দুপুর ১:১২ | মঙ্গলবার | ৩১শে মার্চ, ২০২০ ইং | ১৭ই চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

হ্রদের গভীরে সুপ্রাচীন নগরী!

শ্যামলবাংলা ডেস্ক : অনেক ইতিহাস আমাদের অজানা। সে রকম একটি নিদর্শন নাগার্জুনসাগর বাঁধ। অন্ধ্রপ্রদেশের গুন্টুর ও তেলেঙ্গানার নালগোন্ডা জেলার মাঝে এই বাঁধের কাজ শেষ হতে সময় লেগেছিল ১২ বছর। এর পানির তলায় চাপা পড়ে আছে প্রাচীন ভারতের বিশাল একটি নগরী। কৃষ্ণা নদীতে এই বাঁধ তৈরির জন্য সমীক্ষার কাজ শুরু হয়েছিল ১৯০৩ সালে। হায়দরাবাদের নিজামের নির্দেশে কাজ করেছিলেন ব্রিটিশ ইঞ্জিনিয়াররা।
তবে প্রকল্পের কাজ শুরু হয় প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর আমলে, ১৯৫৫ সালে। শেষ হয় ১৯৬৭ সালে। ১.৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই বাঁধের জল ধারণক্ষমতা ১১৪৭ কোটি ২০ লাখ ঘনমিটার। সেচ, জলবিদ্যুৎ প্রকল্পসহ বহুমুখী দিকে বিস্তৃত এই বাঁধ দেশের সবুজ বিপ্লবের প্রধান কারিগর। কিন্তু তার বিনিময়ে এই বাঁধ গ্রাস করেছে ইতিহাসের অমূল্য আকর। এর গভীরে ঘুমিয়ে আছে প্রায় ১৭০০ বছরের প্রাচীন নগরী।
দাক্ষিণাত্যে সাতবাহন বংশ পতনের পর ক্ষমতায় এসেছিল ইক্ষ্বাকু বংশ। এর প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বশিষ্ঠপুত্র চামতামুলা। রামায়ণের ইক্ষ্বাকু বংশের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। ঐতিহাসিকদের ধারণা, এই বংশ ইচ্ছা করেই এই উপাধি নিয়েছিল, রামচন্দ্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা প্রমাণের জন্য। আজকের অন্ধ্র ও তেলেঙ্গানার গুন্টুর, কৃষ্ণা ও নালগোন্ডা অঞ্চলে ২২৫ থেকে ৩২৫ খ্রিস্টাব্দে বিস্তৃত হয়েছিল ইক্ষ্বাকু বংশের শাসন। এখন যেখানে নাগার্জুনসাগর হ্রদ, সেখানেই ছিল তাদের রাজধানী। কৃষ্ণা নদীর ডানতীরে তাদের রাজধানীর প্রাচীন নাম ছিল বিজয়পুরী।
সুপরিকল্পিত এই শহরে ছিল বিশাল রাজপ্রাসাদ, সাধারণ মানুষের বাড়ি, মন্দির, দোকানবাজার, আস্তাবল, স্নানাগারসহ নাগরিক সভ্যতার সব অংশ। রোমান সাম্রাজ্যের মতো অ্যাম্ফিথিয়েটারও ছিল এই নগরীতে।
ইতিহাসের অমূল্য এই সম্পদ নিয়ে কয়েকশ বছর ধরে বিজয়পুরী চলে গিয়েছিল লোকচক্ষুর অন্তরালে। ঘনজঙ্গল আর পাহাড়ের আড়ালে কেউ তার খোঁজ রাখত না। পুনরাবিষ্কার হয় ব্রিটিশ শাসনে, ১৯২৬ সালে। ১৯২৭ থেকে ১৯৩১ অবধি সেখানে অল্পবিস্তর খননকাজও হয়।
ইতিহাসের সামান্য কিছু নিদর্শন এএসআই রক্ষা করে রেখেছে নাগার্জুনকোণ্ডায়। নাগার্জুনসাগর হ্রদের ওপর একফালি দ্বীপ হলো নাগার্জুনকোণ্ডা। সেখানেই রাখা আছে ইক্ষ্বাকু বংশের কিছু স্থাপত্যের নিদর্শন, যা ছিল অতীতে, তার তুলনায় সামান্যমাত্রই রক্ষা করা গেছে।
নাগার্জুনকোণ্ডায় হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মের সেসব নিদর্শন ছাড়াও আছে একটি সংগ্রহশালা। সেখানে যা সংরক্ষিত হয়েছে, সেটি হিমশৈলের চূড়ামাত্র। বাকি সব গ্রাস করেছে কৃষ্ণা নদীর জলরাশি।
সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ খবর



» ঝিনাইগাতীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে ভাতিজার হাতে বৃদ্ধ চাচা খুন : গ্রেফতার ১

» শেরপুরে হতদরিদ্রদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করলেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রুমান

» করোনা প্রতিরোধে শেরপুরে প্রত্যন্ত অঞ্চলেও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছে পুলিশ

» করোনা জনসচেতনতায় কুদ্দুস বয়াতীর গান

» অরবিয়া তানজীল’র গদ্য ‌’উড়ন্ত মানবী’

» করোনা প্রতিরোধে নকলা পৌর মেয়রের মাস্ক বিতরণ

» শ্রীবরদীতে সাবান ও মাস্ক বিতরণ করলেন সাংসদ চাঁন

» ফলো-আপ ॥ শেরপুরে খামার পাহারাদার হত্যা মামলায় ২ আসামি গ্রেফতার

» ২ হাজার পরিবারকে সহায়তা দিলেন সাকিব

» শেরপুরে জীবাণুনাশক স্প্রে করছে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন

» করোনা ভাইরাস : প্রতি ৯ মিনিটে ১ জনের মৃত্যু হচ্ছে নিউইয়র্কে

» শেরপুরে করোনা প্রতিরোধে পৌরসভার জীবাণুনাশক স্প্রে কাজে যুক্ত হলো ফায়ার সার্ভিস

» দেশে করোনায় আক্রান্ত আরও ১ জন ॥ সুস্থ ১৯

» করোনা প্রভাব : সংবাদপত্র শিল্পের সংকট উত্তরণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাই

» নালিতাবাড়ীতে জ্বরে ও শ্বাসকষ্টে নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু ॥ আশপাশের ১০ বাড়ি লকডাউন

সম্পাদক-প্রকাশক : রফিকুল ইসলাম আধার
উপদেষ্টা সম্পাদক : সোলায়মান খাঁন মজনু
নির্বাহী সম্পাদক : মোহাম্মদ জুবায়ের রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১ : ফারহানা পারভীন মুন্নী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : আলমগীর কিবরিয়া কামরুল
বার্তা সম্পাদক-১ : রেজাউল করিম বকুল
বার্তা সম্পাদক-২ : মোঃ ফরিদুজ্জামান।
যোগাযোগ : সম্পাদক : ০১৭২০০৭৯৪০৯
নির্বাহী সম্পাদক : ০১৯১২০৪৯৯৪৬
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১: ০১৭১৬৪৬২২৫৫
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : ০১৭১৪২৬১৩৫০
বার্তা সম্পাদক-১ : ০১৭১৩৫৬৪২২৫
বার্তা সম্পাদক -২ : ০১৯২১-৯৫৫৯০৬
বিজ্ঞাপন : ০১৭১২৮৫৩৩০৩
ইমেইল : shamolbangla2013@gmail.com.

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । ওয়েবসাইট তৈরি করেছে- BD iT Zone

  দুপুর ১:১২ | মঙ্গলবার | ৩১শে মার্চ, ২০২০ ইং | ১৭ই চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

হ্রদের গভীরে সুপ্রাচীন নগরী!

শ্যামলবাংলা ডেস্ক : অনেক ইতিহাস আমাদের অজানা। সে রকম একটি নিদর্শন নাগার্জুনসাগর বাঁধ। অন্ধ্রপ্রদেশের গুন্টুর ও তেলেঙ্গানার নালগোন্ডা জেলার মাঝে এই বাঁধের কাজ শেষ হতে সময় লেগেছিল ১২ বছর। এর পানির তলায় চাপা পড়ে আছে প্রাচীন ভারতের বিশাল একটি নগরী। কৃষ্ণা নদীতে এই বাঁধ তৈরির জন্য সমীক্ষার কাজ শুরু হয়েছিল ১৯০৩ সালে। হায়দরাবাদের নিজামের নির্দেশে কাজ করেছিলেন ব্রিটিশ ইঞ্জিনিয়াররা।
তবে প্রকল্পের কাজ শুরু হয় প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর আমলে, ১৯৫৫ সালে। শেষ হয় ১৯৬৭ সালে। ১.৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই বাঁধের জল ধারণক্ষমতা ১১৪৭ কোটি ২০ লাখ ঘনমিটার। সেচ, জলবিদ্যুৎ প্রকল্পসহ বহুমুখী দিকে বিস্তৃত এই বাঁধ দেশের সবুজ বিপ্লবের প্রধান কারিগর। কিন্তু তার বিনিময়ে এই বাঁধ গ্রাস করেছে ইতিহাসের অমূল্য আকর। এর গভীরে ঘুমিয়ে আছে প্রায় ১৭০০ বছরের প্রাচীন নগরী।
দাক্ষিণাত্যে সাতবাহন বংশ পতনের পর ক্ষমতায় এসেছিল ইক্ষ্বাকু বংশ। এর প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বশিষ্ঠপুত্র চামতামুলা। রামায়ণের ইক্ষ্বাকু বংশের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। ঐতিহাসিকদের ধারণা, এই বংশ ইচ্ছা করেই এই উপাধি নিয়েছিল, রামচন্দ্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা প্রমাণের জন্য। আজকের অন্ধ্র ও তেলেঙ্গানার গুন্টুর, কৃষ্ণা ও নালগোন্ডা অঞ্চলে ২২৫ থেকে ৩২৫ খ্রিস্টাব্দে বিস্তৃত হয়েছিল ইক্ষ্বাকু বংশের শাসন। এখন যেখানে নাগার্জুনসাগর হ্রদ, সেখানেই ছিল তাদের রাজধানী। কৃষ্ণা নদীর ডানতীরে তাদের রাজধানীর প্রাচীন নাম ছিল বিজয়পুরী।
সুপরিকল্পিত এই শহরে ছিল বিশাল রাজপ্রাসাদ, সাধারণ মানুষের বাড়ি, মন্দির, দোকানবাজার, আস্তাবল, স্নানাগারসহ নাগরিক সভ্যতার সব অংশ। রোমান সাম্রাজ্যের মতো অ্যাম্ফিথিয়েটারও ছিল এই নগরীতে।
ইতিহাসের অমূল্য এই সম্পদ নিয়ে কয়েকশ বছর ধরে বিজয়পুরী চলে গিয়েছিল লোকচক্ষুর অন্তরালে। ঘনজঙ্গল আর পাহাড়ের আড়ালে কেউ তার খোঁজ রাখত না। পুনরাবিষ্কার হয় ব্রিটিশ শাসনে, ১৯২৬ সালে। ১৯২৭ থেকে ১৯৩১ অবধি সেখানে অল্পবিস্তর খননকাজও হয়।
ইতিহাসের সামান্য কিছু নিদর্শন এএসআই রক্ষা করে রেখেছে নাগার্জুনকোণ্ডায়। নাগার্জুনসাগর হ্রদের ওপর একফালি দ্বীপ হলো নাগার্জুনকোণ্ডা। সেখানেই রাখা আছে ইক্ষ্বাকু বংশের কিছু স্থাপত্যের নিদর্শন, যা ছিল অতীতে, তার তুলনায় সামান্যমাত্রই রক্ষা করা গেছে।
নাগার্জুনকোণ্ডায় হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মের সেসব নিদর্শন ছাড়াও আছে একটি সংগ্রহশালা। সেখানে যা সংরক্ষিত হয়েছে, সেটি হিমশৈলের চূড়ামাত্র। বাকি সব গ্রাস করেছে কৃষ্ণা নদীর জলরাশি।
সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

সর্বশেষ খবর



অন্যান্য খবর



সম্পাদক-প্রকাশক : রফিকুল ইসলাম আধার
উপদেষ্টা সম্পাদক : সোলায়মান খাঁন মজনু
নির্বাহী সম্পাদক : মোহাম্মদ জুবায়ের রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১ : ফারহানা পারভীন মুন্নী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : আলমগীর কিবরিয়া কামরুল
বার্তা সম্পাদক-১ : রেজাউল করিম বকুল
বার্তা সম্পাদক-২ : মোঃ ফরিদুজ্জামান।
যোগাযোগ : সম্পাদক : ০১৭২০০৭৯৪০৯
নির্বাহী সম্পাদক : ০১৯১২০৪৯৯৪৬
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১: ০১৭১৬৪৬২২৫৫
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : ০১৭১৪২৬১৩৫০
বার্তা সম্পাদক-১ : ০১৭১৩৫৬৪২২৫
বার্তা সম্পাদক -২ : ০১৯২১-৯৫৫৯০৬
বিজ্ঞাপন : ০১৭১২৮৫৩৩০৩
ইমেইল : shamolbangla2013@gmail.com.

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । ওয়েবসাইট তৈরি করেছে- BD iT Zone

error: Content is protected !!