প্রকাশকাল: 10 জুলাই, 2019

ভারতকে হারিয়ে ফাইনালে নিউজিল্যান্ড

শ্যামলবাংলা ডেস্ক : মার্টিন গাপটিলের সরাসরি থ্রোতে যখন রানআউট হলেন মহেন্দ্র সিং ধোনি, টিভি ক্যামেরা খুঁজে নিল বিরাট কোহলিকে। ভারতীয় অধিনায়কের চোখেমুখে তখন রাজ্যের হতাশা। আর সবার মতো তারও যে তখন বুঝতে বাকি ছিল নাÑ ৯ বলে ২৪ রানের সমীকরণ মেলানো সম্ভব হবে না দলের শেষ তিন ব্যাটসম্যান ভুবনেশ^র কুমার, যুজবেন্দ্র চাহাল আর জাসপ্রিত বুহরাহর পক্ষে। টানা দ্বিতীয়বার বিশ^কাপের ফাইনালে উঠার উদযাপনটা নিউজিল্যান্ডও তাই সেরে ফেলেছিল ধোনি রানআউট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই। ম্যাচের বাকি অংশটুকু ছিল শুধু আনুষ্ঠানিকতা।
রিজার্ভ ডেতে গড়ানো চলতি বিশ^কাপের প্রথম সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ড জিতবে, আগের দিন বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সম্ভবত ভাবেননি কেউ। ৪৬.১ ওভারে ৫ উইকেটে কেন উইলিয়ামসনের দলের রান ছিল ২১১।
ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে এদিন বাকি ২৩ বলে ২৮ রান যোগ করে কিউইরা থামে ২৩৯ রানে। ওই রান ভারতের তারকাসমৃদ্ধ ব্যাটিং লাইনআপ অনায়াসে টপকে যাবে, বেশিরভাগেরই ধারণা ছিল এমন। কিন্তু ক্রিকেট-বিধাতা যে সেই ধারণা আমূল বদলে দেওয়ার জন্য ধনুকভাঙা পণ করে বসে ছিলেন, তা কে জানত?
যে ভারত এ বিশ^কাপে ছিল হট ফেবারিট, লিগপর্বে যাদের পারফরম্যান্সও ছিল ফেবারিটসুলভ, তারাই কিনা ২২১ রানে অলআউট! ১৮ রানে পরাজয়ে বেজে গেল দুবারের চ্যাম্পিয়নদের বিদায়ঘণ্টা। তাতে এই বিশ^কাপ থেকে এশিয়ার শেষ প্রতিনিধিটাও ঝড়ে গেল। ক্রিকেট বিধাতাই সাজিয়ে রেখেছিলেন এমন নাটক। একটু এদিক-সেদিক হলেই যে নিউজিল্যান্ডের সেমিফাইনালেই ওঠা হয় না, বাংলাদেশ আর পাকিস্তানের পর ভারতের স্বপ্ন ভেঙে তারাই কিনা ওঠে গেল ফাইনালে।
নিউজিল্যান্ডকে ফাইনালে তুলেছেন তাদের বোলাররা। ম্যাট হেনরি, ট্রেন্ট বোল্ট, মিচেল স্যান্টনাররাই গড়ে দিয়েছেন ম্যাচের ভাগ্য। এর আগে টস ভাগ্যে জয়ী হয়ে প্রথমে ব্যাটিংয়ের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন উইলিয়ামসন, দলের ব্যাটিং ব্যর্থতায় তা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল। বোলারদের কল্যাণে তার সেই সিদ্ধান্তই সঠিক প্রমাণিত। এজন্য অবশ্য পুরো ম্যাচ অপেক্ষায় থাকতে হয়নি। ৫ রানের মধ্যেই যখন ভারতের টপঅর্ডার তিন ব্যাটসম্যানÑ রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি আর লোকেশ রাহুল সাজঘরে, তখনই পরিষ্কার হয়ে যায় সব।
২৪ রানের মাথায় চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে যখন ফিরে গেলেন দিনেশ কার্তিক, তখন তো ম্যাচে একটা দলই ছিলÑ নিউজিল্যান্ড। রিশভ পন্ত (৩২) আর হার্দিক পান্ডিয়ার (৩২) ৪৭ রানের জুটিতে প্রতিরোধের বার্তা ছিল, ৯২ রানে ৬ উইকেট পতনের পর ধোনি আর রবিন্দ্র জাদেজার ১১৬ রানের জুটিতে ছিল প্রতিঘাত আর ম্যাচে ফেরার বার্তা; কিন্তু সবকিছুই মিলিয়ে গেল ৮ রানের ব্যবধানে। সমান ৪টি করে চার আর ছক্কায় ৫৯ বলে ৭৭ রান করা জাদেজা ম্যাচে বোল্টের দ্বিতীয় শিকার হলেন, এরপর ধোনির (৭২ বলে ৫০) ওই রানআউট। ব্যাস ভারতের শেষ আশাটুকুও শেষ।
দুর্দান্ত বোলিং করেছেন বোল্ট। আরও দুর্দান্ত ছিলেন ৩৭ রানে ৩ উইকেট নেওয়া ম্যাচসেরা হেনরি। ম্যাচে নিজের তৃতীয় বলেই দুরন্ত ছন্দে থাকা রোহিতকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন ডানহাতি এই কিউই পেসার। নিজের পরের ওভারে একইভাবে রাহুলকেও ফেরান তিনি। মাঝের ওভারটাকে কোহলিকে লেগবিফোরের ফাঁদে ফেলেন বাঁহাতি পেসার বোল্ট। স্বল্প পুঁজি নিয়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেওয়ার জন্য যেমন শুরু দরকার ছিল ঠিক তেমনটাই দিয়েছেন তারা।
এই বিশ^কাপে ভারতের ব্যাটিং লাইনআপ ছিল টপঅর্ডার নির্ভর। সিংহভাগ রানের জোগান দিয়েছেন রোহিত-কোহলি আর রাহুল। এ তিনজনই যখন এদিন নিজেদের নামের পাশে ১ রানের বেশি জমা করতে পারেননি, তখনই ম্যাচটা হেলে পড়েছিল নিউজিল্যান্ডের দিকে। শুরু থেকেই ভারতের মিডলঅর্ডার ছিল ভঙ্গুর, টপঅর্ডার হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ার পর তারা যে দলকে কাক্সিক্ষত জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে পারবেন না, সেটা আগেভাগেই বুঝে গিয়েছিল সমর্থকরা। তবুও জাদেজা-ধোনি চেষ্টা করেছেন। তবে বিশ^কাপে নিজের শেষ ম্যাচটাতেও যেভাবে শম্বুকগতিতে রান তুলেছেন ধোনি, তাতে সমালোচকদের তীর ছোড়ার সুযোগ তিনি করে দিয়েই মাঠ ছেড়েছেন।
ধোনিদের অমন প্রশ্নবিদ্ধ ব্যাটিং পারফরম্যান্সের কারণেই ফাইনালে নাম লেখানোর আনন্দ নিয়ে মাঠ ছেড়েছে নিউজিল্যান্ড। এতে অবশ্য দলটির বোলারদের পারফরম্যান্সকে খাটো করে দেখা হয়। তারাই পুরো কৃতিত্বের দাবিদার। কিছুটা কৃতিত্বের দাবি রাখতে পারেন উইলিয়ামসন আর রস টেলরও। অন্যদের ব্যর্থতার ভিড়ে ব্যাট হাতে তারাই তো পথ দেখিয়েছেন নিউজিল্যান্ডকে। ৬৭ রান করে আগের দিনই আউট হয়েছিলেন উইলিয়ামসন। তবে সমান ৬৭ রান নিয়ে অপরাজিত ছিলেন টেলর। এদিন সেটাকে ৭৪ পর্যন্ত টেনে নিয়ে গেছেন তিনি। বোলারদের দিয়েছেন লড়াইয়ের পুঁজি। বোলাররা কেমন লড়াই করেছে, তা তো বলা হয়ে গেছে আগেই।

আপনার মতামত দিন

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

error: Content is protected !!