প্রকাশকাল: 10 জুলাই, 2019

শেরপুরে স্কুলছাত্রী বন্ধন হত্যা মামলায় পরিচালকসহ ৩ জনের রিমাণ্ড মঞ্জুর

স্টাফ রিপোর্টার ॥ শেরপুর শহরের সজবরখিলা এলাকার ফৌজিয়া মতিন পাবলিক স্কুলের ছাত্রীনিবাস থেকে আনুশকা আয়াত বন্ধন (১৪) নামে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় স্কুলের পরিচালক-প্রধান শিক্ষকসহ ৩ জনের রিমাণ্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। ১০ জুলাই বুধবার দুপুরে তদন্ত কর্মকর্তার ৭ দিনের পুলিশ রিমাণ্ডের আবেদনের বিষয়ে উভয় পক্ষের শুনানী শেষে পরিচালক আবু ত্বাহা সাদী (৫০) কে ৫ দিন, সাদীর স্ত্রী নাজনীন মোস্তারি নূপুর (৪২) ও তার ছোটভাই শিবলী নোমান (৪০) কে ৩ দিন করে রিমাণ্ড মঞ্জুর করেন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শরিফুল ইসলাম খান।
মামলাটি রাষ্ট্রপক্ষে শুনানী করেন কোর্ট সাব-ইন্সপেক্টর আনিছুর রহমান। তাকে সহায়তা করেন জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট রফিকুল ইসলাম আধার, সিনিয়র আইনজীবী প্রদীপ দে কৃষ্ণ, আইনজীবী-সাংবাদিক আব্দুর রহিম বাদলসহ কয়েকজন। অন্যদিকে আসামি পক্ষে শুনানী করেন জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এমকে মুরাদুজ্জামান। তাকে সহায়তা করেন সহ-সভাপতি এডভোকেট হরিদাস সাহা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট সাখাওয়াত উল্লাহ তারাসহ বেশ কয়েকজন।
এ ব্যাপারে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রবিউল ইসলাম বলেন, ফৌজিয়া মতিন পাবলিক স্কুলের ছাত্রীনিবাস পরিচালকের বাসা ও স্কুল একই কম্পাউন্ডে অবস্থিত। কেবল তাই নয়, একই বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলায় থাকেন পরিচালক আর দ্বিতীয় তলায় হচ্ছে ছাত্রীনিবাস। কাজেই ওই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের জন্যই রিমা-ের আবেদন করা হয়েছিল। এখন তাদেরকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তদন্তে সহায়ক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদঘাটনের সম্ভাবনা রয়েছে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ডিজিষ্টের ডাক্তারি রিপোর্ট এখনও হাতে পাওয়া যায়নি।
জানা যায়, ওই চাঞ্চল্যকর ঘটনার পর থেকেই বন্ধনের পরিবারের লোকজন ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যা বলে দাবি করছে। এছাড়া একাধিক সূত্রের ধারণা, তাকে ধর্ষণের পর সে আত্মহত্যা করে থাকতে পারে কিংবা ধর্ষণের পর তাকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হতে পারে। তবে পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তসহ প্রাসঙ্গিক রিপোর্ট পাওয়া ছাড়া এখনই পরিস্কার কিছু বলা যাচ্ছে না।
উল্লেখ্য, ৬ জুলাই শনিবার দুপুরে শহরের সজবরখিলা এলাকার ফৌজিয়া মতিন পাবলিক স্কুলের ছাত্রীনিবাস থেকে শ্রীবরদী উপজেলা সদরের পূর্বছনকান্দা গ্রামের ওমান প্রবাসী আনোয়ার জাহিদ বাবুর মেয়ে আনুশকা আয়াত বন্ধনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম পিপিএম। ওই ঘটনায় ওইদিন রাতেই শিক্ষার্থী বন্ধনের বাবা আনোয়ার জাহিদ বাবু মৃধা বাদী হয়ে সদর থানায় ওইদিন মামলা দায়ের করেন। এদিকে মামলা গ্রহণের পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি ফৌজিয়া মতিন পাবলিক স্কুলের পরিচালকসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

আপনার মতামত দিন

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

error: Content is protected !!