দুপুর ১:২৬ | বৃহস্পতিবার | ১লা অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

মুহররমের গুরুত্ব ও তাৎপর্য ॥ ড. আবদুল আলীম তালুকদার

মুহররম হলো ইসলামি বর্ষপঞ্জি তথা হিজরি বর্ষের প্রথম মাস। মহান আল্লাহ্ পাক কর্তৃক পবিত্র কুরআনুল কারীমে ঘোষিত চারটি পবিত্রতম মাসের মধ্যে এটি একটি। নামকরণ থেকেই প্রতীয়মান হয় যে এ মাসের ফযিলত কত বেশি। ‘মুহররম’ আরবি ভাষার শব্দ যার অর্থ পবিত্রতম, সম্মানিত, মর্যাদাপূর্ণ, তাৎপর্যপূর্ণ ইত্যাদি। যেহেতু অনেক ইতিহাস-ঐতিহ্য ও রহস্যময় তাৎপর্য নিহিত রয়েছে এ মাসকে ঘিরে এবং তার সাথে সাথে এ মাসে যুদ্ধ-বিগ্রহ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ ছিল, এসব কারণেই এ মাসটি এতো মর্যাদাপূর্ণ; আর তাই এ মাসের নামকরণ করা হয়েছে মুহররম বা মর্যাদাপূর্ণ মাস। আমরা জানি, সুপ্রাচীনকাল থেকেই প্রায় প্রতিটি জাতির কাছেই মুহররম মাস অতি পবিত্র হিসাবে গণ্য হয়ে আসছে। বিশেষ করে মুহররমের ১০ তারিখ দিনটি বিশেষ মর্যাদাসম্পন্ন ও তাৎপর্যপূর্ণ, আর এ দিনকেই আশুরা নামে আখ্যায়িত করা হয়। এ দিবসের সঙ্গে মিশে আছে পৃথিবীর সূচনালগ্নের বহু ইতিহাস ও ঘটনাবলী।

img-add

বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে প্রাপ্ত মুহররমের দশম দিবস তথা পবিত্র আশুরার দিনে সংগঠিত বিভিন্ন ঘটনার মধ্যে কয়েকটি হলো: ১. এ দিনে প্রথম মানব হযরত আদম (আ.)কে সৃষ্টি করা হয় এবং এই দিনে তিনি জান্নাতে প্রবেশ করেন। এই তারিখেই তিনি জান্নাত থেকে পৃথিবীতে প্রেরিত হন এবং ৩০০ বছর পর এই তারিখেই আরাফাতের ময়দানের জাবালে রহমতে তিনি ও তাঁর স্ত্রী বিবি হাওয়া (আ.) এর পুনরায় সাক্ষাত লাভ হয়, পরবর্তীতে তাদেরকে মার্জনা করা হয় এবং তাদের তওবা কবুল করা হয়। ২. এ দিবসে হযরত ইদ্রিস (আ.)কে আকাশে উত্তোলন করা হয়। ৩. এ দিনে হযরত আইয়ুব (আ.) ১৮ বছর নানান রোগ ভোগের পর রোগমুক্তি লাভ করেন। ৪. এ দিনে হযরত নূহ (আ.)কে প্রলয়ঙ্করী তুফান ও প্লাবনের হাত থেকে পরিত্রাণ দেয়া হয় এবং প্লাবন শেষে তাঁর জাহাজটি জুদী পাহাড়ে এসে স্থির হয়। ৫. এদিনে হযরত ইউনূছ (আ.) কে ৪০ দিন পর মাছের পেট থেকে নিষ্কৃতি দেওয়া হয়। ৬. এ তারিখে হযরত ইব্রাহীম (আ.) অগ্নিকু- হতে পরিত্রাণ লাভ করেন। ৭. এ তারিখে হযরত দাউদ (আ.)কে বিশেষ ক্ষমা প্রদান করা হয়। ৮. এ দিনে হযরত সুলাইমান (আ.)কে স্বীয় হারানো রাজত্ব পুনরায় প্রদান করা হয়। ৯. এ দিনে হযরত মুসা কালীমুল্লাহ্ (আ.)কে ফিরাউনের কবল থেকে রক্ষা করা হয় এবং সৈন্যবাহিনীসহ ফেরাউনকে নীল নদে নিমজ্জিত করে ধ্বংস করা হয়। ১০. এ দিনে হযরত ইয়াকুব (আ.) স্বীয় হারানো পুত্র হযরত ইউসুফ (আ.) এর সাক্ষাৎ লাভ করেন। ১১. এই তারিখে হযরত ঈসা (আ.) জন্মগ্রহণ করেন এবং এই দিনেই তাঁকে আকাশে উত্তোলন করা হয়। ১২. আরশ, কুরসী, আসমান-যমিন, চন্দ্র-সূর্য-তারকা-নক্ষত্র, বেহেশ্ত এ দিনেই সৃষ্টি করা হয়েছে। ১৩. এ দিনেই প্রথম আসমান থেকে যমিনে বৃষ্টিপাত হয়েছিল। ১৪. এ দিনেই হযরত ইয়াকুব (আ.) চোখের দৃষ্টি ফিরে পেয়েছিলেন। ১৫. এ দিনেই শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (স.) এর দৌহিত্র হযরত ইমাম হুসাইন (রা.) এবং তাঁর ৭৭ পরিজন ও সহচর পাপিষ্ঠ ইয়াজিদ বাহিনী কর্তৃক ইরাকের ফোরাত নদীর তীরবর্তী কারবালা নামক প্রান্তরে নির্মমভাবে শহীদ হন।
পবিত্র কুরআনুল কারীমের সূরা আত তাওবার ৩৬ নং আয়াত (‘নিশ্চয় আল্লাহর বিধান গণনায় মাস বারোটি, আকাশসমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকে; তন্মধ্যে চারটি মাস সম্মানিত; এটিই সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান। সুতরাং এর মধ্যে তোমরা নিজেদের প্রতি অবিচার করো না।’) এ বর্ণিত যে ৪টি মাসে যুদ্ধ-বিগ্রহ নিষিদ্ধ করা হয়েছে তার মধ্যে মুহররম অন্যতম। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.) এ মাসকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বর্ণনা করেন। তিনি বিদায় হজের খুতবায় সম্মানিত মাসগুলোর বর্ণনা দিয়ে বলেন, তিনটি মাস হলো ধারাবাহিক- জিলকদ, জিলহজ ও মুহররম, অপরটি হলো রজব (সহীহ্ মুসলিম)।
কুরআনুল কারীমের উপরিউক্ত আয়াতে কারীমা এবং নবী করীম (স.)’র হাদীস শরীফ থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, এ মাসগুলোর এমন বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যার ফলে এ মাসগুলোতে ইবাদাত-বন্দেগী করা হলে বছরের বাকি মাসগুলোতেও ইবাদাতের তাওফিক ও সাহস লাভ করা যায়। অনুরূপভাবে কেউ যদি এ মাসগুলোতে পাপাচার থেকে নিজেকে দূরে রাখতে পারে, তার জন্য বছরের বাকি মাসগুলোতেও পাপাচার থেকে নিজেকে দূরে থাকা সহজতর হয়। মুহ্ররমের প্রথম দশদিন যাবতীয় ইবাদত তথা নফল নানায, বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত, দান-সাদ্কাহ্ ইত্যাদির সাওয়াব বহুগুণে বৃদ্ধি করা হয়। বিশেষ করে এই মাসে রোযা (সাওম) পালন করার ফযিলত অত্যধিক।
আশুরার দিনে রোযা পালন সম্পর্কে হাদীসে বর্ণিত আছে, হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (স.) মদীনায় হিযরত করে এসে দেখলেন ইহুদীরা আশুরার দিন রোযা পালন করছে। তখন রাসূল (স.) তাদের জিজ্ঞাসা করলেন, তোমরা এ দিন রোযা পালন কর কেন? তারা বলল, এটা আমাদের মুক্তি দিবস। এদিনে মহান আল্লাহ্ পাক হযরত মুসা (আ.) ও তার সম্প্রদায়কে মুক্তি দিয়েছেন এবং ফিরাউনকে তার দলবলসহ সাগরে নিমজ্জিত করেছেন। এর শুকরিয়া হিসেবে হযরত মুসা (আ.) এ দিন রোযা পালন করেছেন। একই কারণে আমরাও রোযা পালন করি। রাসূলুল্লাহ্ (স.) বললেন, ‘আমরা তোমাদের অপেক্ষা মুসার অধিকতর আপন ও হকদার। অত:পর তিনি নিজেও এইদিন রোযা রাখেন এবং সবাইকে রোযা রাখার হুকুম দেন। (বুখারি ও মুসলিম)
মুহররম মাসের সম্মানের ব্যাপারে প্রিয়নবী (স.) বলেন, ‘তোমরা আল্লাহ’র মাস মুহররমের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবে। কেননা, যে ব্যক্তি মুহররমের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবে, তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি ও জান্নাত দান করে সম্মানিত করবেন আল্লাহ্ তায়ালা নিজে। (সহীহ্ মুসলিম, ইবনে মাযাহ্)
হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (স.)কে রমযান ও আশুরায় যেরূপ গুরুত্বের সাথে সাওম পালন করতে দেখেছি অন্য সময় তা দেখিনি।’ (সহীহ্ বুখারী-১/২১৮)
তিনি আরো বলেন, ‘রমযানের পরে সর্বোত্তম রোযা হলো আল্লাহর মাসের রোযা, যাকে তোমরা মুহররম নামে চেনো এবং ফরয নামাযের পর সর্বোত্তম নামায হলো রাতের (তাহাজ্জুদের) নামায। (সহীহ্ মুসলিম-১১৬৩)
এই হাদীসে লক্ষণীয় বিষয় হলো, রাসূলুল্লাহ্ (স.) মুহররম মাসকে বলেছেন ‘শাহ্রুল্লাহ্’ বা আল্লাহর মাস। এ কথা সকলেরই জানা যে বছরের সকল মাসই আল্লাহ্ তায়ালার মাস। এরপরও কোনো এক মাসকে আল্লাহর মাস বলার রহস্য কী? প্রকৃত রহস্য হলো, এই মাসের বিশেষ কিছু বিশেষত্ব বা বৈশিষ্ট্য রয়েছে। সে জন্যই তাকে আল্লাহর মাস বলা হয়েছে। যেমন এই ধরা ধামের সকল ঘরই প্রকৃতার্থে আল্লাহর ঘর। কিন্তু সকল ঘরকে তো আর বাইতুল্লাহ্ শরীফ বলা হয় না।
মুহররমের গুরুত্বপূর্ণ একটি ফযিলত হল, এর সঙ্গে তাওবা কবুলের ইতিহাস বিজড়িত। মুসনাদে আহমাদ ও জামে তিরমিযিতে বর্ণিত একটি হাদীসে আছে, ইসলামের চতুর্থ খলীফা হযরত আলী (রা.)কে এক ব্যক্তি প্রশ্ন করেছিল, রমযানের পর আর কোনো মাস আছে, যাতে আপনি আমাকে রোযা রাখার আদেশ করেন? তিনি বললেন, এই প্রশ্ন রাসূলুল্লাহ্ (স.) এর নিকট জনৈক সাহাবী জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তখন আমি তাঁর খেদমতে সেখানে উপস্থিত ছিলাম। উত্তরে নবী করীম (স.) ইরশাদ ফরমান, ‘রমযানের পর যদি তুমি রোযা রাখতে চাও, তবে মুহররম মাসে রোযা পালন কর; কারণ এটি ‘শাহ্রুল্লাহ্’ তথা আল্লাহর মাস। এ মাসে এমন একটি দিন আছে, যে দিনে আল্লাহ্ তায়ালা একটি জাতির তাওবা কবুল করেছেন এবং ভবিষ্যতেও অন্যান্য জাতির তাওবা কবুল করবেন।’ (মুসনাদে আহমাদ-১৩২২, জামে তিরমিযি-১/১৫৭)
ইমাম বায়হাকী (র.) তাঁর শু’আবুল ঈমান গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, যে ব্যক্তি খালিছ নিয়্যতে আল্লাহ্ তায়ালাকে রাজি-খুশি করার জন্য আশুরার দিন ফকীর-মিসকিন্দের দান-সাদকাহ্ করবে, আল্লাহ্ পাক সারা বছর তার রুজি-রোজগারে বরকত দান করবেন।
আশুরার রোযা সম্পর্কে এক হাদীসে বর্ণিত রয়েছে যে, নবী (স.) ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা আশুরার রোযা পালন কর এবং ইহুদীদের সাদৃশ্য পরিত্যাগ করে আশুরার দিন, আশুরার আগে ও পরে আরো একদিন মোট ৩টি রোযা পালন কর।’ (মুসনাদে আহমদ-১/২৪১)
হযরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (স.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি আশুরার দিনে নিজ পরিবার-পরিজনের জন্য পর্যাপ্ত ও ভালো মানের খাবার-দাবারের আয়োজন করবে, আল্লাহ্ পাক পুরো বছর তার রিযিকে বরকত দান করবেন। (তাবরানি)
হযরত আবু কাতাদাহ্ আল আন্সারী (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (স.)কে আশুরার রোযা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি ইরশাদ করেন, এ রোযার মাধ্যমে বিগত এক বছরের গুণাহ্ মাফ হয়। (ইবনে মাজাহ্, মুসলিম শরীফ)
হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আমি রাসূলুল্লাহ্ (স.) কে আশুরার দিন এবং রমযান মাসে যেভাবে গুরুত্ব সহকারে রোযা রাখতে দেখেছি, অন্য কোনো সময় এমন দেখিনি’। (বুখারী ও মুসলিম)
যুগ যুগ ধরে আশুরার দিনে লোকেরা চোখে সুরমা লাগানো, সওয়াবের আশায় এ দিন গোসল করা, মেহেদী লাগানো, মুসাফাহা করা, সিরনী-খিচুড়ি রান্না করা, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে তাজিয়া মিছিলে অংশগ্রহণ করে বুক চাপড়ে আহাজারী করা, আনন্দ উৎসবসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আসছে। এ সম্বন্ধে আল্লামা ইমাম তাইমিয়া (র.)কে প্রশ্ন করা হলো, ইসলামি শরীয়াহ্ অনুযায়ী এসব কার্যাদি পালনের কোনো ভিত্তি আছে কি না? উত্তরে তিনি বললেন, তাঁর জানা মতে এসব অনুষ্ঠানাদি উদ্যাপন উপলক্ষে রাসূল (স.) হতে কোনো সহীহ্ হাদীস বর্ণিত হয়নি এবং সাহাবীদের কাছ থেকেও না। চার ইমামসহ নির্ভরযোগ্য কোনো আলেমও এসব কাজকে কোনো কালেই সমর্থন করেননি। কোনো মুহাদ্দিস এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ্ (স) ও সাহাবীগণ হতে কোনো সহীহ্ বা দুর্বল হাদীসও বর্ণনা করেননি। তা’বেয়ীদের থেকেও কোনো আছর পাওয়া যায়নি। পরবর্তী যুগে কেউ কেউ কিছু কিছু মিথ্যে বানোয়াট জাল হাদীস বর্ণনা করেছে যেমন, ‘যে ব্যক্তি আশুরার দিন সুরমা লাগাবে সে ব্যক্তি সে বছর থেকে চক্ষু প্রদাহে আক্রান্ত হবে না।’ ‘যে ব্যক্তি আশুরার দিন গোসল করবে সে সেই বছর থেকে আর রোগাক্রান্ত হবে না।’ এরূপ কিছু অনির্ভরযোগ্য হাদীস যার কোনো গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তি নেই।
উপরিউক্ত হাদীসে কারীমাগুলো ও নাতিদীর্ঘ আলোচনা থেকে আমরা অনুধাবন করতে পারলাম যে, হযরত রাসূলে পাক (স.) এই আশুরার রোযা নিজে রেখেছেন এবং তার উম্মতদেরকে রাখার প্রতি উৎসাহিত করেছেন। তাই নি:সন্দেহে এর পূর্ণ অনুসরণ ও আনুগত্যের মধ্যেই রয়েছে উম্মতে মুহাম্মদীর বরকত ও কল্যাণ। আর যেহেতু এ মাসটা মুসলিম জাতির জন্য একটি তাৎপর্যপূর্ণ মাস। তাই এ মাসে আমাদের বেশি বেশি তাওবা-ইস্তিগ্ফার, নফল ইবাদত, দরীদ্রদের মাঝে দান-সদ্কা করা এবং অন্যান্য নেক আমল করা অপরিহার্য। আর সেই সাথে এই দিবসের সাথে সংশ্লিষ্ট সব ধরনের কুসংস্কার এবং গর্হিত নানান রীতি-রেওয়াজ পালন করা থেকে দূরে থেকে ইসলামি শরীয়াহ্ মোতাবেক জীবন পরিচালিত করা প্রত্যেক মু’মীন মুসলমানের একান্ত প্রয়োজন।
লেখক: কবি, প্রাবন্ধিক ও সহ. অধ্যাপক, শেরপুর সরকারি মহিলা কলেজ, শেরপুর। E-mail: dr. alim1978@gmail.com

Print Friendly, PDF & Email
এ সংক্রান্ত আরও খবর

অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ খবর



» ব্যবসায়ীরা ভালো থাকলে ব্যাংকগুলোও ভালো থাকবে : অর্থমন্ত্রী

» শেরপুরে বিক্রি হওয়া শিশু সন্তানকে উদ্ধার করে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিল পুলিশ

» ডিএনসিসিতে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন শুরু ৪ অক্টোবর

» ৩ অক্টোবরের পরও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটি বাড়বে : শিক্ষামন্ত্রী

» বিএনপির আন্দোলন পত্রিকার পাতা আর ফেসবুক স্ট্যাটাসে সীমাবদ্ধ: কাদের

» শ্রীবরদীতে গৃহকর্মী নির্যাতনের ঘটনায় সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে মানববন্ধন-স্মারকলিপি প্রদান

» রিফাত হত্যায় স্ত্রী মিন্নিসহ ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড

» নকলায় জাতীয় কন্যাশিশু দিবস পালিত

» বার্সার স্বার্থেই সবসময় খেলেছি : মেসি

» ঢাকায় নৌকার টিকিট পেলেন হাবিব, সিরাজগঞ্জে শাকিল

» বাবরি মসজিদ ধ্বংস মামলায় সব আসামি খালাস

» প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের অপেক্ষায় ১৭ হাজার দুর্যোগ সহনীয় ঘর

» নালিতাবাড়ী থানা পরিদর্শন করলেন রেঞ্জ ডিআইজি ব্যারিস্টার হারুন

» ঝিনাইগাতী সাব-রেজিস্টার ও ভূমি অফিস চত্ত্বরে পানি থৈথৈ ॥ ভোগান্তিতে সেবাগ্রহীতারা

» পরবর্তী গন্তব্য নিউজিল্যান্ড

সম্পাদক-প্রকাশক : রফিকুল ইসলাম আধার
উপদেষ্টা সম্পাদক : সোলায়মান খাঁন মজনু
নির্বাহী সম্পাদক : মোহাম্মদ জুবায়ের রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১ : ফারহানা পারভীন মুন্নী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : আলমগীর কিবরিয়া কামরুল
বার্তা সম্পাদক-১ : রেজাউল করিম বকুল
বার্তা সম্পাদক-২ : মোঃ ফরিদুজ্জামান।
যোগাযোগ : সম্পাদক : ০১৭২০০৭৯৪০৯
নির্বাহী সম্পাদক : ০১৯১২০৪৯৯৪৬
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১: ০১৭১৬৪৬২২৫৫
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : ০১৭১৪২৬১৩৫০
বার্তা সম্পাদক-১ : ০১৭১৩৫৬৪২২৫
বার্তা সম্পাদক -২ : ০১৯২১-৯৫৫৯০৬
বিজ্ঞাপন : ০১৭১২৮৫৩৩০৩
ইমেইল : shamolbangla2013@gmail.com.

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । ওয়েবসাইট তৈরি করেছে- BD iT Zone

  দুপুর ১:২৬ | বৃহস্পতিবার | ১লা অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

মুহররমের গুরুত্ব ও তাৎপর্য ॥ ড. আবদুল আলীম তালুকদার

মুহররম হলো ইসলামি বর্ষপঞ্জি তথা হিজরি বর্ষের প্রথম মাস। মহান আল্লাহ্ পাক কর্তৃক পবিত্র কুরআনুল কারীমে ঘোষিত চারটি পবিত্রতম মাসের মধ্যে এটি একটি। নামকরণ থেকেই প্রতীয়মান হয় যে এ মাসের ফযিলত কত বেশি। ‘মুহররম’ আরবি ভাষার শব্দ যার অর্থ পবিত্রতম, সম্মানিত, মর্যাদাপূর্ণ, তাৎপর্যপূর্ণ ইত্যাদি। যেহেতু অনেক ইতিহাস-ঐতিহ্য ও রহস্যময় তাৎপর্য নিহিত রয়েছে এ মাসকে ঘিরে এবং তার সাথে সাথে এ মাসে যুদ্ধ-বিগ্রহ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ ছিল, এসব কারণেই এ মাসটি এতো মর্যাদাপূর্ণ; আর তাই এ মাসের নামকরণ করা হয়েছে মুহররম বা মর্যাদাপূর্ণ মাস। আমরা জানি, সুপ্রাচীনকাল থেকেই প্রায় প্রতিটি জাতির কাছেই মুহররম মাস অতি পবিত্র হিসাবে গণ্য হয়ে আসছে। বিশেষ করে মুহররমের ১০ তারিখ দিনটি বিশেষ মর্যাদাসম্পন্ন ও তাৎপর্যপূর্ণ, আর এ দিনকেই আশুরা নামে আখ্যায়িত করা হয়। এ দিবসের সঙ্গে মিশে আছে পৃথিবীর সূচনালগ্নের বহু ইতিহাস ও ঘটনাবলী।

img-add

বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে প্রাপ্ত মুহররমের দশম দিবস তথা পবিত্র আশুরার দিনে সংগঠিত বিভিন্ন ঘটনার মধ্যে কয়েকটি হলো: ১. এ দিনে প্রথম মানব হযরত আদম (আ.)কে সৃষ্টি করা হয় এবং এই দিনে তিনি জান্নাতে প্রবেশ করেন। এই তারিখেই তিনি জান্নাত থেকে পৃথিবীতে প্রেরিত হন এবং ৩০০ বছর পর এই তারিখেই আরাফাতের ময়দানের জাবালে রহমতে তিনি ও তাঁর স্ত্রী বিবি হাওয়া (আ.) এর পুনরায় সাক্ষাত লাভ হয়, পরবর্তীতে তাদেরকে মার্জনা করা হয় এবং তাদের তওবা কবুল করা হয়। ২. এ দিবসে হযরত ইদ্রিস (আ.)কে আকাশে উত্তোলন করা হয়। ৩. এ দিনে হযরত আইয়ুব (আ.) ১৮ বছর নানান রোগ ভোগের পর রোগমুক্তি লাভ করেন। ৪. এ দিনে হযরত নূহ (আ.)কে প্রলয়ঙ্করী তুফান ও প্লাবনের হাত থেকে পরিত্রাণ দেয়া হয় এবং প্লাবন শেষে তাঁর জাহাজটি জুদী পাহাড়ে এসে স্থির হয়। ৫. এদিনে হযরত ইউনূছ (আ.) কে ৪০ দিন পর মাছের পেট থেকে নিষ্কৃতি দেওয়া হয়। ৬. এ তারিখে হযরত ইব্রাহীম (আ.) অগ্নিকু- হতে পরিত্রাণ লাভ করেন। ৭. এ তারিখে হযরত দাউদ (আ.)কে বিশেষ ক্ষমা প্রদান করা হয়। ৮. এ দিনে হযরত সুলাইমান (আ.)কে স্বীয় হারানো রাজত্ব পুনরায় প্রদান করা হয়। ৯. এ দিনে হযরত মুসা কালীমুল্লাহ্ (আ.)কে ফিরাউনের কবল থেকে রক্ষা করা হয় এবং সৈন্যবাহিনীসহ ফেরাউনকে নীল নদে নিমজ্জিত করে ধ্বংস করা হয়। ১০. এ দিনে হযরত ইয়াকুব (আ.) স্বীয় হারানো পুত্র হযরত ইউসুফ (আ.) এর সাক্ষাৎ লাভ করেন। ১১. এই তারিখে হযরত ঈসা (আ.) জন্মগ্রহণ করেন এবং এই দিনেই তাঁকে আকাশে উত্তোলন করা হয়। ১২. আরশ, কুরসী, আসমান-যমিন, চন্দ্র-সূর্য-তারকা-নক্ষত্র, বেহেশ্ত এ দিনেই সৃষ্টি করা হয়েছে। ১৩. এ দিনেই প্রথম আসমান থেকে যমিনে বৃষ্টিপাত হয়েছিল। ১৪. এ দিনেই হযরত ইয়াকুব (আ.) চোখের দৃষ্টি ফিরে পেয়েছিলেন। ১৫. এ দিনেই শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (স.) এর দৌহিত্র হযরত ইমাম হুসাইন (রা.) এবং তাঁর ৭৭ পরিজন ও সহচর পাপিষ্ঠ ইয়াজিদ বাহিনী কর্তৃক ইরাকের ফোরাত নদীর তীরবর্তী কারবালা নামক প্রান্তরে নির্মমভাবে শহীদ হন।
পবিত্র কুরআনুল কারীমের সূরা আত তাওবার ৩৬ নং আয়াত (‘নিশ্চয় আল্লাহর বিধান গণনায় মাস বারোটি, আকাশসমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকে; তন্মধ্যে চারটি মাস সম্মানিত; এটিই সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান। সুতরাং এর মধ্যে তোমরা নিজেদের প্রতি অবিচার করো না।’) এ বর্ণিত যে ৪টি মাসে যুদ্ধ-বিগ্রহ নিষিদ্ধ করা হয়েছে তার মধ্যে মুহররম অন্যতম। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.) এ মাসকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বর্ণনা করেন। তিনি বিদায় হজের খুতবায় সম্মানিত মাসগুলোর বর্ণনা দিয়ে বলেন, তিনটি মাস হলো ধারাবাহিক- জিলকদ, জিলহজ ও মুহররম, অপরটি হলো রজব (সহীহ্ মুসলিম)।
কুরআনুল কারীমের উপরিউক্ত আয়াতে কারীমা এবং নবী করীম (স.)’র হাদীস শরীফ থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, এ মাসগুলোর এমন বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যার ফলে এ মাসগুলোতে ইবাদাত-বন্দেগী করা হলে বছরের বাকি মাসগুলোতেও ইবাদাতের তাওফিক ও সাহস লাভ করা যায়। অনুরূপভাবে কেউ যদি এ মাসগুলোতে পাপাচার থেকে নিজেকে দূরে রাখতে পারে, তার জন্য বছরের বাকি মাসগুলোতেও পাপাচার থেকে নিজেকে দূরে থাকা সহজতর হয়। মুহ্ররমের প্রথম দশদিন যাবতীয় ইবাদত তথা নফল নানায, বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত, দান-সাদ্কাহ্ ইত্যাদির সাওয়াব বহুগুণে বৃদ্ধি করা হয়। বিশেষ করে এই মাসে রোযা (সাওম) পালন করার ফযিলত অত্যধিক।
আশুরার দিনে রোযা পালন সম্পর্কে হাদীসে বর্ণিত আছে, হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (স.) মদীনায় হিযরত করে এসে দেখলেন ইহুদীরা আশুরার দিন রোযা পালন করছে। তখন রাসূল (স.) তাদের জিজ্ঞাসা করলেন, তোমরা এ দিন রোযা পালন কর কেন? তারা বলল, এটা আমাদের মুক্তি দিবস। এদিনে মহান আল্লাহ্ পাক হযরত মুসা (আ.) ও তার সম্প্রদায়কে মুক্তি দিয়েছেন এবং ফিরাউনকে তার দলবলসহ সাগরে নিমজ্জিত করেছেন। এর শুকরিয়া হিসেবে হযরত মুসা (আ.) এ দিন রোযা পালন করেছেন। একই কারণে আমরাও রোযা পালন করি। রাসূলুল্লাহ্ (স.) বললেন, ‘আমরা তোমাদের অপেক্ষা মুসার অধিকতর আপন ও হকদার। অত:পর তিনি নিজেও এইদিন রোযা রাখেন এবং সবাইকে রোযা রাখার হুকুম দেন। (বুখারি ও মুসলিম)
মুহররম মাসের সম্মানের ব্যাপারে প্রিয়নবী (স.) বলেন, ‘তোমরা আল্লাহ’র মাস মুহররমের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবে। কেননা, যে ব্যক্তি মুহররমের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবে, তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি ও জান্নাত দান করে সম্মানিত করবেন আল্লাহ্ তায়ালা নিজে। (সহীহ্ মুসলিম, ইবনে মাযাহ্)
হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (স.)কে রমযান ও আশুরায় যেরূপ গুরুত্বের সাথে সাওম পালন করতে দেখেছি অন্য সময় তা দেখিনি।’ (সহীহ্ বুখারী-১/২১৮)
তিনি আরো বলেন, ‘রমযানের পরে সর্বোত্তম রোযা হলো আল্লাহর মাসের রোযা, যাকে তোমরা মুহররম নামে চেনো এবং ফরয নামাযের পর সর্বোত্তম নামায হলো রাতের (তাহাজ্জুদের) নামায। (সহীহ্ মুসলিম-১১৬৩)
এই হাদীসে লক্ষণীয় বিষয় হলো, রাসূলুল্লাহ্ (স.) মুহররম মাসকে বলেছেন ‘শাহ্রুল্লাহ্’ বা আল্লাহর মাস। এ কথা সকলেরই জানা যে বছরের সকল মাসই আল্লাহ্ তায়ালার মাস। এরপরও কোনো এক মাসকে আল্লাহর মাস বলার রহস্য কী? প্রকৃত রহস্য হলো, এই মাসের বিশেষ কিছু বিশেষত্ব বা বৈশিষ্ট্য রয়েছে। সে জন্যই তাকে আল্লাহর মাস বলা হয়েছে। যেমন এই ধরা ধামের সকল ঘরই প্রকৃতার্থে আল্লাহর ঘর। কিন্তু সকল ঘরকে তো আর বাইতুল্লাহ্ শরীফ বলা হয় না।
মুহররমের গুরুত্বপূর্ণ একটি ফযিলত হল, এর সঙ্গে তাওবা কবুলের ইতিহাস বিজড়িত। মুসনাদে আহমাদ ও জামে তিরমিযিতে বর্ণিত একটি হাদীসে আছে, ইসলামের চতুর্থ খলীফা হযরত আলী (রা.)কে এক ব্যক্তি প্রশ্ন করেছিল, রমযানের পর আর কোনো মাস আছে, যাতে আপনি আমাকে রোযা রাখার আদেশ করেন? তিনি বললেন, এই প্রশ্ন রাসূলুল্লাহ্ (স.) এর নিকট জনৈক সাহাবী জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তখন আমি তাঁর খেদমতে সেখানে উপস্থিত ছিলাম। উত্তরে নবী করীম (স.) ইরশাদ ফরমান, ‘রমযানের পর যদি তুমি রোযা রাখতে চাও, তবে মুহররম মাসে রোযা পালন কর; কারণ এটি ‘শাহ্রুল্লাহ্’ তথা আল্লাহর মাস। এ মাসে এমন একটি দিন আছে, যে দিনে আল্লাহ্ তায়ালা একটি জাতির তাওবা কবুল করেছেন এবং ভবিষ্যতেও অন্যান্য জাতির তাওবা কবুল করবেন।’ (মুসনাদে আহমাদ-১৩২২, জামে তিরমিযি-১/১৫৭)
ইমাম বায়হাকী (র.) তাঁর শু’আবুল ঈমান গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, যে ব্যক্তি খালিছ নিয়্যতে আল্লাহ্ তায়ালাকে রাজি-খুশি করার জন্য আশুরার দিন ফকীর-মিসকিন্দের দান-সাদকাহ্ করবে, আল্লাহ্ পাক সারা বছর তার রুজি-রোজগারে বরকত দান করবেন।
আশুরার রোযা সম্পর্কে এক হাদীসে বর্ণিত রয়েছে যে, নবী (স.) ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা আশুরার রোযা পালন কর এবং ইহুদীদের সাদৃশ্য পরিত্যাগ করে আশুরার দিন, আশুরার আগে ও পরে আরো একদিন মোট ৩টি রোযা পালন কর।’ (মুসনাদে আহমদ-১/২৪১)
হযরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (স.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি আশুরার দিনে নিজ পরিবার-পরিজনের জন্য পর্যাপ্ত ও ভালো মানের খাবার-দাবারের আয়োজন করবে, আল্লাহ্ পাক পুরো বছর তার রিযিকে বরকত দান করবেন। (তাবরানি)
হযরত আবু কাতাদাহ্ আল আন্সারী (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (স.)কে আশুরার রোযা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি ইরশাদ করেন, এ রোযার মাধ্যমে বিগত এক বছরের গুণাহ্ মাফ হয়। (ইবনে মাজাহ্, মুসলিম শরীফ)
হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আমি রাসূলুল্লাহ্ (স.) কে আশুরার দিন এবং রমযান মাসে যেভাবে গুরুত্ব সহকারে রোযা রাখতে দেখেছি, অন্য কোনো সময় এমন দেখিনি’। (বুখারী ও মুসলিম)
যুগ যুগ ধরে আশুরার দিনে লোকেরা চোখে সুরমা লাগানো, সওয়াবের আশায় এ দিন গোসল করা, মেহেদী লাগানো, মুসাফাহা করা, সিরনী-খিচুড়ি রান্না করা, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে তাজিয়া মিছিলে অংশগ্রহণ করে বুক চাপড়ে আহাজারী করা, আনন্দ উৎসবসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আসছে। এ সম্বন্ধে আল্লামা ইমাম তাইমিয়া (র.)কে প্রশ্ন করা হলো, ইসলামি শরীয়াহ্ অনুযায়ী এসব কার্যাদি পালনের কোনো ভিত্তি আছে কি না? উত্তরে তিনি বললেন, তাঁর জানা মতে এসব অনুষ্ঠানাদি উদ্যাপন উপলক্ষে রাসূল (স.) হতে কোনো সহীহ্ হাদীস বর্ণিত হয়নি এবং সাহাবীদের কাছ থেকেও না। চার ইমামসহ নির্ভরযোগ্য কোনো আলেমও এসব কাজকে কোনো কালেই সমর্থন করেননি। কোনো মুহাদ্দিস এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ্ (স) ও সাহাবীগণ হতে কোনো সহীহ্ বা দুর্বল হাদীসও বর্ণনা করেননি। তা’বেয়ীদের থেকেও কোনো আছর পাওয়া যায়নি। পরবর্তী যুগে কেউ কেউ কিছু কিছু মিথ্যে বানোয়াট জাল হাদীস বর্ণনা করেছে যেমন, ‘যে ব্যক্তি আশুরার দিন সুরমা লাগাবে সে ব্যক্তি সে বছর থেকে চক্ষু প্রদাহে আক্রান্ত হবে না।’ ‘যে ব্যক্তি আশুরার দিন গোসল করবে সে সেই বছর থেকে আর রোগাক্রান্ত হবে না।’ এরূপ কিছু অনির্ভরযোগ্য হাদীস যার কোনো গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তি নেই।
উপরিউক্ত হাদীসে কারীমাগুলো ও নাতিদীর্ঘ আলোচনা থেকে আমরা অনুধাবন করতে পারলাম যে, হযরত রাসূলে পাক (স.) এই আশুরার রোযা নিজে রেখেছেন এবং তার উম্মতদেরকে রাখার প্রতি উৎসাহিত করেছেন। তাই নি:সন্দেহে এর পূর্ণ অনুসরণ ও আনুগত্যের মধ্যেই রয়েছে উম্মতে মুহাম্মদীর বরকত ও কল্যাণ। আর যেহেতু এ মাসটা মুসলিম জাতির জন্য একটি তাৎপর্যপূর্ণ মাস। তাই এ মাসে আমাদের বেশি বেশি তাওবা-ইস্তিগ্ফার, নফল ইবাদত, দরীদ্রদের মাঝে দান-সদ্কা করা এবং অন্যান্য নেক আমল করা অপরিহার্য। আর সেই সাথে এই দিবসের সাথে সংশ্লিষ্ট সব ধরনের কুসংস্কার এবং গর্হিত নানান রীতি-রেওয়াজ পালন করা থেকে দূরে থেকে ইসলামি শরীয়াহ্ মোতাবেক জীবন পরিচালিত করা প্রত্যেক মু’মীন মুসলমানের একান্ত প্রয়োজন।
লেখক: কবি, প্রাবন্ধিক ও সহ. অধ্যাপক, শেরপুর সরকারি মহিলা কলেজ, শেরপুর। E-mail: dr. alim1978@gmail.com

Print Friendly, PDF & Email
এ সংক্রান্ত আরও খবর

সর্বশেষ খবর



অন্যান্য খবর



সম্পাদক-প্রকাশক : রফিকুল ইসলাম আধার
উপদেষ্টা সম্পাদক : সোলায়মান খাঁন মজনু
নির্বাহী সম্পাদক : মোহাম্মদ জুবায়ের রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১ : ফারহানা পারভীন মুন্নী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : আলমগীর কিবরিয়া কামরুল
বার্তা সম্পাদক-১ : রেজাউল করিম বকুল
বার্তা সম্পাদক-২ : মোঃ ফরিদুজ্জামান।
যোগাযোগ : সম্পাদক : ০১৭২০০৭৯৪০৯
নির্বাহী সম্পাদক : ০১৯১২০৪৯৯৪৬
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১: ০১৭১৬৪৬২২৫৫
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : ০১৭১৪২৬১৩৫০
বার্তা সম্পাদক-১ : ০১৭১৩৫৬৪২২৫
বার্তা সম্পাদক -২ : ০১৯২১-৯৫৫৯০৬
বিজ্ঞাপন : ০১৭১২৮৫৩৩০৩
ইমেইল : shamolbangla2013@gmail.com.

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । ওয়েবসাইট তৈরি করেছে- BD iT Zone

error: Content is protected !!