রাত ২:১১ | বৃহস্পতিবার | ১২ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং | ২৭শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বন্যায় দক্ষিণ এশিয়ায় বহু মানুষের প্রাণহানি

শ্যামলবাংলা ডেস্ক : প্রবল বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ বাংলাদেশ, নেপাল ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। খবর বিবিসির। সোমবার নেপালের এক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছে, মৌসুমী বন্যার কবলে পড়ে এখন পর্যন্ত নেপালে মৃতের সংখ্যা ৬৫ জনে দাঁড়িয়েছে। কমপক্ষে ৩০ জন নিখোঁজ রয়েছেন ও আহত হয়েছেন ৩৮ জন।
বৃহস্পতিবার থেকে টানা বৃষ্টিতে নেপালের বহু এলাকা পানিতে ডুবে গেছে। এসব এলাকা থেকে প্রায় ১ হাজার ৪শ’ মানুষকে উদ্ধার করেছে নেপাল পুলিশ। প্রায় ১০ ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশটির বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি সেতু ও সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
টানা বৃষ্টিতে বাংলাদেশের কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। টানা বৃষ্টিপাতে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের শিবিরগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা পানিবন্দি হয়ে পেড়েছে। এছাড়া পাহাড় কেটে তাদের আবাসস্থল তৈরি করায় সেখানে ভূমিধসে মৃত্যুর ঝুঁকিও রয়েছে।
মিয়ানমার সরকারের নৃশংস সামরিক অভিযানের মুখে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা প্রায় ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী কক্সবাজারের শিবিরগুলোতে আশ্রয় নিয়ে আছে। চলতি মাসে ওই এলাকায় ৫৮ দশমিক পাঁচ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে বলে রবিবার আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে। এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় শ’খানেক ভূমিধসের ঘটনায় রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত সপ্তাহেও ভূমিধসে দুই রোহিঙ্গা শিশুর মৃত্যু হয়।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান সিএনএনকে বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের অভিন্ন নদী আছে। সেসব নদীর পানি বাংলাদেশে প্রবেশ করে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। এসব জেলার প্রায় ৪০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে।
এদিকে রয়টার্স জানিয়েছে, চীন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের ৩৩টি জেলার মধ্যে ২৮টি বন্যাকবলিত হয়েছে। এসব জেলার ১ হাজার ৮শ’ গ্রাম বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। বন্যায় এখন পর্যন্ত সেখানে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ১৫ লাখ মানুষ। আসামের পানি সম্পদমন্ত্রী কেশব মহান্ত জানান, রাজ্যের বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটছে।
এদিকে ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্য বিহারে বন্যায় এখন পর্যন্ত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিহার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রত্যয় অমৃত বলেন, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। রাজ্যের ১২টি জেলার মোট ১৯ লাখ ৬০ হাজার মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিহারে প্রায় ৪৬ হাজার মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা কাজ করছে। এদিকে এই তিন দেশেই আগামী কয়েকদিন ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে বলে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে। প্রতি বছর জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বর্ষা মৌসুমে দক্ষিণ এশিয়ার এ অঞ্চলগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
বিবিসি লিখেছে, গত বছর এ অঞ্চলে ঝড় ও ভূমিধসে অন্তত ১২০০ মানুষের প্রাণ যায়। ভারতের কেরালা রাজ্য এক শতাব্দির মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যার মুখোমুখি হয়।

অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ খবর



» ‘বাল্যবিবাহ মুক্ত ময়মনসিংহ বিভাগ’ বাস্তবায়নে র‌্যালি-মানববন্ধন, গণস্বাক্ষর ও শপথ গ্রহণ

» মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধ করতে হবে : মিলার

» ইমরুল তাণ্ডবে চট্টগ্রামের শুভ সূচনা

» ‘মুজিব বর্ষ’ উদযাপন উপলক্ষে শেরপুরে বাল্যবিবাহ বিরোধী গণস্বাক্ষর ও মানববন্ধন

» শ্রীবরদীতে বাল্য বিয়ে প্রতিরোধে শপথ নিলেন ১০ সহস্রাধিক মানুষ

» নকলায় বাল্যবিবাহ বিরোধী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

» বসলো পদ্মা সেতুর ১৮তম স্প্যান, দৃশ্যমান ২ হাজার ৭০০ মিটার

» বঙ্গবন্ধু বিপিএল : উদ্বোধনী ম্যাচে টসে জিতে ফিল্ডিংয়ে চট্টগ্রাম

» ইন্টারকে বিদায় করে দিল মেসিবিহীন বার্সা

» মানবতাবিরোধী অপরাধে টিপু রাজাকারের ফাঁসির রায়

» আন্তর্জাতিক আদালতে মিয়ানমারের বিচার শুরু

» শেরপুরে বিশ্ব মানবাধিকার দিবসে মহিলা পরিষদের মানববন্ধন

» এস কে সিনহার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল

» ৫ম স্থানে থেকে এসএ গেমস শেষ করলো বাংলাদেশ

» নীলা আলম’র পদ্য ‘ক্ষুধিত প্রাণ’

সম্পাদক-প্রকাশক : রফিকুল ইসলাম আধার
উপদেষ্টা সম্পাদক : সোলায়মান খাঁন মজনু
নির্বাহী সম্পাদক : মোহাম্মদ জুবায়ের রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১ : ফারহানা পারভীন মুন্নী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : আলমগীর কিবরিয়া কামরুল
বার্তা সম্পাদক-১ : রেজাউল করিম বকুল
বার্তা সম্পাদক-২ : মোঃ ফরিদুজ্জামান।
যোগাযোগ : সম্পাদক : ০১৭২০০৭৯৪০৯
নির্বাহী সম্পাদক : ০১৯১২০৪৯৯৪৬
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১: ০১৭১৬৪৬২২৫৫
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : ০১৭১৪২৬১৩৫০
বার্তা সম্পাদক-১ : ০১৭১৩৫৬৪২২৫
বার্তা সম্পাদক -২ : ০১৯২১-৯৫৫৯০৬
বিজ্ঞাপন : ০১৭১২৮৫৩৩০৩
ইমেইল : shamolbangla2013@gmail.com.

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । ওয়েবসাইট তৈরি করেছে- BD iT Zone

  রাত ২:১১ | বৃহস্পতিবার | ১২ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং | ২৭শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বন্যায় দক্ষিণ এশিয়ায় বহু মানুষের প্রাণহানি

শ্যামলবাংলা ডেস্ক : প্রবল বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ বাংলাদেশ, নেপাল ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। খবর বিবিসির। সোমবার নেপালের এক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছে, মৌসুমী বন্যার কবলে পড়ে এখন পর্যন্ত নেপালে মৃতের সংখ্যা ৬৫ জনে দাঁড়িয়েছে। কমপক্ষে ৩০ জন নিখোঁজ রয়েছেন ও আহত হয়েছেন ৩৮ জন।
বৃহস্পতিবার থেকে টানা বৃষ্টিতে নেপালের বহু এলাকা পানিতে ডুবে গেছে। এসব এলাকা থেকে প্রায় ১ হাজার ৪শ’ মানুষকে উদ্ধার করেছে নেপাল পুলিশ। প্রায় ১০ ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশটির বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি সেতু ও সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
টানা বৃষ্টিতে বাংলাদেশের কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। টানা বৃষ্টিপাতে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের শিবিরগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা পানিবন্দি হয়ে পেড়েছে। এছাড়া পাহাড় কেটে তাদের আবাসস্থল তৈরি করায় সেখানে ভূমিধসে মৃত্যুর ঝুঁকিও রয়েছে।
মিয়ানমার সরকারের নৃশংস সামরিক অভিযানের মুখে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা প্রায় ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী কক্সবাজারের শিবিরগুলোতে আশ্রয় নিয়ে আছে। চলতি মাসে ওই এলাকায় ৫৮ দশমিক পাঁচ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে বলে রবিবার আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে। এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় শ’খানেক ভূমিধসের ঘটনায় রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত সপ্তাহেও ভূমিধসে দুই রোহিঙ্গা শিশুর মৃত্যু হয়।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান সিএনএনকে বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের অভিন্ন নদী আছে। সেসব নদীর পানি বাংলাদেশে প্রবেশ করে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। এসব জেলার প্রায় ৪০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে।
এদিকে রয়টার্স জানিয়েছে, চীন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের ৩৩টি জেলার মধ্যে ২৮টি বন্যাকবলিত হয়েছে। এসব জেলার ১ হাজার ৮শ’ গ্রাম বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। বন্যায় এখন পর্যন্ত সেখানে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ১৫ লাখ মানুষ। আসামের পানি সম্পদমন্ত্রী কেশব মহান্ত জানান, রাজ্যের বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটছে।
এদিকে ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্য বিহারে বন্যায় এখন পর্যন্ত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিহার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রত্যয় অমৃত বলেন, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। রাজ্যের ১২টি জেলার মোট ১৯ লাখ ৬০ হাজার মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিহারে প্রায় ৪৬ হাজার মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা কাজ করছে। এদিকে এই তিন দেশেই আগামী কয়েকদিন ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে বলে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে। প্রতি বছর জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বর্ষা মৌসুমে দক্ষিণ এশিয়ার এ অঞ্চলগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
বিবিসি লিখেছে, গত বছর এ অঞ্চলে ঝড় ও ভূমিধসে অন্তত ১২০০ মানুষের প্রাণ যায়। ভারতের কেরালা রাজ্য এক শতাব্দির মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যার মুখোমুখি হয়।

সর্বশেষ খবর



অন্যান্য খবর



সম্পাদক-প্রকাশক : রফিকুল ইসলাম আধার
উপদেষ্টা সম্পাদক : সোলায়মান খাঁন মজনু
নির্বাহী সম্পাদক : মোহাম্মদ জুবায়ের রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১ : ফারহানা পারভীন মুন্নী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : আলমগীর কিবরিয়া কামরুল
বার্তা সম্পাদক-১ : রেজাউল করিম বকুল
বার্তা সম্পাদক-২ : মোঃ ফরিদুজ্জামান।
যোগাযোগ : সম্পাদক : ০১৭২০০৭৯৪০৯
নির্বাহী সম্পাদক : ০১৯১২০৪৯৯৪৬
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১: ০১৭১৬৪৬২২৫৫
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : ০১৭১৪২৬১৩৫০
বার্তা সম্পাদক-১ : ০১৭১৩৫৬৪২২৫
বার্তা সম্পাদক -২ : ০১৯২১-৯৫৫৯০৬
বিজ্ঞাপন : ০১৭১২৮৫৩৩০৩
ইমেইল : shamolbangla2013@gmail.com.

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । ওয়েবসাইট তৈরি করেছে- BD iT Zone

error: Content is protected !!