সন্ধ্যা ৭:৩৯ | সোমবার | ৩০শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

বিপ্লবী রবি নিয়োগীর ১৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

শ্যামলবাংলা ডেস্ক : কালাপানি (আন্দামানের সেলুলার জেল) সহ দেশের বিভিন্ন জেলে স্বাধীনতা পূর্ব ও স্বাধীনতা পরবর্তীতে জীবনের ৩৪ টি বছর করাভোগ করেছেন যে নেতা, সেই বিপ্লবী নেতা শেরপুরের মফঃস্বল সাংবাদিকতার পথিকৃত্ কমরেড রবি নিয়োগীর ১৯ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ (১০ মে)। ২০০২ সালের এই দিনে তিনি স্থানীয় একটি ক্লিনিকে মৃত্যু বরণ করেন।
বিপ্লবী রবি নিয়োগী ১৩১৬ সালের ১৬ বৈশাখ শেরপুর টাউনের গৃদা নারায়ণপুর মহল্লাস্থ এক ধন্যাঢ্য ভূ-স্বামী পরিবারে সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম রমেশ চন্দ্র নিয়োগী, মা সুরবালা নিয়োগী। বিপুল বিত্ত ও বৈভবের মধ্যে শৈশব ও কৈশোর অতিবাহিত করলেও তিনি বেছে নিয়েছিলেন বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন ও পরবর্তিতে বাঙালির মুক্তি আন্দোলনের বন্ধুর পথ। তাদের পরিবার ধন্যাঢ্য হলেও ঐ পরিমণ্ডলে সাংস্কৃতিক ও মুক্তচিন্তার পরিবেশ ছিল। পিতা রমেশ চন্দ্র নিয়োগী সম্পত্তি দেখাশোনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। তিনি গণপাঠাগার নামে একটি পাঠাগার পরিচালনা করতেন।

img-add

১৯৩০ সালে শেরপুরে কংগ্রেসের ডাকে সত্যাগ্রহ আন্দোলন শুরু হয়। এ আন্দোলন চলাকালে রবি নিয়োগী, জীতেন সেন, প্রমথ গুপ্ত, হেমন্ত ভট্টাচার্য, বিশ্বনাথ মোদক, জলধর পাল, ঠাকুর দাস বসাকসহ ১৭ জন সত্যাগ্রহীকে গ্রেফতার করা হয় এবং ৩ মাস কারাদণ্ড দেয়া হয়। রবি নিয়োগীর এটাই প্রথম জেলে যাওয়া। এরপর থেকে তিনি বিভিন্ন সময়ে জীবনের প্রায় ৩৪ বছর কারাদণ্ড ভোগ করেন। কিন্তু তিনি তার নীতি আদর্শ থেকে কখনও বিচ্যুত হননি।
শেরপুর জামালপুর অঞ্চলে বৃটিশ বিরোধী নানা সশস্ত্র তত্পরতায় তার বিরুদ্ধে সক্রিয় এবং বৈপ্লবিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগে ১৯৩১ সালে বৃটিশ সরকারের বিশেষ ট্রাইব্যুনাল বিচারে তাকে ৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন। ময়মনসিংহে জেলে থাকার সময় তিনি অন্যান্য রাজবন্দীদের নিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলেন। এ সময় রাজবন্দী ও সাধারণ কয়েদীদের একই মর্যাদা দেয়া হতো। এ আন্দোলনের কারণে রবি নিয়োগীকে রাজশাহী জেলে স্থানান্তরিত করা হয় এবং তাকে ফাঁসির আসামিদের সঙ্গে কনডেম সেলে রাখা হয়। ঐ সময় রাজশাহী জেলে কারাবন্দী কয়েদীরা ইংরেজ জেল সুপারকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা চালায়। এরই ফলশ্রুতিতে রবি নিয়োগীসহ বেশ কিছু সংখ্যক কারাবন্দীকে কোলকাতার আলিপুর সেন্ট্রাল জেলে পাঠানো হয়। রবি নিয়োগীকে বিপজ্জনক রাজবন্দী হিসেবে চিহ্নিত করে তার নামের সঙ্গে দু’টো তারকা চিহ্ন এঁকে দেয়া হয়। এরই জের ধরে রবি নিয়োগীসহ ২৫ জন রাজবন্দীকে আন্দামানের সেলুলার জেলে দীপান্তরে পাঠানো হয়। সেখানে দীর্ঘদিন কারাভোগের পর ১৯৩৬ সালে তিনি মুক্তি পান।
১৯৩৮ সালে সর্বভারতীয় কংগ্রেস নেতা নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু শেরপুরে আসেন এবং জনসভায় ভাষণ দেন। ঐ সভায় রবি নিয়োগী সভাপতিত্ব করেন। ১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে তাকে গৃহবন্দী করে রাখা হয়। কিন্তু অন্তরীণ অবস্থাতে তিনি বৃটিশ গোয়েন্দাদের শ্যেন চক্ষুকে ফাঁকি দিয়ে অত্র অঞ্চলে কমিউনিস্ট আন্দোলন ও সংগঠনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখেন।
১৯৪৫ সালে তিনি নেত্রকোনায় সর্বভারতীয় কৃষক সভার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৪৬ সাল থেকে বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলে টংক প্রথার বিলোপ ও তেভাগার মাধ্যমে কৃষক আন্দোলন গড়ে তোলেন। এসব আন্দোলনের কারণে ১৯৪৮ সালে পাকিস্তান সরকার তাকে গ্রেফতার করে। ১৯৪৮ থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত জেল খেটে ৫ বছর পর তিনি মুক্তি পান। ১৯৫৪ সালে পাকিস্তানি সরকারের ৯২(ক) ধারা জারির পর ২ বছর কারাভোগ করেন। ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খানের আমলে ৭ বছর কারাভোগের পর মুক্তি পান। ১৯৬৯ সালে ইয়াহিয়া খানের আমলে ৬ মাস আটক থাকেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি সর্বদলীয় সংগ্রাম কমিটি গঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধের পর স্বাধীন বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর আমল ও শেখ হাসিনার আমল ছাড়া অন্য সব শাসকের আমলে তাকে জেল খাটতে হয়েছে। ১৯৬৩ সালে রবি নিয়োগী জেলাখানায় থাকাকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শেরপুর আসেন এবং তার বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সাথে সাক্ষাত্ করেন। ১৯৯১ সালে ভারতের বিপ্লবী সাভাকর স্মৃতি ট্রাস্ট এবং বাল গঙ্গাধর তিলক ট্রাস্ট আন্দামান ফেরত জীবিত কারাবন্দীদের এক সম্মেলনের আয়োজন করেন। ঐ সম্মেলনে শেরপুরের রবি নিয়োগী ও বগুড়ার ডা. আব্দুল কাদের চৌধুরী যোগ দেন।
বিপ্লবী রবি নিয়োগী সব সময়ই বিশ্বস্তার সঙ্গে তার অনুসৃত রাজনৈতিক আদর্শ নীতি অনুসরণ করে গেছেন। শাসক-শোষক শ্রেণির শত নির্যাতন হয়রানি ও অপপ্রচারেও তিনি তার আদর্শ থেকে বিচ্যুত করতে হননি। তাঁর অন্যান্য সহকর্মীদের অনেকেই দেশত্যাগ করলেও তিনি জন্মভূমি ত্যাগ করে কোথাও যাননি। তিনি বলতেন ‘ভীরুরা সামান্য সুখের আশায় দুখিনী মা’কে ত্যাগ করে’। কিন্তু দুঃখের বিষয় সর্বত্যাগী এ রাজনীতিবিদকে এখন পর্যন্ত কোন রাষ্ট্রীয় পদকে ভূষিত করা হয়নি।

Print Friendly, PDF & Email
এ সংক্রান্ত আরও খবর

অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ খবর



» শেরপুরে স্বাস্থ্য সহকারীদের কর্মবিরতি ॥ ভোগান্তিতে শিশু ও গর্ভবতী নারীসহ সেবাপ্রার্থীরা

» শ্রীবরদীতে স্কুলছাত্রী ধর্ষণ, ধর্ষক পলাতক

» শেরপুরে মেয়র মনোনয়নপ্রত্যাশী আ’লীগ নেতা আধারের গণসংযোগ অব্যাহত

» জয়কে ১নং সদস্য করে পীরগঞ্জ আ’লীগের কমিটি অনুমোদন

» ১৩ তম জাতীয় আয়কর দিবস আজ

» চেলসিকে রুখে দিয়ে শীর্ষে ফিরলো টটেনহ্যাম

» বিয়ে করছেন অঙ্কুশ-ঐন্দ্রিলা

» দ্বিতীয় ধাপে ৬০ পৌরসভার ভোট জানুয়ারির মধ্যভাগে

» শেরপুরে বিএডিসির বীজ হিমাগার পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসক

» চুল পড়া বন্ধ করবে ভেষজ চা

» ৯০ মিলিয়ন ডলারের সম্পদ রেখে গেছেন ম্যারাডোনা

» ঢাকা থেকে পায়রা বন্দর পর্যন্ত রেলপথ হবে : প্রধানমন্ত্রী

» শেরপুরের মনিরুজ্জামান স্যার আর নেই

» ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডে বাংলাদেশের মডেল ইশরাত তন্বী

» ঝিনাইগাতী সদর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আবুল হোসেনের ইন্তেকাল

সম্পাদক-প্রকাশক : রফিকুল ইসলাম আধার
উপদেষ্টা সম্পাদক : সোলায়মান খাঁন মজনু
নির্বাহী সম্পাদক : মোহাম্মদ জুবায়ের রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১ : ফারহানা পারভীন মুন্নী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : আলমগীর কিবরিয়া কামরুল
বার্তা সম্পাদক-১ : রেজাউল করিম বকুল
বার্তা সম্পাদক-২ : মোঃ ফরিদুজ্জামান।
যোগাযোগ : সম্পাদক : ০১৭২০০৭৯৪০৯
নির্বাহী সম্পাদক : ০১৯১২০৪৯৯৪৬
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১: ০১৭১৬৪৬২২৫৫
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : ০১৭১৪২৬১৩৫০
বার্তা সম্পাদক-১ : ০১৭১৩৫৬৪২২৫
বার্তা সম্পাদক -২ : ০১৯২১-৯৫৫৯০৬
বিজ্ঞাপন : ০১৭১২৮৫৩৩০৩
ইমেইল : shamolbangla2013@gmail.com.

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । ওয়েবসাইট তৈরি করেছে- BD iT Zone

  সন্ধ্যা ৭:৩৯ | সোমবার | ৩০শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

বিপ্লবী রবি নিয়োগীর ১৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

শ্যামলবাংলা ডেস্ক : কালাপানি (আন্দামানের সেলুলার জেল) সহ দেশের বিভিন্ন জেলে স্বাধীনতা পূর্ব ও স্বাধীনতা পরবর্তীতে জীবনের ৩৪ টি বছর করাভোগ করেছেন যে নেতা, সেই বিপ্লবী নেতা শেরপুরের মফঃস্বল সাংবাদিকতার পথিকৃত্ কমরেড রবি নিয়োগীর ১৯ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ (১০ মে)। ২০০২ সালের এই দিনে তিনি স্থানীয় একটি ক্লিনিকে মৃত্যু বরণ করেন।
বিপ্লবী রবি নিয়োগী ১৩১৬ সালের ১৬ বৈশাখ শেরপুর টাউনের গৃদা নারায়ণপুর মহল্লাস্থ এক ধন্যাঢ্য ভূ-স্বামী পরিবারে সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম রমেশ চন্দ্র নিয়োগী, মা সুরবালা নিয়োগী। বিপুল বিত্ত ও বৈভবের মধ্যে শৈশব ও কৈশোর অতিবাহিত করলেও তিনি বেছে নিয়েছিলেন বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন ও পরবর্তিতে বাঙালির মুক্তি আন্দোলনের বন্ধুর পথ। তাদের পরিবার ধন্যাঢ্য হলেও ঐ পরিমণ্ডলে সাংস্কৃতিক ও মুক্তচিন্তার পরিবেশ ছিল। পিতা রমেশ চন্দ্র নিয়োগী সম্পত্তি দেখাশোনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। তিনি গণপাঠাগার নামে একটি পাঠাগার পরিচালনা করতেন।

img-add

১৯৩০ সালে শেরপুরে কংগ্রেসের ডাকে সত্যাগ্রহ আন্দোলন শুরু হয়। এ আন্দোলন চলাকালে রবি নিয়োগী, জীতেন সেন, প্রমথ গুপ্ত, হেমন্ত ভট্টাচার্য, বিশ্বনাথ মোদক, জলধর পাল, ঠাকুর দাস বসাকসহ ১৭ জন সত্যাগ্রহীকে গ্রেফতার করা হয় এবং ৩ মাস কারাদণ্ড দেয়া হয়। রবি নিয়োগীর এটাই প্রথম জেলে যাওয়া। এরপর থেকে তিনি বিভিন্ন সময়ে জীবনের প্রায় ৩৪ বছর কারাদণ্ড ভোগ করেন। কিন্তু তিনি তার নীতি আদর্শ থেকে কখনও বিচ্যুত হননি।
শেরপুর জামালপুর অঞ্চলে বৃটিশ বিরোধী নানা সশস্ত্র তত্পরতায় তার বিরুদ্ধে সক্রিয় এবং বৈপ্লবিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগে ১৯৩১ সালে বৃটিশ সরকারের বিশেষ ট্রাইব্যুনাল বিচারে তাকে ৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন। ময়মনসিংহে জেলে থাকার সময় তিনি অন্যান্য রাজবন্দীদের নিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলেন। এ সময় রাজবন্দী ও সাধারণ কয়েদীদের একই মর্যাদা দেয়া হতো। এ আন্দোলনের কারণে রবি নিয়োগীকে রাজশাহী জেলে স্থানান্তরিত করা হয় এবং তাকে ফাঁসির আসামিদের সঙ্গে কনডেম সেলে রাখা হয়। ঐ সময় রাজশাহী জেলে কারাবন্দী কয়েদীরা ইংরেজ জেল সুপারকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা চালায়। এরই ফলশ্রুতিতে রবি নিয়োগীসহ বেশ কিছু সংখ্যক কারাবন্দীকে কোলকাতার আলিপুর সেন্ট্রাল জেলে পাঠানো হয়। রবি নিয়োগীকে বিপজ্জনক রাজবন্দী হিসেবে চিহ্নিত করে তার নামের সঙ্গে দু’টো তারকা চিহ্ন এঁকে দেয়া হয়। এরই জের ধরে রবি নিয়োগীসহ ২৫ জন রাজবন্দীকে আন্দামানের সেলুলার জেলে দীপান্তরে পাঠানো হয়। সেখানে দীর্ঘদিন কারাভোগের পর ১৯৩৬ সালে তিনি মুক্তি পান।
১৯৩৮ সালে সর্বভারতীয় কংগ্রেস নেতা নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু শেরপুরে আসেন এবং জনসভায় ভাষণ দেন। ঐ সভায় রবি নিয়োগী সভাপতিত্ব করেন। ১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে তাকে গৃহবন্দী করে রাখা হয়। কিন্তু অন্তরীণ অবস্থাতে তিনি বৃটিশ গোয়েন্দাদের শ্যেন চক্ষুকে ফাঁকি দিয়ে অত্র অঞ্চলে কমিউনিস্ট আন্দোলন ও সংগঠনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখেন।
১৯৪৫ সালে তিনি নেত্রকোনায় সর্বভারতীয় কৃষক সভার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৪৬ সাল থেকে বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলে টংক প্রথার বিলোপ ও তেভাগার মাধ্যমে কৃষক আন্দোলন গড়ে তোলেন। এসব আন্দোলনের কারণে ১৯৪৮ সালে পাকিস্তান সরকার তাকে গ্রেফতার করে। ১৯৪৮ থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত জেল খেটে ৫ বছর পর তিনি মুক্তি পান। ১৯৫৪ সালে পাকিস্তানি সরকারের ৯২(ক) ধারা জারির পর ২ বছর কারাভোগ করেন। ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খানের আমলে ৭ বছর কারাভোগের পর মুক্তি পান। ১৯৬৯ সালে ইয়াহিয়া খানের আমলে ৬ মাস আটক থাকেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি সর্বদলীয় সংগ্রাম কমিটি গঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধের পর স্বাধীন বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর আমল ও শেখ হাসিনার আমল ছাড়া অন্য সব শাসকের আমলে তাকে জেল খাটতে হয়েছে। ১৯৬৩ সালে রবি নিয়োগী জেলাখানায় থাকাকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শেরপুর আসেন এবং তার বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সাথে সাক্ষাত্ করেন। ১৯৯১ সালে ভারতের বিপ্লবী সাভাকর স্মৃতি ট্রাস্ট এবং বাল গঙ্গাধর তিলক ট্রাস্ট আন্দামান ফেরত জীবিত কারাবন্দীদের এক সম্মেলনের আয়োজন করেন। ঐ সম্মেলনে শেরপুরের রবি নিয়োগী ও বগুড়ার ডা. আব্দুল কাদের চৌধুরী যোগ দেন।
বিপ্লবী রবি নিয়োগী সব সময়ই বিশ্বস্তার সঙ্গে তার অনুসৃত রাজনৈতিক আদর্শ নীতি অনুসরণ করে গেছেন। শাসক-শোষক শ্রেণির শত নির্যাতন হয়রানি ও অপপ্রচারেও তিনি তার আদর্শ থেকে বিচ্যুত করতে হননি। তাঁর অন্যান্য সহকর্মীদের অনেকেই দেশত্যাগ করলেও তিনি জন্মভূমি ত্যাগ করে কোথাও যাননি। তিনি বলতেন ‘ভীরুরা সামান্য সুখের আশায় দুখিনী মা’কে ত্যাগ করে’। কিন্তু দুঃখের বিষয় সর্বত্যাগী এ রাজনীতিবিদকে এখন পর্যন্ত কোন রাষ্ট্রীয় পদকে ভূষিত করা হয়নি।

Print Friendly, PDF & Email
এ সংক্রান্ত আরও খবর

সর্বশেষ খবর



অন্যান্য খবর



সম্পাদক-প্রকাশক : রফিকুল ইসলাম আধার
উপদেষ্টা সম্পাদক : সোলায়মান খাঁন মজনু
নির্বাহী সম্পাদক : মোহাম্মদ জুবায়ের রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১ : ফারহানা পারভীন মুন্নী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : আলমগীর কিবরিয়া কামরুল
বার্তা সম্পাদক-১ : রেজাউল করিম বকুল
বার্তা সম্পাদক-২ : মোঃ ফরিদুজ্জামান।
যোগাযোগ : সম্পাদক : ০১৭২০০৭৯৪০৯
নির্বাহী সম্পাদক : ০১৯১২০৪৯৯৪৬
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১: ০১৭১৬৪৬২২৫৫
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : ০১৭১৪২৬১৩৫০
বার্তা সম্পাদক-১ : ০১৭১৩৫৬৪২২৫
বার্তা সম্পাদক -২ : ০১৯২১-৯৫৫৯০৬
বিজ্ঞাপন : ০১৭১২৮৫৩৩০৩
ইমেইল : shamolbangla2013@gmail.com.

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । ওয়েবসাইট তৈরি করেছে- BD iT Zone

error: Content is protected !!