সকাল ৯:২৩ | বৃহস্পতিবার | ২৬শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

‘বেগুনের চাষ আমগোর ভরসা, এইডাও বানে ডুইবা গেছে’

রেজাউল করিম বকুল, শ্রীবরদী (শেরপুর) ॥ ‘বেগুন বেইচা আমগোর সংসারের খরচ অয়। বেগুনের চাষ আমগোর ভরসা। এইডাও বানে ডুইবা গেছে। অহন ক্যামনে চলুম?’ ৩০ জুলাই বৃহস্পতিবার সরেজমিন গেলে শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলা সদর ইউনিয়নের নিজ মামদামারী গ্রামের কৃষক আলহাজ্ব মো. হাবিবুর রহমান তার বেগুনের ক্ষেতে কীটনাশক ছিটানোর সময় ওইসব কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, গত বছর ১২ কাঠা জমিতে বেগুনের আবাদ করে ৪ লাখ টাকা লাভ করেছেন। এবার বন্যার পানিতে ক্ষেত ডুবে সব বেগুনের গাছ মরে গেছে। অল্প একটু জায়গা বর্ষাকালী বেগুনের চাষ করেছেন। এই ক্ষেতের গাছও মরে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘বীষ দিতাছি। যদি কিছু গাছ বাঁচে’। তার মতো ছাহেরা খাতুন নামে আরেক কৃষাী বলেন, ‘গেল বছর ৮ কাঠা জমিতে বেগুন করছি। প্রায় ৪ লাখ ট্যাহা অইছিলো। এইবার বান আইয়া সব গাছ মরছে। অহন সংসারের খরচ চালানো মেলা কষ্ট আইবো? পোলাপনগরে পড়ালেহার খরচ ক্যামনে দিমু?’ এমন প্রশ্ন এই নারীর মতো উপজেলা ভেলুয়া, খরিয়াকাজীরচর, গোসাইপুর, কুড়িকাহনীয়া ও তাতিহাটি ইউনিয়নের প্রায় অর্ধশত গ্রামের বেগুন চাষীদের।

img-add

জানা যায়, গত দুই সপ্তাহ যাবত টানা বর্ষণ ও ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে ফসলি জমিসহ প্রায় অর্ধশত গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে বন্যার পানিতে ডুবে গেছে সদ্য রোপিত রোপা আমন ধানের ক্ষেত, আমন ধানের বীজতলা, সবজি ক্ষেত ও মৎস্য খামার। এর মধ্যে দুইশ হেক্টর জমি বেগুন ক্ষেত। এখন বন্যার পানি কমেছে। তবে মরে যাচ্ছে বেগুনের গাছ। এতে ভেসে গেছে বেগুন চাষীদের স্বপ্ন। লোকসানে পড়ে চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন তারা। চরশিমুলচুড়া বলদিপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল আলী জানান, কয়েক বছর যাবত বেগুনের চাষ করে সংসারের স্বচ্ছলতা এসেছে। এবার বেগুন বিক্রি করে ঈদের কেনা কাটা করবেন। কিন্তু সেই আশা এখন ধোঁয়াশায় পরিণত হয়েছে। তার প্রতিবেশি কৃষক আবিজল হক জানান, তিনি প্রতি বছর তিন বিঘা জমিতে বেগুনের আবাদ করেন। বিঘা প্রতি খরচ হয় ১০ হতে ১২ হাজার টাকা। বেগুন বিক্রি শুরু হয় বৈশাখ মাসে। প্রতি বিঘা থেকে সপ্তাহে ৪ হতে ৫ হাজার টাকার বেগুন বিক্রি হতো। চলতো কার্তিক মাস পর্যন্ত। বেগুনের চাষ ছিল তাদের একমাত্র ভরসা। তিনি বলেন, চলার মতো আর কোনো পথ নেই। অহন সরহার কিছু দিলে নতুন কইরা সবজি চাষ করতাম। স্থানীয় বেগুন ব্যবসায়ী সাফিজল হক জানান, এই সময় বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতি সপ্তাহে প্রায় দেড়শ মণ বেগুন নিয়ে যেতো ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। এবার বন্যায় প্রায় সব ক্ষেত নষ্ট হয়েছে। এতে তাদেরও আয়ের উৎস বন্ধ হয়ে গেছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হুমায়ুন দিলদার বলেন, এই উপজেলা বিপুল পরিমানের জমিতে বেগুনের চাষ হয়। স্থানীয়ভাবে বেগুনের চাহিদা মিটিয়েও দেশের বিভিন্ন স্থানে বেগুন রফতানি হতো। বন্যায় প্রায় ৪০০ হেক্টর আবাদি জমি ও সবজি ক্ষেত তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে প্রায় ২শ হেক্টর জমি বেগুনের ক্ষেত। তবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে বীজসহ প্রণোদনা দেয়া হবে।

Print Friendly, PDF & Email
এ সংক্রান্ত আরও খবর

অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ খবর



» সরকারকে নামাতে গিয়ে রশি ছিঁড়ে পড়ে গেছে বিএনপি : তথ্যমন্ত্রী

» বাইডেনের মন্ত্রিসভার শীর্ষ সদস্যদের নাম ঘোষণা

» কোভ্যাক্স সুবিধায় ৬ কোটি ৮০ লাখ ডোজ করোনা ভ্যাকসিন পাবে বাংলাদেশ

» দেশে করোনায় আরও ৩৯ জনের মৃত্যু

» শেরপুরের পৌর জাদুঘর পরিদর্শন করলেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রুমান

» এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা দু-এক মাস পেছাবে : শিক্ষামন্ত্রী

» বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে হৈচৈ করে মাঠ গরম করা যাবে না ॥ নালিতাবাড়ীতে মতিয়া চৌধুরী

» নালিতাবাড়ীতে নিজ ঘর থেকে বৃদ্ধের গলাকাটা লাশ উদ্ধার

» শেরপুরে মেয়র মনোনয়নপ্রত্যাশী আ’লীগ নেতা আধারের জনসভা ও গণসংযোগ

» শেরপুরের চারুভবনে উদ্বোধন হলো পৌর জাদুঘরের

» সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করলেন নকলা থানার নবাগত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা

» শ্রীবরদীর নতুন চমক রোজ ভ্যালী ক্যাফে এন্ড রেষ্টুরেন্ট

» শেরপুরে ২ সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে বৃদ্ধার মৃত্যু, আহত ৩

» শেরপুরের সূর্যদী গণহত্যা দিবস উপলক্ষে আলোচনা ও দোয়া অনুষ্ঠিত

» শেরপুরে মুদি দোকানে হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাট ॥ থানায় মামলা

সম্পাদক-প্রকাশক : রফিকুল ইসলাম আধার
উপদেষ্টা সম্পাদক : সোলায়মান খাঁন মজনু
নির্বাহী সম্পাদক : মোহাম্মদ জুবায়ের রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১ : ফারহানা পারভীন মুন্নী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : আলমগীর কিবরিয়া কামরুল
বার্তা সম্পাদক-১ : রেজাউল করিম বকুল
বার্তা সম্পাদক-২ : মোঃ ফরিদুজ্জামান।
যোগাযোগ : সম্পাদক : ০১৭২০০৭৯৪০৯
নির্বাহী সম্পাদক : ০১৯১২০৪৯৯৪৬
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১: ০১৭১৬৪৬২২৫৫
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : ০১৭১৪২৬১৩৫০
বার্তা সম্পাদক-১ : ০১৭১৩৫৬৪২২৫
বার্তা সম্পাদক -২ : ০১৯২১-৯৫৫৯০৬
বিজ্ঞাপন : ০১৭১২৮৫৩৩০৩
ইমেইল : shamolbangla2013@gmail.com.

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । ওয়েবসাইট তৈরি করেছে- BD iT Zone

  সকাল ৯:২৩ | বৃহস্পতিবার | ২৬শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

‘বেগুনের চাষ আমগোর ভরসা, এইডাও বানে ডুইবা গেছে’

রেজাউল করিম বকুল, শ্রীবরদী (শেরপুর) ॥ ‘বেগুন বেইচা আমগোর সংসারের খরচ অয়। বেগুনের চাষ আমগোর ভরসা। এইডাও বানে ডুইবা গেছে। অহন ক্যামনে চলুম?’ ৩০ জুলাই বৃহস্পতিবার সরেজমিন গেলে শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলা সদর ইউনিয়নের নিজ মামদামারী গ্রামের কৃষক আলহাজ্ব মো. হাবিবুর রহমান তার বেগুনের ক্ষেতে কীটনাশক ছিটানোর সময় ওইসব কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, গত বছর ১২ কাঠা জমিতে বেগুনের আবাদ করে ৪ লাখ টাকা লাভ করেছেন। এবার বন্যার পানিতে ক্ষেত ডুবে সব বেগুনের গাছ মরে গেছে। অল্প একটু জায়গা বর্ষাকালী বেগুনের চাষ করেছেন। এই ক্ষেতের গাছও মরে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘বীষ দিতাছি। যদি কিছু গাছ বাঁচে’। তার মতো ছাহেরা খাতুন নামে আরেক কৃষাী বলেন, ‘গেল বছর ৮ কাঠা জমিতে বেগুন করছি। প্রায় ৪ লাখ ট্যাহা অইছিলো। এইবার বান আইয়া সব গাছ মরছে। অহন সংসারের খরচ চালানো মেলা কষ্ট আইবো? পোলাপনগরে পড়ালেহার খরচ ক্যামনে দিমু?’ এমন প্রশ্ন এই নারীর মতো উপজেলা ভেলুয়া, খরিয়াকাজীরচর, গোসাইপুর, কুড়িকাহনীয়া ও তাতিহাটি ইউনিয়নের প্রায় অর্ধশত গ্রামের বেগুন চাষীদের।

img-add

জানা যায়, গত দুই সপ্তাহ যাবত টানা বর্ষণ ও ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে ফসলি জমিসহ প্রায় অর্ধশত গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে বন্যার পানিতে ডুবে গেছে সদ্য রোপিত রোপা আমন ধানের ক্ষেত, আমন ধানের বীজতলা, সবজি ক্ষেত ও মৎস্য খামার। এর মধ্যে দুইশ হেক্টর জমি বেগুন ক্ষেত। এখন বন্যার পানি কমেছে। তবে মরে যাচ্ছে বেগুনের গাছ। এতে ভেসে গেছে বেগুন চাষীদের স্বপ্ন। লোকসানে পড়ে চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন তারা। চরশিমুলচুড়া বলদিপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল আলী জানান, কয়েক বছর যাবত বেগুনের চাষ করে সংসারের স্বচ্ছলতা এসেছে। এবার বেগুন বিক্রি করে ঈদের কেনা কাটা করবেন। কিন্তু সেই আশা এখন ধোঁয়াশায় পরিণত হয়েছে। তার প্রতিবেশি কৃষক আবিজল হক জানান, তিনি প্রতি বছর তিন বিঘা জমিতে বেগুনের আবাদ করেন। বিঘা প্রতি খরচ হয় ১০ হতে ১২ হাজার টাকা। বেগুন বিক্রি শুরু হয় বৈশাখ মাসে। প্রতি বিঘা থেকে সপ্তাহে ৪ হতে ৫ হাজার টাকার বেগুন বিক্রি হতো। চলতো কার্তিক মাস পর্যন্ত। বেগুনের চাষ ছিল তাদের একমাত্র ভরসা। তিনি বলেন, চলার মতো আর কোনো পথ নেই। অহন সরহার কিছু দিলে নতুন কইরা সবজি চাষ করতাম। স্থানীয় বেগুন ব্যবসায়ী সাফিজল হক জানান, এই সময় বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতি সপ্তাহে প্রায় দেড়শ মণ বেগুন নিয়ে যেতো ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। এবার বন্যায় প্রায় সব ক্ষেত নষ্ট হয়েছে। এতে তাদেরও আয়ের উৎস বন্ধ হয়ে গেছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হুমায়ুন দিলদার বলেন, এই উপজেলা বিপুল পরিমানের জমিতে বেগুনের চাষ হয়। স্থানীয়ভাবে বেগুনের চাহিদা মিটিয়েও দেশের বিভিন্ন স্থানে বেগুন রফতানি হতো। বন্যায় প্রায় ৪০০ হেক্টর আবাদি জমি ও সবজি ক্ষেত তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে প্রায় ২শ হেক্টর জমি বেগুনের ক্ষেত। তবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে বীজসহ প্রণোদনা দেয়া হবে।

Print Friendly, PDF & Email
এ সংক্রান্ত আরও খবর

সর্বশেষ খবর



অন্যান্য খবর



সম্পাদক-প্রকাশক : রফিকুল ইসলাম আধার
উপদেষ্টা সম্পাদক : সোলায়মান খাঁন মজনু
নির্বাহী সম্পাদক : মোহাম্মদ জুবায়ের রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১ : ফারহানা পারভীন মুন্নী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : আলমগীর কিবরিয়া কামরুল
বার্তা সম্পাদক-১ : রেজাউল করিম বকুল
বার্তা সম্পাদক-২ : মোঃ ফরিদুজ্জামান।
যোগাযোগ : সম্পাদক : ০১৭২০০৭৯৪০৯
নির্বাহী সম্পাদক : ০১৯১২০৪৯৯৪৬
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১: ০১৭১৬৪৬২২৫৫
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : ০১৭১৪২৬১৩৫০
বার্তা সম্পাদক-১ : ০১৭১৩৫৬৪২২৫
বার্তা সম্পাদক -২ : ০১৯২১-৯৫৫৯০৬
বিজ্ঞাপন : ০১৭১২৮৫৩৩০৩
ইমেইল : shamolbangla2013@gmail.com.

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । ওয়েবসাইট তৈরি করেছে- BD iT Zone

error: Content is protected !!