০ রুপি প্রবেশ মূল্য দিয়ে ঢুকতে হলো। মনের আনন্দে যমুনা নদী সংলগ্ন তাজমহল ঘুরে ঘুরে দেখলাম। যখন তাজমহল থেকে বের হলাম তখন মনটা বেশ খারাপ হয়ে গেল। একজন বাঙ্গালী আমাকে বললেন, ওই দূরে দেখুন একটি রাজপ্রসাদ ও জানালা। আমি বললাম সেটা কী? তিনি বললেন, ইতিহাসের ট্রাজেডি। বিষয়টি বুঝতে দেরি হলো। পরে মনে হলো সম্রাট শাহজাহানের ছেলে আওরঙ্গজেব তার বাবা ও মা মমতাজ বেগমকে বন্দি করে এই প্রসাদে রেখেছিলেন এবং সেই প্রসাদের জানালা থেকে সম্রাট শাহজাহান তার প্রিয় তাজমহলটি দেখতেন। যাইহোক আমরা বিকেল ৩টার সময় গাড়ীটি নিয়ে উত্তর প্রদেশের দিকে হিন্দুদের তীর্থস্থান ভগবান শ্রী কৃষ্ণের জন্ম স্থান মথুরায় রওনা হয়ে বিকেল ৪টায় পৌছলাম। সেখানে বিশাল কৃষ্ণ মন্দির পরিদর্শন করে আমরা চলে গেলাম হিন্দুদের আরেক পবিত্র স্থান বৃন্দাবনে। সেখানে বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী মন্দিরগুলো পরিদর্শন করে রাত ১১ টায় দিল্লী পৌছলাম। এই দু’দিনে প্রায় ১৮’শ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেছি। পরের দিন আমরা আবার বাদল দা’র গাড়ী নিয়ে দিল্লী রাজঘাট গেলাম, যেখানে ভারতীয় স্থপতি মহাত্মা গান্ধীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের স্মৃতিসৌধ। সেখান থেকে পুরান দিল্লীতে অবস্থিত পৃথিবীর অন্যতম সুন্দর দিল্লী জামে মসজিদে গিয়ে মেয়র রুমান নামাজ আদায় করলেন। নামাজ শেষে আমরা চলে গেলাম ভারতীয় পরাশক্তির নায়ক ইন্দিরা গান্ধীর বাসভবনে। সেখানে ঘুরে ঘুরে আমরা তার বিভিন্ন রুম পরিদর্শন করলাম। যেখানে দূর্বৃত্তদের হাতে ইন্দিরা নিহত হয়েছিলেন, সেই জায়গাটি পরিদর্শন শেষে মেয়র সাহেব আমাকে বললেন, বিল্টু কাকা, ইন্দিরা গান্ধী যে সাদামাটা জীবন যাপন করতেন এই বাসভবনে ঢুকলে বুঝা যায়। আমি তখন বললাম, রাজনীতিবিদদের যদি সুযোগ হয় ইন্দিরা গান্ধীর বাসভবন দেখে যাওয়া উচিত। ইতিহাসে পড়েছি ইন্দিরা গান্ধীর বাসভবনে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। এই বাসবভনে স্বাধীন বাংলার অস্থায়ী রাষ্ট্র্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজ উদ্দিন আহমেদ ও ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলামের মত লোকজন ঘনঘন বৈঠক করেছেন। সেই বাড়ির দেওয়ালে এখনও  ঝুলছে স্বাধীন বাংলার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি। সেখান থেকে আমরা দিল্লী প্রেসক্লাব, রাষ্ট্রপতি ভবন, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন, শাস্ত্রী ভবন, সংসদ ভবন, অক্ষয় মন্দির, কালী মন্দির, কুতুব মিনার, লাল কেল্লা, নিজাম উদ্দিন আউলিয়ার মাজারসহ বিভিন্ন স্থান ঘুরে ঘুরে দেখলাম। মেয়র সাহেব অতিরিক্ত তাপমাত্রার ফলে একদিন পর দিল্লী থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন। আর আমি আমার বড় ভাইয়ের বাসায় কয়েকদিন থাকার পর বাংলাদেশ বিমানে ঢাকায় ফিরি। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ বিমানের পাইলট শাহানার পরিচালনায় বিমান যাত্রা অত্যন্ত আরামদায়ক মনে হয়েছে দিল্লি বিমানের চেয়ে। দিল্লী শহরে ২ কোটি লোকের বসবাস। সেখানে ১৬০টি দেশের কুটনৈতিক অফিস রয়েছে। দিল্লী শহরের প্রতিটি রাস্তা চার লেন বিশিষ্ট। সেখানে কোন যানজট নেই। যানজট না থাকার বড় কারণ হচ্ছে পাতাল রেল এবং ফ্লাইওভার । দিল্লীর একজন সাংবাদিক বন্ধু আমাকে জানান, পরিবেশ বিশুদ্ধ রাখার জন্য প্রায় এক/দেড় লক্ষ নিম গাছ রোপন করা হয়েছে। শহরে প্রচুর গাছপালা থাকার জন্য দিল্লীকে বলা হয় ‘বনায়নের রাজধানী’।
দিল্লী ভ্রমণ আমার কেবল শান্তি আর স্রান্তি নয়, তা আমার জানার ও শিক্ষার ভ্রমণ। আমার স্মৃতিপটে অবশ্যই যা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। পাঠক, নিজের জানার জগতকে সমৃদ্ধ করতে আপনিও ঘুরে আসতে পারেন দিল্লী।
লেখক : সিনিয়র সহ-সভাপতি, শেরপুর প্রেসক্লাব ও শেরপুর প্রতিনিধি, বাসস।

error: কপি হবে না!