ads

রবিবার , ১৭ মার্চ ২০১৩ | ৯ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

নোয়াখালীতে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘোষণা : আগামি সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে-নোয়াখালীতে প্রধানমন্ত্রী

শ্যামলবাংলা ডেস্ক
মার্চ ১৭, ২০১৩ ১২:৪৭ অপরাহ্ণ
নোয়াখালীতে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘোষণা : আগামি সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে-নোয়াখালীতে প্রধানমন্ত্রী

news_1683news_1683রুদ্র মাসুদ-
আওয়ামীলীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মাত্র আমরা চার বছর পূর্ণ করলাম। চার বছর পূর্তির পর আমাদের এটি প্রথম জনসভা। আজকে আমি কথা দিয়ে গেলাম- আগামি নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে। বর্তমান সরকারের সময়ে ইউনিয়ন, উপজেলা, পৌরসভা নির্বাচন এবং উপনির্বাচন হয়েছে। একটা নির্বাচনেও কোন রকম অভিযোগ আসেনি। প্রত্যেকটা নির্বঅচন অবাধ নিরপেক্ষ হয়েছে। কারণ আমরা জনগণের ক্ষমতায়নে বিশ্বাস করি। ভোটের মালিক আপনারা, যাঁকে খুশি ভোট দিবেন। ভোট শান্তিপূর্ণভাবে হবে। কেউ ভাট কেড়ে নিবে, সিল মারবে; ওই অবস্থা যেনো আর না হয়, সেজন্য আমরা আইন করে সুষ্ঠু নির্বাচনী ব্যবস্থা গড়ে তুলেছি বলেই প্রতিটি নির্বঅচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে সক্ষম হয়েছি।
মঙ্গলবার বিকালে নোয়াখালীর জেলা শহর মাইজদী হাউজিং এষ্টেট মাঠে জেলা আওয়ামীলীগ আয়োজিত জনসভার বিশাল জনসমুদ্রে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তিনি নোয়াখালীবাসীর প্রাণের দাবি নোয়াখালীতে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার ঘোষণা দেন। এর আগে দুপুর সোয়া ১২টায় প্রধানমন্ত্রী কোম্পানীগঞ্জের সিরাজপুর ইউনিয়নের শাহজাদপুরে সুন্দলপুর গ্যাস ক্ষেত্রের উদ্বোধন করেন।
বিকাল ৩টায় প্রধানমন্ত্রী জনসভাস্থলে পৌছে নোয়াখালী মেডিক্যাল কলেজের একাডেমিক ভবনের উদ্বোধন, নতুন ডাকাতিয়া ও পুরাতন ডাকাতিয়া-ছোট ফেনী নদী নিষ্কাষন প্রকল্পে কোম্পানীগঞ্জের মুছাপুরে ক্লোজার নির্মাণ কাজের উদ্বোধন, ৫ বছর মেয়াদী সদর ও সুবর্নচর উপজেলার ৫০ কিলোমিটার সড়কের পারফরমেন্স পল্লী সড়ক রক্ষণাবেক্ষন কার্যক্রমের উদ্বোধন, কবিরহাট উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের উদ্বোধন সোনাইমুড়ি উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের উদ্বোধন, সদর উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স নির্মাণের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন, নোয়াখালী পৌরসভা ভবনের ভিত্তি প্রস্তর, সোনাইমুড়ি ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশনের উদ্বোধন, চাটখিল ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন এবং নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের উদ্বোধনের ফলক উন্মোচন করেন।
জনসভার শুরুতে ১৯৭২ সালের ২২ জুন নোয়াখালী সফর কালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেওয়া ভাষণের রেকর্ড বাজিয়ে শোনানো হয় প্রধানমন্ত্রীকে।
খালী খালী নোয়াখালী বলবো না-
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতার শুরুতেই জনতার উদ্দেশ্যে বলেন, খালী খালী নোয়াখালী বলবো না। এবার থেকে ভরা ভরা নোয়াখালী বলবো। আমি আপনাদের জন্য উপহার নিয়ে এসেছি। আজকে সুন্দলপুর গ্যাস ক্ষেত্রের উদ্বোধন করলাম। এই গ্যাস ক্ষেত্রের গ্যাস যখন জাতীয় গ্রীডে যাবে। আর এই গ্যাস দিয়ে শিল্প কারখানা গড়ে তোলা হবে। এখানে এই গ্যাস ব্যবহার হবে। নোয়াখালীতে আমরা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলবো। নোয়াখালী মেডিক্যাল কলেজের নতুন ভবনের উদ্বোধন করেছি। নোয়াখালী যেহেতু জলাবদ্ধ থাকে সেই জলাবদ্ধতা নিরসনে নতুন ডাকাতিয়, পুরাতন ডাকাতিয়া-ছোট ফেনী নদীর পানি নিষ্কাষন প্রকল্পের আওতায় কোম্পানীগঞ্জের মুছাপুরে ক্লোজার নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হলো। কবিরহাট এবং সোনাইমুড়ি উপজেলা পরিষদ ভবনের উদ্বোধন করেছি। চৌমুহনীতে চারলেইন সড়কে উন্নীত করণের কাজ চলছে, ইতোমধ্যে দুই কিলোমিটারের কাজ শেষ হয়েছে। ২’শ কিলোমিটার পাকা সড়ক এবং ৬’শ কিলোমিটার গ্রামীন রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। ৩’শ কিলোমিটার নতুন বিদ্যুৎ লাইন স্থাপন এবং ২৭ হাজার গ্রাহকের মাঝে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করা হয়েছে।
আগামিতে নোয়াখালীর দুঃখ নোয়াখালী খাল পুনঃখনন করা হবে। বিগত নির্বাচনে নোয়াখালীবাসী আমাদের দুটি সিট উপহার দিয়েছে সেজন আপনাদের ধন্যবাদ জানাই, কৃতজ্ঞতা জানাই।
বর্তমান সরকারের চার বছর পূর্তিতে উন্নয়নের বর্ণনা দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন- আওয়ামীলীগ বাংলাদেশের মানুষের সংগঠন। আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় এলে দেশের মানুষ শান্তিতে থাকে। গ্যাস পাওয়া যায়, খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পায়, বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ে। শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দৌরগোড়ায় পৌঁছে। মা বোনেরা যাতে ঘরের কাছে চিকিৎসা সুবিধা পান সেজন্য কমিউনিটি হেলথ কেয়ার সেন্টার করেছি। এখন মানুষ আর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়ে চিকিৎসা সেবা নিতে হবে না।
আমরা দেশকে উন্নত করতে চাই। এজন্য খাদ্য নিরাপত্ত আমাদের লক্ষে। আল্লাহ’র অশেষ রহমত। তাছাড়া নিয়ত ভালো থাকলে আল্লাহও সাহায্য করে। আমরা খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করেছি। খাদ্য উৎপাদন বিএনপির আমলে কমে গিয়েছিলো। ৩০ লাখ মে.টন খাদ্য ঘাটতি ছিলো। আবার আমরা খাদ্য উৎপাদন বাড়িয়েছি। ৩ কোটি ৪০ লাখ মে.টন খাদ্য এবার উৎপাদন হয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তার নিশ্চিত করার জন্য ভিজিএফ’র মাধ্যমে গরীব মানুষকে খাদ্য দিচ্ছি। আমরা বংস্কভাতা, বিধবাভাতা, ছোট শিশুরা স্কুলে গেলে মকে বিশেষ বৃত্তির ব্যবস্থা করেছি। এবার বছরের প্রথম দিনে আমরা ২৭ কোটি বই বিনামূল্যে শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দিয়েছি। আজকে বাবা-মাকে বই কেনার জন্য চিন্তা করতে হয় না।
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন- বিএনপি ক্ষমতায় ছিলো তারা কি করেছে। জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ, লুটপাট আর মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে বিদেশে টাকা পাচারে ব্যস্ত ছিলো। ২০০১ সালে চালের দাম ১০টা রেখেগিয়েছিলাম। সেই চাল ৩৮/৪০ টাকায় নিয়ে যায় তারা। আর নৌকায় ভোট দিলেই বাংলাদেশের মানুষ শান্তিতে থাকে। আমরা ক্ষমতায় এসে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূল করেছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা কথা দিয়েছিলাম নির্বাচনের জিতলে বাংলাদেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশ করবো। ৯৬’ সালে ক্ষমতায় এসে আওয়ামীলীগ জনগণের হাতে মোবাইল তুলে দিয়েছিলো এবার শিক্ষার্থীদের হাতে ল্যাপটপ তুলে দিয়েছি। স্কুলে স্কুলে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম তৈরী করে দিয়েছি। প্রযুক্তি শিক্ষার যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ইউনিয়নে ইউনিয়নে তথ্য সেবা কেন্দ্র করা হয়েছে এবং সেখানে ইন্টারনেট সুবিধাও দেওয়া হয়েছে। আমাদের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদান অপরিসীম। সেই প্রবাসীরা অনলাইনে এবং এসএমএম’র মাধ্যমে বিদেশ থেকে টাকা পাঠাতে পারে। ভর্তির জন্য ঢাকায় ঢাকায় যেতে হয়না। বাড়ির পাশের ইউনিয়ন তথ্য কেন্দ্রে গিয়ে প্রবাসীদের সাথে কথা বলা এবং দেখার সুযোগ পায় স্বজনরা। ছাত্রছাত্রীরাও অনলাইনে পূরণ করেন ভর্তির আবেদন ফরম।
তিনি বলেন, কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। কৃষকের ১০ টাকার একাউন্টে পৌঁছে যায় ভুর্তকির টাকা। বিএনপি দেশের সব পাটকল বন্ধ করে দিয়েছিলো। আমরা আবার পাটকল চালু করেছি। পাটের জীবন রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। আমরা পাটের সুদিন ফিরিয়ে এনেছি। বিশ্ব অর্থনীতির মন্দা সত্বেও আমাদের অর্থনীতি মজবুত। অনেকেরই ধারণা ছিলো বাংলাদেশ আর অথনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না। আজকে আমাদের রিজার্ভ ১৩ বিলিয়ন ডলারের ওপরে। দেশের অর্থনীতি মজবুত হয়েছে। বাংলাদেশ আজ বিশ্বব্যাপী উন্নয়নের মডেলে পরিণত হয়েছে। ইনশাআল্লাহ এই বাংলাদেশকে ২০২১ সালের মধ্যে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা হিসাবে গড়ে তুলবো।
জাতির পিতা বলেছেন, যে মাটিতে বীজ ফেললে গাছ হয়, গাছে ফল হয় সেই মাটির মানুষ কখনো দরিদ্র থাকতে পারে না। আমরা চাই বাংলাদেশ ক্ষুধামুক্ত, দরিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ হবে। প্রতিটি মানুষ উন্নত জীবন পাবে। সন্দুরভাবে বাঁচবে। বাংলাদেশ বিশ্বসভায় মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হবে, সেটাই আমাদের লক্ষ্য। সেভাবেই আমরা দেশকে গড়ে তুলতে চাই।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭১ এ যারা মানুষ হত্যা করেছে, নারী ধর্ষণ, লুটতরাজ, বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছে তাদের বিচার শুরু হয়েছে। আজকের জনসভায় থেকে আপনারা হাত তুলে সেই বিচারের প্রতি যেই সমর্থন দিয়েছেন। সেজন্য আপনাদের (নোয়াখালীবাসী) ধন্যবাদ।
শিক্ষা ক্ষেত্রে অগ্রগতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন-
বিএনপি নেত্রী সরকারের কাছ থেকে টাকা নিয়েছিলেন নিজের দুই ছেলেকে পড়ালেখা শেখাবেন বলে। প্রতিমাসে টাকা নিতেন, পনেরশ টাকা করে একেক ছেলের জন্য; লেখাপড়া শেখাবেন। কি ডিগ্রি এনেছেন আপনারা জিজ্ঞেস করেন- মানি লন্ডারিংয়ের ডিগ্রি ? দূর্ণীতির ডিগ্রী ? উনি এই ডিগ্রি এনে দিয়েছেন ছেলেদের। অবশ্য উনার দুঃখটা আমরা বুঝি। উনি মেট্রিক পরীক্ষা দিয়েছেন। আর মেট্রিক পরীক্ষায় তিন বিষয়ে পাস করেছিলেন। তাহলো উর্দু, অংক আর বাংলা। আর কোনো বিষয়ে পাস করেননি। তাই মেট্রিকে নিজে ফেল করে উনি বোধহয় চিন্তা করেন- আমি যেহেতু পাস করিনি বাংলার ছেলেমেয়েরা কিভাবে পাস করবে। সেইজন্যই ছেলেমেয়েরা পাস করুক তা উনি চান না।
আমরা ৯৬ সালে ক্ষামতায় এসে শিক্ষার হার বাড়িয়েছি। স্বাক্ষারতার হার ৪৫ভাগ থেকে বাড়িয়ে ৬৫ দশমিক ৫ ভাগে উন্নীত করলাম। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর ফলাফলটা কি দাঁড়ালো। আমরা দেখলাম স্বাক্ষরতার হার ৫০ ভাগে নেমে এসেছে। আমার প্রশ্ন ৫ বছরে যদি আমরা স্বাক্ষরতার হার ২০ ভাগ বাড়াতে পারি তাহলে আমাদের শিক্ষার হার কমলো কেনো ? আসলে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া চান না আমাদের ছেলেমেয়েরা লেখা পড়া করুক।
আপনারা দেখেছেন পঞ্চম শ্রেণীতে বৃত্তি ক্লাস হতো। আমরা বৃত্তি বাড়িয়ে দিয়েছি। প্রকই প্রশ্নপত্রে আমরা জুনিয়র সার্টিফিকেট পরীক্ষা ও পঞ্চম শ্রেণীর সমাপনি পরীক্ষা চালু করেছি। আমাদের ছেলেমেয়েরা আজ লেখাপড়ায় মনোযোগী হয়েছে। ভালো রেজাল্টকরছে। এসএসসি পরীক্ষায় প্রায় ৮৬ভাগ পাস করেছে। জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষায় পাসের হার ৯০ ভাগের পরে। এই যে পাসের হার আমরা বৃদ্ধি করেছি, আমরা চাই আমাদের ছেলেমেয়েরা লেখাপড়ায় আরো মনোযোগী হোক। পড়াশোনা করবে, নিজের পায়ে দাঁড়াবে এবং দেশের মুখ উজ্জল করবে। বিদেশে যাবে, বিদেশে ভালো করবে। আমরা সেটাই চাই। শিক্ষিত জাতি ছাড়া কোনো দেশ উন্নতি করতে পারে না। দরিদ্রমুক্ত হতে পারে না। এজন্য আমরা শিক্ষার ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি এবং বাবা মায়ের বোঝা কমিয়ে দিয়েছি।
শিক্ষা হচ্ছে বড় সম্পদ। এই সম্পদ দিয়ে নিজের জীবনকে গড়ে তুলতে হবে। এই সম্পদই হচ্ছে, সেই সম্পদ যা কেউ কেড়ে নিতে পারে না। আমাদের ছেলে মেযেকে যেমন আমরা শিক্ষিত করেছি, ঠেক তেমনিভাবে দেশের ছেলে মেয়েদের শিক্ষিত করে বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর ব্যবস্থা করতে চাই। সেভাবেই বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে চাই।
নোয়াখালীতে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার ঘোষণা-
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নোয়াখালীর বিষয়ে আমার কাছে দাবি করার কিছু নেই। দাবি করার আগেই আমরা অনেক কিছু করেছি। নোয়াখালীতে আমরা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলবো। এরই মধ্যে আমি জেলা প্রশাসকে নির্দেশ দিয়েছে অর্থনৈতিক জোনের জায়গা ঠিক করার জন্য। এখানে শিল্প-কারখানা গড়ে তুলে বেকার সমস্যার সমাধান করবো। এছাড়া নোয়াখালীর জলাবদ্ধতাসহ সব সমস্যা আমরা পর্যায়ক্রমে সমাধান করবো।
আগামি নির্বাচনের জন্য ভোট প্রার্থনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন- আমরা সব কিছুই করে দিবো। কিন্তু আগামি নির্বাচনে আপনাদের কাছে আমার একটাই আবেদন নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আওয়ামীলীগকে আরেকবার আপনাদের সেবা করার সুযোগ দেবেন। আপনারা আমাকে হাত তুলে ওয়াদা করেন আগামি নির্বাচনে আওয়ামীলীগকে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আপনাদের সেবা করার সুযোগ করে দেবেন কি না। এসময় জনসভায় উপস্থিত লাখো জনতা প্রধানমন্ত্রীর সাথে একাত্মতা পোষণ করে হাত উঠিয়ে ওয়াদা ব্যক্ত করেন।
সরকার গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে সচেষ্ট-
মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ১২টায় নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের সিরাজপুর ইউনিয়নের শাহজাদপুরে সুন্দলপুর গ্যাস ক্ষেত্রের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৯৬ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় এসে বাপেক্সকে শক্তিশালী করে। দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের উৎপাদন বাড়তে উদ্যোগ নিয়েছিলো। কিন্তু বিএনপি সরকারের সময়ে বাংলাদেশ গ্যাসের ওপর ভাসছে এমন প্রচারণা চালিয়ে বিদেশীদের কাছে গ্যাস বিক্রির চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়। আমরা তখন বলেছিলাম আগে গ্যাসের মজুদ নির্ধারণ করতে হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, দেশে গ্যাসের সংকট রয়েছে। গ্যাস প্রাপ্তির সম্ভাবতা যাচাই করে প্রাকৃতিক গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে সরকার সচেষ্ট রয়েছে। নোয়াখালীর সুন্দলপুর গ্যাস ক্ষেত্রের এই গ্যাস নোয়াখালী অঞ্চলে শিল্প-কারখানার উন্নয়নে এবং সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য অগ্রাধিকার পাবে। এসময় প্রধানমন্ত্রী গ্যাসের অপচয় রোধ করার জন্য ব্যবহারকারীদের অনুরোধ করেন।
ফলক উন্মোচন এবং সুইচ টিপে আনুষ্ঠানিকভাবে এ গ্যাস ক্ষেত্রের উদ্বোধন এবং জাতীয় গ্রীডে গ্যাস সরবরাহের উদ্বোধন করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর হাত দিয়ে যাত্রা শুরু করা সুন্দলপুর গ্যাস ক্ষেত্র হবে দেশের ২৪ নম্বর গ্যাস ক্ষেত্র। এই প্রকল্পে সরকারের ব্যায় হয় ৬০ কোটি টাকা। ‘এই গ্যাস ক্ষেত্র থেকে বর্তমানে প্রতিদিন ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে।
জেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যক্ষ খায়রুল আনম সেলিমের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী এমপির পরিচালনায় জনসভায় বক্তব্য রাখেন- যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর, স্বাস্থ্য মন্ত্রী ডা. আ ফ ম রুহুল হক, রেলমন্ত্রী মজিবুল হক, পানি সম্পদ মন্ত্রী রমেস চন্দ্র সেন, প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ ও জ্বালানী বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক ই ইলাহী চৌধুরী বীরবিক্রম এবং জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ এনামুল হক এমপি, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, আওয়ামীলীগের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বীর বাহাদুর এমপি, আওয়ামীলীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদিকা ফরিদুন্নাহার লাইলি এমপি, জেলা পরিষদের প্রশাসক ডা.এ বি এম জাফর উল্যা, যুবলীগের কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য এডভোকেট বেলাল হোসাইন, লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এম আলাউদ্দিন, নোয়াখালী জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আলী, এটিএম এনায়েত উল্যা, ভিপি মোহাম্মদ উল্যা, যুগ্ম সম্পাদক আবু তাহের, আব্দুল মমিন বিএসসি, উপজেলা চেয়ারম্যানদের মধ্যে এডভোকেট শিহাব উদ্দিন শাহীন, আ ফ ম বাবুল বাবু, অধ্যাপক ওয়ালী উল্যা, কামরুন্নাহার শিউলী, বেগমগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদ কিরন, নোয়াখালী শহর আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল ওয়াদুদ পিন্টু, সাধারণ সম্পাদক সহিদ উল্যা খান সোহেল, চৌমুহনী পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সাহাব উল্যা কাজল, কবিরহাট উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নরুল আমিন রুমি, সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হক রায়হান, সুবর্নচর উপজেলা আওযামীলীগের সভাপতি এডভোকেট ওমর ফারুক, সাধারণ সম্পাদক হানিফ চৌধুরী, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম, জেলা যুবলীগের আহবায়ক ইকবাল করিম তারেক, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইবনে ওয়াজিদ ইমন প্রমুখ।
এর আগে দুপুর সোয়া ১২টায় প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারযোগ কোম্পানীগঞ্জের সরকারি মুজিব কলেজ মাঠে অবতরণ করেন। গ্যাস ক্ষেত্র উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী সড়ক পথে দুপুর সোয়া ১টায় নোয়াখালী সার্কিট হাউজে এসে পৌছান।
নেত্রী যন আইছে কিছু দিবো-
প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতার পূর্বে যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের নোয়াখালীর আঞ্চলিক ভাষায় বক্তব্য রাখেন। তিনি জনতার উদ্দেশ্যে বলেন- আন্নেরা ভালা আছেন্নি। নেত্রী যন আইছে, তন কিছ দিবো। চাইর বছরে কি কম হাইছেন্নি। আঙ্গোরে কম দেয় ন। দুগা মন্ত্রী আরো তিনগা এমপি (সংরক্ষিত কোটায়) দিছে। আমরা নেত্রীর কাছে সরমিন্দা (লজ্জিত), কারণ আঙ্গো সিট হুদা দুগা। আগামিতে আমরা আরো সিট দিতাম হারুম। প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন- আমরা আন্নেরে গ্যাস দিছি। আঙ্গো দক্ষিণাঞ্চলে যতি অথনৈতিক অঞ্চল করি দেন, আমরা অর্থনীতিতে বহুত টেঁয়া দিতাম হারুম। আন্নেরে দেখনের লাই হারা রাইত খোলা আকাশের নিচে মানুষ হুতি রইছে। আন্নেরে নোয়াখালী আইয়নের লাই ধইন্যবাদ।

error: কপি হবে না!