[bangla_time] | [bangla_day] | [english_date] | [bangla_date]

সুন্দরবনের যেখানে গেলেই দেখা মেলে হরিণের

সবুজের রাজ্যে সূর্য এরই মধ্যে কোমলতা-স্নিগ্ধতা ঝেড়ে কর্কশ-উষ্ণ হতে শুরু করেছে। শরতের হালকা কুয়াশা গায়ে মেখে ভদ্রা নদীর পাড়ে একদল মায়া হরিণ বিচরণ করছে। হয়তো বা সকালের খাবার খেতে নয়তো বা সূর্যের নরম আলো গায়ে মাখতে।
সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের ঢাংমারী স্টেশনে যাওয়ার পথেই টানা টানা চোখের মায়াবী চাহনির এক ঝাঁক হরিণের দেখা মেলে। ভদ্রা নদীর পশ্চিম পাড় দিয়ে লঞ্চে যাওয়ার সময় উচ্ছল এবং প্রিয় দর্শন এই হরিণে চোখ আটকে যায়। ক্রমান্বয়ে নদীর পাড়ে যেতে না যেতেই হরিণ মানুষের সারা পেয়ে সরু সরু পায়ে ক্ষীপ্রগতিতে পালিয়ে যায়। এরই মধ্যে ক্যামেরাবন্দি হয়ে পড়ে অপূর্ব সুন্দর হরিণের দল।হরিণের খুনসুটি। ছবি: বাংলানিউজবন বিভাগের খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক মো. মঈনুদ্দিন খান বাংলানিউজকে বলেন, সুন্দরবনে প্রায় ২ লক্ষাধিক হরিণ রয়েছে। এ বনে চিত্রা ও মায়া দু’ধরনের হরিণ রয়েছে। বনের সর্বত্রই এর বাস। তবে বেশি দেখা যায় মায়া হরিণদের। সাধারণত বনের কটকা, করমজল, দুবলারচর, হিরণপয়েন্ট, কচিখালী, সুপতি, ঢাংমারী এলাকায় হরিণের বেশি বিচরণ।
কথায় আছে ‘আপনা মাংসে হরিণা বৈরী’ অর্থাৎ হরিণের নিজের শরীরের মাংসই যেন তার নিজের শত্রু। প্রাচীন এই কবি-কথা প্রবাদে পরিণত হলেও তা আজ বাস্তব সত্য। হরিণের মাংসের প্রতি মুখিয়ে থাকেন এক দল মানুষ। হরিণ খাবারের সন্ধানে সুন্দরবন সংলগ্ন জনবসতিতে ডুকে পড়লেই তাদের শিকার করে কিছু শিকারী।
বন রক্ষকরা বলছেন, সুন্দরবনের হরিণ মানুষের মনকে এক পলকে কেড়ে নেয়। হরিণেরা নিশাচর বা দিবাচর। ঘাস, লতাপাতা, ওড়া, কেওড়া, গোল, ধুন্দল, গেউয়া গাছের ফল খুব পছন্দ হরিণের। এরা ছোট ছোট দলে বাস করে। এরা যাওয়ার পথে পায়ের চিহ্ন রেখে যায়। অত্যন্ত আরামপ্রিয় এবং সৌখিন। হরিণ অত্যন্ত ক্ষিপ্রগতি সম্পন্ন এবং সজাগ। বনের হরিণ বাঘের অন্যতম প্রধান শিকার। তাই বাঘের আক্রমণের পূর্বাভাস পেলেই তারা ক্ষিপ্র গতিতে পালিয়ে যায়। এমনকি মানুষের উপস্থিতি টের পেলেও এরা বনের ভেতর চলে যায়।বনের মধ্যে হরিণের বিচরণ। ছবি : বাংলানিউজতারা আরও বলেন, বাঘ হরিণের চিরশত্রু হলেও ব্যতিক্রম বানরের সঙ্গে সম্পর্ক। বনের বানরেরা কেওড়া গাছে উঠে নিজেরা যেমন পাতা ও ফল খায়, গাছের নিচে অপেক্ষমান হরিণের জন্য অনুরূপভাবে গাছের ফল বা পাতা নিচে ফেলে দেয়। হরিণের সংগে বানরের সম্পর্ক চমৎকার । কোনো বিপদের সংকেত পেলে বানর ডাক দিয়ে হরিণকে সতর্ক করে দেয়।
জানা গেছে, দূর থেকে মায়া হরিণের ডাক কুকুরের ডাকের মতো শোনায়। ভয় পেলে ভাঙা ভাঙা স্বরে চেঁচায়। হরিণী প্রজনন মৌসুমে ডাকে তীক্ষ্ণ মিউ মিউ স্বরে এবং হরিণ ঘণ্টাধ্বনির শব্দে। এক বছরের মধ্যেই হরিণী প্রজননক্ষম হয়ে ওঠে। গর্ভকাল প্রায় ৭ মাস। সাধারণত ১ থেকে ২টি বাচ্চা প্রসব করে। প্রাপ্তবয়স্ক চিত্রা হরিণের শিং তিন শাখাবিশিষ্ট। বৃক্ষঘন এলাকায় বসবাস এদের পছন্দ। দু’তিনটি পুরুষ হরিণসহ এরা ১০ থেকে ৩০টি একত্রে দলবদ্ধ থাকে। অবশ্য সুন্দরবনে একসঙ্গে কয়েকশ চিত্রাহরিণের পালও দেখা যায়। এদের প্রজননের র্নিদিষ্ট কোনো ঋতু নেই। চিত্রাহরিণের গর্ভাধারণকাল ৭ মাস। প্রতিবারে একটি বাচ্চা প্রসব করে।হরিণের দল।

অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ খবর



» ১০৬ রানে অলআউট বাংলাদেশ

» দুর্ঘটনায় বরযাত্রীবাহী বাস, নিহত বেড়ে ১০

» শেরপুরে বাসচালকদের ধর্মঘট প্রত্যাহার : জনমনে স্বস্তি

» শেরপুরে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সম্মেলন ॥ সভাপতি দেবাশীষ, সম্পাদক কানু

» সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধেও জিরো টলারেন্স নীতির বাস্তবায়ন চাই ॥ রানা দাস গুপ্ত

» শেরপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বৃদ্ধা খুন

» গুজব বন্ধে বিধিমালা হচ্ছে : তথ্যমন্ত্রী

» মুন্সীগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় ৮ বরযাত্রী নিহত

» ঘণ্টা বাজালেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্বর্ণের মুদ্রায় টস

» শেরপুরে জেলা প্রশাসনের আর্থিক সহায়তা পেল ৩ হতদরিদ্র শিক্ষার্থীসহ ৫ জন

» শেখ ফয়জুর রহমান’র কবিতাগুচ্ছ

» নালিতাবাড়ীতে ১ হাজার পিস ইয়াবাসহ ২ যুবক গ্রেফতার

» দিবা-রাত্রির টেষ্ট ম্যাচ : ‘পিঙ্ক সিটি’তে রুপ নিয়েছে কলকাতা

» যুবলীগের সম্মেলন ২৩ নবেম্বর

» অস্ট্রেলিয়ায় ভয়ানক রূপ ধারণ করেছে দাবানল : ৩ রাজ্যে সর্বোচ্চ সতর্কতা

সম্পাদক-প্রকাশক : রফিকুল ইসলাম আধার
উপদেষ্টা সম্পাদক : সোলায়মান খাঁন মজনু
নির্বাহী সম্পাদক : মোহাম্মদ জুবায়ের রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১ : ফারহানা পারভীন মুন্নী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : আলমগীর কিবরিয়া কামরুল
বার্তা সম্পাদক-১ : রেজাউল করিম বকুল
বার্তা সম্পাদক-২ : মোঃ ফরিদুজ্জামান।
যোগাযোগ : সম্পাদক : ০১৭২০০৭৯৪০৯
নির্বাহী সম্পাদক : ০১৯১২০৪৯৯৪৬
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১: ০১৭১৬৪৬২২৫৫
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : ০১৭১৪২৬১৩৫০
বার্তা সম্পাদক-১ : ০১৭১৩৫৬৪২২৫
বার্তা সম্পাদক -২ : ০১৯২১-৯৫৫৯০৬
বিজ্ঞাপন : ০১৭১২৮৫৩৩০৩
ইমেইল : shamolbangla2013@gmail.com.

কারিগরি সহযোগিতায় BD iT Zone

,

সুন্দরবনের যেখানে গেলেই দেখা মেলে হরিণের

সবুজের রাজ্যে সূর্য এরই মধ্যে কোমলতা-স্নিগ্ধতা ঝেড়ে কর্কশ-উষ্ণ হতে শুরু করেছে। শরতের হালকা কুয়াশা গায়ে মেখে ভদ্রা নদীর পাড়ে একদল মায়া হরিণ বিচরণ করছে। হয়তো বা সকালের খাবার খেতে নয়তো বা সূর্যের নরম আলো গায়ে মাখতে।
সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের ঢাংমারী স্টেশনে যাওয়ার পথেই টানা টানা চোখের মায়াবী চাহনির এক ঝাঁক হরিণের দেখা মেলে। ভদ্রা নদীর পশ্চিম পাড় দিয়ে লঞ্চে যাওয়ার সময় উচ্ছল এবং প্রিয় দর্শন এই হরিণে চোখ আটকে যায়। ক্রমান্বয়ে নদীর পাড়ে যেতে না যেতেই হরিণ মানুষের সারা পেয়ে সরু সরু পায়ে ক্ষীপ্রগতিতে পালিয়ে যায়। এরই মধ্যে ক্যামেরাবন্দি হয়ে পড়ে অপূর্ব সুন্দর হরিণের দল।হরিণের খুনসুটি। ছবি: বাংলানিউজবন বিভাগের খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক মো. মঈনুদ্দিন খান বাংলানিউজকে বলেন, সুন্দরবনে প্রায় ২ লক্ষাধিক হরিণ রয়েছে। এ বনে চিত্রা ও মায়া দু’ধরনের হরিণ রয়েছে। বনের সর্বত্রই এর বাস। তবে বেশি দেখা যায় মায়া হরিণদের। সাধারণত বনের কটকা, করমজল, দুবলারচর, হিরণপয়েন্ট, কচিখালী, সুপতি, ঢাংমারী এলাকায় হরিণের বেশি বিচরণ।
কথায় আছে ‘আপনা মাংসে হরিণা বৈরী’ অর্থাৎ হরিণের নিজের শরীরের মাংসই যেন তার নিজের শত্রু। প্রাচীন এই কবি-কথা প্রবাদে পরিণত হলেও তা আজ বাস্তব সত্য। হরিণের মাংসের প্রতি মুখিয়ে থাকেন এক দল মানুষ। হরিণ খাবারের সন্ধানে সুন্দরবন সংলগ্ন জনবসতিতে ডুকে পড়লেই তাদের শিকার করে কিছু শিকারী।
বন রক্ষকরা বলছেন, সুন্দরবনের হরিণ মানুষের মনকে এক পলকে কেড়ে নেয়। হরিণেরা নিশাচর বা দিবাচর। ঘাস, লতাপাতা, ওড়া, কেওড়া, গোল, ধুন্দল, গেউয়া গাছের ফল খুব পছন্দ হরিণের। এরা ছোট ছোট দলে বাস করে। এরা যাওয়ার পথে পায়ের চিহ্ন রেখে যায়। অত্যন্ত আরামপ্রিয় এবং সৌখিন। হরিণ অত্যন্ত ক্ষিপ্রগতি সম্পন্ন এবং সজাগ। বনের হরিণ বাঘের অন্যতম প্রধান শিকার। তাই বাঘের আক্রমণের পূর্বাভাস পেলেই তারা ক্ষিপ্র গতিতে পালিয়ে যায়। এমনকি মানুষের উপস্থিতি টের পেলেও এরা বনের ভেতর চলে যায়।বনের মধ্যে হরিণের বিচরণ। ছবি : বাংলানিউজতারা আরও বলেন, বাঘ হরিণের চিরশত্রু হলেও ব্যতিক্রম বানরের সঙ্গে সম্পর্ক। বনের বানরেরা কেওড়া গাছে উঠে নিজেরা যেমন পাতা ও ফল খায়, গাছের নিচে অপেক্ষমান হরিণের জন্য অনুরূপভাবে গাছের ফল বা পাতা নিচে ফেলে দেয়। হরিণের সংগে বানরের সম্পর্ক চমৎকার । কোনো বিপদের সংকেত পেলে বানর ডাক দিয়ে হরিণকে সতর্ক করে দেয়।
জানা গেছে, দূর থেকে মায়া হরিণের ডাক কুকুরের ডাকের মতো শোনায়। ভয় পেলে ভাঙা ভাঙা স্বরে চেঁচায়। হরিণী প্রজনন মৌসুমে ডাকে তীক্ষ্ণ মিউ মিউ স্বরে এবং হরিণ ঘণ্টাধ্বনির শব্দে। এক বছরের মধ্যেই হরিণী প্রজননক্ষম হয়ে ওঠে। গর্ভকাল প্রায় ৭ মাস। সাধারণত ১ থেকে ২টি বাচ্চা প্রসব করে। প্রাপ্তবয়স্ক চিত্রা হরিণের শিং তিন শাখাবিশিষ্ট। বৃক্ষঘন এলাকায় বসবাস এদের পছন্দ। দু’তিনটি পুরুষ হরিণসহ এরা ১০ থেকে ৩০টি একত্রে দলবদ্ধ থাকে। অবশ্য সুন্দরবনে একসঙ্গে কয়েকশ চিত্রাহরিণের পালও দেখা যায়। এদের প্রজননের র্নিদিষ্ট কোনো ঋতু নেই। চিত্রাহরিণের গর্ভাধারণকাল ৭ মাস। প্রতিবারে একটি বাচ্চা প্রসব করে।হরিণের দল।

সর্বশেষ খবর



অন্যান্য খবর



সম্পাদক-প্রকাশক : রফিকুল ইসলাম আধার
উপদেষ্টা সম্পাদক : সোলায়মান খাঁন মজনু
নির্বাহী সম্পাদক : মোহাম্মদ জুবায়ের রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১ : ফারহানা পারভীন মুন্নী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : আলমগীর কিবরিয়া কামরুল
বার্তা সম্পাদক-১ : রেজাউল করিম বকুল
বার্তা সম্পাদক-২ : মোঃ ফরিদুজ্জামান।
যোগাযোগ : সম্পাদক : ০১৭২০০৭৯৪০৯
নির্বাহী সম্পাদক : ০১৯১২০৪৯৯৪৬
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১: ০১৭১৬৪৬২২৫৫
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : ০১৭১৪২৬১৩৫০
বার্তা সম্পাদক-১ : ০১৭১৩৫৬৪২২৫
বার্তা সম্পাদক -২ : ০১৯২১-৯৫৫৯০৬
বিজ্ঞাপন : ০১৭১২৮৫৩৩০৩
ইমেইল : shamolbangla2013@gmail.com.

কারিগরি সহযোগিতায় BD iT Zone

error: Content is protected !!