প্রকাশকাল: 15 জুন, 2019

শেরপুরে নির্যাতিতা সেই গৃহবধূর শারীরিক অবস্থার অবনতি ॥ হাসপাতালে ভর্তি

পাশে দাঁড়িয়েছে জেলা প্রশাসন ও মানবাধিকার কমিশন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ শেরপুরের নকলায় গাছে বেঁধে নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ ডলি খানমের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ফের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ১৪ জুন শুক্রবার সন্ধ্যায় ডলি খানমের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে প্রথমে নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এরপরও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় শনিবার দুপুরে তাকে জেলা সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়। বিকেলে গাইনি বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডাঃ চৌধুরী শামীমা ও ডাঃ লুৎফর রহমান তাকে পর্যবেক্ষণ করেন এবং কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরামর্শ দেন। অন্যদিকে ঘটনার ভিডিওচিত্র ভাইরাল হওয়ার সাথে সাথে পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীমের নির্দেশে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে এলাকায় স্বস্তি ফিরে আসার পাশাপাশি এবার ওই নির্যাতিতা গৃহবধূর পাশে দাঁড়িয়েছে জেলা প্রশাসন ও মানবাধিকার কমিশন।
জেলা সদর হাসপাতালে চলতি দায়িত্বে থাকা আরএমও ডাঃ খায়রুল কবীর সুমন শনিবার সন্ধ্যায় শ্যামলবাংলা২৪ডটকমকে জানান, ওই নারী এর আগেও হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। এরপরও এখন তার রক্তক্ষরণ হচ্ছে। বিষয়টি কি কারণে তা পরীক্ষার রিপোর্ট ও বিশেষজ্ঞের মতামত ছাড়া এখনই বলা যাচ্ছে না।
হাসপাতালের বেডে থাকা নির্যাতিতা নারী ডলি খানম ও তার স্বামী শফিউল্লাহ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। এছাড়া ওইসময় তাদের পাশে থাকা শফিউল্লাহর আপন মামা একই এলাকার নুরউল্লাহ (৬৫) ও হাফিজ উল্লাহ (৬০) ঘটনাটি দিবালোকের মত সত্য উল্লেখ করে বলেন, আসামী নেছার উদ্দিন, আবু সালেহ ও সলিমুল্লাহও তাদের আপন ভাগনে। কিন্তু তারা যে নজিরবিহীন ঘটনা ঘটিয়েছে, তাতে তারা ক্ষুব্ধ ও বিস্মিত। তাই তাদের উপযুক্ত শাস্তি হওয়া উচিত।
এদিকে নির্যাতিতা ওই গৃহবধূর পাশে দাঁড়িয়েছে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহবুবের পরামর্শে শুক্রবার রাতে নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন নির্যাতিতা গৃহবধূকে দেখতে যান স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদুর রহমান। ওইসময় তিনি ওই নারীর শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নেন এবং কর্তব্যরত চিকিৎসকের সাথে কথা বলেন। এছাড়া শনিবার দুপুরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা সদর হাসপাতালে রেফার করা হলে জেলা প্রশাসকের পরামর্শে সেখানে ছুটে যান সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফিরোজ আল মামুন। তিনিও চলতি দায়িত্বে থাকা আরএমওসহ সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের সাথে কথা বলেন। এর আগে একইভাবে বৃহস্পতিবার রাতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবিএম এহছানুল মামুন ও নকলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদুর রহমান কায়দা এলাকার বাড়িতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ ডলি খানম ও তাঁর স্বামী শফিউল্লাহর সাথে সাক্ষাত করেন।
এছাড়া শনিবার সন্ধ্যায় জেলা সদর হাসপাতালে ওই নির্যাতিতা গৃহবধূকে দেখতে গিয়ে তার পাশে থাকতে আশ্বস্ত করেছেন মানবাধিকার কমিশনের নেতারা। জেলা মানবাধিকার কমিশনের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শক্তিপদ পালের নেতৃত্বে ওই দলে ছিলেন সদর উপজেলা মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান শামীম আরা, জনউদ্যোগের আহবায়ক আবুল কালাম আজাদ, নারীনেত্রী আঞ্জুমান লিপি ও শম্পা দত্ত।
চাঞ্চল্যকর ওই ঘটনার বিষয়ে জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহবুব শ্যামলবাংলা২৪ডটকমকে জানান, ঘটনাটি সবার মতো আমাদেরকেও নাড়া দিয়েছে। এজন্য জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে ওই নির্যাতিতা গৃহবধূর পরিবারের প্রতি দুঃখ ও সহমর্মিতা প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া নির্যাতিতার স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সিভিল সার্জনের সাথে কথা বলা হয়েছে। ওই পরিবারের নিরাপত্তাসহ অন্যান্য বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। ওই ঘটনায় তারা যেন ন্যায়বিচার পান সেদিকেও পুলিশ প্রশাসনের সাথে যোগাযোগসহ খেয়াল রাখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ১০ মে নকলা উপজেলার কায়দা গ্রামে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে ডলি খানম নামে এক অন্ত:স্বত্ত্বা গৃহবধূকে গাছে বেঁধে বর্বরোচিত নির্যাতন এবং ওই নির্যাতনে গৃহবধূর গর্ভের সন্তান নষ্টের ঘটনা ঘটে। ঘটনার এক মাস পর নির্যাতনের একটি ভিডিও ভাইরাল হলে তোলপাড় শুরু হয় এবং গত ১১ জুন এক সেনা সদস্যসহ ওই গৃহবধূর ৩ ভাসুর ও জাসহ ৯ জনকে স্ব-নামে ও অজ্ঞাতনামা আরও ৩/৪ জনের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা গ্রহণ করা হয়।

আপনার মতামত দিন

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

error: Content is protected !!