দুপুর ১:৪৪ | বৃহস্পতিবার | ১লা অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শেরপুরের বন অধিদপ্তরে লাগেনি আধুনিকতার ছোঁয়া ॥ খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে দাপ্তরিক কর্মকাণ্ড

খোরশেদ আলম, স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইগাতী ॥ শেরপুরের বন অধিদপ্তরে ৫০ বছরেও লাগেনি আধুনিকতার ছোঁয়া। ফলে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে দাপ্তরিক কর্মকাণ্ড। লোকবলের অভাবে একজন কর্মকর্তাকে একাধিক দপ্তরের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। বনপ্রহরীর সংখ্যাও তুলনামূলক কম হওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে বন ও বনভূমি রক্ষা। মান্ধাতা আমলের ভবনগুলোও জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। ফলে দাপ্তরিক কর্মকান্ড ও বন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বসবাসে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী, বন কর্মকর্তাদের দপ্তরেই অবস্থান করার কথা থাকলেও বসবাসযোগ্য বাসভবন না থাকায় অনেক ক্ষেত্রেই তা সম্ভব হচ্ছে না।
জানা যায়, শেরপুর সীমান্তের ৩ উপজেলায় ৩টি ফরেস্ট রেঞ্জ অফিস রয়েছে। এগুলো হচ্ছে নালিতাবাড়ী উপজেলার মধুটিলা, ঝিনাইগাতী উপজেলার রাংটিয়া ও শ্রীবরদী উপজেলার বালিজুরী রেঞ্জ। ওই ৩টি রেঞ্জের আওতায় ১০টি বিট অফিস রয়েছে। বিট অফিসগুলো হচ্ছে মধুটিলা রেঞ্জের সমশ্চুড়া, বাতকুচি ও সন্ধ্যাকুড়া। রাংটিয়া রেঞ্জের রাংটিয়া, গজনী ও তাওয়াকোচা। বালিজুরী রেঞ্জের বালিজুরী সদর, মালাকুচা, কর্ণঝোড়া ও ডুমুরতলা বিট। ওই ৩টি রেঞ্জের আওতায় প্রায় ৩০ হাজার একর বনভূমি রয়েছে। ওইসব বনভূমি ও বন রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে মাত্র ২৯জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। যা প্রয়োজনের তুলনায় কম। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই ৩টি রেঞ্জেই নেই রেঞ্জ কর্মকর্তা। ফলে ভারপ্রাপ্ত এবং একই কর্মকর্তাকে দিয়ে চালানো হচ্ছে একাধিক বিট ও রেঞ্জ অফিস।

img-add

বনবিভাগ সূত্র জানায়, রেঞ্জ গুলোতে ২/৪টি মোটরসাইকেল থাকলেও তা প্রায় ব্যবহারের অনুপযোগী। মধুটিলা রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল করিম, বালিজুরী রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম, রাংটিয়া রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইলিছুর রহমানসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের সাথে কথা হলে তারা জানান, বিশাল এলাকাজুড়ে বন ও বনভূমি। কিন্তু কর্মকর্তাদের জন্য নেই কোন গাড়ি বা পিকআপভ্যান। ফলে চোরাইকাঠ, পাথর, বালু আটক করার সময় বিপাকে পড়তে হয় কর্মকর্তাদের। অফিস থেকে দূরে গভীর বনাঞ্চলে চুরির ঘটনা ঘটলে গাড়ির অভাবে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছানো সম্ভব হয় না। লোকবলের অভাবে জবরদখলকৃত জমি উদ্ধারসহ নানা কাজে হিমসিম খেতে হয়। ঘটনা প্রতিকারের ব্যবস্থা নিতে শিকার হতে হয় নানা বিড়ম্বনার। জরাজীর্ণ ভবন থাকলেও বিট অফিসগুলোতে নেই বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা। কূপের পানি পান করতে হয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাসভবণের অভাবে কেউ কেউ বাসা ভাড়া নিয়ে বন এরিয়ার বাইরে বসবাস করে থাকেন। এতে ব্যাহত হয় দাপ্তরিক কর্মকান্ড। জেলা সদরের সহকারী বন সংরক্ষকের কার্যালয়েরও একই দশা। তবে সহকারী বন সংরক্ষকের একটি গাড়ি থাকলেও চলার পথে মাঝে-মধ্যেই তা অকেজো হয়ে পড়ে। বর্তমান সরকারের ডিজিটাল যুগে সকল দপ্তরের উন্নয়ন হলেও গত ৫০ বছরেও শেরপুরের বন অধিদপ্তরে লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া। ফলে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে বনবিভাগের সকল কর্মকাণ্ড।
শেরপুরের সহকারী বন সংরক্ষক ড. প্রাণতোষ রায় শেরপুর বন অধিদপ্তরের কার্যালয়গুলো জরাজীর্ণ অবস্থা ও লোকবল সংকটের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সমস্যাগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লেখালেখির পাশাপাশি বিশদ আলোচনাও চলছে। তবে এখনও তা বাস্তবায়ন ও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি।

Print Friendly, PDF & Email
এ সংক্রান্ত আরও খবর

অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ খবর



» ব্যবসায়ীরা ভালো থাকলে ব্যাংকগুলোও ভালো থাকবে : অর্থমন্ত্রী

» শেরপুরে বিক্রি হওয়া শিশু সন্তানকে উদ্ধার করে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিল পুলিশ

» ডিএনসিসিতে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন শুরু ৪ অক্টোবর

» ৩ অক্টোবরের পরও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটি বাড়বে : শিক্ষামন্ত্রী

» বিএনপির আন্দোলন পত্রিকার পাতা আর ফেসবুক স্ট্যাটাসে সীমাবদ্ধ: কাদের

» শ্রীবরদীতে গৃহকর্মী নির্যাতনের ঘটনায় সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে মানববন্ধন-স্মারকলিপি প্রদান

» রিফাত হত্যায় স্ত্রী মিন্নিসহ ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড

» নকলায় জাতীয় কন্যাশিশু দিবস পালিত

» বার্সার স্বার্থেই সবসময় খেলেছি : মেসি

» ঢাকায় নৌকার টিকিট পেলেন হাবিব, সিরাজগঞ্জে শাকিল

» বাবরি মসজিদ ধ্বংস মামলায় সব আসামি খালাস

» প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের অপেক্ষায় ১৭ হাজার দুর্যোগ সহনীয় ঘর

» নালিতাবাড়ী থানা পরিদর্শন করলেন রেঞ্জ ডিআইজি ব্যারিস্টার হারুন

» ঝিনাইগাতী সাব-রেজিস্টার ও ভূমি অফিস চত্ত্বরে পানি থৈথৈ ॥ ভোগান্তিতে সেবাগ্রহীতারা

» পরবর্তী গন্তব্য নিউজিল্যান্ড

সম্পাদক-প্রকাশক : রফিকুল ইসলাম আধার
উপদেষ্টা সম্পাদক : সোলায়মান খাঁন মজনু
নির্বাহী সম্পাদক : মোহাম্মদ জুবায়ের রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১ : ফারহানা পারভীন মুন্নী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : আলমগীর কিবরিয়া কামরুল
বার্তা সম্পাদক-১ : রেজাউল করিম বকুল
বার্তা সম্পাদক-২ : মোঃ ফরিদুজ্জামান।
যোগাযোগ : সম্পাদক : ০১৭২০০৭৯৪০৯
নির্বাহী সম্পাদক : ০১৯১২০৪৯৯৪৬
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১: ০১৭১৬৪৬২২৫৫
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : ০১৭১৪২৬১৩৫০
বার্তা সম্পাদক-১ : ০১৭১৩৫৬৪২২৫
বার্তা সম্পাদক -২ : ০১৯২১-৯৫৫৯০৬
বিজ্ঞাপন : ০১৭১২৮৫৩৩০৩
ইমেইল : shamolbangla2013@gmail.com.

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । ওয়েবসাইট তৈরি করেছে- BD iT Zone

  দুপুর ১:৪৪ | বৃহস্পতিবার | ১লা অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শেরপুরের বন অধিদপ্তরে লাগেনি আধুনিকতার ছোঁয়া ॥ খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে দাপ্তরিক কর্মকাণ্ড

খোরশেদ আলম, স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইগাতী ॥ শেরপুরের বন অধিদপ্তরে ৫০ বছরেও লাগেনি আধুনিকতার ছোঁয়া। ফলে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে দাপ্তরিক কর্মকাণ্ড। লোকবলের অভাবে একজন কর্মকর্তাকে একাধিক দপ্তরের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। বনপ্রহরীর সংখ্যাও তুলনামূলক কম হওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে বন ও বনভূমি রক্ষা। মান্ধাতা আমলের ভবনগুলোও জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। ফলে দাপ্তরিক কর্মকান্ড ও বন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বসবাসে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী, বন কর্মকর্তাদের দপ্তরেই অবস্থান করার কথা থাকলেও বসবাসযোগ্য বাসভবন না থাকায় অনেক ক্ষেত্রেই তা সম্ভব হচ্ছে না।
জানা যায়, শেরপুর সীমান্তের ৩ উপজেলায় ৩টি ফরেস্ট রেঞ্জ অফিস রয়েছে। এগুলো হচ্ছে নালিতাবাড়ী উপজেলার মধুটিলা, ঝিনাইগাতী উপজেলার রাংটিয়া ও শ্রীবরদী উপজেলার বালিজুরী রেঞ্জ। ওই ৩টি রেঞ্জের আওতায় ১০টি বিট অফিস রয়েছে। বিট অফিসগুলো হচ্ছে মধুটিলা রেঞ্জের সমশ্চুড়া, বাতকুচি ও সন্ধ্যাকুড়া। রাংটিয়া রেঞ্জের রাংটিয়া, গজনী ও তাওয়াকোচা। বালিজুরী রেঞ্জের বালিজুরী সদর, মালাকুচা, কর্ণঝোড়া ও ডুমুরতলা বিট। ওই ৩টি রেঞ্জের আওতায় প্রায় ৩০ হাজার একর বনভূমি রয়েছে। ওইসব বনভূমি ও বন রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে মাত্র ২৯জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। যা প্রয়োজনের তুলনায় কম। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই ৩টি রেঞ্জেই নেই রেঞ্জ কর্মকর্তা। ফলে ভারপ্রাপ্ত এবং একই কর্মকর্তাকে দিয়ে চালানো হচ্ছে একাধিক বিট ও রেঞ্জ অফিস।

img-add

বনবিভাগ সূত্র জানায়, রেঞ্জ গুলোতে ২/৪টি মোটরসাইকেল থাকলেও তা প্রায় ব্যবহারের অনুপযোগী। মধুটিলা রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল করিম, বালিজুরী রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম, রাংটিয়া রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইলিছুর রহমানসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের সাথে কথা হলে তারা জানান, বিশাল এলাকাজুড়ে বন ও বনভূমি। কিন্তু কর্মকর্তাদের জন্য নেই কোন গাড়ি বা পিকআপভ্যান। ফলে চোরাইকাঠ, পাথর, বালু আটক করার সময় বিপাকে পড়তে হয় কর্মকর্তাদের। অফিস থেকে দূরে গভীর বনাঞ্চলে চুরির ঘটনা ঘটলে গাড়ির অভাবে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছানো সম্ভব হয় না। লোকবলের অভাবে জবরদখলকৃত জমি উদ্ধারসহ নানা কাজে হিমসিম খেতে হয়। ঘটনা প্রতিকারের ব্যবস্থা নিতে শিকার হতে হয় নানা বিড়ম্বনার। জরাজীর্ণ ভবন থাকলেও বিট অফিসগুলোতে নেই বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা। কূপের পানি পান করতে হয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাসভবণের অভাবে কেউ কেউ বাসা ভাড়া নিয়ে বন এরিয়ার বাইরে বসবাস করে থাকেন। এতে ব্যাহত হয় দাপ্তরিক কর্মকান্ড। জেলা সদরের সহকারী বন সংরক্ষকের কার্যালয়েরও একই দশা। তবে সহকারী বন সংরক্ষকের একটি গাড়ি থাকলেও চলার পথে মাঝে-মধ্যেই তা অকেজো হয়ে পড়ে। বর্তমান সরকারের ডিজিটাল যুগে সকল দপ্তরের উন্নয়ন হলেও গত ৫০ বছরেও শেরপুরের বন অধিদপ্তরে লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া। ফলে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে বনবিভাগের সকল কর্মকাণ্ড।
শেরপুরের সহকারী বন সংরক্ষক ড. প্রাণতোষ রায় শেরপুর বন অধিদপ্তরের কার্যালয়গুলো জরাজীর্ণ অবস্থা ও লোকবল সংকটের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সমস্যাগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লেখালেখির পাশাপাশি বিশদ আলোচনাও চলছে। তবে এখনও তা বাস্তবায়ন ও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি।

Print Friendly, PDF & Email
এ সংক্রান্ত আরও খবর

সর্বশেষ খবর



অন্যান্য খবর



সম্পাদক-প্রকাশক : রফিকুল ইসলাম আধার
উপদেষ্টা সম্পাদক : সোলায়মান খাঁন মজনু
নির্বাহী সম্পাদক : মোহাম্মদ জুবায়ের রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১ : ফারহানা পারভীন মুন্নী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : আলমগীর কিবরিয়া কামরুল
বার্তা সম্পাদক-১ : রেজাউল করিম বকুল
বার্তা সম্পাদক-২ : মোঃ ফরিদুজ্জামান।
যোগাযোগ : সম্পাদক : ০১৭২০০৭৯৪০৯
নির্বাহী সম্পাদক : ০১৯১২০৪৯৯৪৬
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১: ০১৭১৬৪৬২২৫৫
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : ০১৭১৪২৬১৩৫০
বার্তা সম্পাদক-১ : ০১৭১৩৫৬৪২২৫
বার্তা সম্পাদক -২ : ০১৯২১-৯৫৫৯০৬
বিজ্ঞাপন : ০১৭১২৮৫৩৩০৩
ইমেইল : shamolbangla2013@gmail.com.

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । ওয়েবসাইট তৈরি করেছে- BD iT Zone

error: Content is protected !!