ads

শুক্রবার , ৩০ আগস্ট ২০১৩ | ২রা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

ওরা মেথর নয়- ওরা হরিজন : দেবজ্যোতি সাহা দুলাল

শ্যামলবাংলা ডেস্ক
আগস্ট ৩০, ২০১৩ ৮:৪২ অপরাহ্ণ

HoriJon Pপৃথিবীতে সব শ্রেণী পেশার মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। এখানে এক শ্রেণীর মানুষ আছে যাদের কে আমরা মেথর বলে সম্বোধন করি। মেথর মানে, যারা আমাদের মল-মূত্র, বাড়ীর ড্রেন, শহরের নোংরা আবর্জনা পরিস্কার করে জীবিকা নির্বাহ করেন। ভোর হলেই ওরা বাড়ী থেকে বেড়িয়ে পড়েন নিত্য দিনের কাজের জন্য। চলে যান বাসা বাড়ী সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে। আর এই গোত্রের লোকদের সভ্য সমাজের মানুষেরা ঘৃনার চোখে দেখে। অনেকে মেথরকে স্পর্শ করলে নাকি অপবিত্র হয়ে যাবে। বিশেষ করে হিন্দুরা। ছোট বেলায় দেখেছি যদি কোন হিন্দু, মেথরকে স্পর্শ করে তবে তাকে স্নান করে শুচি হয়ে গৃহে প্রবেশ করতে হয়েছে। এরকম অনেক মুসলিম পরিবারের লোকদেরও দেখেছি। কিন্তু যুগের সাথে তাল মিলিয়ে এখন এর অনেকটা পরিবর্তন হয়েছে। আমরা কি কোন দিন নিজের বিবেককে প্রশ্ন করেছি? ওরাও আমাদের মতই মানুষ। ওদেরও আমাদের মত মানবিক গুনাবলী রয়েছে। কত কষ্টে চলে ওদের জীবন প্রবাহ। অনেক প্রকার লাঞ্ছনা-গঞ্জনা সহ্য করে ওরা আজও টিকে আছে আমাদের সমাজে। আমাদের সমাজে যদি ওরা না থাকত তাহলে কে বা কারা আমাদের মল-মূত্র, ময়লা আর্বজনা, পরিস্কার করে দিত? ওরা না থাকলে, আমাদের নিজেদেরই তো মেথরের কাজ করতে হতো তাই নয় কি? এটা কি আমরা কখনো ভেবে দেখেছি যে, তাদেরও আমাদের মত মন আছে, বেঁচে থাকার জন্য আমরা তাদেরকে আন্তরিক ভাবে সহনশীলতার হাত বাড়িয়ে দেই না? কবি গরু রবীন্দ্রনাথ মেথর শব্দটিকে কেটে দিয়ে ওদের নাম রাখলেন হরিজন। হরি মানে হিন্দুদের ভগবান আর জন মানে মানুষ। হরিজন অর্থটিকে রবীন্দ্রনাথ বুঝাতে চেয়েছেন হরিজন মানে ভগবানের মানুষ। “ওরা মেথর নয় ওরা হরিজন”। তাই আজ বিভিন্ন জায়গায় দেখা যায় মেথর পল্লীর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে হরিজন পল্লী। কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ রচিত নাটক “অচলায়তন” দেখার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল। নাটকে দেখানো হয়েছে হিন্দুদের শ্রেষ্ঠ বর্ণ ব্রাহ্মন সমাজের সাথে মেথর সম্প্রদায়ের কিভাবে মহা মিলন ঘটেছে। তাই রবীন্দ্রনাথ নাটকটিতে লিখেছেন এটা “অচলায়তন”। এটা ভেঙ্গে দাও, গুড়িয়ে দাও। মানুষে মানুষে কোন ভেদা ভেদ নেই। হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, সবাইকে এক স্রষ্টাই সৃষ্টি করেছেন। সবারই শরীরের রক্ত লাল। প্রত্যেক ধর্মই বলে মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। তাই আমাদের জাতি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে মনে রাখতে হবে ওরা হরিজন। ওরাও মানুষ। একটা কথা না লিখেও পারছিনা। আজকাল আমরা দেখি হরিজনেরা মাদকাসক্ত। হরিজনেরা মাদকাসক্ত হয়ে মল-মূত্র, ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করে । তাদের পল্লীতে চলে নেশার আসর। হরিজন ভাইদের কাছে আমার বিনীত অনুরোধ এই মাদকের নেশা এখনি পরিহার করুন। ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেন মাদকের আড্ডা। সুস্থ ও সুন্দর ভাবে জীবন যাপন করুন। আপনার সম্মানকেও মাদকের হাত থেকে বাঁচান। আপনার সন্তানদের বিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে দিন। ওদের ভিতর মনুষত্ব জাগিয়ে তুলুন, ওদেরকে শিক্ষার আলো দেখান। আর সব শ্রেণী পেশার মানুষের কাছে আমার সবিনয় অনুরোধ মেথরকে আপনারা কেউ মেথর বলবেন না। হরিজন বলে ডাকুন। হরিজনেরা সবাই সুখি হোক, সবাই সুখে শান্তিতে বসবাস করুক এটাই স্রষ্টার কাছে আমার কামনা। পাঠক ভাইদের কাছে আমার সবিনয় অনুরোধ আমার লেখার বেশী করে সমালোচনা করুন। কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, ‘যে সৃষ্টির কোন সমালোচনা হয় না। সেটা কোন সৃষ্টিই না’। আপনাদের সমালোচনায় আমার সৃষ্টি হবে সত্য ও সুন্দর।

error: কপি হবে না!