প্রকাশকাল: 6 মার্চ, 2019

শেরপুরে ওয়াই-ফাই ও সিসিটিভি’র আওতায় এলো আইনজীবী সমিতি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ শেরপুরে ডিজিটালের আওতায় নেওয়া হয়েছে জেলা আইনজীবী সমিতিকে। ৬ মার্চ বুধবার দুপুরে সমিতির ২নং ভবনে ওয়াই-ফাই সংযোগ ও সিসিটিভি উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে ওই আওতায় নেওয়া হয়। ওয়াই-ফাই সংযোগ ও সিসিটিভির উদ্বোধন করেন সমিতির বিদায়ী সভাপতি এডভোকেট রফিকুল ইসলাম আধার। একইসাথে তৃতীয় তলায় ইনডোর কক্ষে নতুন টেবিল-চেয়ার, লাইব্রেরী কক্ষে এয়ার কন্ডিশনার, দ্বিতীয় তলায় কম্পিউটার, নিচে ভবনের পূর্বাংশের বাগানের নবসজ্জিত অংশে ক্যারাম বোর্ড খেলাসহ বসার জায়গাও উদ্বোধন করা হয়। ওইসময় সমিতির বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মাহবুবুল আলম রকীব, সহ-সভাপতি হরিদাস সাহা, সহ-সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক আল আমিন, সাহিত্য ও পাঠাগার সম্পাদক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম, অডিটর ফরহাদ আলী, নির্বাহী সদস্য রেদওয়ানুল হক আবীর, মুক্তিযোদ্ধা নরেশ চন্দ্র দে, মেরাজ উদ্দিন চৌধুরী ও আশরাফুন্নাহার রুবীসহ কর্মচারীগণ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে এডভোকেট রফিকুল ইসলাম আধারের সভাপতিত্বে বিদায়ী কমিটির শেষ সভা নবনির্মিত সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। সমিতির বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মাহবুবুল আলম রকীবের সঞ্চালনায় সভায় অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ওইসময় সকলেই বার ও আইনজীবীদের স্বার্থে সুন্দর সম্পর্ক বজায় রেখে কাজ করায় সভাপতি-সম্পাদকসহ পরস্পর পরস্পরের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
বিদায়ী কমিটির নির্বাহী সদস্য রেদওানুল হক আবীর বলেন, সমিতির নির্বাহী পরিষদের নেওয়া সিদ্ধান্তের আলোকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সদিচ্ছায় আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে ওয়াই-ফাই ও সিসিটিভি সংযোজনসহ শেষ মুহূর্তে বেশ কিছু নান্দনিক কাজ সম্পাদন করা হয়েছে। এছাড়া থাই গ্লাসে সুসজ্জিত কার্যনির্বাহী পরিষদ, হিসাবরক্ষক ও অফিস সহকারীর পৃথক কক্ষ তৈরি, আইনজীবীদের বসার প্রতিটি কক্ষে রং করাসহ লুকিং গ্লাস লাগানো হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ফুটে উঠেছে বার ভবন। সেইসাথে বেজায় খুশি সাধারণ আইনজীবীরা। সমিতির বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মাহবুবুল আলম রকীবের মতে, নবনির্বাচিত কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের পূর্বাহ্নে ওই কাজগুলো করতে পারায় বিদায়ের অভিজ্ঞতাটাও ভিন্ন বলে মনে হচ্ছে। তিনি আরও জানান, মাধবপুরস্থ সমিতির ১নং ভবনের সম্প্রসারণ ও নতুন ভবন নির্মাণের মধ্য দিয়ে মাসিক ৮৪ হাজার টাকা ভাড়া আদায়সহ ক্ষুদ্র মার্কেট ও মাঠ ভাড়া দিয়ে আরও প্রায় ২৫ হাজার টাকা মাসিক আয়ের সংস্থান করা হয়েছে। বেড়েছে হাজিরাসহ অন্যান্য কাগজপত্র বিক্রি। এতে গত বছরের তুলনায় এবার কল্যাণ তহবিলের আগত অর্থও অনেকটাই বেড়েছে।
এ ব্যাপারে বিদায়ী সভাপতি এডভোকেট রফিকুল ইসলাম আধার বলেন, দেশের হাতে গোনা কয়েকটি বারের মতো শেরপুর বারও একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধ বার হিসেবে খ্যাতি পেয়েছে। আমাদের বিদায়ী পরিষদের প্রধান অঙ্গীকার ছিল জেলা জজ আদালত অঙ্গণেই বহুল প্রতীক্ষিত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন নির্মাণ করার। দীর্ঘ প্রায় ১০ বছরের রেকর্ড ভঙ্গ করে এবারই প্রথম নির্বাহী পরিষদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত এবং পরবর্তীতে বিচার বিভাগের সাথে যৌথ সভা ও সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে সিজেএম ভবন প্রকল্পের পরিচালকের পরিদর্শনসহ ডিজিটাল সার্ভে সম্পন্ন করা হয়। এরপর ওই ভবন নির্মাণের বিষয়ে টেন্ডারের প্রক্রিয়াধীন থাকার পরও বিষয়টি হঠাৎ করে ঝুলে যায়। তাই বার-বেঞ্চের মধ্যে সু-সম্পর্ক ও কলুষমুক্ত বিচারঅঙ্গন প্রতিষ্ঠাসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে আমাদের সফলতার তুলনায় ব্যর্থতা না থাকলেও কেবল ওই একটি ক্ষেত্রে ব্যর্থতা রয়েই গেছে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, নবনির্বাচিত কর্মকর্তারা আইনজীবীদের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করলে বিদায়ী কমিটির তরফ থেকে অনেক দূর এগিয়ে রাখা কাজটির বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।

আপনার মতামত দিন

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

error: Content is protected !!