সকাল ৬:২৪ | সোমবার | ১৬ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং | ১লা পৌষ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

শেখ ফয়জুর রহমান’র কবিতাগুচ্ছ

আসলো নবী
শেখ ফয়জুর রহমান

img-add

আসলো নবী হাসলো সবি
প্রাণ পেল নির্জীব ,

তাহার নূরে চন্দ্র-সূরে
হয়ে গেল সজীব ।

গুল কাননে সুখ বদনে
ফুটলো কতো ফুল ,

নবী আমার শ্রেষ্ঠ সবার
হবে না তার তুল ।

নবী আমার হাবীব খোদার ,
প্রেমে মনটা ভরা ;

দরুদ তাহার সৃষ্টির আহার ,
প্রেমে তার পাগলপারা ।

সারা জীবন করল ক্রন্দন
বলে উম্মতি ,

শাফায়াত তার না পেলে আর
কি হবে গতি !
……………………………………….
পেঁয়াজ
শেখ ফয়জুর রহমান

বাবু সাব পেঁয়াজের কি দারুন ঝাঁজরে !
বউদের হাতে মার স্বামী খায় আজরে !

ভাজা-ভাজি , তরকারি সবে লাগে পেঁয়াজ ।
দাদা ভাই শিরে হাত , করবে কি আজ !

এতদিন সুখে ছিল দাদীর সাথে ,
বুড়ো বসে মার খাবে তারই হাতে !

টিভি , পাতা খবরের পেঁয়াজে ভরা ,
সেলিব্রিটি পেঁয়াজ আজ সবার সেরা ।

কেজি নয় , পোয়া নয় , শত গ্রাম পেঁয়াজ ;
দোকানীর কাছে চায় , কি একটা লাজ !

পেঁয়াজের দর বেড়ে বেঁচে গেল খাসি !
বউ নাই তাই সুখে আমি আজ হাসি ।
……………………………………………………..
সোনার খাঁচা

শেখ ফয়জুর রহমান

জিজ্ঞাসিলেম সুন্দরীরে , কোথায় পাব সোনার খাঁচা ?
অস্তপারের সন্ধ্যা তারা , ধরা অসীম আমায় বাঁচা !
মিষ্টি সুরের ছন্দ গানে বাজে যেন অগ্নিবীণা !
পূবাল হাওয়ার আশায় থাকি , হঠাৎ বাতাস বয় দখিনা ।
সোনামাখা ধানগুলো আজ পুড়ে কেন হলো ছাই ?
কালো মেঘের আকাশটাতে একটুখানি বৃষ্টি নাই !
ডোবার জলে ময়লা তরে প্রাণের কোন চিহ্ন নাই ,
সমুদ্র আজ মরুভূমি , মৎস্য মরে কষ্টে হায় !
ঘাসের পরে শিশির পড়ে , শুকায় ক্ষণে রৌদ্রতাপে ,
দেহে যে আজ পচন ধরে গলছে দেহ অভিশাপে ।
সুন্দরী বল , আমি কি আর সোনার খাঁচা পাব না ?
রোদের ছায়ায় জীবন কায়া , বৈঠা বিনে নাও ছলনা !
শৈশব খেলো কৈশোরেতে , কৈশোর গেল বুড়োর তীরে ;
ঝরা ফুলের মতন করে ফিরব না আর কারো নীড়ে ?!
………………………………..
পরীর ডাক
শে খ ফ য় জু র র হ মা ন

যখন রাত হয় গভীর
চাঁদ আলো ঢালে পরিপূর্ণ
স্তব্ধ হয় চারিদিকের পরিবেশ ,
প্রাণওয়ালারা বিভোর নিদ্রায় ।
ঠিক তখনি সাদা পোশাক পরিহিতা
ডানাওয়ালা এক পরি
আমাকে ডাকে তার রাজ্যে ।
সে মেঘের উপর ভর করে
আমাকে সাথে নিয়ে চলে ,
দুজনে কতো কথা বলি ।
আমি বলি আমার দুনিয়ার কথা ,
পরি বলে তার দুনিয়ার কথা ।
যখন পথ শেষে পরীদের রাজ্যে
প্রবেশ পথে আমাকে সাদরে
গ্রহণ করে , মনে হয়
যেন আমি পরীরাজ্যের রাজা ।
পরীরা সত্যিই মানবীদের চেয়ে
অনেক অনেক ভালো ।
পরীর প্রেম আমাকে করেছে তুষ্ট ।
দুজনে আলিঙ্গন করে শুয়ে আছি
সোনার পালঙ্ক ঝলমল করছে ।
সে আমার জন্য মরতেও রাজি ,
আর আমি সত্যিই ভাগ্যবান ।
হঠাৎ একটা তীর্যক আলো ,
চোখ খুলতেই দেখি আমার
সেই চিরচেনা কাঠের খাট ।
…………………………………
ছবি
শে খ ফ য় জু র র হ মা ন

একটি ছবির জন্য
একটি আঙুল উঠেছিল ,

বজ্র কন্ঠে উচ্চারিত হয়েছিল —

এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম ,
এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম ।

অতঃপর সবুজ হয়েছিল লাল ।

সবুজ আর লাল মিলে সৃষ্টি হলো
সবার কাঙ্ক্ষিত ছবিটি ।
………………………………..
পলাতক
শে খ ফ য় জু র র হ মা ন

আগষ্ট থেকে অক্টোবর ছিলাম সরল ,
নভেম্বরে ধরল পূর্বের শয়তান ।

অতীত স্মৃতির পুনরাবৃত্তি ,
গোপনাঙ্গে টান টান উত্তেজনা ,
লুকানো চিঠির ফের প্রকাশ ;

অদূর ভবিষ্যত আবার কলুষিত !

এখন হব পলাতক
আপন দেহ থেকে ।
………………………………
নিকৃষ্ট আর উৎকৃষ্ট
শে খ ফ য় জু র র হ মা ন

দোয়েল পাখির মতো হয়েছি অবুঝ ,
মনুষ্যত্বের মন আর সমঝ অজ্ঞাত ।
ভুলেই গেছি আমি মানুষ কিনা ।
আমি কি কোন জড় পদার্থ
পাথর , কাঠ কিংবা রাবার ,
আমি কি জীবিত চতুষ্পদ জন্তু
নাকি বন্য পাখি ।
আমাতে আজ আমির সংশয়
আমিটা কে ?
জন্ম হয়েছে আমার মানবের ঘরে
ধরণ মানবের মতন ,
তবুও কেমন হয়েছি নিকৃষ্ট
অচেনা অজানার অধ্যায়ে পড়ে ।
যেদিন আপনারে আপনি চিনব
হব জ্ঞাত কে আমি ,
সেদিন হবে আমার পদোন্নতি
আত্মিক ও বাহ্যিক ;
নাম উঠবে সংসদে ‘উৎকৃষ্ট’
…………………………….
জিকিরে পাই তৃপ্তি
শে খ ফ য় জু র র হ মা ন

রাত হলে সবাই ঘুমায়
মানুষ আর বাকী প্রাণওয়ালারা ।
ঘুমে আমার শান্তি নেই ।
কেউ রাত জেগে চুরি-ডাকাতি করে ,
কেউ যেনা বা শরাব পানে ব্যস্ত ।
আমার রাত জেগেও শান্তি অনুভব হই না ।
যখন রাত হয় গভীর
ঘুমন্ত গাছগুলো হেলে পড়ে ঘুমে ,
থেমে যায় ঝিঁঝিঁর ডাক ,
একদম নীরব নিস্তব্ধ পরিবেশ ,
আমার ঠোঁটের জড়তা কাটে
জিভ নড়তে থাকে কম্পিত হয়
শুরু হয় নতুন এক অধ্যায় ।
মালিকের জিকিরে আমার মুখ হয় সক্রিয়
কি যে মজা !
না পাই জান্নাত । জান্নাতের স্বাদও
হতে পারে বিস্বাদ ,
আমার মালিকের জিকিরের স্বাদ
জান্নাতের স্বাদের বহুত উর্ধ্বে ।
মজা , মজা আর মজা !
আমার ঘুম আর জাগা দুটোই বিস্বাদ ।
খোদার জিকিরে পাই তৃপ্তি ।
জীবন আর মরণের উদ্দেশ্যই
খোদার জিকির ।
………………………………
তোমার আমার মিলন
শে খ ফ য় জু র র হ মা ন

স্বপনে কবিতার অনাবৃত শুভ্র দুগ্ধফেননিভ
দেহ দেখেছি আমি ,

চুল তার নিশার নব যৌবনি রজনীগন্ধা ,
যেন গগন বিস্তৃত অপ্রত্যাশিত ঘন কালো মেঘ ।

আয়তকৃষ্ণ দুটি খেয়াল ,
কাজল রেখার মতো অনুমত সলুলিত ভ্রূযুগল ,
মনপ্রাণ কাড়া আবেশ-বিভোর আঁখির চাহনি ।

তার ওষ্ঠের দীপ্ত হাসিতে
মৃত লোক জাগে গোরের নিদ্রা থেকে !

তার সুতুঙ্গ গ্রীবা , মধুর মুখের উক্তি
দীর্ঘ দেহ , সংযত ধর্ম ।

পত্রপুটে আবৃত অঘ্রাত অর্চনার ফল দুটি ,
নিগূঢ় রহস্যে ভরা আকর্ষী নিতম্ব ,
শত পর্দার বেষ্টনীর মাঝে
লুকায়িত গুপ্ত সুপ্ত নিষ্পাপ কটিদেশ ।

কবিতার সৌন্দর্য প্রকাশের ভাষার অভিধান
আকাশের মস্তকে রয়েছে নিহিত ।

তার সৌন্দর্য মানুষের কল্পনাতীত ,
স্বপ্ন আর মিলনেই দেখা সম্ভব ।

আমি তার প্রেমে পড়েছি ,
প্রেম নয়,করব বিয়ে ; দুজনের রক্ত এক হওয়ার জন্যে ।

মিলনের তীব্র ইচ্ছা ভুলিয়ে দিল
আমার আমিকে !

জিজ্ঞেস করলাম , কবিতা , তবে হোক এখন
আমার আজন্ম লালিত স্বপ্ন পূরণ ;
সোনায় গড়া পাখির নীড়ে চলো করি সঙ্গম ।

সে সহাস্য বদনে বলল , মানব বড় অধৈর্য !
মুসাফির , করো প্রত্যাবর্তনের প্রতীক্ষা ,
শীঘ্রই হবে তোমার আমার মিলন
……………………………………..
রাত
শে খ ফ য় জু র র হ মা ন

সূর্যের অবসন্ন অঙ্গে শয্যায় সুপ্তি যাওয়া
মরা ডুমুর গাছের জলহীন বৃক্ষশাখে
নড়বড়ে নেত্রপল্লবের কুলায়ে শালিকের সহবাস ।

জোনাকি রোশনাই বিলায় হয়ে রঞ্জিত বর্তিকা
আর প্রসাধন ছড়ায় রজনীগন্ধা ।
গানের আসরজমায় এডিস মশার দল ,
আতশবাজি ফাটায় মক্ষিকার দলবাহ ।

শিয়ালের গলা ফাটা রোদনে কাক দুঃসহ !
কোকিল তখন বিরহের গান গায় ।
পিপীলিকা করে ক্ষণদার আহার্যের আয়োজন ,
সেই সুঘ্রাণে উইপোকার সহসা অধিষ্ঠান ;
দেখে মনে হয় তৃতীয় মহা বিশ্বযুদ্ধ !

শান্তির বাণী শোনায় শ্বেতকায় পারাবত ,
অধরে দীপ্ত প্রীতিপ্রদ হাস ,
গহন পালক চরণগুলো মনোহর ,
মস্তকে সোনার কিরীট ।

উড়ায় সবুজ জলপাইয়ের পাতা ,
পাতার মধ্যস্থলে তারই রক্ত দিয়ে আঁকা
টকটকে লাল গোলাকার বৃত্ত ।

>সমাপ্ত<

অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ খবর



» গাজীপুরে ফ্যান কারখানায় আগুনে নিহত ১০

» শেরপুরে এবার বিজয় দিবসে ১৬ মুক্তিযোদ্ধা পুলিশকে সম্মাননা দেবে জেলা পুলিশ

» শেরপুরে পরিবার কল্যাণ সেবা ও প্রচার সপ্তাহে স্থায়ী পদ্ধতি গ্রহণে নারীদের রেকর্ড

» নকলায় পুলিশ বিভাগের বিশেষ শান্তি সমাবেশ

» শেরপুরে পরিচয় মিলেছে সেই অজ্ঞাতনামা লাশের

» শেরপুরে মোবারকপুর মসজিদের নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

» সন্তান চান রণবীর

» ভোটার কার্ড-পাসপোর্টই নাগরিকত্বের প্রমাণ : ভারতীয় আদালত

» নাচের জন্য অভিনয়ও ছেড়ে দিতে পারি : শ্রদ্ধা কাপুর

» হজমশক্তি বাড়াবে বাঁধাকপি

» ভারত জোর করে কাউকে বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে না : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

» নাগরিকত্ব আইন ভারতের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার : কাদের

» শেরপুরে অগ্নিকাণ্ডে বসতবাড়ি ভস্মিভূত

» শ্রীবরদীতে ২ মাদক ব্যবসায়ী আটক

» সুপ্রশিক্ষিত সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলতে চাই: প্রধানমন্ত্রী

সম্পাদক-প্রকাশক : রফিকুল ইসলাম আধার
উপদেষ্টা সম্পাদক : সোলায়মান খাঁন মজনু
নির্বাহী সম্পাদক : মোহাম্মদ জুবায়ের রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১ : ফারহানা পারভীন মুন্নী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : আলমগীর কিবরিয়া কামরুল
বার্তা সম্পাদক-১ : রেজাউল করিম বকুল
বার্তা সম্পাদক-২ : মোঃ ফরিদুজ্জামান।
যোগাযোগ : সম্পাদক : ০১৭২০০৭৯৪০৯
নির্বাহী সম্পাদক : ০১৯১২০৪৯৯৪৬
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১: ০১৭১৬৪৬২২৫৫
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : ০১৭১৪২৬১৩৫০
বার্তা সম্পাদক-১ : ০১৭১৩৫৬৪২২৫
বার্তা সম্পাদক -২ : ০১৯২১-৯৫৫৯০৬
বিজ্ঞাপন : ০১৭১২৮৫৩৩০৩
ইমেইল : shamolbangla2013@gmail.com.

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । ওয়েবসাইট তৈরি করেছে- BD iT Zone

  সকাল ৬:২৪ | সোমবার | ১৬ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং | ১লা পৌষ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

শেখ ফয়জুর রহমান’র কবিতাগুচ্ছ

আসলো নবী
শেখ ফয়জুর রহমান

img-add

আসলো নবী হাসলো সবি
প্রাণ পেল নির্জীব ,

তাহার নূরে চন্দ্র-সূরে
হয়ে গেল সজীব ।

গুল কাননে সুখ বদনে
ফুটলো কতো ফুল ,

নবী আমার শ্রেষ্ঠ সবার
হবে না তার তুল ।

নবী আমার হাবীব খোদার ,
প্রেমে মনটা ভরা ;

দরুদ তাহার সৃষ্টির আহার ,
প্রেমে তার পাগলপারা ।

সারা জীবন করল ক্রন্দন
বলে উম্মতি ,

শাফায়াত তার না পেলে আর
কি হবে গতি !
……………………………………….
পেঁয়াজ
শেখ ফয়জুর রহমান

বাবু সাব পেঁয়াজের কি দারুন ঝাঁজরে !
বউদের হাতে মার স্বামী খায় আজরে !

ভাজা-ভাজি , তরকারি সবে লাগে পেঁয়াজ ।
দাদা ভাই শিরে হাত , করবে কি আজ !

এতদিন সুখে ছিল দাদীর সাথে ,
বুড়ো বসে মার খাবে তারই হাতে !

টিভি , পাতা খবরের পেঁয়াজে ভরা ,
সেলিব্রিটি পেঁয়াজ আজ সবার সেরা ।

কেজি নয় , পোয়া নয় , শত গ্রাম পেঁয়াজ ;
দোকানীর কাছে চায় , কি একটা লাজ !

পেঁয়াজের দর বেড়ে বেঁচে গেল খাসি !
বউ নাই তাই সুখে আমি আজ হাসি ।
……………………………………………………..
সোনার খাঁচা

শেখ ফয়জুর রহমান

জিজ্ঞাসিলেম সুন্দরীরে , কোথায় পাব সোনার খাঁচা ?
অস্তপারের সন্ধ্যা তারা , ধরা অসীম আমায় বাঁচা !
মিষ্টি সুরের ছন্দ গানে বাজে যেন অগ্নিবীণা !
পূবাল হাওয়ার আশায় থাকি , হঠাৎ বাতাস বয় দখিনা ।
সোনামাখা ধানগুলো আজ পুড়ে কেন হলো ছাই ?
কালো মেঘের আকাশটাতে একটুখানি বৃষ্টি নাই !
ডোবার জলে ময়লা তরে প্রাণের কোন চিহ্ন নাই ,
সমুদ্র আজ মরুভূমি , মৎস্য মরে কষ্টে হায় !
ঘাসের পরে শিশির পড়ে , শুকায় ক্ষণে রৌদ্রতাপে ,
দেহে যে আজ পচন ধরে গলছে দেহ অভিশাপে ।
সুন্দরী বল , আমি কি আর সোনার খাঁচা পাব না ?
রোদের ছায়ায় জীবন কায়া , বৈঠা বিনে নাও ছলনা !
শৈশব খেলো কৈশোরেতে , কৈশোর গেল বুড়োর তীরে ;
ঝরা ফুলের মতন করে ফিরব না আর কারো নীড়ে ?!
………………………………..
পরীর ডাক
শে খ ফ য় জু র র হ মা ন

যখন রাত হয় গভীর
চাঁদ আলো ঢালে পরিপূর্ণ
স্তব্ধ হয় চারিদিকের পরিবেশ ,
প্রাণওয়ালারা বিভোর নিদ্রায় ।
ঠিক তখনি সাদা পোশাক পরিহিতা
ডানাওয়ালা এক পরি
আমাকে ডাকে তার রাজ্যে ।
সে মেঘের উপর ভর করে
আমাকে সাথে নিয়ে চলে ,
দুজনে কতো কথা বলি ।
আমি বলি আমার দুনিয়ার কথা ,
পরি বলে তার দুনিয়ার কথা ।
যখন পথ শেষে পরীদের রাজ্যে
প্রবেশ পথে আমাকে সাদরে
গ্রহণ করে , মনে হয়
যেন আমি পরীরাজ্যের রাজা ।
পরীরা সত্যিই মানবীদের চেয়ে
অনেক অনেক ভালো ।
পরীর প্রেম আমাকে করেছে তুষ্ট ।
দুজনে আলিঙ্গন করে শুয়ে আছি
সোনার পালঙ্ক ঝলমল করছে ।
সে আমার জন্য মরতেও রাজি ,
আর আমি সত্যিই ভাগ্যবান ।
হঠাৎ একটা তীর্যক আলো ,
চোখ খুলতেই দেখি আমার
সেই চিরচেনা কাঠের খাট ।
…………………………………
ছবি
শে খ ফ য় জু র র হ মা ন

একটি ছবির জন্য
একটি আঙুল উঠেছিল ,

বজ্র কন্ঠে উচ্চারিত হয়েছিল —

এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম ,
এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম ।

অতঃপর সবুজ হয়েছিল লাল ।

সবুজ আর লাল মিলে সৃষ্টি হলো
সবার কাঙ্ক্ষিত ছবিটি ।
………………………………..
পলাতক
শে খ ফ য় জু র র হ মা ন

আগষ্ট থেকে অক্টোবর ছিলাম সরল ,
নভেম্বরে ধরল পূর্বের শয়তান ।

অতীত স্মৃতির পুনরাবৃত্তি ,
গোপনাঙ্গে টান টান উত্তেজনা ,
লুকানো চিঠির ফের প্রকাশ ;

অদূর ভবিষ্যত আবার কলুষিত !

এখন হব পলাতক
আপন দেহ থেকে ।
………………………………
নিকৃষ্ট আর উৎকৃষ্ট
শে খ ফ য় জু র র হ মা ন

দোয়েল পাখির মতো হয়েছি অবুঝ ,
মনুষ্যত্বের মন আর সমঝ অজ্ঞাত ।
ভুলেই গেছি আমি মানুষ কিনা ।
আমি কি কোন জড় পদার্থ
পাথর , কাঠ কিংবা রাবার ,
আমি কি জীবিত চতুষ্পদ জন্তু
নাকি বন্য পাখি ।
আমাতে আজ আমির সংশয়
আমিটা কে ?
জন্ম হয়েছে আমার মানবের ঘরে
ধরণ মানবের মতন ,
তবুও কেমন হয়েছি নিকৃষ্ট
অচেনা অজানার অধ্যায়ে পড়ে ।
যেদিন আপনারে আপনি চিনব
হব জ্ঞাত কে আমি ,
সেদিন হবে আমার পদোন্নতি
আত্মিক ও বাহ্যিক ;
নাম উঠবে সংসদে ‘উৎকৃষ্ট’
…………………………….
জিকিরে পাই তৃপ্তি
শে খ ফ য় জু র র হ মা ন

রাত হলে সবাই ঘুমায়
মানুষ আর বাকী প্রাণওয়ালারা ।
ঘুমে আমার শান্তি নেই ।
কেউ রাত জেগে চুরি-ডাকাতি করে ,
কেউ যেনা বা শরাব পানে ব্যস্ত ।
আমার রাত জেগেও শান্তি অনুভব হই না ।
যখন রাত হয় গভীর
ঘুমন্ত গাছগুলো হেলে পড়ে ঘুমে ,
থেমে যায় ঝিঁঝিঁর ডাক ,
একদম নীরব নিস্তব্ধ পরিবেশ ,
আমার ঠোঁটের জড়তা কাটে
জিভ নড়তে থাকে কম্পিত হয়
শুরু হয় নতুন এক অধ্যায় ।
মালিকের জিকিরে আমার মুখ হয় সক্রিয়
কি যে মজা !
না পাই জান্নাত । জান্নাতের স্বাদও
হতে পারে বিস্বাদ ,
আমার মালিকের জিকিরের স্বাদ
জান্নাতের স্বাদের বহুত উর্ধ্বে ।
মজা , মজা আর মজা !
আমার ঘুম আর জাগা দুটোই বিস্বাদ ।
খোদার জিকিরে পাই তৃপ্তি ।
জীবন আর মরণের উদ্দেশ্যই
খোদার জিকির ।
………………………………
তোমার আমার মিলন
শে খ ফ য় জু র র হ মা ন

স্বপনে কবিতার অনাবৃত শুভ্র দুগ্ধফেননিভ
দেহ দেখেছি আমি ,

চুল তার নিশার নব যৌবনি রজনীগন্ধা ,
যেন গগন বিস্তৃত অপ্রত্যাশিত ঘন কালো মেঘ ।

আয়তকৃষ্ণ দুটি খেয়াল ,
কাজল রেখার মতো অনুমত সলুলিত ভ্রূযুগল ,
মনপ্রাণ কাড়া আবেশ-বিভোর আঁখির চাহনি ।

তার ওষ্ঠের দীপ্ত হাসিতে
মৃত লোক জাগে গোরের নিদ্রা থেকে !

তার সুতুঙ্গ গ্রীবা , মধুর মুখের উক্তি
দীর্ঘ দেহ , সংযত ধর্ম ।

পত্রপুটে আবৃত অঘ্রাত অর্চনার ফল দুটি ,
নিগূঢ় রহস্যে ভরা আকর্ষী নিতম্ব ,
শত পর্দার বেষ্টনীর মাঝে
লুকায়িত গুপ্ত সুপ্ত নিষ্পাপ কটিদেশ ।

কবিতার সৌন্দর্য প্রকাশের ভাষার অভিধান
আকাশের মস্তকে রয়েছে নিহিত ।

তার সৌন্দর্য মানুষের কল্পনাতীত ,
স্বপ্ন আর মিলনেই দেখা সম্ভব ।

আমি তার প্রেমে পড়েছি ,
প্রেম নয়,করব বিয়ে ; দুজনের রক্ত এক হওয়ার জন্যে ।

মিলনের তীব্র ইচ্ছা ভুলিয়ে দিল
আমার আমিকে !

জিজ্ঞেস করলাম , কবিতা , তবে হোক এখন
আমার আজন্ম লালিত স্বপ্ন পূরণ ;
সোনায় গড়া পাখির নীড়ে চলো করি সঙ্গম ।

সে সহাস্য বদনে বলল , মানব বড় অধৈর্য !
মুসাফির , করো প্রত্যাবর্তনের প্রতীক্ষা ,
শীঘ্রই হবে তোমার আমার মিলন
……………………………………..
রাত
শে খ ফ য় জু র র হ মা ন

সূর্যের অবসন্ন অঙ্গে শয্যায় সুপ্তি যাওয়া
মরা ডুমুর গাছের জলহীন বৃক্ষশাখে
নড়বড়ে নেত্রপল্লবের কুলায়ে শালিকের সহবাস ।

জোনাকি রোশনাই বিলায় হয়ে রঞ্জিত বর্তিকা
আর প্রসাধন ছড়ায় রজনীগন্ধা ।
গানের আসরজমায় এডিস মশার দল ,
আতশবাজি ফাটায় মক্ষিকার দলবাহ ।

শিয়ালের গলা ফাটা রোদনে কাক দুঃসহ !
কোকিল তখন বিরহের গান গায় ।
পিপীলিকা করে ক্ষণদার আহার্যের আয়োজন ,
সেই সুঘ্রাণে উইপোকার সহসা অধিষ্ঠান ;
দেখে মনে হয় তৃতীয় মহা বিশ্বযুদ্ধ !

শান্তির বাণী শোনায় শ্বেতকায় পারাবত ,
অধরে দীপ্ত প্রীতিপ্রদ হাস ,
গহন পালক চরণগুলো মনোহর ,
মস্তকে সোনার কিরীট ।

উড়ায় সবুজ জলপাইয়ের পাতা ,
পাতার মধ্যস্থলে তারই রক্ত দিয়ে আঁকা
টকটকে লাল গোলাকার বৃত্ত ।

>সমাপ্ত<

সর্বশেষ খবর



অন্যান্য খবর



সম্পাদক-প্রকাশক : রফিকুল ইসলাম আধার
উপদেষ্টা সম্পাদক : সোলায়মান খাঁন মজনু
নির্বাহী সম্পাদক : মোহাম্মদ জুবায়ের রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১ : ফারহানা পারভীন মুন্নী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : আলমগীর কিবরিয়া কামরুল
বার্তা সম্পাদক-১ : রেজাউল করিম বকুল
বার্তা সম্পাদক-২ : মোঃ ফরিদুজ্জামান।
যোগাযোগ : সম্পাদক : ০১৭২০০৭৯৪০৯
নির্বাহী সম্পাদক : ০১৯১২০৪৯৯৪৬
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১: ০১৭১৬৪৬২২৫৫
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : ০১৭১৪২৬১৩৫০
বার্তা সম্পাদক-১ : ০১৭১৩৫৬৪২২৫
বার্তা সম্পাদক -২ : ০১৯২১-৯৫৫৯০৬
বিজ্ঞাপন : ০১৭১২৮৫৩৩০৩
ইমেইল : shamolbangla2013@gmail.com.

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । ওয়েবসাইট তৈরি করেছে- BD iT Zone

error: Content is protected !!