ads

শনিবার , ২৪ আগস্ট ২০১৩ | ৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

রাজনীতিতে চুলতত্বের বাহাস : আর নয় চুলোচুলি, কোলাকুলিতে হোক সমাধান

শ্যামলবাংলা ডেস্ক
আগস্ট ২৪, ২০১৩ ১১:৩৯ অপরাহ্ণ

01 Adhar
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনক্ষণ যতই ঘনিয়ে আসছে, নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের বিতর্ক আর অনড় অবস্থানে  দেশের রাজনৈতিক অঙ্গণ ততই সরগরম-উত্তপ্ত হয়ে ওঠছে। ওই অবস্থায় হালে নতুন মাত্রা যোগ করেছে ‘চুলতত্বের বাহাস’। ‘চুল’ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়ার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ওই চুলতত্বের বাহাসে এখন জড়িয়ে পড়েছেন সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী এবং বিরোধী দলের শীর্ষ নেতারাও। পরিবর্তিত অবস্থায় খোদ প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেত্রীসহ স্ব স্ব বলয়ের শীর্ষ নেতারা এখন পরস্পর মুখোমুখি। কেউ কাউকে একচুল ছাড় দিচ্ছেন না, নমনীয় হওয়ার বিন্দুমাত্র লক্ষণও নেই কারও মাঝে। তাদের বাগযুদ্ধ, জবাব-পাল্টা জবাব, অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ কেবল রাজনীতিতে ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস বা বিপদসংকেত টেনে আনছে না, মাঠ পর্যায়েও তার তুমুল ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া কাজ করছে।
নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা প্রসঙ্গে ১৮ আগস্ট গণভবনে আয়োজিত জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনীতিতে শুরু হয় ওই চুলতত্বের বাহাস। সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী পরিস্কার বলে দিয়েছিলেন, ‘তিনি সংবিধান থেকে একচুলও নড়বেন না। জাতীয় নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ীই অনুষ্ঠিত হবে।’ আর প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ওই বক্তব্যের ২৪ ঘন্টা পার না হতেই পরদিন ১৯ আগস্ট সোমবার সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশে বিরোধী দলীয় নেতা, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া তার জবাব দিলেন ভিন্নভাবে। তিনি বলে ফেললেন, ‘সংবিধান থেকে না নড়লে আপনার সব চুলইতো উড়ে যাবে। দিশেহারাও হয়ে যাবেন। এমনকি অস্তিত্ব নিয়েও টানাটানি পড়বে।’ আর ওই তর্ককে না থামিয়ে বরং তা ছড়িয়ে দিয়েছেন উভয় দলের শীর্ষ নেতারাই। বিরোধীদলীয় নেত্রীর বক্তব্যের জবাবে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোঃ নাসিম বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর চুল উড়িয়ে দিতে চাইলে খালেদা জিয়ার নকল চুল উড়ে যাবে। শেখ হাসিনার আসল চুল রয়ে যাবে।’ একই ধরনের বক্তব্য দিয়ে আসছেন আইন প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট কামরুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানকও। তারা বলছেন, ‘সংবিধান থেকে একচুল না নড়তে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যে বিরোধীদলীয় নেত্রী আতকে উঠেছেন। তিনি ক্ষমতা আরোহণের নেশায় উম্মাদ হয়ে পড়েছেন। তার দেওয়া বক্তব্য অশালীন ও রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত।’ অন্যদিকে আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম, এমকে আনোয়ার, নজরুল ইসলাম খান ও সাদেক হোসেন খোকা বলেছেন, ‘সরকারের একগুয়েমী, দৃষ্টতা ও জোর করে ক্ষমতায় থাকার বাসনার কারণে দেশ আজ অন্ধকার গহবরের দিকে যাচ্ছে।’ তবে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য ও দপ্তরবিহীন মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেছেন ভিন্ন কথা। ২০ আগস্ট মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, চুলতত্ব নিয়ে পরস্পরবিরোধী যে বক্তব্য আসছে তা অগণতান্ত্রিক। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে চুলোচুলি কাম্য নয়। এজন্য তিনি দেশ ও জনগণের স্বার্থে দুই নেত্রীকে চুলোচুলি না করে কোলাকুলি করার আহবান জানান।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে দেওয়া ‘চুল’ ছিল আপেক্ষিক শব্দ, যার শাব্দিক অর্থ কেবল মাথার চুল নয়, সামান্য (পরিমাণ), অতি মিহি বা ন্যুনতম (দূরত্ব)কেও বোঝায়। কিন্তু বিরোধীদলীয় নেত্রী চুলের মূল ভাবার্থ না বুঝে তিনি সরাসরি টান দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর চুলে। এটি একেবারেই গাঁওগেরামের চুল টানাটানির আদলে মেয়েলী ঝগড়ার শামিল, যা গণতান্ত্রিক রাজনীতি আর সভ্য রীতি-নীতির পর্যায়ে পড়ে না। প্রধানমন্ত্রী তার ওই বক্তব্যে নির্বাচনকালীন সরকার প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান অনড় হলেও পরিস্কার করেছেন। সেইসাথে তিনি বিরোধী দলকে সংবিধান অনুসরণ করার আহবান জানিয়ে সংসদীয় পদ্ধতি অনুসরণকারী দেশগুলোর উদাহরণ টেনেছেন। সুতরাং এটা স্বীকার করতে হবে যে, প্রধানমন্ত্রীর ওই বক্তব্যে যুক্তি আছে। কিন্তু আমাদের রাজনীতিতে পারস্পরিক আস্থা ও চলমান বাস্তবতার প্রশ্নে তা কতটুকু গ্রহণযোগ্য? অন্যদিকে একথাও প্রতিষ্ঠিত সত্য যে, একটি গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় শক্তিশালী বিরোধী দলের ভূমিকা অনস্বীকার্য। সরকারের ভূল-ত্র“টি ধরিয়ে দিয়ে কেবল বিরোধীর খাতিরে বিরোধীতা নয়, গঠনমূলক সমালোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধী দলও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় মূখ্য ভূমিকা পালন করতে পারে। কাজেই প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেত্রী একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ তুলবেন, জবাব-পাল্টা জবাব দিবেন কিংবা অভিযোগ খন্ডন করে আত্মপক্ষ সমর্থন করবেন, বর্তমানে কে, কি করছেন, ভবিষ্যতে বা ক্ষমতায় গেলে বা পুন:নির্বাচিত হলে কে, কি করবেন, তা জনগণের সামনে তুলে ধরবেন- গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে তারা তা না করে একবারে ব্যক্তিগত পর্যায়ের কথাবার্তা নির্দ্বিধায় বলে ফেলায় জাতি অস্বস্তিবোধ করছে। এতে আমাদের বহু কষ্ট ও আন্দোলন-সংগ্রামের ফসল কিশোর গণতন্ত্রও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। স্বাধীনতা উত্তর বাংলায় ইতিহাসের অন্যতম প্রধান ট্র্যাজেডি বা সাভার ট্র্যাজেডির পর সমগ্র জাতি যখন শোকাচ্ছন্ন, ঠিক তখন নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে সংলাপ-সমঝোতার যে পরিবেশ তৈরি হয়েছিল- সেই শোকের আবহ আস্তে আস্তে ম্লান হওয়ার সাথে তাল মিলিয়েই যেন সংলাপ-সমঝোতার পরিবেশ নষ্ট হয়ে যায়। এরপর ঈদুল ফিতরে সামান্য হলেও রাজনীতিতে আশার সঞ্চার হয় প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেত্রীর ঈদকার্ড শুভেচ্ছা বিনিময়ে। সেটাও ভেস্তে গেছে। এখন সরকারের অনড় অবস্থান হচ্ছে তারা কোনোমতেই সংবিধান সংশোধন করে তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায় ফিরে যাবেনা। অন্যদিকে বিরোধীদলের বিপরীত অবস্থান হচ্ছে নিদর্লীয় সরকার ছাড়া দলীয় সরকারের অধীনে তারা যাবেনা। যে কারণে দুই নেত্রীর মুখোমুখি বাগযুদ্ধ ও দুই দলের নেতাদের বাহাসের রাজনীতিতে ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস দেখা যাচ্ছে। তারা কেউ কাউকে একচুল পরিমানও ছাড় দিতে নারাজ। ফলে আগামী জানুয়ারীর মধ্যে নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে সংঘাত সংঘর্ষের মাত্রা ততই ভারী হওয়ার আশংকা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে (২৪ আগস্ট) চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে শীর্ষ দুই নেত্রীকে সমঝোতার জন্য সংলাপে বসার আহবান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন। এর আগে চলমান সংকট নিরসনে তাগিদ দেয় ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনা এবং চীনের রাষ্ট্রদূত লি জুনসহ যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ পশ্চিমা দেশগুলো। এক্ষেত্রে সমঝোতার জন্য সংলাপের ওপর সর্বশেষ জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের গুরুত্বারোপ যেমন চলমান পরিস্থিতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে, ঠিক তেমনি দেশের অভ্যন্তরিণ বিষয়ে বাইরের দেশগুলোর ওই তাগিদের প্রশ্নে মিশ্র প্রতিক্রিয়াও রয়েছে। তবে আমাদের অভ্যন্তরিণ ক্ষেত্রে সবচেয়ে যা আশার সঞ্চার করেছে, তা হচ্ছে রাষ্ট্রপতি মোঃ আব্দুল হামিদ অ্যাডভোকেট ১২ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহবান করেছেন। এটাই নবম জাতীয় সংসদের শেষ অধিবেশন হওয়ার কথা। এমনি অবস্থায় আমরা আশা করব, রাষ্ট্রের অভিভাবক আব্দুল হামিদ অ্যাডভোকেট ও সংসদের অভিভাবক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী উভয় পক্ষকে সমাধানের পথে টানবেন। সেইসাথে আমাদের আরও প্রত্যাশা, নির্বাচন প্রশ্নে একটি গ্রহণযোগ্য পথ খুজে পেতে সরকার ও বিরোধী দল ওই অধিবেশনকে কাজে লাগাবেন এবং  তাদের রাজনৈতিক জেদ-সংঘাতের শিকার থেকে রক্ষা করবেন দেশের শান্তিপ্রিয় মানুষগুলোকে। আর এক্ষেত্রে সর্বাগ্রে প্রয়োজন শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার আন্তরিকতা ও সহনশীলতা। সুতরাং সার্বিক অবস্থায় সুরঞ্জিত বাবুর বক্তব্যই রাজনৈতিক অঙ্গণে প্রণিধানযোগ্য হওয়া উচিত। তার সুরে সুর মিলিয়েই বলতে হয়, জাতি ও গণতন্ত্রের স্বার্থে আর নয় চুলোচুলি, নয় চুলতত্বের বাহাস। একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের স্বার্থে কোলাকুলিতে হোক সংঘাতময় পরিস্থিতির সমাধান।

Shamol Bangla Ads

রফিকুল ইসলাম আধার, সম্পাদক, শ্যামলবাংলা২৪ডটকম।
ই-মেইল : press.adhar@gmail.com

সর্বশেষ - ব্রেকিং নিউজ

error: কপি হবে না!