ads

রবিবার , ১৭ মার্চ ২০১৩ | ৯ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

তরুণদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে আউটসোর্সিং

শ্যামলবাংলা ডেস্ক
মার্চ ১৭, ২০১৩ ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ
তরুণদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে আউটসোর্সিং

science-1আউটসোর্সিং সম্পর্কে আমাদের বেশির ভাগ তরুণের কিছু ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। অনেকেই এ ক্ষেত্রে কাজ করাকে খুবই সহজ মনে করেন। আসলে কিন্তু এর ব্যতিক্রম। আউটসোর্সিং কাজ বা কাজের প্রক্রিয়া বেশির ভাগ সাধারণ মানুষ বুঝতে পারে না। কিছু প্রতিষ্ঠান যারা আউটসোর্সিংয়ের ট্রেনিংয়ের নাম করে আগ্রহীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে বড় অঙ্কের টাকা। ‘ঘরে বসেই বিনা পরিশ্রমে আয় করুন ৫০ হাজার টাকা’ এই ধরনের চটকদার বিজ্ঞাপনে প্রলুব্ধ হচ্ছে তরুণেরা। তবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বিনা পরিশ্রমে টাকা উপার্জন করার জায়গা আউটসোসিং নয়।

Shamol Bangla Ads

আমাদের গার্মেন্টশিল্পের সাথে কম-বেশি সবাই পরিচিত। বর্তমানে দেশে প্রচুর গার্মেন্ট ফ্যাক্টরি রয়েছে। বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠান কাজ করছে বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য চাহিদা অনুযায়ী পোশাক তৈরি ও রফতানি করা। বিদেশী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের কারখানাকে কাজ দিচ্ছে বাংলাদেশের শ্রমিকের নিম্ন মজুরির জন্য যা তাদের পণ্যের উৎপাদন খরচ অনেক কমিয়ে দিচ্ছে।

বিগত দশকে কম্পিউটারের ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে আর ইন্টারনেটের প্রসার ঘটেছে। বিদেশের বিভিন্ন আইটি ফার্ম তাদের কাজের একটি অংশ চুক্তির ভিত্তিতে বাংলাদেশের কোনো আইটি ফার্মকে করতে দেয়, একেই আউটসোর্সিং বলা হয়। এই কাজের আদান-প্রদান আর যোগাযোগ ইন্টারনেটের মাধ্যমে হয়। বাংলাদেশের গার্মেন্ট শিল্পে নিম্নমজুরির মতো বাংলাদেশের আইটি ফার্মগুলোর কর্মচারীদের বেতনভাতা কম হওয়ার জন্য বিদেশী আইটি ফার্ম আকৃষ্ট হচ্ছে। এ পাশাপাশি বাংলাদেশে আউটসোর্সিংয়ের বিস্তার ঘটছে। তবে আমাদের ফ্রিল্যান্সারদের এখনই ঘুরে দাঁড়াতে হবে, না হলে বিশ্ব বাজারে পিছিয়ে পড়ব আমরা।

Shamol Bangla Ads

বর্তমানে ফিলিপাইন বা ভারতের একজন ফ্রিল্যান্সার যখন প্রতি ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ ডলার চার্জ নেন সেখানে আমাদের দেশের ফ্রিল্যান্সাররা আয় করছেন দুই থেকে তিন ডলার। দুঃখজনক হলেও সত্য অনেকে ঘণ্টাপ্রতি এক ডলারের নিচেও কাজ করেন। এ জন্য আমাদের বিপুল ফ্রিল্যান্সার থাকলেও মোট হিসাবে আয় অনেক কম।

ইল্যান্স (www.elance.com) হলো বিশ্বের প্রথম সারির একটি ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস। প্রতিষ্ঠানটির রয়েছে প্রায় ৫,০০,০০০ কায়েন্ট, যার মধ্যে গুগল, মাইক্রোসফট, আমাজন এবং ইবের মতো কো¤পানিও রয়েছে। আছে ১৭০টি দেশের প্রায় ২০ লাখ ফ্রিল্যান্সার। সাইটটিতে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১০ লাখ জব পোস্ট হয় এবং প্রতি জবে গড়ে প্রায় ১০ জন করে আবেদন করেন। শুরু থেকে নিয়ে এই পর্যন্ত ইল্যান্সের ফ্রিল্যান্সাররা সব মিলিয়ে আয় করেছেন প্রায় ৭০৯ মিলিয়ন ডলার, যা যেকোনো ফ্রিল্যান্সিং মার্কেট প্লেসের জন্য একটি রেকর্ড।

ইল্যান্স মার্কেট প্লেসে বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সারদের বর্তমান পেক্ষাপট নিয়ে ইল্যান্স বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার সাঈদুর মামুন খান জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৩৩ হাজার ফ্রিল্যান্সার আছে যারা ইল্যান্সে নিবন্ধিত। এর মধ্যে শতকরা ২০ শতাংশ কাজ করছে সেলস এবং মার্কেটিং নিয়ে, ৪৯ শতাংশ আইটি এবং প্রোগ্রামিং, ২১ শতাংশ ডিজাইন এবং মাল্টিমিডিয়া, ১৬ শতাংশ অ্যাডমিন সাপোর্ট, ৮ শতাংশ রাইটিং, ১ শতাংশ ব্যবসায় এবং ২ শতাংশ ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে কাজ করছে। ২০১২ তে ইল্যান্স.কম-এ প্রায় ১১ হাজার কাজে বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সাররা নিয়োগ পেয়েছেন, যা তার আগের বছরের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি। বিভিন্ন কাজে বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সারদের আয় নিয়ে তিনি জানান, সম্মিলিতভাবে বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সাররা ইল্যান্স থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৪.৫ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৩৬ কোটি টাকা) উপার্জন করেছেন। ২০১২ সালে যে কাজগুলোতে বাংলাদেশ থেকে সর্বোচ্চ আয় হয়েছে, সেগুলো হলো পিএইচপিতে ৫,৬০,০০০ ডলার, এইচটিএমএল ৩,৩০,০০০ ডলার, মাইএসকিউএল ২,৭৫,০০০ ডলার, ওয়ার্ডপ্রেস ২,৬৬,০০০ ডলার, সিএসএস ২,৬৩,০০০ ডলার, ফটোশপ ১,৪২,০০০ ডলার, ডাটা এন্ট্রি ১,০০,০০০ ডলার, এন্ড্রয়েড ৯৫,০০০ ডলার, গ্রাফিক ডিজাইন ৯১,০০০ ডলার, ইন্টারনেট মার্কেটিং ৮৭,০০০ ডলার।

বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সারদের আয়ের যে ব্যাপারটি মুখ্য থাকে, তা হলো ঘণ্টাপ্রতি আয়ের পরিমাণ। বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সারদের ইল্যান্সে ঘণ্টাপ্রতি গড় আয় প্রায় আট ডলার। এ ছাড়া বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পৃথকভাবে ঘণ্টাপ্রতি গড় আয়ের পরিমাণ হলো অ্যাডমিন সাপোর্ট ৪.৫ ডলার, আর্কিটেকচার এবং ইঞ্জিনিয়ারিং ১০.৬ ডলার, গ্রাফিক ডিজাইন এবং আর্ট ৯.২ ডলার, আইটি এবং প্রোগ্রামিং ১২.৯ ডলার, ব্যবস্থাপনা এবং ফাইন্যান্স ১৯.৩ ডলার, সেলস এবং মার্কেটিং ৮.৯ ডলার, রাইটিং ৭.৩ ডলার।

ফ্রিল্যান্সিংয়ে সম্ভাবনাময় ক্যারিয়ার গড়তে পারেন ড়ফবংশ মার্কেট প্লেসে। বর্তমানে যতগুলো ফ্রিল্যান্সিং সাইট রয়েছে, তার মধ্যে odesk হচ্ছে জনপ্রিয় ও নির্ভরযোগ্য সাইট। সাইটটি বায়ার ও ফ্রিল্যান্সার উভয়ের কাছেই সর্বাধিক জনপ্রিয়। ফলে বর্তমানে সাইটটিতে কাজ করছে প্রায় এক লাখেরও ওপরে ফ্রিল্যান্সার। সাইটটিতে ডাটা এন্ট্রি থেকে শুরু করে গ্রাফিক্স, ওয়েব ডিজাইন, আর্টিক্যাল রাইটিং, বড়, প্রোগ্রামিং ইত্যাদি হাজারো প্রকারের কাজ রয়েছে।

এ সাইটটিতে নির্দিষ্ট পরিমাণ পারিশ্রমিক ও ঘণ্টা হিসাবে পারিশ্রমিকে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। তবে ঘণ্টা হিসাবে কাজের জন্য ওডেস্ক বেশি জনপ্রিয়। এ পদ্ধতিতে ফ্রিল্যান্সাররা অন্য সাইট হতে তুলনামূলক বেশি অর্থ উপার্জন করতে পারে। এ সিস্টেমে ইন্টারনেটে উপস্থিত থেকে টিমভিউয়ার সফটওয়ারের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সারকে কাজ করতে হয়। এ সময় একজন ফ্রিল্যান্সার কী কাজ করছেন তার স্ক্রিনশট বায়ারের কাছে চলে যায়। ফলে বায়ার তার কাজের প্রতিনিয়ত আপডেট পেতে থাকে। এ সাইটটিতে ফ্রিল্যান্সারদের জন্য রয়েছে বিভিন্ন ধরনের পরীা দেয়ার মাধ্যমে প্রোফাইল বিল্ডিংয়ের সুবিধা। ফলে সত্যিকার অর্থেই যারা নির্দিষ্ট বিষয়ে দ তারা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ও ভালো বাজেটের কাজ পেয়ে থাকে। এ বেশির ভাগ কাজের েেত্র এসক্রো সিস্টেমের (কাজের শুরুতেই বায়ার সাইটে টাকা জমা দিয়ে থাকে) কারণে ফ্রিল্যান্সারদের কাছে কাজ শেষে টাকা পাওয়ার ১০০% নিশ্চয়তা থাকে। এ সাইটে অন্যান্য সাইটের মতো যে কেউ বিড (আবেদন) করতে পারে না, অর্থাৎ এ সাইটে কাজ করতে গেলে ন্যূনতম রেডিনেস টেস্ট দিতে হয় এবং বিভিন্ন পরীায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে ১০০% প্রোফাইল সম্পন্ন না হলে পর্যাপ্ত বিড করতে পারে না, এসব কারণে বায়ারদের কাছে অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য সাইট এটি। ফলে বিশ্বে যতগুলো ফ্রিল্যান্সিং সাইট রয়েছে, তার মধ্যে ওডেস্কে সর্বাধিক কাজ জমা হয়। বড়ং বলা যায়, সব সাইটে যে পরিমাণ কাজ জমা হয়, শুধু ওডেস্কেই সে পরিমাণ কাজ জমা হয়। ফলে বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সারদের জন্য একটু সিরিয়াস হলেই এ সাইটে কাজ পাওয়া সম্ভব।

বাংলাদেশ আইসিটি খাতে দারুণ এগিয়েছে। এ দেশের ৭০ ভাগ প্রজন্মই তারুণ্যনির্ভর। তাই জনসংখ্যা এ দেশের জন্য সমস্যা নয় বরং সম্পদ। তবে সুদ আর পেশাভিত্তিক দতা ছাড়া এ সমস্যা জাতীয় সম্পদ হিসেবে কাজে আসবে না। বাংলাদেশে সফরে এসেছিলেন বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠান ওডেস্কের সহসভাপতি ম্যাট কুপার। তার মতে বাংলাদেশ আউটসোর্সিংয়ে দারুণ এগিয়েছে। এ খাতে বাংলাদেশের ৫০০ কোটি টাকার বাজার সম্ভাবনা আছে। বাংলাদেশে এ কাজের জন্য চমৎকার পরিবেশ আছে। বাংলাদেশ গত ৩ বছরে আউটসোর্সিংয়ে নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ বাজার হিসেবে তুলে ধরেছে। যুক্তরাষ্ট্রের আউটসোর্সিং কন্ট্রাকটররা ঘণ্টায় ন্যূনতম ১৫ থেকে ২০ ডলার আয় করে। বাংলাদেশে কন্ট্রাকটররা ঘণ্টায় ন্যূনতম পাঁচ থেকে ১০ ডলার আয় করছে।

বিশ্বের বৃহত্তম আউটসোর্সিং মার্কেট প্লেস ফ্রিল্যান্সার ডটকমের বাংলাদেশী সংস্করণ ফ্রিল্যান্সার ডটকম ডট বিডির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেছে বেশ কিছু দিন হলো। ফ্রিল্যান্সার ডটকমের বিভিন্ন দিক তথা বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সারের নতুন সংস্করণ চালুর প্রোপট সম্পর্কে জানান ডেভিড হ্যারিসন। তিনি মনে করেন, ফ্রিল্যান্সার ডটকমের স্থানীয় সংস্করণটি কিভাবে বাংলাদেশীদের জন্য বিশাল সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করতে পারে, বিশ্বে ফ্রিল্যান্সিংয়ে বাংলাদেশের ভালো অবস্থান রয়েছে। বাংলাদেশের জিডিবিতে ফ্রিল্যান্সাররা ব্যতিক্রমী অবদান রাখতে পারে। বাংলাদেশ অনলাইন ফ্রিল্যান্সিংয়ে পৃথিবীর শীর্ষ ৩ নম্বর অবস্থানে রয়েছে। ফ্রিল্যান্সিংয়ে আমেরিকা ও ভারতের পরেই বাংলাদেশের অবস্থান।

তিনি বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সারদের একটি পরিসংখ্যানের পরিপ্রেক্ষিতে বলেন, বাংলাদেশ ফ্রিল্যান্সার সাইটের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত এক কোটি ১৭ লাখ ২০ হাজার ৭৫২ মার্কিন ডলার আয় করেছে। বাংলাদেশে তাদের সাইটের মোট ইউজার এক লাখ ৭৬ হাজার ৭৬৫ জন। প্রজেক্ট পোস্ট করা হয়েছে ৭৯ হাজার ৮৯১টি। মোট ফ্রিল্যান্সার এক লাখ ৫১ হাজার ১২২ জন।

শিাজীবন শেষ করে চাকরির অপোয় দিন গুনছেন এমন তরুণদের সংখ্যা যখন বেড়েই চলছে, বিদেশে অদ শ্রমিক রফতানির ফলে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার যখন আমাদের হাতছাড়া হচ্ছে, বৈদেশিক মুদ্রার সঙ্কটে বাংলাদেশের রিজার্ভ মানিতেও যখন টান পড়েছে, ঠিক সে সময়ে আন্তর্জাতিক আউটসোর্সিংয়ে বাজার জিতে নিতে শুরু করেছে বাংলাদেশের তরুণ আউটসোর্সাররা। ভারতের মতো বাংলাদেশেরও সর্বাধিক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের দ্বার উন্মোচিত হয়েছে এই ত্রেটির মাধ্যমে।

error: কপি হবে না!