ads

বৃহস্পতিবার , ২২ আগস্ট ২০১৩ | ৯ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

দাবির প্রতিদান আর লাঠিতে নয় : পান্তুর মুখগুলোর প্রতি সদয় হোন

রফিকুল ইসলাম আধার , সম্পাদক
আগস্ট ২২, ২০১৩ ৫:১৫ অপরাহ্ণ

01 Adharচাকুরী জাতীয়করণের একদফা দাবি জানাতে গিয়ে পুলিশের লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল ও গরম পানি নিক্ষেপে নাস্তানাবুদ হয়েছেন বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্যানেলভূক্ত শিক্ষকরা। ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আন্দোলনরত প্যানেলভূক্ত শিক্ষকদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল ও গরম পানি নিক্ষেপের একটি সচিত্র সংবাদ ২০ আগস্টের প্রায় সবগুলো প্রিন্ট মিডিয়াতেই প্রকাশিত হয়েছে। ওই খবরে বলা হয়েছে, রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উত্তীর্ণ ২৬ হাজার প্রার্থীর নিয়োগের দাবিতে কেন্দ্রীয়ভাবে পূর্বঘোষিত সিদ্ধান্ত মোতাবেক সমাবেশ সফল করতে সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে যাওয়া বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে নির্বাচিতরা শাহবাগের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জড়ো হয়। পূর্বানুমতি না থাকার অজুহাত তুলে বেলা ১ টার মধ্যে ওই সমাবেশ শেষ করতে বলে পুলিশ। কিন্তু ওই সময় অতিক্রম হওয়ায় এবং সমাবেশ শেষে তারা স্মারকলিপি দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দিকে রওনা হলে পুলিশ তাদের বেরিকেড দেয়। ওইসময় শিক্ষকরা অবস্থান নিলে পুলিশ তাদের তাড়াতে কঠোর অবস্থান নেয় এবং একপর্যায়ে তাদের ওপর উপুর্যপরি লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল ও গরম পানি নিক্ষেপ করে। ওইসময় দুজন নারীশিক্ষকসহ অন্তত: ১০/১২ জন আহত হন এবং পুলিশ আটক করে ১০ জনকে। ফলে পরবর্তী কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করতে বাধ্য হ নিয়োগ বঞ্চিত প্যানেল শিক্ষক সমিতির সভাপতি তাহেদুল ইসলাম লিটু। একই খবরে বলা হয়েছে, জাতীয়করণের পূর্ব পর্যন্ত থাকা রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩০ হাজার শূন্যপদের বিপরীতে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রায় ৪২ হাজার প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য প্যানেলে রাখা হয়। এরপর নিয়োগ বিধি লঙ্ঘন করে মেধাভিত্তিক নিয়োগ না দিয়ে ১৬ হাজার জনকে নিয়োগ দিলেও অন্যরা অপেক্ষমান থাকাবস্থায় রেজিস্টার্ডসহ সকল বেসরকারী বিদ্যালয় জাতীয়করণ হওয়ার পর ঝুলে যায় প্যানেলে থাকা শিক্ষকরা এবং এর পর থেকেই তারা নিয়োগ দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন।

Shamol Bangla Ads

একথা সত্য যে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের উল্লেখযোগ্য সাফল্যের অন্যতম প্রধান সাফল্য হচ্ছে, এ সরকার শিক্ষাবান্ধব সরকার। বছরের প্রথম দিনেই একযুগে ৯৩ লাখ শিক্ষার্থীর হাতে বই তুলে দিয়ে, প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী ব্যবস্থা চালু করে, দশম শ্রেণীর গন্ডি অতিক্রম করে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা ব্যবস্থা প্রবর্তন, নকলমুক্ত পাবলিক পরীক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ আর ২৬ হাজার বেসরকারী-রেজিষ্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণের আওতায় নিয়ে সরকার তার শিক্ষাবান্ধব নীতিকেই প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এ সরকারের রূপকল্প ভিশন ২০২১ আর ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রধান শর্ত সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিতকরণ ও শিক্ষিত জাতি গঠনে ওই শিক্ষাবান্ধব নীতি ইতোমধ্যে দেশ-বিদেশের সচেতন ও পর্যবেক্ষক মহলে নানাভাবে প্রশংসনীয় ও সমাদৃত হয়ে উঠেছেÑ এতে কোন সন্দেহ নেই।policer_lathi_charge
কিন্তু আমরা যখন দেখি সরকারের উচ্চমহলের উদাসীনতা ও আন্তরিকতার অভাবে পদায়ন প্রক্রিয়া ঝুলে থাকায় বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগের জন্য প্যানেলে থাকা শিক্ষক-শিক্ষিকার জীবন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের অন্ধকারে হাবুডুবু খাচ্ছে, বেকারত্বের যন্ত্রণায় হাড্ডিসার দেহ নিয়ে উপজেলা, জেলা আর রাজধানীতে মানববন্ধন, অবস্থান কর্মসূচি পালন ও প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েও মানবিক দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হচ্ছেন না তারা, পাশাপাশি তাদের পরিবারের লক্ষাধিক সদস্য চরম হতাশায় ভুগছেনÑ তখন সেইচিত্র শিক্ষাক্ষেত্রে সরকারের খোদ সাফল্যকেই ম্লান করে দেয় বৈ কী?
বলা বাহুল্য, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের আওতায় ২৬ হাজার বেসরকারী-রেজিষ্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ হওয়ার সুযোগে কেবল স্কুলের নামে একখন্ড জমির স্বত্বর্পণ দলিল ব্যতীত নাম-ঠিকানাহীন অনেক প্রতিষ্ঠানও তালিকাভূক্ত হয়ে গেছে। আর ওইসব নাম-ঠিকানাহীন প্রতিষ্ঠানের টেবিল-চেয়ার মার্কা কথিত শিক্ষকরাও জাতীয়করণের আওতায় ঢুকে পড়েছে। কাজেই জাতীয়করণের সুযোগ নিয়ে যারা রাতারাতি সরকারী শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠান হয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে যে পরিমাণ অনিয়ম-যাচ্ছেতাই হয়েছে, সেক্ষেত্রে জেলা প্রশাসনের অধীনে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্যানেলে থাকা প্রার্থীদের নিয়োগ পদায়ন দেওয়াটা বা পাওয়াটা কঠিনই বা কেন?
সরকারের প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষার্থীরা যাতে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে সাহায্য করতে পারে, সে জন্য প্রতিটি স্কুলে ল্যাপটপ, প্রজেক্টর দেওয়ার ব্যবস্থা করছে বর্তমান সরকার। দেশে আরও ৫০ হাজার প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এর মধ্যে ২২ হাজার শিক্ষক নিয়োগের কার্যক্রম শুরুও হয়েছে।
কিন্তু ওই তথ্য মোতাবেক একথা স্পষ্ট যে, সরকার যে ক্ষেত্রে ২৬ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের মাধ্যমে লক্ষাধিক শিক্ষক-শিক্ষিকার জীবনমানের চাকা ঘুরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি প্রাথমিক শিক্ষাক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তনের চেষ্টা চালাচ্ছেন, সৃষ্টপদ শূন্যতা সাপেক্ষে নতুন করে ৫০ হাজার শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনা করছেন, সেক্ষেত্রে ওয়াকিবহাল মহলের প্রশ্ন, নতুন নিয়োগ না দিয়ে বেসরকারী-রেজিষ্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগের জন্য প্যানেলে থাকা অবশিষ্ট শিক্ষকদের পদায়নে আন্তরিকতার অভাব কেন? হবু শিক্ষক্ বলি কিংবা বেকার-যুবকই বলিনা কেন, তারাতো শিক্ষিত এবং যোগ্যতার মাপকাঠিতে উত্তীর্ণ। দাবি পূরণের পরিবর্তে তাদের উপর লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল ও গরম পানি নিক্ষেপের মধ্য দিয়ে সরকার ওই পান্তুর মুখগুলোর প্রতি এত কঠোর অবস্থানেই বা কেন? খেয়াল করা উচিত, তাদের দ্রুত পদায়নের ব্যবস্থা না হলে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার মত বয়স বাড়ার সাথে সাথে তারাও আস্তে আস্তে চাকরির বয়সসীমা অতিক্রম করে ঝরে যাবেন। সেইসাথে বাড়বে বেকারত্বের বোঝা নামক অভিশাপ। সুতরাং পরিবর্তিত অবস্থায় আমাদের প্রত্যাশা, এমন মানবিক বিষয়টি সরকার প্রধান শেখ হাসিনা মেয়াদ শেষের ‘থোক ভাবনা’য় নিবেন। সদয় হবেন আন্দোলনে থাকা বেকার বনে যাওয়া পান্তুর মুখগুলোর প্রতি। অনিশ্চিত ভবিষ্যতের অন্ধকার থেকে রক্ষা করবেন ওই শিক্ষকদের জীবনের সাথে মিশে থাকা লক্ষাধিক মানুষের জীবন। সেইসাথে দূর করবেন ওই পদায়ন না হওয়ায় প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় সৃষ্ট মাঠ পর্যায়ের অসন্তোষ। একইসাথে ‘শিক্ষাবান্ধব সরকার’ এর মূল চিন্তক ও অভিভাবক হিসেবে পিতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের স্থলাভিষিক্ত হবেন তিনিই- এমন প্রত্যাশা আমাদের।

রফিকুল ইসলাম আধার : সম্পাদক, শ্যামলবাংলা২৪ডটকম।
ই-মেইল : press.adhar@gmail.com

error: কপি হবে না!