প্রকাশকাল: 29 এপ্রিল, 2018

শবে বরাত উদযাপন : প্রাসঙ্গিক কিছু কথা

ড. আবদুল আলীম তালুকদার

    ‘শব’ ফারসী শব্দ; অর্থ রাত বা রজনী। বরাত শব্দটিও প্রকৃত অর্থে ফারসী; যার অর্থ ভাগ্য। এই দু’শব্দের একত্রে অর্থ হচ্ছে ভাগ্য রজনী। শবে বরাত বা লাইলাতুল বরাত আরবী শা’বান মাসের ১৫ তারিখে পালিত একটি পূণ্যময় রাত। বিশ্বের বিভিন্ন স্থানের মুসলমানগণ বিভিন্ন কারণে এটি পালন করে থাকেন। এই রাতকে লাইলাতুল বরাত বলা হয় যা আরবীতে ‘লাইলাতুল্ বারায়াত্’ নামে অভিহিত হয়ে থাকে। ‘বারায়াত্’ নামক আরবী শব্দটির অর্থ হচ্ছে নিষ্কৃতি। মুসলমানদের বিশ্বাস মতে, এ রাতে বহু সংখ্যক বান্দা আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমা ও আশীর্বাদ লাভ করে জাহান্নাম থেকে নিষ্কৃতি লাভ করেন; তাই এই রজনীকে আরবীতে ‘লাইলাতুল্ বারায়াত্’ বা নিষ্কৃতির রজনী বলা হয়।

এই বিশেষ রাতের ব্যাপারে কুরআনে পাকে সরাসরি কোনো নির্দেশনার উল্লেখ পাওয়া যায় না। তবে সিহাহ্ সিত্তাহ্ বা বিশুদ্ধ ছয়খানা হাদীস গ্রন্থের কোনো কোনো হাদীসে এই রাতের বিশেষত্ব নির্দেশক হাদীস বর্ণিত হয়েছে। এছাড়াও অন্যান্য হাদীস গ্রন্থেও এই রাতের বিশেষত্ব লক্ষ্য করা যায়।

পবিত্র কুরআনের সূরা দুখানে উল্লেখিত একটি আয়াতে বর্ণিত একটি বিশেষ রাতের ব্যাখ্যায় ইসলামী ধর্মতত্ত্ববিদদের কেউ কেউ বলেছেন, বরকতময় সেই রাতটি হচ্ছে মধ্য শা’বানের রাত তথা শবে বরাত। প্রাসঙ্গিক আয়াতগুলো হচ্ছে- ‘হা-মীম। শপথ সুস্পষ্ট গ্রন্থের। আমি তো এটা নাযিল করেছি এক বরকতময় রাতে। আমি তো সতর্ককারী। এই রাতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় স্থিরকৃত হয়।(সূরা দুখান ১-৪)

পবিত্র কুরআনুল কারীমের প্রখ্যাত তাফসীরকার হযরত ইক্রামা ‘এক বরকতময় রাত’ এর ব্যাখ্যায় বলেছেন যে, এ রাতটি হলো মধ্য শা’বানের রাত। তাফসীরকার ইক্রামার উপরোক্ত ব্যাখ্যার সাথে কুরআনের ভাষ্যকারদের অধিকাংশই সহমত পোষণ করতে পারেননি। তাদের সবাই কুরআনের উপর্যুক্ত আয়াতে বর্ণিত ‘এক বরকতময় রাত’ বলতে শবে কদরকে বুঝানো হয়েছে বলে মত প্রকাশ করেছেন। এ মতের সপক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেছেন বিশিষ্ট সাহাবী হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে আব্বাস (রা.), প্রখ্যাত তাফসীরকার ইবনে কাসীর (র.), ইমাম কুরতুবী (র.) প্রমূখ। ইবনে কাসীর (র.) বলেছেন, এখানে ‘বরকতময় রাত’ বলতে পবিত্র শবে কদরের রাতকে বুঝানো হয়েছে, যা কুরআনের অপরাপর আয়াত থেকেও প্রমাণিত হয়। ইমমি কুরতুবী (র.) তার তাফসীর গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, “কোনো কোনো ধর্মবিশারদ বলেছেন, ‘লাইলাতুম্ মুবারাকাহ্’ বুঝানো হয়েছে মধ্য শা’বানের রাতকে (শবে বরাত), কিন্তু এটা একটি ভুল ব্যাখ্যা মাত্র।

‘শবে বরাত’ শব্দযুগল ফারসী ভাষার হওয়ায় আরবীভাষী নবী হযরত মুহাম্মদ (স.) এর বাণিসমষ্টি তথা পবিত্র হাদীস শরীফের কোথাও এর উল্লেখ পাওয়া যায় না। তবে মহানবী মুহাম্মদ (স.)’র বাণিসমষ্টি নামে খ্যাত হাদীস শাস্ত্রে ‘শবে বরাত’ বলতে যে পরিভাষাটি ব্যবহার করা হয়েছে তা হলো ‘লাইলাতুন্ নিস্ফী মিন্ শা’বান’ তথা শা’বান মাসের মধ্য রজনী। হাদীস শাস্ত্রে শবে বরাত সম্পর্কে যেসব হাদীস উল্লেখিত রয়েছে সেগুলো বিভিন্ন মানের। এসকল হাদীসের কোন কোনটি সহীহ্ বা বিশুদ্ধ মানের, কোনটি হাসান বা সৌন্দর্যম-িত, কোনটি জইফ বা দুর্বল, কোনটি জইফে জিদ্দান বা অতি দূর্বল আর বাকীগুলো মাউজু বা জাল হাদীস হিসেবে বিবেচিত।

হযরত মু’য়াজ ইবনে জাবাল (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (স.) বলেছেন, ‘আল্লাহ্ তায়ালা অর্ধ-শা’বানের রাতে সৃষ্টির প্রতি বিশেষ দৃষ্টি প্রদান করেন এবং মুশ্রিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ব্যতীত আর সবাইকে ক্ষমা করে দেন।’ তবে আহলে হাদীস সম্প্রদায়ের যেসব ধর্মতত্ত্ববিদগণ এই হাদীসকে বিশুদ্ধ বলে স্বীকার করেন, তারা এ বিষয়ে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, হাদীসটি শবে বরাতের তাৎপর্য তুলে ধরলেও এ রাতে বান্দার রাত্রি জাগরণ বা অন্যান্য কোন আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে হাদীস-কুরআনে কোন নির্দেশনা দেয়া হয়নি।

এই রাতের কথা বিশিষ্ট হাদীস সংগ্রাহক ইমাম তিরমিযি (র.) কর্র্তৃক বর্ণিত হাদীসে পাওয়া যায়, ঐ হাদীস মতে, এক রাতে মহানবী (স.) এর স্ত্রী হযরত আয়িশা (রা.) ঘুম থেকে জেগে উঠলেন কিন্তু মুহাম্মদ (স.) কে বিছানায় দেখতে পেলেন না। তিনি নবী করীম (স.)কে খুঁজতে বের হলেন এবং তাঁকে জান্নাতুল বাকী নামক কবরস্থানে দেখতে পেলেন। মুহাম্মদ (স.) বললেন, ১৫ শা’বানের রাতে আল্লাহ্ পাক সর্বনিম্ন আকাশে নেমে আসেন এবং (আরবের) কাল্ব উপজাতির ছাগলের গায়ের পশমের থেকে বেশি লোককে তাদের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা করেন। উল্লেখ্য, সে সময় কালব গোত্র ছাগল পালনে প্রসিদ্ধ ছিল এবং তাদের প্রচুর ছাগল ছিল। এই হাদীসের নীচে ইমাম তিরমিযি (র.) উল্লেখ করেন, “হযরত আবু বকর (রা.)ও এরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

হযরত আবু মুসা আল্ আশয়ারী (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (স.) বলেছেন, আল্লাহ্ তায়ালা শা’বানের মধ্য রাতে আগমন করে মুশ্রিক ও ঝগড়া-ফ্যাসাদে লিপ্ত লোক ব্যতীত তার সমস্ত সৃষ্টিজগতকে ক্ষমা করে দেন।

হযরত আলী ইবনে আবি তালিব (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন , রাসূল (স.) বলেছেন, “যখন শা’বানের মধ্যরাত্রি আসবে তখন তোমরা সে রাতে কিয়াম তথা রাতভর নামায পড়বে, আর সে দিনের বেলা সিয়াম তথা রোযা পালন করবে; কেননা সে দিনের সূর্যাস্তের সাথে সাথে আল্লাহ্ তায়ালা দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করেন এবং বলেন, হে দুনিয়াবাসী ! তোমাদের মধ্যে ক্ষমা চাওয়ার কেউ কি আছে যাকে আমি ক্ষমা করব। রিযিক চাওয়ার কেউ কি আছে যাকে আমি রিযিক দেব। সমস্যাগ্রস্ত কেউ কি আছে যে আমার কাছে পরিত্রাণ চাইবে আর আমি তাকে পরিত্রাণ দেব। এমন কেউ কী আছে ? এমন কেউ কী আছে ? ফজর পর্যন্ত তিনি বান্দাদের এভাবে ডাকতে থাকেন।

অপর এক হাদীসে হযরত আ’লা ইবনে হারিস (রা.) থেকে বর্ণিত, আয়িশা (রা.) বলেন, এক রাতে আল্লাহর রাসূল (স.) দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন। সিজদাহ্ এতো দীর্ঘ করলেন যে আমি ধারণা করলাম তিনি ইন্তেকাল করেছেন। আমি এ অবস্থা দেখে দাঁড়িয়ে তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুলি ধরে নাড়া দিলাম,

আঙ্গুলটি নড়ে উঠল। আমি চলে এলাম। সালাত শেষ করে তিনি বললেন, ‘হে আয়িশা অথবা বললেন হে হুমায়রা! তুমি কি মনে করেছ, আল্লাহর নবী তোমার সাথে বিশ্বাস ভংগ করেছেন?’ আমি বললাম, ‘আল্লাহর কসম হে রাসূল! আমি এমন ধারণা করিনি। বরং আমি ধারণা করেছি আপনি না জানি ইন্তেকাল করলেন!’ অতঃপর তিনি বললেন, ‘তুমি কি জান এটা কোন রাত?’ আমি বললাম, ‘আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ভাল জানেন।’ তিনি বললেন, ‘এটা মধ্য শাবানের রাত। এ রাতে আল্লাহ তআলা তার বান্দাদের প্রতি মনোনিবেশ করেন। ক্ষমা প্রার্থনাকারীদের ক্ষমা করেন এবং রাহমাত প্রার্থনাকারীদের রহম করেন। আর হিংসুকদেরকে তাদের অবস্থার উপর ছেড়ে দেন।’

তবে এ হাদিসটির তথ্যসূত্রের বিশুদ্ধতাও প্রশ্নাতীত থাকেনি। মানগত দিক থেকে হাদীসটি মুরসাল। সহীহ বা বিশুদ্ধ নয় । কেননা বর্ননাকারী  আলা’ আয়িশা (রাঃ) থেকে শুনেননি।

শবে বরাত সংক্রান্ত প্রখ্যাত হাদিসগুলোর মধ্যে আরেকটি বর্ণনা বায়হাকি সংকলিত ‘শুআবুল ঈমান’ গ্রন্থেই পাওয়া যায়। এটি নিম্নরূপঃ

হযরত  উসমান ইবনে আবিল আস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলূল্লাহ (সা) বলেছেন, যখন মধ্য শাবানের রাত আসে তখন একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা দেয়, “আছে কি কোন ক্ষমা প্রার্থনাকারী? আমি তাকে ক্ষমা করব। আছে কি কেউ কিছু চাইবার ? আমি তাকে তা দিয়ে দিব।” রাসূল (সা) বলেন, “মুশরিক ও ব্যভিচারী বাদে সকল প্রার্থনাকারীর প্রার্থনা কবুল করা হয়।”

শিয়া মতাবলম্বী মুসলিম সম্প্রদায় জাক-জমকের সাথে এ বিশেষ রাতটি উদযাপন করে থাকেন। মহিমান্বিত ও বরকতময় হিসেবে এ রাত উদযাপনের পাশাপাশি এ পূর্ণিমা তিথিটি শিয়া বিশ্বাসের ১২ ইমামের একজন, ইমাম মাহদির জন্মদিন হিসেবে পালিত হয়ে থাকে। শিয়াগণ বিশ্বাস করেন যে, এ তিথিতেই মুহাম্মাদ মাহদি ধরাধামে এসেছিলেন। শবে বরাত পালনের মধ্যে রয়েছে রোযা, দোয়া-মাহফিল ও আলোচনা অনুষ্ঠান। শবে বরাতের রাতে ইরানের নগরগুলো আলোকসজ্জায় রাঙানো হয়।

শবে বরাত সংক্রান্ত বর্ণনায় কোন কোন হাদিসে উল্লেখ পাওয়া যায়, এ রাতে আল্লাহ্‌ তাঁর প্রেমসিক্ত ধর্মপরায়ণ বান্দাদের মাঝে তাঁর রহমত ও বরকত বর্ষণ করেন। মুসলিমদের মধ্যে কোন কোন গোষ্ঠি বিশ্বাস করেন, এ রাতে আল্লাহ্‌সকল কিছুর ভাগ্য পুনর্বণ্টন করেন। কোন কোন সংস্কার মতে, এ রাতে কবর থেকে আত্নারা উঠে নিজ আত্নীয়-স্বজনের বাড়িতে আসে। ফলে, এ রাতে বিভিন্ন এলাকার আবাসিক গৃহে আলোক প্রজ্বালন করা হয়। তবে, এ ধরনের বিশ্বাস বা তথ্য কুরআন কিংবা হাদিস দ্বারা সমর্থিত নয়।

হযরত মুরতাদা (রা.) থেকে বর্নিত, নবী করিম (সা) এর বানী, যখন শাবানের ১৫তম রাতের আগমন ঘটে তখন তাতে কিয়াম (ইবাদত) করো আর দিনে রোযা রাখো । নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাআলা সূর্যাস্তের পর থেকে প্রথম আসমানে বিশেষ তাজাল্লী বর্ষন করেন, এবং ইরশাদ করেনঃ কেউ আছ কি আমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কারী? তাকে আমি ক্ষমা করে দিব ! কেউ আছ কি জীবিকা প্রার্থনাকারী? তাকে আমি জীবিকা দান করব ! কেউ কি আছ মুসিবতগ্রস্ত ? তাকে আমি মুক্ত প্রদান করব! কেউ এমন আছ কি! কেউ এমন আছ কি! এভাবে সূর্য উদয় হওয়া পর্যন্ত আল্লাহ পাক তার বান্দাদেরকে ডাকতে থাকবেন। সুনানে ইবনে মাযাহ, ২য় খন্ড, পৃঃ ১৬০, হাদিস নং-১৩৮৮

বুখারী ও মুসলিম বর্ণিত অনুরূপ একটি সহীহ হাদীসের বক্তব্য হল, আল্লাহ তাআলা প্রতি রাতের শেষের দিকে নিকটতম আকাশে অবতরণ করে দুআ কবুলের ঘোষণা দিতে থাকেন। উপরের হাদিসটি প্রখ্যাত হাদিসবিদ নাসিরুদ্দিন আলবানী দুর্বল বলেছেন। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, হাদিসটির বর্ণনাসূত্রে ‘সাবুরাহ’ নামে এক ব্যক্তির উল্লেখ এসেছে, যিনি ইবনে মাজাহ্ বর্ণিত  হাদিসকে জাল করতেন বলে জনশ্রুতি আছে। উপরন্তু, প্রতিষ্ঠিত ও প্রমাণিত তথ্যের বিরোধী হওয়ায় হাদিসটির গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

শবে বরাত রজনীটি ইসলামের প্রচারক মুহাম্মাদ (সা) বা তাঁর অনুচরবর্গ স্ব-স্ব জীবদ্দশায় কখনো পালন করেছেন বলে সহীহ সনদে বর্ণিত কোন তথ্যনামায় পাওয়া যায় না। তবে, বেশ কিছুকাল আগে থেকেই মুসলিম বিশ্ব সাড়ম্বরে রজনীটি উদযাপন করে আসছে। ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, শ্রীলংকা, ইরান, লেবানন, তুরস্ক, আফগানিস্তান সহ প্রভৃতি দেশে শবে বরাত ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসাহ-উদ্দীপনার সাথে পালনের রেওয়াজ আছে। বিশেষত ইরানে রজনীটি ভিন্ন মাত্রায় সাড়ম্বরে উদযাপিত হয়। এ রাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রাবাসসমূহে আনন্দ উৎসব পালিত হয়, বিজয় তোরণ তৈরি করা হয়, মিষ্টি ও শরবত বিতরণ করা হয়। রাস্তায়-রাস্তায় ইমাম মাহদির আগমন নিয়ে গান গাওয়া ও শুভেচ্ছা জানানো হয়। এ ছাড়া ১৫ শাবান ইরানি আচার প্রথা অনুযায়ী দিন-রাত মিলাদ ও দোয়া-মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

তবে সালাফি তথা আহলে হাদীস মতাবলম্বীরা এ রাতটিকে উদযাপন করে না। সালাফিদের কেউ কেউ এ রাতটির তাৎপর্যের কথা স্বীকার করলেও এ রাত উদযাপন করাকে সমর্থন করেন না। এ রাত উদযাপনকে ‘বিদআহ’ বা নবউদ্ভাবন হিসেবে পরিত্যাজ্য বলে তারা বিশ্বাস করেন।

বাংলাদেশ ও ভারতীয় উপমহাদেশে শবে বরাত পালনের এক দীর্ঘ ঐতিহ্যবাহী রেওয়াজ গড়ে উঠেছে। শবে বরাত উপলক্ষে প্রতিটি বাড়িতে আয়োজন করা হয় বিভিন্ন স্বাদের খাবার। এসবের মধ্যে রয়েছে রুটি, বিভিন্ন রুচির হালুয়া, সুজি, মিষ্টান্ন। বিকেলে বা সন্ধ্যায় পাড়া প্রতিবেশিদের মাঝে এসব খাবার বিতরণ ও পরিবেশন করা হয়। এতে সামাজিক হৃদ্যতা ও সৌহার্দের সম্পর্ক গড়ে উঠে বলে স্থানীয় মুসলিমগণ বিশ্বাস করে থাকেন। এই রাতে অলি-গলি, রাস্তা-ঘাট সর্বত্র আলোক সাজসজ্জা করা হয়। আতশবাজি উৎসব দেখা যায়।

শবে বরাত উপলক্ষে ১৪ই শাবান দিন থেকেই ঘরে ঘরে রুটি, হরেক প্রকার হালুয়া ও বিচিত্র সব মিষ্টান্ন তৈরির কাজ শুরু হয়ে যায়। বিকেলের মধ্যে এগুলো সম্পন্ন হলে, পাড়া-প্রতিবেশিদের মধ্যে বিতরণ করা শুরু হয়। এতে পুরো এলাকায় উৎসবের আমেজ পড়ে যায়। বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন ইসলামি সংগঠন বিশেষ আলোচনা, দোয়া মাহফিল ও ধর্মীয় সভার আয়োজন করে। এশার নামাজের শুরু থেকে, বিশেষত মাগরিবের নামাজের পর থেকেই, মসজিদপানে ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের ঢল নামে। প্রায় সকল মসজিদেই শবে বরাত শীর্ষক বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। রাতভর ইবাদত বন্দেগির নিমিত্তে সারা বাংলাদেশের সমস্ত মসজিদ পুরো রাত উন্মুক্ত থাকে। মসজিদের পাশাপাশি বাসা-বাড়িতেও রাতভর ধর্মপ্রাণ মুসলিমগণ নামাজ, তিলাওয়াত, জিকির-আজকার ও বিভিন্ন ইবাদত করে থাকেন। মৃতু্যবরণ করা আত্নীয়-স্বজনের কবর যিয়ারত ও দু’আ এ রাতের এক বিশেষ অনুষংগ হিসেবে দৃষ্ট হয়।

সবশেষে, মহান আল্লাহ্ পাকের নিকট এই প্রার্থনা, তিনি যেন সকল মুসলমানকে সর্বপ্রকার শেরেকি, বিদ্’আতি, ফাসেকি, অশ্লিলতা, ফিত্না-ফ্যাসাদ থেকে মুক্ত হয়ে প্রকৃত মু’মীন মুসলমান হিসেবে জীবন পরিচালনা করার তৌফিক দান করেন।

লেখক : সহকারী অধ্যাপক, শেরপুর সরকারি মহিলা কলেজ ও পোস্ট ডক্টরাল রিসার্চ ফেলো, ঢা.বি। ই-মেইল : dr.alim1978@gmail.com 

আপনার মতামত দিন

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

অবাধে মাছ নিধন অমানবিক নির্যাতনে শিশুর মৃত্যু আত্মহত্যা আহত ইয়াবা উদ্ধার উড়াল সড়ক খুন গাছে বেঁধে নির্যাতন গাছের চারা বিতরণ ঘূর্ণিঝড় 'কোমেন' চাঁদা না পেয়ে স্কুলে হামলা ছিটমহল জাতির জনকের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জাতীয় শোক দিবস জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষার সূচি প্রকাশ ঝিনাইগাতী টেস্ট ড্র ড. গোলাম রহমান রতন পাঞ্জাবের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিহত প্রত্যেক বিভাগে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রধানমন্ত্রী বন্যহাতির তান্ডব বন্যহাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে নিহত বাল্যবিয়ের হার ভেঙে গেছে ব্রিজ মতিয়া চৌধুরী মাদারীপুর মির্জা ফখরুলের মেডিকেল রিপোর্ট রিমান্ডে লাশ উদ্ধার শাবলের আঘাতে শিশু খুন শাহ আলম বাবুল শিশু রাহাত হত্যা শেরপুর শেরপুরে অপহরণ শেরপুরে বন্যা শেরপুরের নবাগত জেলা প্রশাসক শ্যামলবাংলা২৪ডটকম’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সংঘর্ষে নিহত ৫ স্কুলছাত্র রাহাত হত্যা স্কুলছাত্রী অপহরণ হাতি বন্ধু কর্মশালা হুইপ আতিক হুমকি ২ স্কুলছাত্রী হত্যা
error: Content is protected !!