রাত ৪:৩১ | সোমবার | ৬ই এপ্রিল, ২০২০ ইং | ২৩শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

শেরপুর শহীদ স্মৃতিস্তম্ভের সুরক্ষার ব্যবস্থা করা হোক ॥ মানিক দত্ত

মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে যারা রণাঙ্গনে শহীদ হয়েছেন তাদের স্মরণে সরকারিভাবে দেশের প্রতিটি জেলায় নির্মাণ করা হয় শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ। সুন্দর নকশায় নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভে রণাঙ্গনে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের নাম খচিত রয়েছে। শেরপুর জেলা সদরের শহীদ স্মৃতিস্তম্ভটি শিল্পকলা একাডেমির প্রবেশপথের দক্ষিণ পাশে পৌর চিলড্রেন কর্ণার সংলগ্ন স্থানে নির্মাণ করা হয়েছে। এটি সড়ক ও জনপথের শেরপুর-জামালপুর রাস্তার পাশে হওয়াতে বড় একটি ড্রেন বহমান। স্মৃতিস্তম্ভের প্রবেশ পথের পাশে থাকা মোড় ঘুরানো ড্রেনটি ঝুকিপূর্ণ ছিল। নির্মাণের সময় সে স্থানটি ফাঁকা ছিল পরে যেখানে একটি টং দোকান ঘর বসানোর পর দোকানের মালিক বাঁশ দিয়ে তা ঢেকে দেয়। কিছু দিন পর ভেঙ্গে যাওয়ায় আমি শেরপুর পৌরসভার মেয়র মহোদয়কে অনুরোধ করায় সে স্থানটুকু আরসিসি ঢালাই করে দেন তিনি। তারপরও ৯০ শতাংশ ড্রেন ফাঁকা। সবচেয়ে বড় কথা হলো স্মৃতিস্তম্ভটি অরক্ষিত অবহেলায়-অযত্নে থাকে বছরের বেশিরভাগ সময়। ডিসেম্বর মাসের ১৪ থেকে ১৮ এবং মার্চ মাসের ২৪-২৮ তারিখ পর্যন্ত যত্ন পায়। ধোয়ামোছা পরিস্কার করা হয়, সাজানো হয়। এছাড়া বাকী সময়টুকু দেখভাল করার মত কেউ থাকে না। সেখানে বসেছে চা-পান সিগারেটের দোকান। রাখা হয় গাড়ি, পোস্টার ব্যানার দিয়ে ঢাকা। বিকেল থেকে অনেক রাত পর্যন্ত চলে বিভিন্ন বয়সীদের আড্ডা, যেন এটি একটি বিনোদন কেন্দ্র। স্তম্ভে ওঠে গিটার বাজাচ্ছে, গান গাচ্ছে। গান যদি দেশাত্মবোধক স্বাধীনতার হয় ভালো; কিন্তু তারা তা গাচ্ছে না। চা-পান-সিগারেটের বেঞ্চ পেতে রাখা হয় স্মৃতিস্তম্ভ জুড়ে। পানের পিক, সিগারেটের শেষ অংশ, চায়ের শেষ অংশ ফেলা হচ্ছে যত্রতত্র। মাঝে মাঝে অর্থাৎ বিশেষ দিবসে স্মৃতিস্তম্ভের উপর অনুষ্ঠিত হয় বিভিন্ন অনুষ্ঠান। বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান হলে তো ভালো কিন্তু ১লা বৈশাখ, ১লা ফাল্গুন, চৈত্র সংক্রান্তিসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান করা হয়।

img-add

স্মৃতিস্তম্ভ আনন্দ ফূর্তির স্থান নয়; সম্মান, শ্রদ্ধার স্থান। স্মৃতিস্তম্ভের সামনের পাশে খালি স্থানে হলে কোন কথা নেই, কিন্তু স্মৃতিস্তম্ভের উপর কেন? স্মৃতিস্তম্ভের পিছনে বসে খাসি ছাগল ও পুরাতন রিক্সা, ভ্যান-সাইকেলের বাজার। স্মৃতিস্মম্ভে সকলেই যাবে সম্মান দেখাতে, শ্রদ্ধা জানাতে, সন্তানদের নিয়ে যাবে ইতিহাস জানাতে কিন্তু তা তো হচ্ছে না। হচ্ছে অন্য কিছু। স্মৃতিস্তম্ভের পাশে ব্যবসায়িক বা বিভিন্ন কারণে সব সময় অবস্থান করেন তাদের মধ্যে অনেকেরই অভিযোগ, সেখানে অনেকেই নেশা-মাদক দ্রব্য গ্রহণ করেন। তাই আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন জানাবো শহীদ স্মৃতিস্তম্ভের চারিপাশে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করে সেই সীমানা প্রাচীরে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক ছবি অংকন বা ম্যুরাল করা হোক। নির্মাণ করা হোক সুন্দর একটি গেইট। যাহা শুধু বিশেষ বিশেষ দিনে খুলে দেওয়া হবে। সীমানা প্রাচীরের ভিতরে থাকবে পরিস্কার। ভিতরে লাগানো হোক ফুল গাছ। শ্রদ্ধীয় শহীদ জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের আত্মা শান্তিতে থাকুক, অসম্মান অবহেলায় নয়। এ কাজটুকু করতে খুব বেশী অর্থ ব্যয় হবে বলে মনে হয় না। আমাদের শ্রদ্ধা এবং আন্তরিকতা সৃষ্টি হলেই মনে করি এ কাজটি দ্রুত হবে। অনেক অর্থে অনেক বড় বড় অনেক কিছু হচ্ছে। কাজটি ২৬শে মার্চের আগেই হবে বলে আমি বিশ্বাস ও আশা রেখে শেষ করছি। শ্রদ্ধা হে মহান শহীদগণ বিনম্রচিত্তে।
লেখক : সাংবাদিক ও ক্রীড়া সংগঠক, শেরপুর।

অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ খবর



» শেরপুরে হাসপাতালের স্টাফসহ করোনা ভাইরাসের ২ রোগী শনাক্ত

» শেরপুরে ১ হাজার কর্মহীন মানুষ পেল আ’লীগ নেতা উৎপলের খাদ্য সহায়তা

» শেরপুরে বিশেষ ওএমএসের চাল ও আটা বিক্রি শুরু

» ঢাকায় প্রবেশ ও বের হওয়া বন্ধ

» ঝিনাইগাতীতে করোনা সন্দেহে এক কিশোরের নমুনা সংগ্রহ

» করোনায় ই-রাজনীতি : হোয়াটসঅ্যাপে সভা; ভিডিও বার্তায় আহ্বান

» মোদির কাছে ম্যালেরিয়ার ওষুধ চাইলেন ট্রাম্প

» ধনী মালিকদের নয়, অসহায়দের সাহায্য করতে রাজি ফুটবলাররা

» সাধারণ ছুটি বাড়ল ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত

» শেরপুরে সামাজিক দূরত্ব ও হোম কোয়ারেন্টাইন না মানায় ৯৮ হাজার টাকা জরিমানা

» বিশ্বে করোনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪ হাজার : আক্রান্ত ১২ লাখ

» কেউ চাকরি হারাবেন না : প্রধানমন্ত্রী

» ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী

» ঝিনাইগাতীতে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে সেনা তৎপরতা জোরদার

» গত ২৪ ঘন্টায় করোনায় আক্রান্ত ১৮, আরও একজনের মৃত্যু

সম্পাদক-প্রকাশক : রফিকুল ইসলাম আধার
উপদেষ্টা সম্পাদক : সোলায়মান খাঁন মজনু
নির্বাহী সম্পাদক : মোহাম্মদ জুবায়ের রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১ : ফারহানা পারভীন মুন্নী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : আলমগীর কিবরিয়া কামরুল
বার্তা সম্পাদক-১ : রেজাউল করিম বকুল
বার্তা সম্পাদক-২ : মোঃ ফরিদুজ্জামান।
যোগাযোগ : সম্পাদক : ০১৭২০০৭৯৪০৯
নির্বাহী সম্পাদক : ০১৯১২০৪৯৯৪৬
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১: ০১৭১৬৪৬২২৫৫
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : ০১৭১৪২৬১৩৫০
বার্তা সম্পাদক-১ : ০১৭১৩৫৬৪২২৫
বার্তা সম্পাদক -২ : ০১৯২১-৯৫৫৯০৬
বিজ্ঞাপন : ০১৭১২৮৫৩৩০৩
ইমেইল : shamolbangla2013@gmail.com.

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । ওয়েবসাইট তৈরি করেছে- BD iT Zone

  রাত ৪:৩১ | সোমবার | ৬ই এপ্রিল, ২০২০ ইং | ২৩শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

শেরপুর শহীদ স্মৃতিস্তম্ভের সুরক্ষার ব্যবস্থা করা হোক ॥ মানিক দত্ত

মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে যারা রণাঙ্গনে শহীদ হয়েছেন তাদের স্মরণে সরকারিভাবে দেশের প্রতিটি জেলায় নির্মাণ করা হয় শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ। সুন্দর নকশায় নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভে রণাঙ্গনে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের নাম খচিত রয়েছে। শেরপুর জেলা সদরের শহীদ স্মৃতিস্তম্ভটি শিল্পকলা একাডেমির প্রবেশপথের দক্ষিণ পাশে পৌর চিলড্রেন কর্ণার সংলগ্ন স্থানে নির্মাণ করা হয়েছে। এটি সড়ক ও জনপথের শেরপুর-জামালপুর রাস্তার পাশে হওয়াতে বড় একটি ড্রেন বহমান। স্মৃতিস্তম্ভের প্রবেশ পথের পাশে থাকা মোড় ঘুরানো ড্রেনটি ঝুকিপূর্ণ ছিল। নির্মাণের সময় সে স্থানটি ফাঁকা ছিল পরে যেখানে একটি টং দোকান ঘর বসানোর পর দোকানের মালিক বাঁশ দিয়ে তা ঢেকে দেয়। কিছু দিন পর ভেঙ্গে যাওয়ায় আমি শেরপুর পৌরসভার মেয়র মহোদয়কে অনুরোধ করায় সে স্থানটুকু আরসিসি ঢালাই করে দেন তিনি। তারপরও ৯০ শতাংশ ড্রেন ফাঁকা। সবচেয়ে বড় কথা হলো স্মৃতিস্তম্ভটি অরক্ষিত অবহেলায়-অযত্নে থাকে বছরের বেশিরভাগ সময়। ডিসেম্বর মাসের ১৪ থেকে ১৮ এবং মার্চ মাসের ২৪-২৮ তারিখ পর্যন্ত যত্ন পায়। ধোয়ামোছা পরিস্কার করা হয়, সাজানো হয়। এছাড়া বাকী সময়টুকু দেখভাল করার মত কেউ থাকে না। সেখানে বসেছে চা-পান সিগারেটের দোকান। রাখা হয় গাড়ি, পোস্টার ব্যানার দিয়ে ঢাকা। বিকেল থেকে অনেক রাত পর্যন্ত চলে বিভিন্ন বয়সীদের আড্ডা, যেন এটি একটি বিনোদন কেন্দ্র। স্তম্ভে ওঠে গিটার বাজাচ্ছে, গান গাচ্ছে। গান যদি দেশাত্মবোধক স্বাধীনতার হয় ভালো; কিন্তু তারা তা গাচ্ছে না। চা-পান-সিগারেটের বেঞ্চ পেতে রাখা হয় স্মৃতিস্তম্ভ জুড়ে। পানের পিক, সিগারেটের শেষ অংশ, চায়ের শেষ অংশ ফেলা হচ্ছে যত্রতত্র। মাঝে মাঝে অর্থাৎ বিশেষ দিবসে স্মৃতিস্তম্ভের উপর অনুষ্ঠিত হয় বিভিন্ন অনুষ্ঠান। বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান হলে তো ভালো কিন্তু ১লা বৈশাখ, ১লা ফাল্গুন, চৈত্র সংক্রান্তিসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান করা হয়।

img-add

স্মৃতিস্তম্ভ আনন্দ ফূর্তির স্থান নয়; সম্মান, শ্রদ্ধার স্থান। স্মৃতিস্তম্ভের সামনের পাশে খালি স্থানে হলে কোন কথা নেই, কিন্তু স্মৃতিস্তম্ভের উপর কেন? স্মৃতিস্তম্ভের পিছনে বসে খাসি ছাগল ও পুরাতন রিক্সা, ভ্যান-সাইকেলের বাজার। স্মৃতিস্মম্ভে সকলেই যাবে সম্মান দেখাতে, শ্রদ্ধা জানাতে, সন্তানদের নিয়ে যাবে ইতিহাস জানাতে কিন্তু তা তো হচ্ছে না। হচ্ছে অন্য কিছু। স্মৃতিস্তম্ভের পাশে ব্যবসায়িক বা বিভিন্ন কারণে সব সময় অবস্থান করেন তাদের মধ্যে অনেকেরই অভিযোগ, সেখানে অনেকেই নেশা-মাদক দ্রব্য গ্রহণ করেন। তাই আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন জানাবো শহীদ স্মৃতিস্তম্ভের চারিপাশে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করে সেই সীমানা প্রাচীরে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক ছবি অংকন বা ম্যুরাল করা হোক। নির্মাণ করা হোক সুন্দর একটি গেইট। যাহা শুধু বিশেষ বিশেষ দিনে খুলে দেওয়া হবে। সীমানা প্রাচীরের ভিতরে থাকবে পরিস্কার। ভিতরে লাগানো হোক ফুল গাছ। শ্রদ্ধীয় শহীদ জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের আত্মা শান্তিতে থাকুক, অসম্মান অবহেলায় নয়। এ কাজটুকু করতে খুব বেশী অর্থ ব্যয় হবে বলে মনে হয় না। আমাদের শ্রদ্ধা এবং আন্তরিকতা সৃষ্টি হলেই মনে করি এ কাজটি দ্রুত হবে। অনেক অর্থে অনেক বড় বড় অনেক কিছু হচ্ছে। কাজটি ২৬শে মার্চের আগেই হবে বলে আমি বিশ্বাস ও আশা রেখে শেষ করছি। শ্রদ্ধা হে মহান শহীদগণ বিনম্রচিত্তে।
লেখক : সাংবাদিক ও ক্রীড়া সংগঠক, শেরপুর।

সর্বশেষ খবর



অন্যান্য খবর



সম্পাদক-প্রকাশক : রফিকুল ইসলাম আধার
উপদেষ্টা সম্পাদক : সোলায়মান খাঁন মজনু
নির্বাহী সম্পাদক : মোহাম্মদ জুবায়ের রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১ : ফারহানা পারভীন মুন্নী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : আলমগীর কিবরিয়া কামরুল
বার্তা সম্পাদক-১ : রেজাউল করিম বকুল
বার্তা সম্পাদক-২ : মোঃ ফরিদুজ্জামান।
যোগাযোগ : সম্পাদক : ০১৭২০০৭৯৪০৯
নির্বাহী সম্পাদক : ০১৯১২০৪৯৯৪৬
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১: ০১৭১৬৪৬২২৫৫
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : ০১৭১৪২৬১৩৫০
বার্তা সম্পাদক-১ : ০১৭১৩৫৬৪২২৫
বার্তা সম্পাদক -২ : ০১৯২১-৯৫৫৯০৬
বিজ্ঞাপন : ০১৭১২৮৫৩৩০৩
ইমেইল : shamolbangla2013@gmail.com.

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । ওয়েবসাইট তৈরি করেছে- BD iT Zone

error: Content is protected !!