সকাল ৯:৪১ | সোমবার | ২৫শে মে, ২০২০ ইং | ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শবে মি’রাজের তাৎপর্য ও প্রাসঙ্গিকতা ॥ ড. আবদুল আলীম তালুকদার

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব, ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক হযরত মুহাম্মদ (স.) এর মি’রাজ গমণের ক্ষণ এমন সময় আমাদের মাঝে এসে উপস্থিত হলো যখন গোটা পৃথিবীজুড়ে মহা আতঙ্ক বিরাজ করছে কভিড-১৯ তথা নভেল করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ দ্বারা মহামারী আকার ধারণ ও হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুর মিছিলে সামিল হওয়া নিয়ে। বর্তমানে এই মহা আতঙ্কের দিনগুলোতে পৃথিবী জুড়ে সকল সংবাদ মাধ্যমের প্রধান খবর হলো করোনা ভাইরাস। ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায় পৃথিবী সৃষ্টির আদি থেকেই যুগে যুগে বিভিন্ন সময় এ পৃথিবীতে নানা দুর্যোগ-মহামারী নেমে এসেছে মানুষের কৃতকর্মের ফল হিসেবে। আ’দ, সামুদ, বনী ইসরাঈলসহ বিভিন্ন কওম/সম্প্রদায় যখন এই পৃথিবীতে নানা অপকর্মে লিপ্ত হয়ে পড়েছিল তখন তাদেরকে হেদায়েত তথা খারাপ কাজ করা থেকে নিবৃত করার জন্য মহান আল্লাহ্ পাক যুগে যুগে অবতার তথা নবী-রাসূল পাঠিয়েছিলেন। পরবর্তীতে যখন এইসব কওমের পাপাচার লোকগুলো তাদের এসব অপকর্ম থেকে নিবৃত না হয়ে উল্টো তাদের হেদায়েতের জন্য প্রেরিত নবী-রাসূলদের উপর যুলুম-নির্যাতন তথা তাদেরকে হত্যা করার জন্য উদ্যত হলো। তখন আল্লাহ্ পাক এসব যালিম লোকদের উপর অভিসম্পাত বর্ষণ করেন; তারই ফলশ্রুতিতে তাদের উপর বিভিন্ন সময় নেমে আসে মহাদুর্যোগ তথা মহামারী। ধারণা করা হয়, বর্তমান সময়েও পৃথিবী জুড়ে অনাচার, দূরাচার, হত্যা-নির্যাতন, যিনা-ব্যভিচার, বেহায়াপনা তথা সৃষ্টিকর্তার নাফরমানী চরম আকারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব থেকে পৃথিবীবাসীদের নিবৃত করার জন্যই হয়তোবা আল্লাহ্ পাকের পক্ষ থেকে পৃথিবীজুড়ে এই মহাদুর্যোগের ঘনঘটা। এহেন পরিস্থিতিতে আমাদের করণীয় হচ্ছে, অযথা আতঙ্কগ্রস্থ না হয়ে সবাইকে আত্মসচেতন হওয়া, জনসমাগম স্থানগুলো এড়িয়ে চলা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দেয়া স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মেনে চলা ও আল্লাহর নাফরমানী করা থেকে ফিরে এসে যার যার পূর্বের কৃতকর্মের জন্য বেশী বেশী তওবা-এস্তেগফার করা। তাহলেই হয়তোবা এই মহা-দুর্যোগ থেকে পরিত্রাণ পেতে পারে বিশ্ববাসী।
প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ (স.)এর ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টিকারী মি’রাজ গমনের ঘটনা পৃথিবীর ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে।‘মি’রাজ’ এর শাব্দিক অর্থ হচ্ছে- সিঁড়ি, সোপান, আরোহণ, ঊর্ধ্বগমণ, বাহন ইত্যাদি। আবার অন্য অর্থে ঊর্ধ্বপানে আরোহণ বা রবের সাথে মহামিলন যা নবী করীম (স.)’র অন্যতম শ্রেষ্ঠ মু’জিযা এবং মহান আল্লাহ্ পাকের কুদরতের মহানিদর্শন। নবী-রাসূলগণের মধ্যে একমাত্র শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (স.)কে আল্লাহ্ পাক এই অতুলস্পর্শী মর্যাদা প্রদান করে সম্মানিত করেন।
যদিও পবিত্র কুরআনুল কারীম-এ ‘মি’রাজ’ শব্দটির সরাসরি উল্লেখ লক্ষ্য করা যায় না, কিন্তু যখন কাফিরগণ নবী মুহাম্মদের নবুয়্যতের বা ঐশ্বরিক বাণীর প্রমাণস্বরূপ স্বর্গে আরোহণকরত: প্রমাণ আনতে বলেন, তখন সেখানে উল্লিখিত শব্দ ছিল ‘তারকা ফিস্ সামা-য়ী’ অর্থাৎ ঊর্ধ্বে আরোহণ করো। কেউ কেউ বলেন, ‘তারকা’ অর্থ আরোহণ করো; যা ‘রাকিয়া’ থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ ‘সে আরোহণ করেছিল’। আর আরবি ‘মি’রাজ’ শব্দটি ‘আরাজা’ থেকে গৃহীত, যার অর্থ সে আরোহণ করেছিল। তারা আরো বলেন, এতদুভয়ের মধ্যে পার্থক্য হলো ‘রাকিয়া’ দ্বারা দৈহিক আরোহণ বোঝায়, আর ‘আরজা’ দ্বারা আত্মিক আরোহণ বোঝায়। তাই তাদের মতে, মি‘রাজ হল ‘আত্মিক আরোহণ’। কিন্তু আহলুস্ সুন্নাহ্ ওয়াল জামায়াতের আলিমদের মতে, মি’রাজ স্বশরীরে ও জাগ্রত অবস্থায় সংগঠিত হয়েছিল। কারণ সকল সাহাবা, তাবেয়ী, তাবে তাবেয়ীরা এটাই বিশ্বাস করতেন।
ইসলামী ধর্মবেত্তাদের মতে, লাইলাতুল মি’রাজ বা মি’রাজের রাত, যা সচারাচর শবে মি’রাজ হিসেবে আখ্যায়িত হয়, যে রজনীতে ইসলামের নবী হযরত মুহাম্মদ (স.) ঐশ্বরিক উপায়ে ঊর্ধ্বাকাশে আরোহণ করেছিলেন এবং মহান প্রভূর সাথে সাক্ষাৎ করেন। এই মি’রাজের মাধ্যমেই ইসলাম ধর্মের পঞ্চস্তম্ভের দ্বিতীয় স্তম্ভ অর্থাৎ নামায, মুসলমানদের জন্য অত্যাবশ্যক (ফরয) করা হয় এবং এই রাতেই দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামায মুসলমানদের জন্য হাদীয়া স্বরূপ নিয়ে আসেন নবী মুহাম্মদ (স.)।
ইসলামের ইতিহাস ও হাদীস পর্যালোচনায় জানা যায়, হযরত মুহাম্মদ (স.)এর নবুয়তের ১০ম বর্ষে তথা ৬২০ খ্রি. ২৬ রজব দিবাগত রাতে মি’রাজের বিষ্ময়কর ঘটনা সংঘটিত হয়েছিল। ওই রাতে মুহাম্মদ (স.) আবু তালিবের মেয়ে হিন্দার বাড়িতে ছিলেন। আবার অন্য হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, ঐ রাতে মুহাম্মদ (স.) কাবা গৃহে ঘুমাতে যান এবং তিনি কাবার ঐ অংশে ঘুমান, যেখানে কোনো ছাদ ছিল না (হাতীম)। হিন্দার বিবরণ থেকে জানা যায়, ঐ রাতে মুহাম্মদ (স.) রাতের প্রার্থনা সেরে যথারীতি ঘুমাতে যান। খুব ভোরে মুহাম্মদ (স.) ঘুম থেকে উঠে সবাইকে জাগালেন এবং নামায আদায় করলেন। হিন্দাও তাঁর সাথে নামায আদায় করলেন। অপর এক বর্ণনায় পাওয়া যায়, ওই রাতে নবী (স.) কা’বা শরীফের হাতীমে (ক্যাম্পাসে) মতান্তরে হযরত উম্মে হানীর গৃহে শায়িত ও নিদ্রিত অবস্থায় ছিলেন।
এমন সময় দেবদূত জিব্রাঈল আমীন (আ.) সেখানে এসে তাঁকে ঘুম থেকে জাগালেন, পবিত্রতা অর্জন করানোর পর বক্ষ বির্দীর্ণ করলেন এবং স্বর্গীয় হাউজে কাউসারের পানি দিয়ে ক্বালব ধৌত করে দিলেন। তারপর স্বর্গীয় বাহন বুরাকে আরোহণ করিয়ে এক মুহূর্তের মধ্যে জেরুজালেমে অবস্থিত বাইতুল মুকাদ্দাসে নিয়ে গেলেন। সেখানে নবী করীম (স.) নবীকূলের সর্দার হিসেবে সব নবী-রাসূলদের সঙ্গে নিয়ে তাঁর ইমামতিত্বে দুই রাকাত নফল নামায আদায় করেন। এরপর তিনি আবার বুরাক নামক বাহনে আরোহণ করে এক এক করে সাত আসমান পরিদর্শন করলেন। প্রথম আসমানে হযরত আদম (আ.) এর সাথে, দ্বিতীয় আসমানে হযরত ঈসা (আ.) এর সাথে, তৃতীয় আসমানে হযরত ইউসুফ (আ.) এর সাথে, চতুর্থ আসমানে হযরত ইদ্রিস (আ.) এর সাথে, পঞ্চম আসমানে হযরত হারুন (আ.) এর সাথে, ষষ্ঠ আসমানে হযরত মুসা (আ.) এর সাথে এবং সপ্ত আসমানে হযরত ইব্রাহীম (আ.) এর সাথে সাক্ষাৎ হয়। সেখান থেকে সপ্ত আকাশের উপরে অবস্থিত ‘সিদ্রাতুল মুন্তাহা’ নামক স্থানে পৌঁছালেন, যেখানে হযরত জিব্রাঈল (আ.) থেমে গেলেন এবং রাসূলে পাক (স.) একাকী আরো দ্রুতগামী স্বর্গীয় বাহন ‘রফ্রফে” আরোহণ করে ‘বাইতুল মামুর’- এ উপনীত হলেন। পথিমধ্যে অবশ্য হাউজে কাউসার অতিক্রম করেন। এরপর নবী (স.) আবারো ‘রফ্রফ্’ এ আরোহণ করে মহান আল্লাহ্ পাকের একান্ত সান্নিধ্যে উপস্থিত হন; তখন নবী (স.) এবং আল্লাহ্ পাকের মাঝখানে শুধুমাত্র একটি পাতলা পর্দা ছিল। আল্লাহ্ পাকের সাথে সরাসরি কথোপকথনের মাধ্যমে তিনি নবী (স.) কে সমগ্র সৃষ্টিজগতের নিগূঢ় রহস্য সম্পর্কে অবগত করালেন। তারপর স্বশরীরে বেহেশ্তে থাকা সকল প্রকার নিয়ামত সমূহ স্বচক্ষে দেখার সৌভাগ্য অর্জন করেন; যা কোনো চর্মচক্ষু আজ পর্যন্ত দেখেনি, কোনো কান শুনেনি, কোনো মানুষের কল্পনা শক্তিও সে পর্যন্ত পৌঁছেনি। এরপর তিনি দোযখ পরিদর্শন করলেন; যা ছিল আযাব-গযবে ভরপুর। তাতে তিনি একদল লোককে দেখলেন যারা মৃত জন্তুর মাংস ভক্ষন করছে। নবী (স.) প্রশ্ন করলেন, এরা কারা? উত্তরে জিব্রাঈল (আ.) বললেন, এরা আপনার উম্মতের সেসব লোক যারা দুনিয়াতে অন্যের গী’বত করতো। সবশেষে তিনি সে রাতে প্রভাতের আগেই মহান আল্লাহ্ পাকের কাছ থেকে তাঁর উম্মতের জন্য ৫ ওয়াক্ত ফরয নামাযের বিধান নিয়ে দ্রুতগামী ঐশীবাহনে আরোহণ করে মুহূর্তের মধ্যে পৃথিবীর জমিনে প্রত্যাবর্তন করলেন।
প্রথমে আল্লাহ্ পাকের পক্ষ থেকে হযরত মুহাম্মদ (স.) এর উম্মতকে ৫০ ওয়াক্ত নামায ফরয করা হয়। কিন্তু উম্মতের কাণ্ডারী নবী (স.) এর আর্জিতে তা ৫ ওয়াক্তে নামিয়ে আনা হয়। তাই মুসলমানদেরকে দৈনিক পাঁচটি আলাদা আলাদা সময় নামাযে দন্ডায়মান হতে হয়। অর্থাৎ মি’রাজ থেকে মুহাম্মদ (স.) তাঁর উম্মতদের জন্য নামাযের আদেশ নিয়ে এসেছিলেন এবং তিনি এই ধরাধামে প্রত্যাবর্তন করেই প্রথম ফযরের নামায হযরত জিব্রাঈল আমিনের নির্দেশনা অনুসারে আদায় করেছিলেন। কুরআনে পাকের সূরা বনী ইসরাঈলের ১ম আয়াতে আল্লাহ্ পাক ইরশাদ করেন, ‘পবিত্র মহান সে সত্তা, যিনি তাঁর বান্দাকে রাতের আধাঁরে নিয়ে গিয়েছেন মাস্জিদুল হারাম থেকে মাস্জিদুল আক্সা পর্যন্ত, যার আশেপাশে আমি বরকত দিয়েছি, যেন আমি তাকে আমার কিছু নিদর্শন দেখাতে পারি; তিনিই সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা।’
হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে মাস্উদ (রা.) হতে বর্ণিত হাদিসে উল্লেখ আছে, মি’রাজের রজনীতে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে নবী করীম (স.) এবং তাঁর উম্মতের জন্য বেশ কয়েকটি হাদীয়া প্রদান করা হয়- প্রথমত: পাঁচ ওয়াক্ত নামায যা পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে। দ্বিতীয়ত: তাঁর উম্মতের যে সব ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করবে না, আল্লাহ্ তাঁর পাপরাশি ক্ষমা করে দেবেন। তৃতীয়ত: সূরা আল বাক্বারার শেষাংশ। চতুর্থত: সূরা বনী ইসরাঈলের ১৩ দফা নির্দেশনা: ১. একাগ্রতার সাথে আল্লাহ্ পাকের উপাসনা করা আর তাঁর সাথে কাউকে শরীক না করা। ২. মাতা-পিতার সাথে সদ্ব্যবহার করা। ৩. আত্মীয়স্বজন, ইয়াতীম ও মুসাফিরের হক নষ্ট না করা। ৪. অযথা অপচয় ও আড়ম্বরিতা পরিহার করা। ৫. অভাবগ্রস্ত ও সাহায্য প্রার্থীকে বঞ্চিত না করা। ৬. সাধ্যমত দান-সাদকাহ্ করা। ৭. অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা না করা। ৮. দারীদ্র্যের ভয়ে সন্তানকে হত্যা না করা। ৯. যিনা-ব্যভিচার থেকে দূরে থাকা। ১০. যে বিষয়ে জ্ঞান নেই তা অনুসন্ধান করা। ১১. ওজনে কম না দেয়া। ১২. অঙ্গীকার রক্ষা করা। ১৩. দুনিয়াতে দম্ভ-অহঙ্কারে না চলা।
সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ রাসূল হযরত মুহাম্মদ (স.) এর অন্যতম মু’জিযা হচ্ছে মি’রাজ। এটা প্রিয় নবীর জীবনে এবং ইসলামের ইতিহাসেও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। তিনি ছাড়া পৃথিবীর অন্য কোন মানুষ এমনকি অন্য কোন নবী-রাসূলের জীবনে এ ধরণের ঘটনা সংঘটিত হয়নি এবং কিয়ামত পর্যন্তও সংঘটিত হবে না।

img-add

লেখক : কবি, গবেষক ও সহ. অধ্যাপক, শেরপুর সরকারি মহিলা কলেজ, শেরপুর। E-mail:dr.alim1978@gmail.com

অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ খবর



» শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে ঈদ পালন করুন : কাদের

» তিনটি জীবন্ত ‘করোনা ভাইরাস’ ছিল উহানের ল্যাবে!

» ঘরে বসেই ঈদের আনন্দ উপভোগ করার অনুরোধ প্রধানমন্ত্রীর

» শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেছে, কাল ঈদ

» সাধারণ ছুটি বাড়বে কিনা সিদ্ধান্ত বৃহস্পতিবার: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী

» শেরপুরে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করলেন হুইপ আতিক

» শেরপুরের ৭ গ্রামে আগাম ঈদুল ফিতর পালিত

» সাবেক এমপি শ্যামলী ॥ মানবতার এক অনন্য ফেরীওয়ালা

» শেরপুরে পত্রিকার হকারদের মাঝে পুলিশের ঈদ উপহার

» শেরপুরে আরও দুইজনের করোনা শনাক্ত ॥ জেলায় মোট আক্রান্ত ৭৭

» ঈদে শবনম ফারিয়ার চমক

» করোনায় একদিনে রেকর্ড ২৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৫৩২

» শেরপুরে ৩ হাজার দরিদ্র ও অসহায় পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার পৌঁছে দিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান

» শেরপুরের সূর্যদীর সেই শহীদ পরিবার ও যুদ্ধাহত পরিবারগুলোর পাশে জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহবুব

» শেরপুরে ৯৬ শিক্ষার্থীর ভাড়া মওকুফ করে দিলেন ছাত্রাবাসের মালিক

সম্পাদক-প্রকাশক : রফিকুল ইসলাম আধার
উপদেষ্টা সম্পাদক : সোলায়মান খাঁন মজনু
নির্বাহী সম্পাদক : মোহাম্মদ জুবায়ের রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১ : ফারহানা পারভীন মুন্নী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : আলমগীর কিবরিয়া কামরুল
বার্তা সম্পাদক-১ : রেজাউল করিম বকুল
বার্তা সম্পাদক-২ : মোঃ ফরিদুজ্জামান।
যোগাযোগ : সম্পাদক : ০১৭২০০৭৯৪০৯
নির্বাহী সম্পাদক : ০১৯১২০৪৯৯৪৬
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১: ০১৭১৬৪৬২২৫৫
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : ০১৭১৪২৬১৩৫০
বার্তা সম্পাদক-১ : ০১৭১৩৫৬৪২২৫
বার্তা সম্পাদক -২ : ০১৯২১-৯৫৫৯০৬
বিজ্ঞাপন : ০১৭১২৮৫৩৩০৩
ইমেইল : shamolbangla2013@gmail.com.

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । ওয়েবসাইট তৈরি করেছে- BD iT Zone

  সকাল ৯:৪১ | সোমবার | ২৫শে মে, ২০২০ ইং | ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শবে মি’রাজের তাৎপর্য ও প্রাসঙ্গিকতা ॥ ড. আবদুল আলীম তালুকদার

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব, ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক হযরত মুহাম্মদ (স.) এর মি’রাজ গমণের ক্ষণ এমন সময় আমাদের মাঝে এসে উপস্থিত হলো যখন গোটা পৃথিবীজুড়ে মহা আতঙ্ক বিরাজ করছে কভিড-১৯ তথা নভেল করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ দ্বারা মহামারী আকার ধারণ ও হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুর মিছিলে সামিল হওয়া নিয়ে। বর্তমানে এই মহা আতঙ্কের দিনগুলোতে পৃথিবী জুড়ে সকল সংবাদ মাধ্যমের প্রধান খবর হলো করোনা ভাইরাস। ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায় পৃথিবী সৃষ্টির আদি থেকেই যুগে যুগে বিভিন্ন সময় এ পৃথিবীতে নানা দুর্যোগ-মহামারী নেমে এসেছে মানুষের কৃতকর্মের ফল হিসেবে। আ’দ, সামুদ, বনী ইসরাঈলসহ বিভিন্ন কওম/সম্প্রদায় যখন এই পৃথিবীতে নানা অপকর্মে লিপ্ত হয়ে পড়েছিল তখন তাদেরকে হেদায়েত তথা খারাপ কাজ করা থেকে নিবৃত করার জন্য মহান আল্লাহ্ পাক যুগে যুগে অবতার তথা নবী-রাসূল পাঠিয়েছিলেন। পরবর্তীতে যখন এইসব কওমের পাপাচার লোকগুলো তাদের এসব অপকর্ম থেকে নিবৃত না হয়ে উল্টো তাদের হেদায়েতের জন্য প্রেরিত নবী-রাসূলদের উপর যুলুম-নির্যাতন তথা তাদেরকে হত্যা করার জন্য উদ্যত হলো। তখন আল্লাহ্ পাক এসব যালিম লোকদের উপর অভিসম্পাত বর্ষণ করেন; তারই ফলশ্রুতিতে তাদের উপর বিভিন্ন সময় নেমে আসে মহাদুর্যোগ তথা মহামারী। ধারণা করা হয়, বর্তমান সময়েও পৃথিবী জুড়ে অনাচার, দূরাচার, হত্যা-নির্যাতন, যিনা-ব্যভিচার, বেহায়াপনা তথা সৃষ্টিকর্তার নাফরমানী চরম আকারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব থেকে পৃথিবীবাসীদের নিবৃত করার জন্যই হয়তোবা আল্লাহ্ পাকের পক্ষ থেকে পৃথিবীজুড়ে এই মহাদুর্যোগের ঘনঘটা। এহেন পরিস্থিতিতে আমাদের করণীয় হচ্ছে, অযথা আতঙ্কগ্রস্থ না হয়ে সবাইকে আত্মসচেতন হওয়া, জনসমাগম স্থানগুলো এড়িয়ে চলা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দেয়া স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মেনে চলা ও আল্লাহর নাফরমানী করা থেকে ফিরে এসে যার যার পূর্বের কৃতকর্মের জন্য বেশী বেশী তওবা-এস্তেগফার করা। তাহলেই হয়তোবা এই মহা-দুর্যোগ থেকে পরিত্রাণ পেতে পারে বিশ্ববাসী।
প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ (স.)এর ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টিকারী মি’রাজ গমনের ঘটনা পৃথিবীর ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে।‘মি’রাজ’ এর শাব্দিক অর্থ হচ্ছে- সিঁড়ি, সোপান, আরোহণ, ঊর্ধ্বগমণ, বাহন ইত্যাদি। আবার অন্য অর্থে ঊর্ধ্বপানে আরোহণ বা রবের সাথে মহামিলন যা নবী করীম (স.)’র অন্যতম শ্রেষ্ঠ মু’জিযা এবং মহান আল্লাহ্ পাকের কুদরতের মহানিদর্শন। নবী-রাসূলগণের মধ্যে একমাত্র শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (স.)কে আল্লাহ্ পাক এই অতুলস্পর্শী মর্যাদা প্রদান করে সম্মানিত করেন।
যদিও পবিত্র কুরআনুল কারীম-এ ‘মি’রাজ’ শব্দটির সরাসরি উল্লেখ লক্ষ্য করা যায় না, কিন্তু যখন কাফিরগণ নবী মুহাম্মদের নবুয়্যতের বা ঐশ্বরিক বাণীর প্রমাণস্বরূপ স্বর্গে আরোহণকরত: প্রমাণ আনতে বলেন, তখন সেখানে উল্লিখিত শব্দ ছিল ‘তারকা ফিস্ সামা-য়ী’ অর্থাৎ ঊর্ধ্বে আরোহণ করো। কেউ কেউ বলেন, ‘তারকা’ অর্থ আরোহণ করো; যা ‘রাকিয়া’ থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ ‘সে আরোহণ করেছিল’। আর আরবি ‘মি’রাজ’ শব্দটি ‘আরাজা’ থেকে গৃহীত, যার অর্থ সে আরোহণ করেছিল। তারা আরো বলেন, এতদুভয়ের মধ্যে পার্থক্য হলো ‘রাকিয়া’ দ্বারা দৈহিক আরোহণ বোঝায়, আর ‘আরজা’ দ্বারা আত্মিক আরোহণ বোঝায়। তাই তাদের মতে, মি‘রাজ হল ‘আত্মিক আরোহণ’। কিন্তু আহলুস্ সুন্নাহ্ ওয়াল জামায়াতের আলিমদের মতে, মি’রাজ স্বশরীরে ও জাগ্রত অবস্থায় সংগঠিত হয়েছিল। কারণ সকল সাহাবা, তাবেয়ী, তাবে তাবেয়ীরা এটাই বিশ্বাস করতেন।
ইসলামী ধর্মবেত্তাদের মতে, লাইলাতুল মি’রাজ বা মি’রাজের রাত, যা সচারাচর শবে মি’রাজ হিসেবে আখ্যায়িত হয়, যে রজনীতে ইসলামের নবী হযরত মুহাম্মদ (স.) ঐশ্বরিক উপায়ে ঊর্ধ্বাকাশে আরোহণ করেছিলেন এবং মহান প্রভূর সাথে সাক্ষাৎ করেন। এই মি’রাজের মাধ্যমেই ইসলাম ধর্মের পঞ্চস্তম্ভের দ্বিতীয় স্তম্ভ অর্থাৎ নামায, মুসলমানদের জন্য অত্যাবশ্যক (ফরয) করা হয় এবং এই রাতেই দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামায মুসলমানদের জন্য হাদীয়া স্বরূপ নিয়ে আসেন নবী মুহাম্মদ (স.)।
ইসলামের ইতিহাস ও হাদীস পর্যালোচনায় জানা যায়, হযরত মুহাম্মদ (স.)এর নবুয়তের ১০ম বর্ষে তথা ৬২০ খ্রি. ২৬ রজব দিবাগত রাতে মি’রাজের বিষ্ময়কর ঘটনা সংঘটিত হয়েছিল। ওই রাতে মুহাম্মদ (স.) আবু তালিবের মেয়ে হিন্দার বাড়িতে ছিলেন। আবার অন্য হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, ঐ রাতে মুহাম্মদ (স.) কাবা গৃহে ঘুমাতে যান এবং তিনি কাবার ঐ অংশে ঘুমান, যেখানে কোনো ছাদ ছিল না (হাতীম)। হিন্দার বিবরণ থেকে জানা যায়, ঐ রাতে মুহাম্মদ (স.) রাতের প্রার্থনা সেরে যথারীতি ঘুমাতে যান। খুব ভোরে মুহাম্মদ (স.) ঘুম থেকে উঠে সবাইকে জাগালেন এবং নামায আদায় করলেন। হিন্দাও তাঁর সাথে নামায আদায় করলেন। অপর এক বর্ণনায় পাওয়া যায়, ওই রাতে নবী (স.) কা’বা শরীফের হাতীমে (ক্যাম্পাসে) মতান্তরে হযরত উম্মে হানীর গৃহে শায়িত ও নিদ্রিত অবস্থায় ছিলেন।
এমন সময় দেবদূত জিব্রাঈল আমীন (আ.) সেখানে এসে তাঁকে ঘুম থেকে জাগালেন, পবিত্রতা অর্জন করানোর পর বক্ষ বির্দীর্ণ করলেন এবং স্বর্গীয় হাউজে কাউসারের পানি দিয়ে ক্বালব ধৌত করে দিলেন। তারপর স্বর্গীয় বাহন বুরাকে আরোহণ করিয়ে এক মুহূর্তের মধ্যে জেরুজালেমে অবস্থিত বাইতুল মুকাদ্দাসে নিয়ে গেলেন। সেখানে নবী করীম (স.) নবীকূলের সর্দার হিসেবে সব নবী-রাসূলদের সঙ্গে নিয়ে তাঁর ইমামতিত্বে দুই রাকাত নফল নামায আদায় করেন। এরপর তিনি আবার বুরাক নামক বাহনে আরোহণ করে এক এক করে সাত আসমান পরিদর্শন করলেন। প্রথম আসমানে হযরত আদম (আ.) এর সাথে, দ্বিতীয় আসমানে হযরত ঈসা (আ.) এর সাথে, তৃতীয় আসমানে হযরত ইউসুফ (আ.) এর সাথে, চতুর্থ আসমানে হযরত ইদ্রিস (আ.) এর সাথে, পঞ্চম আসমানে হযরত হারুন (আ.) এর সাথে, ষষ্ঠ আসমানে হযরত মুসা (আ.) এর সাথে এবং সপ্ত আসমানে হযরত ইব্রাহীম (আ.) এর সাথে সাক্ষাৎ হয়। সেখান থেকে সপ্ত আকাশের উপরে অবস্থিত ‘সিদ্রাতুল মুন্তাহা’ নামক স্থানে পৌঁছালেন, যেখানে হযরত জিব্রাঈল (আ.) থেমে গেলেন এবং রাসূলে পাক (স.) একাকী আরো দ্রুতগামী স্বর্গীয় বাহন ‘রফ্রফে” আরোহণ করে ‘বাইতুল মামুর’- এ উপনীত হলেন। পথিমধ্যে অবশ্য হাউজে কাউসার অতিক্রম করেন। এরপর নবী (স.) আবারো ‘রফ্রফ্’ এ আরোহণ করে মহান আল্লাহ্ পাকের একান্ত সান্নিধ্যে উপস্থিত হন; তখন নবী (স.) এবং আল্লাহ্ পাকের মাঝখানে শুধুমাত্র একটি পাতলা পর্দা ছিল। আল্লাহ্ পাকের সাথে সরাসরি কথোপকথনের মাধ্যমে তিনি নবী (স.) কে সমগ্র সৃষ্টিজগতের নিগূঢ় রহস্য সম্পর্কে অবগত করালেন। তারপর স্বশরীরে বেহেশ্তে থাকা সকল প্রকার নিয়ামত সমূহ স্বচক্ষে দেখার সৌভাগ্য অর্জন করেন; যা কোনো চর্মচক্ষু আজ পর্যন্ত দেখেনি, কোনো কান শুনেনি, কোনো মানুষের কল্পনা শক্তিও সে পর্যন্ত পৌঁছেনি। এরপর তিনি দোযখ পরিদর্শন করলেন; যা ছিল আযাব-গযবে ভরপুর। তাতে তিনি একদল লোককে দেখলেন যারা মৃত জন্তুর মাংস ভক্ষন করছে। নবী (স.) প্রশ্ন করলেন, এরা কারা? উত্তরে জিব্রাঈল (আ.) বললেন, এরা আপনার উম্মতের সেসব লোক যারা দুনিয়াতে অন্যের গী’বত করতো। সবশেষে তিনি সে রাতে প্রভাতের আগেই মহান আল্লাহ্ পাকের কাছ থেকে তাঁর উম্মতের জন্য ৫ ওয়াক্ত ফরয নামাযের বিধান নিয়ে দ্রুতগামী ঐশীবাহনে আরোহণ করে মুহূর্তের মধ্যে পৃথিবীর জমিনে প্রত্যাবর্তন করলেন।
প্রথমে আল্লাহ্ পাকের পক্ষ থেকে হযরত মুহাম্মদ (স.) এর উম্মতকে ৫০ ওয়াক্ত নামায ফরয করা হয়। কিন্তু উম্মতের কাণ্ডারী নবী (স.) এর আর্জিতে তা ৫ ওয়াক্তে নামিয়ে আনা হয়। তাই মুসলমানদেরকে দৈনিক পাঁচটি আলাদা আলাদা সময় নামাযে দন্ডায়মান হতে হয়। অর্থাৎ মি’রাজ থেকে মুহাম্মদ (স.) তাঁর উম্মতদের জন্য নামাযের আদেশ নিয়ে এসেছিলেন এবং তিনি এই ধরাধামে প্রত্যাবর্তন করেই প্রথম ফযরের নামায হযরত জিব্রাঈল আমিনের নির্দেশনা অনুসারে আদায় করেছিলেন। কুরআনে পাকের সূরা বনী ইসরাঈলের ১ম আয়াতে আল্লাহ্ পাক ইরশাদ করেন, ‘পবিত্র মহান সে সত্তা, যিনি তাঁর বান্দাকে রাতের আধাঁরে নিয়ে গিয়েছেন মাস্জিদুল হারাম থেকে মাস্জিদুল আক্সা পর্যন্ত, যার আশেপাশে আমি বরকত দিয়েছি, যেন আমি তাকে আমার কিছু নিদর্শন দেখাতে পারি; তিনিই সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা।’
হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে মাস্উদ (রা.) হতে বর্ণিত হাদিসে উল্লেখ আছে, মি’রাজের রজনীতে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে নবী করীম (স.) এবং তাঁর উম্মতের জন্য বেশ কয়েকটি হাদীয়া প্রদান করা হয়- প্রথমত: পাঁচ ওয়াক্ত নামায যা পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে। দ্বিতীয়ত: তাঁর উম্মতের যে সব ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করবে না, আল্লাহ্ তাঁর পাপরাশি ক্ষমা করে দেবেন। তৃতীয়ত: সূরা আল বাক্বারার শেষাংশ। চতুর্থত: সূরা বনী ইসরাঈলের ১৩ দফা নির্দেশনা: ১. একাগ্রতার সাথে আল্লাহ্ পাকের উপাসনা করা আর তাঁর সাথে কাউকে শরীক না করা। ২. মাতা-পিতার সাথে সদ্ব্যবহার করা। ৩. আত্মীয়স্বজন, ইয়াতীম ও মুসাফিরের হক নষ্ট না করা। ৪. অযথা অপচয় ও আড়ম্বরিতা পরিহার করা। ৫. অভাবগ্রস্ত ও সাহায্য প্রার্থীকে বঞ্চিত না করা। ৬. সাধ্যমত দান-সাদকাহ্ করা। ৭. অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা না করা। ৮. দারীদ্র্যের ভয়ে সন্তানকে হত্যা না করা। ৯. যিনা-ব্যভিচার থেকে দূরে থাকা। ১০. যে বিষয়ে জ্ঞান নেই তা অনুসন্ধান করা। ১১. ওজনে কম না দেয়া। ১২. অঙ্গীকার রক্ষা করা। ১৩. দুনিয়াতে দম্ভ-অহঙ্কারে না চলা।
সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ রাসূল হযরত মুহাম্মদ (স.) এর অন্যতম মু’জিযা হচ্ছে মি’রাজ। এটা প্রিয় নবীর জীবনে এবং ইসলামের ইতিহাসেও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। তিনি ছাড়া পৃথিবীর অন্য কোন মানুষ এমনকি অন্য কোন নবী-রাসূলের জীবনে এ ধরণের ঘটনা সংঘটিত হয়নি এবং কিয়ামত পর্যন্তও সংঘটিত হবে না।

img-add

লেখক : কবি, গবেষক ও সহ. অধ্যাপক, শেরপুর সরকারি মহিলা কলেজ, শেরপুর। E-mail:dr.alim1978@gmail.com

সর্বশেষ খবর



অন্যান্য খবর



সম্পাদক-প্রকাশক : রফিকুল ইসলাম আধার
উপদেষ্টা সম্পাদক : সোলায়মান খাঁন মজনু
নির্বাহী সম্পাদক : মোহাম্মদ জুবায়ের রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১ : ফারহানা পারভীন মুন্নী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : আলমগীর কিবরিয়া কামরুল
বার্তা সম্পাদক-১ : রেজাউল করিম বকুল
বার্তা সম্পাদক-২ : মোঃ ফরিদুজ্জামান।
যোগাযোগ : সম্পাদক : ০১৭২০০৭৯৪০৯
নির্বাহী সম্পাদক : ০১৯১২০৪৯৯৪৬
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১: ০১৭১৬৪৬২২৫৫
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : ০১৭১৪২৬১৩৫০
বার্তা সম্পাদক-১ : ০১৭১৩৫৬৪২২৫
বার্তা সম্পাদক -২ : ০১৯২১-৯৫৫৯০৬
বিজ্ঞাপন : ০১৭১২৮৫৩৩০৩
ইমেইল : shamolbangla2013@gmail.com.

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । ওয়েবসাইট তৈরি করেছে- BD iT Zone

error: Content is protected !!