ads

রবিবার , ১৭ মার্চ ২০১৩ | ১লা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

সংলাপ :অরণ্যে রোদন

শ্যামলবাংলা ডেস্ক
মার্চ ১৭, ২০১৩ ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ
সংলাপ :অরণ্যে রোদন

image_1349_334040.gifগোলাম সারওয়ার
প্রত্যেক দিনই কোনো না কোনো সংবাদপত্রে দেশের গভীর সংকটের দৃশ্যপট তুলে ধরে সমাধানের একমাত্র পথ ‘সংলাপে’র জরুরি তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। টেলিভিশনের ‘টক শো’তেও একই উদ্বেগ। অভিন্ন আহ্বান। যারা রাজনীতির সঙ্গে জড়িত না হলেও উষ্ণ উত্তাপে দগ্ধ, যারা একেবারেই নিরীহ অতি সাধারণ মানুষ, জীবনযুদ্ধে ক্লান্তপ্রায় তারাও বলছেন, দয়া করে সংলাপে বসে সমস্যার সমাধান করে দেশকে বাঁচান। যাদের উদ্দেশে এ আহ্বান তারা দেশের দুটি প্রধান রাজনৈতিক দলের দুই নেত্রী_ শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া। একজন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী, অন্যজন বিরোধীদলীয় নেতা_ যারা একাধিকবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশ পরিচালনা করেছেন। গত কয়েক মাস অসহায় মানুষ দেখেছে, দেশের স্বার্থের কথা ভুলে ক্ষমতা রক্ষা ও ক্ষমতা থেকে সরানোর নামে সংঘাতের রাজনীতির আশ্রয়ে দেশকে সর্বনাশের প্রান্তসীমায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। অবস্থা এমন এক পর্যায়ে পেঁৗছে গেছে যে, কেউ কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দিতে নারাজ। রাজপথে রক্ত ঝরুক, সংসদীয় গণতন্ত্র আবার অন্ধকারে পথ হারাক_ মরণখেলা থেকে পক্ষ-প্রতিপক্ষরা নিবৃত্ত হবে না। রাজনীতির ছত্রছায়ায় বেড়ে ওঠা দুর্নীতি, দলীয় আশ্রয়-প্রশ্রয়ে অপ্রতিরোধ্য সহিংসতা, প্রশাসনের জরাগ্রস্ততা_ সবকিছু থেকে মুখ ফিরিয়ে রেখে গণমাধ্যম এখন সঙ্গত কারণে ভয়ঙ্কর সব ঘটনার প্রতি অমনোযোগী। অন্য কোনো দিকেই ভালোভাবে তাকাবার সময় নেই। দ্বিধাবিভক্ত সুশীল সমাজও অতীতের ন্যায় কার্যকর ভূমিকা পালনে ব্যর্থ। সংবাদপত্রের পর্যবেক্ষণ, টক শোতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বিশ্লেষণের শেষ কথা_ সংলাপ ছাড়া দেশকে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিণতির হাত থেকে রক্ষা করা যাবে না। বিদেশি রাষ্ট্র_ যাদের আমরা এখন ‘উন্নয়ন সহযোগী’ বলতে অভ্যস্ত, তারাও অবিলম্বে আলোচনায় বসার জন্য দু’দলকে বারবার আহ্বান জানাচ্ছে। বিপদগ্রস্ত অর্থনীতিকে ব?াঁচাতে সংলাপে বসার জন্য এফবিসিসিআই সভাপতি খালেদা জিয়া, এরশাদকে চিঠি দিলেও কোনো সাড়া নেই। টিআইবিও আনুষ্ঠানিকভাবে সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়েছে।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বিএনপির সঙ্গে সংলাপে ‘জামায়াতের সঙ্গ’ ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এ পরামর্শ যে বিএনপির জন্য উত্তম_ এ মুহূর্তে হয়তো বিএনপি তা বুঝবে না। তাই এখন এ শর্ত না তোলাই ভালো। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফ বারবার সংসদে এসে আলোচনার কথা বলছেন। তারও এ নিয়ে চাপাচাপি না করে সংসদের বাইরেও আলোচনায় বসার ইচ্ছার কথা ব্যক্ত করা সঙ্গত। রাশেদ খান মেনন অবশ্য বরাবরই নিঃশর্ত আলোচনার কথাই বলে আসছেন। সুরঞ্জিত সেনগুপ্তও বলছেন, সংলাপের বিকল্প নেই। ড. কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার রফিক-উল হক, ড. এম জহির, অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীসহ সুশীল সমাজের শীর্ষ ব্যক্তিরাও উদ্বিগ্ন। তারাও চান অবিলম্বে নিঃশর্ত সংলাপ শুরু হোক। সংলাপের ব্যাপারে যে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে উঠেছে তা নিয়ে সংশয় নেই। এতদসত্ত্বেও দুই দলের অনড় মনোভাবে মনে হচ্ছে, যে যা বলছেন তা সবই যেন অরণ্যে রোদন।
সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ব্লগ, ফেসবুকে চোখ রাখুন। সাধারণ গৃহবধূ থেকে শুরু করে জ্ঞানী-গুণীজন সংলাপের তাগিদ দিচ্ছেন। মানবাধিকার কমিশনের
চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমানের আহ্বান_ কোনো এজেন্ডা নয়, চায়ের টেবিলে বসুন। একজন আইনজীবী তো দুই নেত্রীকে সংলাপে বসানোর জন্য উচ্চ আদালতের নির্দেশনা পর্যন্ত চেয়েছেন। সব কথার শেষ কথা, মানুষ আর হানাহানি দেখতে চায় না, মানুষ আর ধর্মের নামে নরহত্যা দেখতে চায় না, মানুষ আর হরতালের নামে সর্বনাশ দেখতে চায় না। মানুষ শান্তি চায়। প্রেমময়ী স্ত্রী চায় স্বামী দৈনন্দিন কাজ সেরে নিরাপদে গৃহকোণে ফিরে আসুক। স্নেহময়ী মা চান, তার সন্তান স্কুল থেকে নিরাপদে ফিরে আসুক। সাধারণ কর্মজীবী মানুষ চান, প্রতিদিনই তিনি যেন কাজ পান, শুকনো মুখে ঘরে ফিরতে না হয়। পোশাক কর্মী চান তার কারখানা প্রতিদিনই চালু থাকুক, মাস শেষে যে সামান্য বেতন পান তা যেন বন্ধ না হয়। অর্থাৎ সবাই চান দুঃখ-কষ্ট-আনন্দ নিয়ে প্রতিদিনের জীবনযাত্রা যেন স্বাভাবিক থাকে। গরিষ্ঠসংখ্যক মানুষের প্রত্যাশা, নির্বাচিত সরকার পূর্ণ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকুক। নির্বাচনেই ক্ষমতার পালাবদল হোক। একদিকে সরকার পতনের এক দফার আন্দোলন, অন্যদিকে সংলাপের দ্বার উন্মুক্ত করতে সরকারের সুস্পষ্ট অনীহা_ এরই মধ্যে ক্রমে ক্রমে অন্ধকারে ছেয়ে যাচ্ছে দেশ_ অমানিশা গ্রাস করছে প্রিয় মাতৃভূমি।
সব কথার শেষ কথা, কোনো রকম কূটযুক্তি নয়, মনের সব সংশয়-দ্বিধা ভুলে উভয় পক্ষকেই নিঃশর্ত আলোচনায় বসতে হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার, না নির্দলীয় সরকার_ তার সুরাহা সংলাপের টেবিলেই হোক। বিরোধী দলকে কোনো শর্ত না দিয়েই সংসদে যেতে হবে। সংসদের বাইরে ও ভেতরে যুগপৎ কথাবার্তা হতে পারে। বিরোধী দলের গণতান্ত্রিক অধিকার সামান্যতম ক্ষুণ্ন করে এমন কিছুই সরকার করতে পারবে না। মিছিল-সমাবেশ করার সংবিধানসম্মত অধিকারে কোনো হস্তক্ষেপই সরকার করতে পারবে না। বিরোধী দলের নেতা ও কর্মীদের মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে কারাগারে নেওয়া, তাদের দফতর তছনছ করার সাম্প্রতিক ঘটনা কোনো মতেই সমর্থনযোগ্য নয়। এ ধরনের ঘটনা ঘটলে সংলাপে সরকারের যে আদৌ আগ্রহ নেই_ এ অভিযোগই সত্য বলে প্রমাণ হবে। বিএনপি অফিসে পুলিশের অভিযান ‘যুক্তিযুক্ত’ মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিএনপি নেতাদের ‘সন্ত্রাসী’ বলেছেন_ এ ধরনের মন্তব্য কিছুতেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের মন্তব্য সংলাপের সম্ভাবনা তিরোহিত করতেই সাহায্য করে। গত বুধবার ঢাকায় ও গতকাল মুন্সীগঞ্জে বেগম খালেদা জিয়া গণজাগরণ মঞ্চ নিয়ে যে কটূক্তি করেছেন, তা আদৌ শোভন ও রুচিকর হয়নি। এ ধরনের অসহিষুষ্ণ মন্তব্যে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হবে। জামায়াত কিন্তু তাদের উচ্চারণে অনেক বেশি সংযত।
উৎকণ্ঠিত দেশবাসী এখনও অন্ধকারে আলোর শিখা দেখতে চায়। তারা মনে করে, শেষ পর্যন্ত অশুভ শক্তির উল্লম্ফন বন্ধ হবে। দুই নেত্রী অন্তরাত্মার ডাকে সাড়া দিয়ে দেশবাসীর প্রত্যাশা পূরণ করে সংলাপের বন্ধ দরজা উন্মুক্ত করবেন।

error: কপি হবে না!