রাত ১১:৩৮ | রবিবার | ৩১শে মে, ২০২০ ইং | ১৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শেরপুরে লঘু অভিযোগে মামলায় কারাগারে কাঁদছে শিশু ॥ বাচ্চা প্রসব করেও মিলছে না জামিন এক নারীর

করোনায় আদালত বন্ধের প্রভাব-

স্টাফ রিপোর্টার ॥ লঘু অভিযোগের এক মামলায় শেরপুরে আব্দুল আলিম নামে ১৩ বছরের এক শিশু এক মাস যাবত রয়েছে কারাগারে। করোনা পরিস্থিতিতে দীর্ঘ প্রায় ৪০ দিন যাবত আদালত বন্ধ থাকায় সুযোগ হ”্ছে না তার জামিন শুনানী, মিলছে না জামিন বা মুক্তি। এ নিয়ে পরিবারের লোকজন হতাশ হয়ে পড়েছেন। জামিনের জন্য যেমন আইনজীবীর চেম্বার-বাসা আর আদালতের বারান্দায় ঘুরেও পাচ্ছেন না সান্তনা ছাড়া মুক্তির কোন পথ, ঠিক তেমনই একই পরিস্থিতির কারণে কারাগারে গিয়েও সাক্ষাত করতে পারছেন না সেই সন্তানের সাথে স্বজনরা। আর একই অবস্থায় ভিন্ন এক মামলায় খাদিজা ওরফে নদী (২৭) নামে এক অন্তঃসত্ত্বা নারী লঘু অভিযোগের অপর এক মামলায় দীর্ঘ দিন যাবত কারাগারে থাকা অবস্থায় সম্প্রতি কারাগারেই সন্তান প্রসব করলেও জামিন বা মুক্তির পথ না থাকায় সেই নারীর পাশাপাশি কারাগারের লোকজনকে পোহাতে হচ্ছে বাড়তি ঝামেলা। তার স্বজনরাও ঘুরেফিরে হতাশায় বিপর্যস্ত।
জানা যায়, শেরপুর সদর উপজেলার হেরুয়া বালুঘাট গ্রামের মৃত খোরশেদ আলীর ছেলে ও শহরের গৌরীপুর দারুল আমান ক্যাডেট মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী আব্দুল আলিম (১৩) গত ২ এপ্রিল স্থানীয় এক কন্যাশিশুকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় (যদিও তার স্বজনরা বলছে, স্থানীয় সামাজিক বিরোধকে কেন্দ্র করে ওই মামলা ঠুকে দেওয়া হয়েছে) গ্রেফতার হলে পরদিন তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। করোনা পরিস্থিতির কারণে ছুটিকালীন সময়ে বিশেষ দায়িত্বে থাকা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তার পক্ষে জামিনের আবেদন করেও সম্ভব হয়নি শুনানী করার। কারণ আব্দুল আলিম শিশু হওয়ায় শিশু আদালত ছাড়া সে বিষয়ে শুনানীর এখতিয়ার না থাকায় নিম্ন আদালত শুনানী গ্রহণ করেননি। ফলে সেদিনই তাকে পাঠানো হয় কারাগারে। সেই থেকে দীর্ঘ এক মাস যাবত ওই শিশু রয়েছে কারাগারের প্রকোষ্ঠেই। প্রথম দিক দিয়ে দু’তিনদিন পর পর স্বজনদের সাক্ষাত পেলেও এখন করোনা পরিস্থিতির কারণে সাক্ষাত বন্ধ থাকায় সে একেবারেই ভেঙে পড়েছে, মাঝে-মধ্যেই ডুকড়ে কেদে উঠছে। আর মাদক আইনের এক মামলায় গ্রেফতার হয়ে গত ১০ ডিসেম্বর কারাগারে যায় নালিতাবাড়ী উপজেলার কুত্তামারা গ্রামের অন্তঃসত্ত্বা খাদিজা ওরফে নদী। যদিও তার স্বজনরা বলছে, নির্যাতনের মামলায় সাবেক স্বামীর সাজা হওয়ার কারণে উচ্চ আদালত থেকে জামিনে বেরিয়ে সে তাকে ওই মামলায় জড়িয়েছে। ওই অবস্থায় দীর্ঘদিন হাজতবাসে থাকতেই গত ২৩ এপ্রিল ওই নারী একজন কন্যা সন্তান প্রসব করে। এ কারণে সদ্যপ্রসূত শিশু ও তার মায়ের পাশাপাশি বাড়তি ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের। খোঁজ নিয়ে আরও জানা যায়, কেবল শিশু আলিম ও খাদিজা বেগমই নয়, ঝিনাইগাতীর বাতিয়াগাঁও গ্রামের মিনারা বেগম নামে এক নারী গত ২২ এপ্রিল থেকে ফৌজদারী কার্যবিধির ৫৪ ধারায় কারাগারে আটক রয়েছেন। শনিবার পর্যন্ত ১২ দিনেও তার বিরুদ্ধে আসেনি নিয়মিত মামলা। এছাড়া সদর উপজেলার হেরুয়া টালিয়াপাড়া গ্রামের মৃত আলহাজ্ব আব্দুল হাকিমের পুত্র মোহাম্মদ আলী (৩৫) একটি মারামারির মামলায় গত ২৩ মার্চ গ্রেফতার হয়ে হাজতে যায়। তার বিরুদ্ধে ধারালো অস্ত্র দ্বারা একজনকে গুরুতর জখমের অভিযোগ থাকলেও ৫ দিন পরেই মেলে ভোতা অস্ত্রের সাধারণ জখমের চিকিৎসা সনদ- পরিবর্তিত অবস্থায় এখন তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগই জামিনযোগ্য। কিন্তু ৫৪ ধারায় গ্রেফতার হওয়া সেই নারীসহ ওই আসামির পক্ষে করা যাচ্ছে না জামিনের আবেদন।

img-add

এমনিভাবে টুকিটাকি বা লঘু অপরাধের অনেক মামলায় শেরপুর জেলা কারাগারে হাজতবাসে রয়েছেন প্রায় শতাধিক আসামি। তাদের মধ্যে রয়েছে শিশুসহ নারী আসামিও। কিন্তু দীর্ঘ ছুটির কারণে তাদের পক্ষে জামিন শুনানী করা সম্ভব হচ্ছে না। কোর্ট ইন্সপেক্টর খন্দকার শহীদুল হক জানান, ছুটিকালীন সময়ে জরুরি বিষয় ছাড়া অর্থাৎ কেবল গ্রেফতার হয়ে আসা আসামিদের শুনানী নেওয়া হচ্ছে এবং যাদের বিরুদ্ধে জামিনঅযোগ্য বা গুরুতর অপরাধের অভিযোগ নাই, তাদের ক্ষেত্রে বিবেচনা করা হচ্ছে। কিন্তু বন্ধের আগে কারাগারে যাওয়া আসামিদের পক্ষে জামিন শুনানী হচ্ছে না। শেরপুর জেলা কারাগারের জেলার তরিকুল ইসলামের তথ্যমতে, শনিবার পর্যন্ত কারাগারে ৫৭৭ জন কয়েদি-হাজতী রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩১ জন মহিলা, ৪ জনেরই রয়েছে শিশু সন্তান। এছাড়া শিশু-কিশোর আসামি রয়েছে আরও ৫ জন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চলমান করোনা পরিস্থিতিতে আদালতের নিয়মিত কার্যক্রম বন্ধ থাকায় লঘু অভিযোগের মামলাতেও শিশু ও নারীসহ অনেকেই কারাগারে আটক রয়েছেন। ইতোমধ্যে এক নারী আসামি কারাগারেই সন্তান প্রসব করায় দায়িত্বরতদের বাড়তি ঝামেলাও পোহাতে হচ্ছে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, লঘু অপরাধের মামলা বা সাজার মেয়াদ শেষ হয়ে এসেছে- এমন আসামিদের মুক্তি দেওয়ার প্রক্রিয়ায় শেরপুর থেকে ৮ জনের নাম প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তবে এখনও চূড়ান্ত নির্দেশনা আসেনি।
এ ব্যাপারে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট একেএম মোছাদ্দেক ফেরদৌসী বলেন, করোনা ভাইরাসজনিত পরিস্থিতির কারণে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে দীর্ঘ প্রায় ৪০ দিন যাবত আদালতের নিয়মিত কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বিচারপ্রার্থী মানুষের পাশাপাশি আইনজীবী ও আইনজীবী সহকারীদেরও দুর্ভোগ বেড়েছে। এর মধ্যে বিশেষ ব্যবস্থায় সপ্তাহে ২ দিন উচ্চ আদালত ও নিম্ন আদালতে কেবল জামিন শুনানীর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হলেও পরবর্তীতে তা বাতিল করা হয়েছে। তার মতে, নিয়মিত না হলেও কঠোরতা নিশ্চিত করে সপ্তাহে অন্ততঃ একদিন খোলার ব্যবস্থা হলে কেবল শেরপুর নয়, সারাদেশেই লঘু অভিযোগের মামলায় অবর্ণনীয় দুর্ভোগে থাকা কিছু শিশু-কিশোর ও নারীসহ অনেক আসামির মুক্তি মিলত। এজন্য তিনি সরকার ও উচ্চ আদালতের সুদৃষ্টি কামনা করেন।

অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ খবর



» ময়মনসিংহে হাজার ছাড়াল করোনায় আক্রান্ত

» করোনা পরিস্থিতি অনুকূলে না এলে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া হবে না : শিক্ষামন্ত্রী

» খেটে খাওয়া মানুষের কথা ভাবে না বিএনপি : তথ্যমন্ত্রী

» বাস ভাড়া বাড়লো ৬০ শতাংশ

» ব্যাংকগুলোকে ২ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী

» ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ৪০ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ২৫৪৫

» এসএসসি ফলাফল ॥ শেরপুরে সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় শীর্ষে

» এসএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে এনসিটিএফ শিশু সাংবাদিক তাহিরাহ

» ময়মনসিংহ বোর্ডে এসএসসিতে পাসের হার ৮০.১৩ শতাংশ ॥ পাসের হারে এগিয়ে শেরপুর

» সারাদেশে ভার্চুয়াল আদালতে শুনানী চলবে ১৫ জুন পর্যন্ত

» টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ স্থগিত রাখার সুপারিশ সাঙ্গাকারার

» নৌপথে যাত্রী পারাপার শুরু

» সৌদি আরবে মাস্ক না পরলে জরিমানা, আজ থেকে খুলছে মসজিদ

» এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস ৮২.৮৭%, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩৫৮৯৮

» শেরপুরে করোনা উপসর্গ নিয়ে ঢাকাফেরত বৃদ্ধের মৃত্যু ॥ নমুনা সংগ্রহ

সম্পাদক-প্রকাশক : রফিকুল ইসলাম আধার
উপদেষ্টা সম্পাদক : সোলায়মান খাঁন মজনু
নির্বাহী সম্পাদক : মোহাম্মদ জুবায়ের রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১ : ফারহানা পারভীন মুন্নী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : আলমগীর কিবরিয়া কামরুল
বার্তা সম্পাদক-১ : রেজাউল করিম বকুল
বার্তা সম্পাদক-২ : মোঃ ফরিদুজ্জামান।
যোগাযোগ : সম্পাদক : ০১৭২০০৭৯৪০৯
নির্বাহী সম্পাদক : ০১৯১২০৪৯৯৪৬
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১: ০১৭১৬৪৬২২৫৫
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : ০১৭১৪২৬১৩৫০
বার্তা সম্পাদক-১ : ০১৭১৩৫৬৪২২৫
বার্তা সম্পাদক -২ : ০১৯২১-৯৫৫৯০৬
বিজ্ঞাপন : ০১৭১২৮৫৩৩০৩
ইমেইল : shamolbangla2013@gmail.com.

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । ওয়েবসাইট তৈরি করেছে- BD iT Zone

  রাত ১১:৩৮ | রবিবার | ৩১শে মে, ২০২০ ইং | ১৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শেরপুরে লঘু অভিযোগে মামলায় কারাগারে কাঁদছে শিশু ॥ বাচ্চা প্রসব করেও মিলছে না জামিন এক নারীর

করোনায় আদালত বন্ধের প্রভাব-

স্টাফ রিপোর্টার ॥ লঘু অভিযোগের এক মামলায় শেরপুরে আব্দুল আলিম নামে ১৩ বছরের এক শিশু এক মাস যাবত রয়েছে কারাগারে। করোনা পরিস্থিতিতে দীর্ঘ প্রায় ৪০ দিন যাবত আদালত বন্ধ থাকায় সুযোগ হ”্ছে না তার জামিন শুনানী, মিলছে না জামিন বা মুক্তি। এ নিয়ে পরিবারের লোকজন হতাশ হয়ে পড়েছেন। জামিনের জন্য যেমন আইনজীবীর চেম্বার-বাসা আর আদালতের বারান্দায় ঘুরেও পাচ্ছেন না সান্তনা ছাড়া মুক্তির কোন পথ, ঠিক তেমনই একই পরিস্থিতির কারণে কারাগারে গিয়েও সাক্ষাত করতে পারছেন না সেই সন্তানের সাথে স্বজনরা। আর একই অবস্থায় ভিন্ন এক মামলায় খাদিজা ওরফে নদী (২৭) নামে এক অন্তঃসত্ত্বা নারী লঘু অভিযোগের অপর এক মামলায় দীর্ঘ দিন যাবত কারাগারে থাকা অবস্থায় সম্প্রতি কারাগারেই সন্তান প্রসব করলেও জামিন বা মুক্তির পথ না থাকায় সেই নারীর পাশাপাশি কারাগারের লোকজনকে পোহাতে হচ্ছে বাড়তি ঝামেলা। তার স্বজনরাও ঘুরেফিরে হতাশায় বিপর্যস্ত।
জানা যায়, শেরপুর সদর উপজেলার হেরুয়া বালুঘাট গ্রামের মৃত খোরশেদ আলীর ছেলে ও শহরের গৌরীপুর দারুল আমান ক্যাডেট মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী আব্দুল আলিম (১৩) গত ২ এপ্রিল স্থানীয় এক কন্যাশিশুকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় (যদিও তার স্বজনরা বলছে, স্থানীয় সামাজিক বিরোধকে কেন্দ্র করে ওই মামলা ঠুকে দেওয়া হয়েছে) গ্রেফতার হলে পরদিন তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। করোনা পরিস্থিতির কারণে ছুটিকালীন সময়ে বিশেষ দায়িত্বে থাকা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তার পক্ষে জামিনের আবেদন করেও সম্ভব হয়নি শুনানী করার। কারণ আব্দুল আলিম শিশু হওয়ায় শিশু আদালত ছাড়া সে বিষয়ে শুনানীর এখতিয়ার না থাকায় নিম্ন আদালত শুনানী গ্রহণ করেননি। ফলে সেদিনই তাকে পাঠানো হয় কারাগারে। সেই থেকে দীর্ঘ এক মাস যাবত ওই শিশু রয়েছে কারাগারের প্রকোষ্ঠেই। প্রথম দিক দিয়ে দু’তিনদিন পর পর স্বজনদের সাক্ষাত পেলেও এখন করোনা পরিস্থিতির কারণে সাক্ষাত বন্ধ থাকায় সে একেবারেই ভেঙে পড়েছে, মাঝে-মধ্যেই ডুকড়ে কেদে উঠছে। আর মাদক আইনের এক মামলায় গ্রেফতার হয়ে গত ১০ ডিসেম্বর কারাগারে যায় নালিতাবাড়ী উপজেলার কুত্তামারা গ্রামের অন্তঃসত্ত্বা খাদিজা ওরফে নদী। যদিও তার স্বজনরা বলছে, নির্যাতনের মামলায় সাবেক স্বামীর সাজা হওয়ার কারণে উচ্চ আদালত থেকে জামিনে বেরিয়ে সে তাকে ওই মামলায় জড়িয়েছে। ওই অবস্থায় দীর্ঘদিন হাজতবাসে থাকতেই গত ২৩ এপ্রিল ওই নারী একজন কন্যা সন্তান প্রসব করে। এ কারণে সদ্যপ্রসূত শিশু ও তার মায়ের পাশাপাশি বাড়তি ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের। খোঁজ নিয়ে আরও জানা যায়, কেবল শিশু আলিম ও খাদিজা বেগমই নয়, ঝিনাইগাতীর বাতিয়াগাঁও গ্রামের মিনারা বেগম নামে এক নারী গত ২২ এপ্রিল থেকে ফৌজদারী কার্যবিধির ৫৪ ধারায় কারাগারে আটক রয়েছেন। শনিবার পর্যন্ত ১২ দিনেও তার বিরুদ্ধে আসেনি নিয়মিত মামলা। এছাড়া সদর উপজেলার হেরুয়া টালিয়াপাড়া গ্রামের মৃত আলহাজ্ব আব্দুল হাকিমের পুত্র মোহাম্মদ আলী (৩৫) একটি মারামারির মামলায় গত ২৩ মার্চ গ্রেফতার হয়ে হাজতে যায়। তার বিরুদ্ধে ধারালো অস্ত্র দ্বারা একজনকে গুরুতর জখমের অভিযোগ থাকলেও ৫ দিন পরেই মেলে ভোতা অস্ত্রের সাধারণ জখমের চিকিৎসা সনদ- পরিবর্তিত অবস্থায় এখন তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগই জামিনযোগ্য। কিন্তু ৫৪ ধারায় গ্রেফতার হওয়া সেই নারীসহ ওই আসামির পক্ষে করা যাচ্ছে না জামিনের আবেদন।

img-add

এমনিভাবে টুকিটাকি বা লঘু অপরাধের অনেক মামলায় শেরপুর জেলা কারাগারে হাজতবাসে রয়েছেন প্রায় শতাধিক আসামি। তাদের মধ্যে রয়েছে শিশুসহ নারী আসামিও। কিন্তু দীর্ঘ ছুটির কারণে তাদের পক্ষে জামিন শুনানী করা সম্ভব হচ্ছে না। কোর্ট ইন্সপেক্টর খন্দকার শহীদুল হক জানান, ছুটিকালীন সময়ে জরুরি বিষয় ছাড়া অর্থাৎ কেবল গ্রেফতার হয়ে আসা আসামিদের শুনানী নেওয়া হচ্ছে এবং যাদের বিরুদ্ধে জামিনঅযোগ্য বা গুরুতর অপরাধের অভিযোগ নাই, তাদের ক্ষেত্রে বিবেচনা করা হচ্ছে। কিন্তু বন্ধের আগে কারাগারে যাওয়া আসামিদের পক্ষে জামিন শুনানী হচ্ছে না। শেরপুর জেলা কারাগারের জেলার তরিকুল ইসলামের তথ্যমতে, শনিবার পর্যন্ত কারাগারে ৫৭৭ জন কয়েদি-হাজতী রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩১ জন মহিলা, ৪ জনেরই রয়েছে শিশু সন্তান। এছাড়া শিশু-কিশোর আসামি রয়েছে আরও ৫ জন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চলমান করোনা পরিস্থিতিতে আদালতের নিয়মিত কার্যক্রম বন্ধ থাকায় লঘু অভিযোগের মামলাতেও শিশু ও নারীসহ অনেকেই কারাগারে আটক রয়েছেন। ইতোমধ্যে এক নারী আসামি কারাগারেই সন্তান প্রসব করায় দায়িত্বরতদের বাড়তি ঝামেলাও পোহাতে হচ্ছে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, লঘু অপরাধের মামলা বা সাজার মেয়াদ শেষ হয়ে এসেছে- এমন আসামিদের মুক্তি দেওয়ার প্রক্রিয়ায় শেরপুর থেকে ৮ জনের নাম প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তবে এখনও চূড়ান্ত নির্দেশনা আসেনি।
এ ব্যাপারে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট একেএম মোছাদ্দেক ফেরদৌসী বলেন, করোনা ভাইরাসজনিত পরিস্থিতির কারণে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে দীর্ঘ প্রায় ৪০ দিন যাবত আদালতের নিয়মিত কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বিচারপ্রার্থী মানুষের পাশাপাশি আইনজীবী ও আইনজীবী সহকারীদেরও দুর্ভোগ বেড়েছে। এর মধ্যে বিশেষ ব্যবস্থায় সপ্তাহে ২ দিন উচ্চ আদালত ও নিম্ন আদালতে কেবল জামিন শুনানীর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হলেও পরবর্তীতে তা বাতিল করা হয়েছে। তার মতে, নিয়মিত না হলেও কঠোরতা নিশ্চিত করে সপ্তাহে অন্ততঃ একদিন খোলার ব্যবস্থা হলে কেবল শেরপুর নয়, সারাদেশেই লঘু অভিযোগের মামলায় অবর্ণনীয় দুর্ভোগে থাকা কিছু শিশু-কিশোর ও নারীসহ অনেক আসামির মুক্তি মিলত। এজন্য তিনি সরকার ও উচ্চ আদালতের সুদৃষ্টি কামনা করেন।

সর্বশেষ খবর



অন্যান্য খবর



সম্পাদক-প্রকাশক : রফিকুল ইসলাম আধার
উপদেষ্টা সম্পাদক : সোলায়মান খাঁন মজনু
নির্বাহী সম্পাদক : মোহাম্মদ জুবায়ের রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১ : ফারহানা পারভীন মুন্নী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : আলমগীর কিবরিয়া কামরুল
বার্তা সম্পাদক-১ : রেজাউল করিম বকুল
বার্তা সম্পাদক-২ : মোঃ ফরিদুজ্জামান।
যোগাযোগ : সম্পাদক : ০১৭২০০৭৯৪০৯
নির্বাহী সম্পাদক : ০১৯১২০৪৯৯৪৬
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১: ০১৭১৬৪৬২২৫৫
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : ০১৭১৪২৬১৩৫০
বার্তা সম্পাদক-১ : ০১৭১৩৫৬৪২২৫
বার্তা সম্পাদক -২ : ০১৯২১-৯৫৫৯০৬
বিজ্ঞাপন : ০১৭১২৮৫৩৩০৩
ইমেইল : shamolbangla2013@gmail.com.

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । ওয়েবসাইট তৈরি করেছে- BD iT Zone

error: Content is protected !!