প্রকাশকাল: 10 জুলাই, 2019

রোহিঙ্গাদের কারণে কক্সবাজারের প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী

শ্যামলবাংলা ডেস্ক : মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের কারণে কক্সবাজারের প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, আমরা মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছি। তাদের কারণে কক্সবাজারের প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। আমি বিশ্বাস করি, শিগগিরই রোহিঙ্গারা দেশে ফিরে যাবেন। তারা যত দ্রুত নিজ দেশে ফিরে যাবে ততই মঙ্গল। বুধবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে মিটিং অব দ্য গ্লোবাল কমিশন অন অ্যাডাপটেশন (জিসিএ) অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনে আমাদের দেশ সবচেয়ে বড় হুমকিতে রয়েছে। যে হারে তাপমাত্রা বাড়ছে তাতে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়বে। এতে আমরা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবো। খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মধ্যে পড়বে। শুধু বাংলাদেশ নয়, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বের ছোট ছোট দেশও হুমকির মধ্যে আছে। এদেরকে রক্ষা করতে হবে।
এ সম্মেলনের জন্য বাংলাদেশকে বেছে নেওয়ায় বান কি মুনকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশসহ ছোট দ্বীপ রাষ্ট্রগুলো জলবায়ু সঙ্কটের হুমকিতে আছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলায় নানা পদক্ষেপ নিয়েছে বর্তমান সরকার। উপকূলীয় এলাকায় বনায়ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া, জলাবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলায় ‘ডেল্টা প্ল্যান ২১০০’ নামে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও হাতে নিয়েছে সরকার। এটি পুরোপুরি বাস্তবায়ন হলে উপকূলের লোকজনের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে।
তিনি আরও বলেন, নিজস্ব অর্থায়নে জলবায়ু পরিবর্তন ফান্ড করেছি। এ ফান্ডে প্রায় ৪২ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি বরাদ্দ দিয়েছি। জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে জন্য আমরা প্রত্যেকটি পরিকল্পনা মাথায় রাখছি। ইতোমধ্যে ৫০ লাখের বেশি সৌর প্যানেল দিয়েছি। জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য বছরে প্রায় ১০০ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয় করছি। এছাড়া ডেল্টা প্লান ২১০০ গ্রহণ করেছি। ২১০০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ যেন টিকে থাকতে পারে সে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, আগামী ৫ বছরের মধ্যে সারাদেশে ২০ ভাগ বনায়ন তৈরি করতে চাই। এ জন্য বাংলাদেশ কৃষক লীগ প্রতি বছর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করছে। সরকারের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে গ্রীণ বেল্ট গড়ে তোলার জন্য। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা বন্যা, খরা, লবণাক্ত সহিষ্ণু ধান আবিষ্কার করেছি।
দুর্গত এলাকার মানুষ দুর্যোগের সময় যেন খাদ্যদ্রব্য মজুত রাখতে পারে, সে জন্য সাইলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এমনি বিভিন্নভাবে মানুষকে রক্ষার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এরআগে, বুধবার সকালে এ অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৈঠকে ‘ওয়ে ফরোয়ার্ড অ্যান্ড নেক্সট স্টেপ টোওয়ার্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যাডাপটেশন’ শীর্ষক অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন জিসিএ’র বর্তমান চেয়ারম্যান বান কি মুন। এ সময় আরো বক্তব্য দেন মার্শাল আইল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট ড. হিলদা হেইন ও জিসিএ কো-চেয়ার ড. ক্রিস্টালিন জর্জিভা। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন।
বৈঠক উদ্বোধনের আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একই হোটেলে মার্শাল আইল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট ড. হিলদা হেইন ও বান কি মুনের সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজন প্রচেষ্টা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

আপনার মতামত দিন

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

error: Content is protected !!