রাত ১২:৫৩ | বুধবার | ৮ই জুলাই, ২০২০ ইং | ২৪শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ভার্চুয়াল শুনানীতে শেরপুর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসীর রেকর্ড

চলছে জরুরি নালিশী মামলা, সারেন্ডার ও রিমান্ডসহ জিম্মার আবেদন শুনানী

স্টাফ রিপোর্টার ॥ করোনা ভাইরাসজনিত পরিস্থিতিতে সারাদেশে আদালতের ভার্চুয়াল শুনানীতে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে শেরপুরের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসী। ওই শুনানীর আওতায় উচ্চ আদালতসহ সারাদেশের নিম্ন আদালতগুলোতে যখন কেবল হাজতী আসামিদের জামিন শুনানীসহ জরুরি কিছু বিষয়ে শুনানী চলছে, ঠিক তখন আরও এক ধাপ নয়, অনেকটাই এগিয়ে এখানকার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসিতে চলছে হাজতী আসামির জামিন শুনানীর পাশাপাশি জরুরি নালিশী মামলা দায়ের, ফৌজদারী মামলায় আসামিদের সারেন্ডার বা আত্মসমর্পণ, গুরুত্বপূর্ণ মামলায় গ্রেফতারকৃত আসামিদের রিমান্ড শুনানী, মামলায় জব্দকৃত আলামত গ্রহণের বিষয়ে শুনানীসহ বেশ কিছু কার্যক্রম। এতে মঙ্গলবার (৯ জুন) পর্যন্ত ৫ কার্যদিবসে ওই কার্যক্রমের আওতায় জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসিতে জেলার ৫ উপজেলার আমলী আদালতগুলোতে জামিনসহ বিভিন্ন বিষয়ে মোট প্রায় ১৫০ আবেদন শুনানী ও নিস্পত্তিসহ কেবল জামিনই পেয়েছেন প্রায় ৩৫০ আসামি। সরকারের স্বাস্থ্যবিধিসহ সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলমান ওই কার্যক্রমে একদিকে যেমন ন্যায়বিচারের পথ সুগম হয়েছে, অন্যদিকে তেমনি বিশেষ পরিস্থিতিতেও ন্যায়বিচার পেয়ে বেজায় খুশি সংশ্লিষ্ট পক্ষসহ সচেতন মহল।
আইনজীবীসহ আদালতের সাথে সম্পৃক্ত দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানায়, সরকার ও বিচার বিভাগের যুগান্তকারী পদক্ষেপ ভার্চুয়াল আদালতের আওতায় সারাদেশের মতো শেরপুরে ১২ মে থেকে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, ১৪ মে থেকে জেলা ও দায়রা জজ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালসহ শিশু আদালতে হাজতী আসামিদের জামিন শুনানী শুরু হয়। প্রক্রিয়াটি সব আদালতে চলমান থাকলেও ৩ জুন থেকে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এসএম হুমায়ুন কবীরের আগ্রহে এবং স্থানীয় আইনজীবীদের সহযোগিতায় জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসিতে সীমিত পরিসরে শুরু হয়েছে ফৌজদারী মামলায় আসামিদের আত্মসমর্পণ ও জামিন শুনানী, নালিশী মামলা দায়ের, গুরুত্বপূর্ণ মামলায় গ্রেফতারকৃত আসামিদের রিমান্ড শুনানীসহ মামলায় জব্দকৃত আলামত গ্রহণের বিষয়ে শুনানী। এছাড়া ফৌজদারী মামলায় ১৬৪ ধারা মোতাবেক আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় ২২ ধারা মোতাবেক ভিকটিম বা সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ডসহ ভিকটিমকে জিম্মায় নেওয়ার বিষয়েও চলছে শুনানী। এজন্য কাজ করছেন সিজেএমসহ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসিতে কর্মরত মোট ৭ জন বিচারকই। আর তাদের জ্যেষ্ঠতা অনুসারে দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন আদালতের দায়িত্ব। সিজেএমের অধস্তন বিচারকরা হচ্ছেন অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সুলতান মাহমুদ, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ম আদালত মোঃ হুমায়ুন কবির, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৩য় আদালত বেগম ফারিন ফারজানা, জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ম আদালত বেগম মুহসিনা হোসেন তুষি, জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২য় আদালত মোহাম্মদ আল মামুন, জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৩য় আদালত মোঃ শরিফুল ইসলাম খান। ফলে কঠিন পরিস্থিতিতেও তাদের কাজের গতিতে নেই কোন কমতি। যে কারণে ৩ জুন থেকে ৯ জুন পর্যন্ত ৫ কার্যদিবসে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসির আওতায় জেলার ৫ উপজেলার আমলী আদালতগুলোতে অন্ততঃ ৫০টি জরুরি নালিশী মামলা দায়ের, দীর্ঘদিন যাবত ঝুলে থাকা ১২টি মামলায় রিমান্ড শুনানী ও ১০টি মামলায় জব্দনামা গ্রহণের বিষয়ে শুনানী নিস্পত্তি হয়েছে। সেইসাথে ওইসময়ে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও অধস্তন আমলী আদালতগুলোতে অন্ততঃ ৩৫০ জন আসামির জামিন হয়েছে। ফাইলিং, সারেন্ডারসহ যাবতীয় অতীব জরুরী দরখাস্ত ভার্চুয়ালী আদালতের সংশ্লিষ্ট ই-মেইল দাখিল করার পর আদালত ফিরতি মেইল/এসএমএস দিয়ে শুনানির তারিখ ও সময় জানিয়ে দিচ্ছেন এবং ওই দিন ও সময়ে সংশ্লিষ্ট বিচারক, আইনজীবী ও রাষ্ট্রপক্ষ স্ব-স্ব চেম্বার বা বাসা থেকে ভার্চুয়ালী শুনানীতে অংশ নিচ্ছেন। কেবল নালিশী মামলায় সংবাদদাতা বাদী/বাদীনি, সারেন্ডার আসামির ক্ষেত্রে এক মামলায় সর্বোচ্চ দু’জনকে গিয়ে উঠতে হচ্ছে আদালতের কাঠগড়ায়। সংশ্লিষ্ট পেশকার বা জিআরও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কাঠগড়ায় দাঁড়ানো বাদী বা আসামিদের যুক্ত করছেন সেই শুনানীতে। আর রিমান্ড শুনানীর ক্ষেত্রে কারাগার থেকে সংশ্লিষ্ট আসামিদের ভার্চুয়ালী শুনানীতে যুক্ত করছেন জেলার।
এদিকে শুরু থেকে এ পর্যন্ত (৮ জুন) চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও অধস্তন আদালতগুলোতে জামিনের বিষয়ে মোট দায়েরকৃত ৬৯৫টি আবেদনের মধ্যে ৬৭৫টি আবেদনের শুনানী নিস্পত্তি হয়েছে। সেইসাথে মোট ২১২টি আবেদন নাকচ হওয়ায় অবশিষ্ট ৪৮৩ টি আবেদন মঞ্জুরক্রমে জামিন মিলেছে ৫৩৫ আসামির। এর আগে ঈদের পূর্ব পর্যন্ত (২০ মে) একই আদালতগুলোতে ৭ কার্যদিবসে মোট জামিন পাওয়া আসামির সংখ্যা ছিলো ১৬৫ এবং সারেন্ডার নেওয়ার পূর্ব পর্যন্ত (২ জুন) ৫ কার্যদিবসে তার মোট সংখ্যা ছিল ১৯২। অর্থাৎ শুরু থেকে ১২ কার্যদিবসে মোট জামিনপ্রাপ্ত আসামির সংখ্যা যেখানে ছিল ১৯২ জন, সেখানে সারেন্ডার নেওয়া থেকে ৮ জুন পর্যন্ত মোট ৫৩৫ জন আসামির জামিন হওয়ায় শেষ ৫ কার্যদিবসে জামিন পেয়েছে প্রায় ৩৫০ জন আসামি, যাতে কাজের পরিধি বাড়ার পাশাপাশি দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে সুবিধাভোগীর সংখ্যা।

img-add

অন্যদিকে একই সময়ে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মোট ৫৯ জন এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালসহ শিশু আদালতে মোট ২৩ জন আসামির জামিন হয়েছে। আদালত সূত্র জানিয়েছে, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক ইতোমধ্যে জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ আল মামুন তার অধস্তন আদালতগুলোতেও জরুরী ফৌজদারী ও দেওয়ানী আবেদন গ্রহণ ও শুনানীর সুযোগ করে দিয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত ওই আদালতগুলোতে ফৌজদারী বা দেওয়ানী মামলায় কোন আবেদন পড়েনি।
ভার্চুয়াল শুনানীতে বিচারক ও আইনজীবীসহ তাদের সংশ্লিষ্টদের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও কোর্ট পুলিশ। এ বিষয়ে কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক খন্দকার শহীদুল ইসলাম জানান, করোনা পরিস্থিতিতে সব ক্ষেত্রেই পুলিশ ফ্রন্টলাইনে কাজ করছে। ভার্চুয়াল শুনানীতেও ব্যতিক্রম নয়। তার মতে, হাজতী আসামিদের জামিন শুনানীর পাশাপাশি শেরপুরে আসামিদের সারেন্ডারসহ বেশ কিছু জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শুনানীর কার্যক্রম শুরু হওয়ায় মানুষের ন্যায় বিচার পাওয়ার পথ সুগম হয়েছে। আর ভার্চুয়াল শুনানীতে শেরপুরের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসির রেকর্ড প্রসঙ্গে ওইসব শুনানীতে সর্বাধিক অংশ নেওয়া আইনজীবী, জেলা বারের সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম আধার বলেন, হাজতী আসামিদের জামিন শুনানীর ক্ষেত্রে এমনিতেই ক্ষুদে জেলা শেরপুরের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসী একটি মডেল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে- যা সম্ভব হয়েছে নবাগত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এসএম হুমায়ুন কবীরের সদিচ্ছা ও কাজের উদ্যমের পাশাপাশি সকলকে নিয়ে ভার্চুয়ালী প্রশিক্ষণসহ সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি করার কারণে। আর এবার দেশের সব জেলাকে তাক লাগিয়ে শেরপুরে হাজতী আসামিদের জামিন শুনানীর পাশাপাশি কেবল বাদী/আসামিদের সাধারণ হাজিরা এবং বিচারিক কার্যক্রম ব্যতীত প্রায় সব ধরনের শুনানী ও কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। নিস্পত্তিও হচ্ছে রেকর্ড পরিমাণ।
জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট তারিকুল ইসলাম ভাসানী বলেন, বাংলাদেশ বিচার বিভাগ ডিজিটালী ১শ বছর এগিয়ে যাবার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বিদ্যমান আইনী কাঠামোর মধ্য থেকেই যে আইন-আদালতের যাবতীয় কাজ ভার্চুয়াল শুনানীর মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা সম্ভব, তাই বাস্তবে কাজ করে দেখিয়ে দিয়েছেন অতি অল্প দিনেই শেরপুরের সুযোগ্য চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এসএম হুমায়ুন কবীর। তিনি বরাবরের মত এবারও ভার্চুয়ালী আদালতের সমস্ত অতীব জরুরি কাজের পদ্ধতি আবিস্কার করে তা ম্যাজিস্ট্রেট, আইনজীবীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন ৩১ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত। এরপর ৩ জুন থেকে তিনি সেই কাজ শুরু করায় অত্যন্ত সফলভাবে শেরপুরে সমস্ত অতীব জরুরী কাজসমূহ ভার্চুয়াল শুনানীর মাধ্যমে সহজেই নিষ্পত্তি করা যাচ্ছে। শেরপুর ছোট্ট একটি জেলা এবং এখানে মামলার পরিমাণ মাত্র ৪ হাজারের কাছাকাছি হওয়া সত্ত্বেও বহুদিন যাবৎ যারা আদালতে সারেন্ডার করবার সুযোগ না পেয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন, এরকম বহু মানুষ ইতোমধ্যে ভার্চুয়ালী সারেন্ডার করে জামিনে মুক্ত হয়ে উপকৃত হয়েছেন। সবচেয়ে বড় কথা হল, মানুষ তার সাংবিধানিক অধিকার হিসাবে আদালতে সারেন্ডার করবার সুযোগ পেয়েছেন এবং আদালতের দয়ায় জামিনপ্রাপ্তও হয়েছেন অনেকে। যেসব মানুষ বহুদিন যাবৎ মামলা করবার সাংবিধানিক অধিকার হতে বঞ্চিত ছিলেন, তারাও পেয়েছেন জুলুম-অত্যাচারের বিচার চাওয়ার সুযোগ।
জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আবুল মানসুর স্বপন বলেন, শেরপুরের আপামর জনসাধারণসহ সকল আইনজীবী ও আইন সংশ্লিষ্টরা শেরপুরের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এস. এম. হুমায়ুন কবীরের ভার্চুয়াল মডেলে উপকৃত হয়ে ভীষণ খুশী। যেখানে জনহিতকর সরকার অত্যন্ত সময়োপযোগী একটি আইন ‘আদালত কর্তৃক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ, ২০২০’ প্রণয়ন করেছেন এবং বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টও এই অধ্যাদেশকে কার্যকর করবার জন্য পরিপত্র জারি করে চলেছেন, এমনকি আদালতের জরুরী কার্যক্রম করোনা দূর্যোগের সময় পরিচালনার জন্য সরকারিভাবে একটি ওয়েব সাইটও চালু করা হয়, তথাপিও মূলত ভার্চুয়াল কোর্টরুম ম্যানুয়াল (লগ ইন সুপড়ঁৎঃ.লঁফরপরধৎু.মড়া.নফ), সরপৎড়ংড়ভঃ ঃবধসং ইত্যাদি সফটওয়ার ব্যবহারে জটিলতার জন্য জেলা পর্যায়ের বিচারক, আইনজীবীসহ সংশ্লিষ্টরা কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়ে যায়। বিচারক, পুলিশ, আইনজীবীসহ সংশ্লিষ্টরা যদিও উপলব্ধি করেন যে, করোনা ভাইরাস মহামারির সময় অডিও-ভিডিও মাধ্যম ব্যবহার করে আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা না করলে তারা সবাই মহামারিতে আক্রান্ত হবার মারাত্মক ঝুকিতে পড়বেন, তথাপিও ভার্চুয়াল কোর্টরুম ম্যানুয়াল(লগ ইন সুপড়ঁৎঃ.লঁফরপরধৎু.মড়া.নফ), সরপৎড়ংড়ভঃ ঃবধসং ইত্যাদি সফটওয়ার তারা সহজে ব্যবহার করতে না পারার জন্য বহু জেলায় আইনজীবী সমিতি ভার্চুয়াল শুনানি বর্জনের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। এমনকি এখনও নানা জায়গায় বর্জন চলছে শোনা যায়। কাজেই শেরপুর চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের পদ্ধতিটি লিখিতভাবে সুনির্দিষ্ট, সহজসাধ্য ও নিরাপদ হওয়ায় সবাই যেহেতু সহজে এ পদ্ধতিতে ভার্চুয়ালী কাজ করতে পাচ্ছেন, তাই সুপ্রীম কোর্টের উচিত এই পদ্ধতি অনুসরণ করে লিখিতভাবে সুনির্দিষ্ট ও সহজসাধ্য প্র্যাকটিস ডাইরেকশন ঘোষণা করা।
এ ব্যাপারে জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এমকে মুরাদুজ্জামান বলেন, সুপ্রীম কোর্টের সার্কুলারে অতীব জরুরী সকল কাজ ভার্চুয়ালী সম্পন্ন করবার কথা বলা হলেও একমাত্র শেরপুর ছাড়া আর কোথাও অতীব জরুরী সকল কাজ ভার্চুয়ালী শুনানির মাধ্যমে নিষ্পত্তি হচ্ছে না। এটি শেরপুরের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসির এক সাহসী ও বিরল দৃষ্টান্ত। একই কথা জানিয়ে আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট একেএম মোছাদ্দেক ফেরদৌসী বলেন, সরকার ও উচ্চ আদালতের যুগান্তকারী পদক্ষেপের আওতায় শেরপুরে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসিতে হাজতী আসামিদের জামিন শুনানীর পাশাপাশি জরুরি নালিশী মামলা দায়ের এবং সীমিত পরিসরে হলেও আসামিদের সারেন্ডারসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম এতোদিন যার প্রায় সবগুলোই ঝুলে ছিল, সেগুলোও নিস্পত্তি হওয়ায় বা নিস্পত্তির সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় বিচারপ্রার্থী মানুষের ন্যায়বিচারের পথ অনেকটাই প্রশস্ত হয়েছে।

এ সংক্রান্ত আরও খবর

অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ খবর



» শেরপুরে বৃক্ষরোপণ ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের মাঝে বাইসাইকেল বিতরণ করলেন হুইপ আতিক

» শেরপুরে করোনা পরিস্থিতিতে মাস্ক বিতরণ করছেন ছাত্রলীগ নেতা

» শেরপুরে এবার তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠির বাসা ভাড়ার টাকা দিলেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান

» করোনা প্রতিরোধে করণীয় শীর্ষক মতবিনিময় সভা ও কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

» করোনা পরিস্থিতিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ : তথ্যমন্ত্রী

» করোনায় মারা গেলেন ফেনীর সিভিল সার্জন

» এবার কোরবানির পশু পরিবহন রেল

» এবার মাশরাফির স্ত্রীও করোনায় আক্রান্ত

» শ্যামলবাংলা২৪ডটকমে খবর প্রকাশের পর শিকলে বন্দি সেই নারীর দায়িত্ব নিলো জেলা প্রশাসন

» ময়মনসিংহে দরিদ্রদের ঘরে ঘরে শুকনো খাবার সামগ্রী পৌঁছে দিলেন আর্টডক সেনা সদস্যরা

» দেশে করোনায় আরও ৫৫ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৩০২৭

» শেরপুরে নানা আয়োজনে যুব মহিলা লীগের ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

» এন্ড্রু কিশোরের বর্ণাঢ্য জীবন

» বান্দরবানে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত ৬

» শেরপুরে পুলিশ-স্বাস্থ্যকর্মীসহ আরও ৪ জন করোনায় আক্রান্ত : মোট আক্রান্ত ২৫৪

সম্পাদক-প্রকাশক : রফিকুল ইসলাম আধার
উপদেষ্টা সম্পাদক : সোলায়মান খাঁন মজনু
নির্বাহী সম্পাদক : মোহাম্মদ জুবায়ের রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১ : ফারহানা পারভীন মুন্নী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : আলমগীর কিবরিয়া কামরুল
বার্তা সম্পাদক-১ : রেজাউল করিম বকুল
বার্তা সম্পাদক-২ : মোঃ ফরিদুজ্জামান।
যোগাযোগ : সম্পাদক : ০১৭২০০৭৯৪০৯
নির্বাহী সম্পাদক : ০১৯১২০৪৯৯৪৬
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১: ০১৭১৬৪৬২২৫৫
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : ০১৭১৪২৬১৩৫০
বার্তা সম্পাদক-১ : ০১৭১৩৫৬৪২২৫
বার্তা সম্পাদক -২ : ০১৯২১-৯৫৫৯০৬
বিজ্ঞাপন : ০১৭১২৮৫৩৩০৩
ইমেইল : shamolbangla2013@gmail.com.

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । ওয়েবসাইট তৈরি করেছে- BD iT Zone

  রাত ১২:৫৩ | বুধবার | ৮ই জুলাই, ২০২০ ইং | ২৪শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ভার্চুয়াল শুনানীতে শেরপুর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসীর রেকর্ড

চলছে জরুরি নালিশী মামলা, সারেন্ডার ও রিমান্ডসহ জিম্মার আবেদন শুনানী

স্টাফ রিপোর্টার ॥ করোনা ভাইরাসজনিত পরিস্থিতিতে সারাদেশে আদালতের ভার্চুয়াল শুনানীতে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে শেরপুরের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসী। ওই শুনানীর আওতায় উচ্চ আদালতসহ সারাদেশের নিম্ন আদালতগুলোতে যখন কেবল হাজতী আসামিদের জামিন শুনানীসহ জরুরি কিছু বিষয়ে শুনানী চলছে, ঠিক তখন আরও এক ধাপ নয়, অনেকটাই এগিয়ে এখানকার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসিতে চলছে হাজতী আসামির জামিন শুনানীর পাশাপাশি জরুরি নালিশী মামলা দায়ের, ফৌজদারী মামলায় আসামিদের সারেন্ডার বা আত্মসমর্পণ, গুরুত্বপূর্ণ মামলায় গ্রেফতারকৃত আসামিদের রিমান্ড শুনানী, মামলায় জব্দকৃত আলামত গ্রহণের বিষয়ে শুনানীসহ বেশ কিছু কার্যক্রম। এতে মঙ্গলবার (৯ জুন) পর্যন্ত ৫ কার্যদিবসে ওই কার্যক্রমের আওতায় জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসিতে জেলার ৫ উপজেলার আমলী আদালতগুলোতে জামিনসহ বিভিন্ন বিষয়ে মোট প্রায় ১৫০ আবেদন শুনানী ও নিস্পত্তিসহ কেবল জামিনই পেয়েছেন প্রায় ৩৫০ আসামি। সরকারের স্বাস্থ্যবিধিসহ সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলমান ওই কার্যক্রমে একদিকে যেমন ন্যায়বিচারের পথ সুগম হয়েছে, অন্যদিকে তেমনি বিশেষ পরিস্থিতিতেও ন্যায়বিচার পেয়ে বেজায় খুশি সংশ্লিষ্ট পক্ষসহ সচেতন মহল।
আইনজীবীসহ আদালতের সাথে সম্পৃক্ত দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানায়, সরকার ও বিচার বিভাগের যুগান্তকারী পদক্ষেপ ভার্চুয়াল আদালতের আওতায় সারাদেশের মতো শেরপুরে ১২ মে থেকে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, ১৪ মে থেকে জেলা ও দায়রা জজ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালসহ শিশু আদালতে হাজতী আসামিদের জামিন শুনানী শুরু হয়। প্রক্রিয়াটি সব আদালতে চলমান থাকলেও ৩ জুন থেকে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এসএম হুমায়ুন কবীরের আগ্রহে এবং স্থানীয় আইনজীবীদের সহযোগিতায় জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসিতে সীমিত পরিসরে শুরু হয়েছে ফৌজদারী মামলায় আসামিদের আত্মসমর্পণ ও জামিন শুনানী, নালিশী মামলা দায়ের, গুরুত্বপূর্ণ মামলায় গ্রেফতারকৃত আসামিদের রিমান্ড শুনানীসহ মামলায় জব্দকৃত আলামত গ্রহণের বিষয়ে শুনানী। এছাড়া ফৌজদারী মামলায় ১৬৪ ধারা মোতাবেক আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় ২২ ধারা মোতাবেক ভিকটিম বা সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ডসহ ভিকটিমকে জিম্মায় নেওয়ার বিষয়েও চলছে শুনানী। এজন্য কাজ করছেন সিজেএমসহ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসিতে কর্মরত মোট ৭ জন বিচারকই। আর তাদের জ্যেষ্ঠতা অনুসারে দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন আদালতের দায়িত্ব। সিজেএমের অধস্তন বিচারকরা হচ্ছেন অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সুলতান মাহমুদ, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ম আদালত মোঃ হুমায়ুন কবির, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৩য় আদালত বেগম ফারিন ফারজানা, জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ম আদালত বেগম মুহসিনা হোসেন তুষি, জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২য় আদালত মোহাম্মদ আল মামুন, জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৩য় আদালত মোঃ শরিফুল ইসলাম খান। ফলে কঠিন পরিস্থিতিতেও তাদের কাজের গতিতে নেই কোন কমতি। যে কারণে ৩ জুন থেকে ৯ জুন পর্যন্ত ৫ কার্যদিবসে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসির আওতায় জেলার ৫ উপজেলার আমলী আদালতগুলোতে অন্ততঃ ৫০টি জরুরি নালিশী মামলা দায়ের, দীর্ঘদিন যাবত ঝুলে থাকা ১২টি মামলায় রিমান্ড শুনানী ও ১০টি মামলায় জব্দনামা গ্রহণের বিষয়ে শুনানী নিস্পত্তি হয়েছে। সেইসাথে ওইসময়ে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও অধস্তন আমলী আদালতগুলোতে অন্ততঃ ৩৫০ জন আসামির জামিন হয়েছে। ফাইলিং, সারেন্ডারসহ যাবতীয় অতীব জরুরী দরখাস্ত ভার্চুয়ালী আদালতের সংশ্লিষ্ট ই-মেইল দাখিল করার পর আদালত ফিরতি মেইল/এসএমএস দিয়ে শুনানির তারিখ ও সময় জানিয়ে দিচ্ছেন এবং ওই দিন ও সময়ে সংশ্লিষ্ট বিচারক, আইনজীবী ও রাষ্ট্রপক্ষ স্ব-স্ব চেম্বার বা বাসা থেকে ভার্চুয়ালী শুনানীতে অংশ নিচ্ছেন। কেবল নালিশী মামলায় সংবাদদাতা বাদী/বাদীনি, সারেন্ডার আসামির ক্ষেত্রে এক মামলায় সর্বোচ্চ দু’জনকে গিয়ে উঠতে হচ্ছে আদালতের কাঠগড়ায়। সংশ্লিষ্ট পেশকার বা জিআরও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কাঠগড়ায় দাঁড়ানো বাদী বা আসামিদের যুক্ত করছেন সেই শুনানীতে। আর রিমান্ড শুনানীর ক্ষেত্রে কারাগার থেকে সংশ্লিষ্ট আসামিদের ভার্চুয়ালী শুনানীতে যুক্ত করছেন জেলার।
এদিকে শুরু থেকে এ পর্যন্ত (৮ জুন) চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও অধস্তন আদালতগুলোতে জামিনের বিষয়ে মোট দায়েরকৃত ৬৯৫টি আবেদনের মধ্যে ৬৭৫টি আবেদনের শুনানী নিস্পত্তি হয়েছে। সেইসাথে মোট ২১২টি আবেদন নাকচ হওয়ায় অবশিষ্ট ৪৮৩ টি আবেদন মঞ্জুরক্রমে জামিন মিলেছে ৫৩৫ আসামির। এর আগে ঈদের পূর্ব পর্যন্ত (২০ মে) একই আদালতগুলোতে ৭ কার্যদিবসে মোট জামিন পাওয়া আসামির সংখ্যা ছিলো ১৬৫ এবং সারেন্ডার নেওয়ার পূর্ব পর্যন্ত (২ জুন) ৫ কার্যদিবসে তার মোট সংখ্যা ছিল ১৯২। অর্থাৎ শুরু থেকে ১২ কার্যদিবসে মোট জামিনপ্রাপ্ত আসামির সংখ্যা যেখানে ছিল ১৯২ জন, সেখানে সারেন্ডার নেওয়া থেকে ৮ জুন পর্যন্ত মোট ৫৩৫ জন আসামির জামিন হওয়ায় শেষ ৫ কার্যদিবসে জামিন পেয়েছে প্রায় ৩৫০ জন আসামি, যাতে কাজের পরিধি বাড়ার পাশাপাশি দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে সুবিধাভোগীর সংখ্যা।

img-add

অন্যদিকে একই সময়ে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মোট ৫৯ জন এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালসহ শিশু আদালতে মোট ২৩ জন আসামির জামিন হয়েছে। আদালত সূত্র জানিয়েছে, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক ইতোমধ্যে জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ আল মামুন তার অধস্তন আদালতগুলোতেও জরুরী ফৌজদারী ও দেওয়ানী আবেদন গ্রহণ ও শুনানীর সুযোগ করে দিয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত ওই আদালতগুলোতে ফৌজদারী বা দেওয়ানী মামলায় কোন আবেদন পড়েনি।
ভার্চুয়াল শুনানীতে বিচারক ও আইনজীবীসহ তাদের সংশ্লিষ্টদের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও কোর্ট পুলিশ। এ বিষয়ে কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক খন্দকার শহীদুল ইসলাম জানান, করোনা পরিস্থিতিতে সব ক্ষেত্রেই পুলিশ ফ্রন্টলাইনে কাজ করছে। ভার্চুয়াল শুনানীতেও ব্যতিক্রম নয়। তার মতে, হাজতী আসামিদের জামিন শুনানীর পাশাপাশি শেরপুরে আসামিদের সারেন্ডারসহ বেশ কিছু জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শুনানীর কার্যক্রম শুরু হওয়ায় মানুষের ন্যায় বিচার পাওয়ার পথ সুগম হয়েছে। আর ভার্চুয়াল শুনানীতে শেরপুরের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসির রেকর্ড প্রসঙ্গে ওইসব শুনানীতে সর্বাধিক অংশ নেওয়া আইনজীবী, জেলা বারের সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম আধার বলেন, হাজতী আসামিদের জামিন শুনানীর ক্ষেত্রে এমনিতেই ক্ষুদে জেলা শেরপুরের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসী একটি মডেল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে- যা সম্ভব হয়েছে নবাগত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এসএম হুমায়ুন কবীরের সদিচ্ছা ও কাজের উদ্যমের পাশাপাশি সকলকে নিয়ে ভার্চুয়ালী প্রশিক্ষণসহ সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি করার কারণে। আর এবার দেশের সব জেলাকে তাক লাগিয়ে শেরপুরে হাজতী আসামিদের জামিন শুনানীর পাশাপাশি কেবল বাদী/আসামিদের সাধারণ হাজিরা এবং বিচারিক কার্যক্রম ব্যতীত প্রায় সব ধরনের শুনানী ও কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। নিস্পত্তিও হচ্ছে রেকর্ড পরিমাণ।
জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট তারিকুল ইসলাম ভাসানী বলেন, বাংলাদেশ বিচার বিভাগ ডিজিটালী ১শ বছর এগিয়ে যাবার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বিদ্যমান আইনী কাঠামোর মধ্য থেকেই যে আইন-আদালতের যাবতীয় কাজ ভার্চুয়াল শুনানীর মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা সম্ভব, তাই বাস্তবে কাজ করে দেখিয়ে দিয়েছেন অতি অল্প দিনেই শেরপুরের সুযোগ্য চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এসএম হুমায়ুন কবীর। তিনি বরাবরের মত এবারও ভার্চুয়ালী আদালতের সমস্ত অতীব জরুরি কাজের পদ্ধতি আবিস্কার করে তা ম্যাজিস্ট্রেট, আইনজীবীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন ৩১ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত। এরপর ৩ জুন থেকে তিনি সেই কাজ শুরু করায় অত্যন্ত সফলভাবে শেরপুরে সমস্ত অতীব জরুরী কাজসমূহ ভার্চুয়াল শুনানীর মাধ্যমে সহজেই নিষ্পত্তি করা যাচ্ছে। শেরপুর ছোট্ট একটি জেলা এবং এখানে মামলার পরিমাণ মাত্র ৪ হাজারের কাছাকাছি হওয়া সত্ত্বেও বহুদিন যাবৎ যারা আদালতে সারেন্ডার করবার সুযোগ না পেয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন, এরকম বহু মানুষ ইতোমধ্যে ভার্চুয়ালী সারেন্ডার করে জামিনে মুক্ত হয়ে উপকৃত হয়েছেন। সবচেয়ে বড় কথা হল, মানুষ তার সাংবিধানিক অধিকার হিসাবে আদালতে সারেন্ডার করবার সুযোগ পেয়েছেন এবং আদালতের দয়ায় জামিনপ্রাপ্তও হয়েছেন অনেকে। যেসব মানুষ বহুদিন যাবৎ মামলা করবার সাংবিধানিক অধিকার হতে বঞ্চিত ছিলেন, তারাও পেয়েছেন জুলুম-অত্যাচারের বিচার চাওয়ার সুযোগ।
জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আবুল মানসুর স্বপন বলেন, শেরপুরের আপামর জনসাধারণসহ সকল আইনজীবী ও আইন সংশ্লিষ্টরা শেরপুরের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এস. এম. হুমায়ুন কবীরের ভার্চুয়াল মডেলে উপকৃত হয়ে ভীষণ খুশী। যেখানে জনহিতকর সরকার অত্যন্ত সময়োপযোগী একটি আইন ‘আদালত কর্তৃক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ, ২০২০’ প্রণয়ন করেছেন এবং বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টও এই অধ্যাদেশকে কার্যকর করবার জন্য পরিপত্র জারি করে চলেছেন, এমনকি আদালতের জরুরী কার্যক্রম করোনা দূর্যোগের সময় পরিচালনার জন্য সরকারিভাবে একটি ওয়েব সাইটও চালু করা হয়, তথাপিও মূলত ভার্চুয়াল কোর্টরুম ম্যানুয়াল (লগ ইন সুপড়ঁৎঃ.লঁফরপরধৎু.মড়া.নফ), সরপৎড়ংড়ভঃ ঃবধসং ইত্যাদি সফটওয়ার ব্যবহারে জটিলতার জন্য জেলা পর্যায়ের বিচারক, আইনজীবীসহ সংশ্লিষ্টরা কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়ে যায়। বিচারক, পুলিশ, আইনজীবীসহ সংশ্লিষ্টরা যদিও উপলব্ধি করেন যে, করোনা ভাইরাস মহামারির সময় অডিও-ভিডিও মাধ্যম ব্যবহার করে আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা না করলে তারা সবাই মহামারিতে আক্রান্ত হবার মারাত্মক ঝুকিতে পড়বেন, তথাপিও ভার্চুয়াল কোর্টরুম ম্যানুয়াল(লগ ইন সুপড়ঁৎঃ.লঁফরপরধৎু.মড়া.নফ), সরপৎড়ংড়ভঃ ঃবধসং ইত্যাদি সফটওয়ার তারা সহজে ব্যবহার করতে না পারার জন্য বহু জেলায় আইনজীবী সমিতি ভার্চুয়াল শুনানি বর্জনের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। এমনকি এখনও নানা জায়গায় বর্জন চলছে শোনা যায়। কাজেই শেরপুর চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের পদ্ধতিটি লিখিতভাবে সুনির্দিষ্ট, সহজসাধ্য ও নিরাপদ হওয়ায় সবাই যেহেতু সহজে এ পদ্ধতিতে ভার্চুয়ালী কাজ করতে পাচ্ছেন, তাই সুপ্রীম কোর্টের উচিত এই পদ্ধতি অনুসরণ করে লিখিতভাবে সুনির্দিষ্ট ও সহজসাধ্য প্র্যাকটিস ডাইরেকশন ঘোষণা করা।
এ ব্যাপারে জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এমকে মুরাদুজ্জামান বলেন, সুপ্রীম কোর্টের সার্কুলারে অতীব জরুরী সকল কাজ ভার্চুয়ালী সম্পন্ন করবার কথা বলা হলেও একমাত্র শেরপুর ছাড়া আর কোথাও অতীব জরুরী সকল কাজ ভার্চুয়ালী শুনানির মাধ্যমে নিষ্পত্তি হচ্ছে না। এটি শেরপুরের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসির এক সাহসী ও বিরল দৃষ্টান্ত। একই কথা জানিয়ে আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট একেএম মোছাদ্দেক ফেরদৌসী বলেন, সরকার ও উচ্চ আদালতের যুগান্তকারী পদক্ষেপের আওতায় শেরপুরে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসিতে হাজতী আসামিদের জামিন শুনানীর পাশাপাশি জরুরি নালিশী মামলা দায়ের এবং সীমিত পরিসরে হলেও আসামিদের সারেন্ডারসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম এতোদিন যার প্রায় সবগুলোই ঝুলে ছিল, সেগুলোও নিস্পত্তি হওয়ায় বা নিস্পত্তির সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় বিচারপ্রার্থী মানুষের ন্যায়বিচারের পথ অনেকটাই প্রশস্ত হয়েছে।

এ সংক্রান্ত আরও খবর

সর্বশেষ খবর



অন্যান্য খবর



সম্পাদক-প্রকাশক : রফিকুল ইসলাম আধার
উপদেষ্টা সম্পাদক : সোলায়মান খাঁন মজনু
নির্বাহী সম্পাদক : মোহাম্মদ জুবায়ের রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১ : ফারহানা পারভীন মুন্নী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : আলমগীর কিবরিয়া কামরুল
বার্তা সম্পাদক-১ : রেজাউল করিম বকুল
বার্তা সম্পাদক-২ : মোঃ ফরিদুজ্জামান।
যোগাযোগ : সম্পাদক : ০১৭২০০৭৯৪০৯
নির্বাহী সম্পাদক : ০১৯১২০৪৯৯৪৬
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১: ০১৭১৬৪৬২২৫৫
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : ০১৭১৪২৬১৩৫০
বার্তা সম্পাদক-১ : ০১৭১৩৫৬৪২২৫
বার্তা সম্পাদক -২ : ০১৯২১-৯৫৫৯০৬
বিজ্ঞাপন : ০১৭১২৮৫৩৩০৩
ইমেইল : shamolbangla2013@gmail.com.

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । ওয়েবসাইট তৈরি করেছে- BD iT Zone

error: Content is protected !!