রাত ৯:৫৭ | সোমবার | ৯ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং | ২৪শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বিপন্নের পথে বক

শ্যামলবাংলা ডেস্ক : দোয়েল, ফিঙে, ময়না, টিয়া-এরকম কিছু পাখি অতি পরিচিত। ছোটবেলা পাঠ্য পুস্তকের পাতা উল্টাতে উল্টাতে তাদের সাথে পরিচয় ঘটে যায়। তেমনই এক অতি পরিচিত পাখি বক। বাংলা সাহিত্যেও নান্দনিক এই পাখিটি গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে জীবনানন্দ দাশের কবিতায় আমরা খুঁজে পাই বাংলার ধবল বককে। তবে, শহরের আকাশের চেয়ে গ্রামে সচরাচর এই পাখির দেখা মিলে। খোলা হাওর, জলাশয় কিংবা ঘন বাঁশবনে অনেকটা নি:শব্দে এই পাখি দল বেঁধে বসে থাকে, সময় কাটায়। সন্ধ্যায় নীড়ে ফিরার সময় হলে একইভাবে আকাশে দলবেঁধে যেতে দেখা যায়। মাঘের শেষে এসে দক্ষিণ সুরমা কিংবা ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কের দুইপাশে বড় হাওর, কৃষি জমি কিংবা জলাশয়ে ঝাঁকে ঝাঁকে এখন দেখা মিলছে এই পাখির। দূর আকাশ থেকে ক্লান্তি নিয়ে দল বেঁধে যখন সবুজ ধানের ক্ষেতে এসে বসে তখন অপূর্ব এক শুভ্রতা ছড়িয়ে দেয় প্রকৃতিতে। বক দেখেছি প্রায় সবখানেই। সেই বক আজ কমে আসছে।
বক Ardeidae গোত্রের অন্তর্গত লম্বা পা বিশিষ্ট মিঠা পানির জলাশয় ও উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসকারী একটি জলচর পাখি। পৃথিবীতে ৬৫ প্রজাতির বক রয়েছে। এদের মধ্যে বাংলাদেশে ১৮ প্রজাতির বক পাওয়া যায়। যার মধ্যে ৫ টি বগা ( ছোট বগা, মাঝলা বগা, প্রশান্ত শৈল বগা, বড় বগা ও গো বগা) ৯ টি বক ( ধুপনি বক, দৈত্য বক, ধলপেট বক, লালচে বক, চীনাকানি বক, দেশি কানি বক, কালোমাথা নিশি বক, মালয়ি নিশি বক, ক্ষুদে নিশি বক) এবং ৪ টি বগলা ( খয়রা বগলা, হলদে বগলা, কালা বগলা, বাঘা বগলা)।
সারা পৃথিবীতে এদের বিচরণ থাকলেও নিরক্ষীয় ও ক্রান্তীয় অঞ্চলে এদের বেশি পাওয়া যায়। বক সাধারণত মাছ, ঝিনুক, কাঁকড়া, জলজ পোকা ইত্যাদি খেয়ে বেঁচে থাকে। খাল, বিল, পুকুর, হ্রদ, ঝিল, হাওড়- বাওড়, নদী, সমুদ্র উপকূল ইত্যাদি অঞ্চলেই এদের বসবাস। এছাড়া, বাঁশঝাড়, বাথান গড়েও এদের দলবদ্ধভাবে বাস করতে দেখা যায়। বর্ষার শুরুতে এরা একবারই প্রজনন করে। এরা একসাথে ২ থেকে ৫ টি ডিম দেয়। অবশ্য বগলা ডিমের সংখ্যা আরও বেশি। ডিম দেওয়ার সপ্তাহের ভেতর ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয় এবং সপ্তাহের ভেতর এরা উড়তে শেখে।
কিন্তু বর্তমানে আমাদের অতিপরিচিত নান্দনিক এই বক বিপন্নের পথে। মানুষ মাছখেকো পাখি বেশি খায় বলে দিন দিন বকের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে। ফাঁদ পেতে অবৈধভাবে বক শিকার, জমিতে কীটনাশক প্রয়োগ, নদী নালা, খাল-বিল ভরাট করে শহরায়ন, বৃক্ষ নিধন প্রভৃতি কারণে বাংলাদেশে বকের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। ” বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন” এর ১৯৭৪ এর ২৬ ধারা মতে, অবৈধভাবে পাখি শিকারের জন্য ২ বছরের সাজার বিধান রয়েছে। কিন্তু, আইন থাকা সত্ত্বেও শুধু উখিয়া নয়; চলনবিল, উল্লাপাড়া, শাহজাদপুর, চাটমোহর, ভাঙ্গুরা, সিংড়া, তাড়াস উপজেলা এবং সিলেট জেলাসহ বিভিন্ন স্থানে নির্বিচারে বক নিধন করা হচ্ছে। বক ধরার জন্য সবুজ ঘাস, প্যারাবন, জলাশয়, ধানক্ষেতের বিভিন্ন স্থানে ফাঁদগুলো পেতে রাখা হয়। এছাড়াও কিছু পোষা বকের মাধ্যমেও বকগুলোকে ফাঁদে এনে ফেলা হয়। বকগুলো গড়ে ৫০-৮০ টাকায় বিক্রি করা হয় স্থানীয় বাজারে।
এই ধরনের ঘটনা যে শুধু এক জায়গায় ঘটছে তা নয়, আমাদের জানা শোনার বাইরেও প্রতিদিন ঘটে চলেছে এই ধরনের নির্মম হত্যাকাণ্ড। বন্যপ্রাণী শিকার ও বিক্রয় আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু আইনের যথাযথ প্রয়োগ না থাকায় বর্তমানে বাংলাদেশে নির্বিচারে পাখি শিকার ও অবাধ বিক্রয় চলছে। এজন্য এই আইন যথাযথভাবে প্রয়োগের জন্য সরকার এবং জনগন উভয়কেই একসাথে এগিয়ে আসতে হবে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন কঠোরভাবে প্রণয়নের সাথে সাথে বকের জন্য অনুকূল আবাসস্থল বজায় রাখার দায়িত্বও আমাদের সকলের।
প্রকৃতির সম্পদ এই পাখিদের বাঁচিয়ে রাখতে হবে আমাদের নিজেদের স্বার্থে; আমাদের প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও সৌন্দর্য রক্ষার্থে। অন্যথায়, অনেক চেনা জানা পাখির মতো বকও একসময় আমাদের সুন্দর বাংলাদেশ থেকে হারিয়ে যাবে।

অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ খবর



» শ্রীবরদী সিআইজি মৎস্যচাষীদের মাঝে জাল বিতরণ

» নকলায় আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস পালিত

» ঝিনাইগাতীতে বেগম রোকেয়া দিবস পালিত

» শেরপুরে বেগম রোকেয়ার ১৩১তম জন্মদিন উপলক্ষে মহিলা পরিষদের আলোচনা সভা

» শেরপুরে বসুন্ধরা সিমেন্টের রিটেইলার সম্মেলন অনুষ্ঠিত

» আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে ৪ বছর নিষিদ্ধ রাশিয়া

» শ্রীলংকাকে হারিয়ে স্বর্ণ জিতল বাংলাদেশ

» ‘সম্মেলনের আগে মন্ত্রিসভায় পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই’

» শুধু আইন করে নারী নির্যাতন বন্ধ হবে না : প্রধানমন্ত্রী

» শ্রীবরদীতে পুলিশের বিশেষ শান্তি সমাবেশ অনুষ্ঠিত

» শ্রীবরদীতে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস পালিত

» শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসে জ্ঞানার্জনে, লাশ হতে নয়: রাষ্ট্রপতি

» শেরপুরে পদ্মা ব্যাংকের অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে ঋণগ্রহীতাদের মানববন্ধন

» শেরপুরে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের বিক্ষোভ সমাবেশ

» শেরপুরে দুর্নীতিবিরোধী দিবসে র‌্যালি, মানববন্ধন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

সম্পাদক-প্রকাশক : রফিকুল ইসলাম আধার
উপদেষ্টা সম্পাদক : সোলায়মান খাঁন মজনু
নির্বাহী সম্পাদক : মোহাম্মদ জুবায়ের রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১ : ফারহানা পারভীন মুন্নী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : আলমগীর কিবরিয়া কামরুল
বার্তা সম্পাদক-১ : রেজাউল করিম বকুল
বার্তা সম্পাদক-২ : মোঃ ফরিদুজ্জামান।
যোগাযোগ : সম্পাদক : ০১৭২০০৭৯৪০৯
নির্বাহী সম্পাদক : ০১৯১২০৪৯৯৪৬
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১: ০১৭১৬৪৬২২৫৫
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : ০১৭১৪২৬১৩৫০
বার্তা সম্পাদক-১ : ০১৭১৩৫৬৪২২৫
বার্তা সম্পাদক -২ : ০১৯২১-৯৫৫৯০৬
বিজ্ঞাপন : ০১৭১২৮৫৩৩০৩
ইমেইল : shamolbangla2013@gmail.com.

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । ওয়েবসাইট তৈরি করেছে- BD iT Zone

  রাত ৯:৫৭ | সোমবার | ৯ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং | ২৪শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বিপন্নের পথে বক

শ্যামলবাংলা ডেস্ক : দোয়েল, ফিঙে, ময়না, টিয়া-এরকম কিছু পাখি অতি পরিচিত। ছোটবেলা পাঠ্য পুস্তকের পাতা উল্টাতে উল্টাতে তাদের সাথে পরিচয় ঘটে যায়। তেমনই এক অতি পরিচিত পাখি বক। বাংলা সাহিত্যেও নান্দনিক এই পাখিটি গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে জীবনানন্দ দাশের কবিতায় আমরা খুঁজে পাই বাংলার ধবল বককে। তবে, শহরের আকাশের চেয়ে গ্রামে সচরাচর এই পাখির দেখা মিলে। খোলা হাওর, জলাশয় কিংবা ঘন বাঁশবনে অনেকটা নি:শব্দে এই পাখি দল বেঁধে বসে থাকে, সময় কাটায়। সন্ধ্যায় নীড়ে ফিরার সময় হলে একইভাবে আকাশে দলবেঁধে যেতে দেখা যায়। মাঘের শেষে এসে দক্ষিণ সুরমা কিংবা ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কের দুইপাশে বড় হাওর, কৃষি জমি কিংবা জলাশয়ে ঝাঁকে ঝাঁকে এখন দেখা মিলছে এই পাখির। দূর আকাশ থেকে ক্লান্তি নিয়ে দল বেঁধে যখন সবুজ ধানের ক্ষেতে এসে বসে তখন অপূর্ব এক শুভ্রতা ছড়িয়ে দেয় প্রকৃতিতে। বক দেখেছি প্রায় সবখানেই। সেই বক আজ কমে আসছে।
বক Ardeidae গোত্রের অন্তর্গত লম্বা পা বিশিষ্ট মিঠা পানির জলাশয় ও উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসকারী একটি জলচর পাখি। পৃথিবীতে ৬৫ প্রজাতির বক রয়েছে। এদের মধ্যে বাংলাদেশে ১৮ প্রজাতির বক পাওয়া যায়। যার মধ্যে ৫ টি বগা ( ছোট বগা, মাঝলা বগা, প্রশান্ত শৈল বগা, বড় বগা ও গো বগা) ৯ টি বক ( ধুপনি বক, দৈত্য বক, ধলপেট বক, লালচে বক, চীনাকানি বক, দেশি কানি বক, কালোমাথা নিশি বক, মালয়ি নিশি বক, ক্ষুদে নিশি বক) এবং ৪ টি বগলা ( খয়রা বগলা, হলদে বগলা, কালা বগলা, বাঘা বগলা)।
সারা পৃথিবীতে এদের বিচরণ থাকলেও নিরক্ষীয় ও ক্রান্তীয় অঞ্চলে এদের বেশি পাওয়া যায়। বক সাধারণত মাছ, ঝিনুক, কাঁকড়া, জলজ পোকা ইত্যাদি খেয়ে বেঁচে থাকে। খাল, বিল, পুকুর, হ্রদ, ঝিল, হাওড়- বাওড়, নদী, সমুদ্র উপকূল ইত্যাদি অঞ্চলেই এদের বসবাস। এছাড়া, বাঁশঝাড়, বাথান গড়েও এদের দলবদ্ধভাবে বাস করতে দেখা যায়। বর্ষার শুরুতে এরা একবারই প্রজনন করে। এরা একসাথে ২ থেকে ৫ টি ডিম দেয়। অবশ্য বগলা ডিমের সংখ্যা আরও বেশি। ডিম দেওয়ার সপ্তাহের ভেতর ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয় এবং সপ্তাহের ভেতর এরা উড়তে শেখে।
কিন্তু বর্তমানে আমাদের অতিপরিচিত নান্দনিক এই বক বিপন্নের পথে। মানুষ মাছখেকো পাখি বেশি খায় বলে দিন দিন বকের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে। ফাঁদ পেতে অবৈধভাবে বক শিকার, জমিতে কীটনাশক প্রয়োগ, নদী নালা, খাল-বিল ভরাট করে শহরায়ন, বৃক্ষ নিধন প্রভৃতি কারণে বাংলাদেশে বকের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। ” বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন” এর ১৯৭৪ এর ২৬ ধারা মতে, অবৈধভাবে পাখি শিকারের জন্য ২ বছরের সাজার বিধান রয়েছে। কিন্তু, আইন থাকা সত্ত্বেও শুধু উখিয়া নয়; চলনবিল, উল্লাপাড়া, শাহজাদপুর, চাটমোহর, ভাঙ্গুরা, সিংড়া, তাড়াস উপজেলা এবং সিলেট জেলাসহ বিভিন্ন স্থানে নির্বিচারে বক নিধন করা হচ্ছে। বক ধরার জন্য সবুজ ঘাস, প্যারাবন, জলাশয়, ধানক্ষেতের বিভিন্ন স্থানে ফাঁদগুলো পেতে রাখা হয়। এছাড়াও কিছু পোষা বকের মাধ্যমেও বকগুলোকে ফাঁদে এনে ফেলা হয়। বকগুলো গড়ে ৫০-৮০ টাকায় বিক্রি করা হয় স্থানীয় বাজারে।
এই ধরনের ঘটনা যে শুধু এক জায়গায় ঘটছে তা নয়, আমাদের জানা শোনার বাইরেও প্রতিদিন ঘটে চলেছে এই ধরনের নির্মম হত্যাকাণ্ড। বন্যপ্রাণী শিকার ও বিক্রয় আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু আইনের যথাযথ প্রয়োগ না থাকায় বর্তমানে বাংলাদেশে নির্বিচারে পাখি শিকার ও অবাধ বিক্রয় চলছে। এজন্য এই আইন যথাযথভাবে প্রয়োগের জন্য সরকার এবং জনগন উভয়কেই একসাথে এগিয়ে আসতে হবে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন কঠোরভাবে প্রণয়নের সাথে সাথে বকের জন্য অনুকূল আবাসস্থল বজায় রাখার দায়িত্বও আমাদের সকলের।
প্রকৃতির সম্পদ এই পাখিদের বাঁচিয়ে রাখতে হবে আমাদের নিজেদের স্বার্থে; আমাদের প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও সৌন্দর্য রক্ষার্থে। অন্যথায়, অনেক চেনা জানা পাখির মতো বকও একসময় আমাদের সুন্দর বাংলাদেশ থেকে হারিয়ে যাবে।

সর্বশেষ খবর



অন্যান্য খবর



সম্পাদক-প্রকাশক : রফিকুল ইসলাম আধার
উপদেষ্টা সম্পাদক : সোলায়মান খাঁন মজনু
নির্বাহী সম্পাদক : মোহাম্মদ জুবায়ের রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১ : ফারহানা পারভীন মুন্নী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : আলমগীর কিবরিয়া কামরুল
বার্তা সম্পাদক-১ : রেজাউল করিম বকুল
বার্তা সম্পাদক-২ : মোঃ ফরিদুজ্জামান।
যোগাযোগ : সম্পাদক : ০১৭২০০৭৯৪০৯
নির্বাহী সম্পাদক : ০১৯১২০৪৯৯৪৬
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১: ০১৭১৬৪৬২২৫৫
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : ০১৭১৪২৬১৩৫০
বার্তা সম্পাদক-১ : ০১৭১৩৫৬৪২২৫
বার্তা সম্পাদক -২ : ০১৯২১-৯৫৫৯০৬
বিজ্ঞাপন : ০১৭১২৮৫৩৩০৩
ইমেইল : shamolbangla2013@gmail.com.

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । ওয়েবসাইট তৈরি করেছে- BD iT Zone

error: Content is protected !!