প্রকাশকাল: 15 জুলাই, 2019

বন্যায় দক্ষিণ এশিয়ায় বহু মানুষের প্রাণহানি

শ্যামলবাংলা ডেস্ক : প্রবল বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ বাংলাদেশ, নেপাল ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। খবর বিবিসির। সোমবার নেপালের এক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছে, মৌসুমী বন্যার কবলে পড়ে এখন পর্যন্ত নেপালে মৃতের সংখ্যা ৬৫ জনে দাঁড়িয়েছে। কমপক্ষে ৩০ জন নিখোঁজ রয়েছেন ও আহত হয়েছেন ৩৮ জন।
বৃহস্পতিবার থেকে টানা বৃষ্টিতে নেপালের বহু এলাকা পানিতে ডুবে গেছে। এসব এলাকা থেকে প্রায় ১ হাজার ৪শ’ মানুষকে উদ্ধার করেছে নেপাল পুলিশ। প্রায় ১০ ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশটির বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি সেতু ও সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
টানা বৃষ্টিতে বাংলাদেশের কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। টানা বৃষ্টিপাতে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের শিবিরগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা পানিবন্দি হয়ে পেড়েছে। এছাড়া পাহাড় কেটে তাদের আবাসস্থল তৈরি করায় সেখানে ভূমিধসে মৃত্যুর ঝুঁকিও রয়েছে।
মিয়ানমার সরকারের নৃশংস সামরিক অভিযানের মুখে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা প্রায় ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী কক্সবাজারের শিবিরগুলোতে আশ্রয় নিয়ে আছে। চলতি মাসে ওই এলাকায় ৫৮ দশমিক পাঁচ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে বলে রবিবার আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে। এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় শ’খানেক ভূমিধসের ঘটনায় রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত সপ্তাহেও ভূমিধসে দুই রোহিঙ্গা শিশুর মৃত্যু হয়।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান সিএনএনকে বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের অভিন্ন নদী আছে। সেসব নদীর পানি বাংলাদেশে প্রবেশ করে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। এসব জেলার প্রায় ৪০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে।
এদিকে রয়টার্স জানিয়েছে, চীন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের ৩৩টি জেলার মধ্যে ২৮টি বন্যাকবলিত হয়েছে। এসব জেলার ১ হাজার ৮শ’ গ্রাম বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। বন্যায় এখন পর্যন্ত সেখানে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ১৫ লাখ মানুষ। আসামের পানি সম্পদমন্ত্রী কেশব মহান্ত জানান, রাজ্যের বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটছে।
এদিকে ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্য বিহারে বন্যায় এখন পর্যন্ত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিহার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রত্যয় অমৃত বলেন, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। রাজ্যের ১২টি জেলার মোট ১৯ লাখ ৬০ হাজার মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিহারে প্রায় ৪৬ হাজার মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা কাজ করছে। এদিকে এই তিন দেশেই আগামী কয়েকদিন ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে বলে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে। প্রতি বছর জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বর্ষা মৌসুমে দক্ষিণ এশিয়ার এ অঞ্চলগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
বিবিসি লিখেছে, গত বছর এ অঞ্চলে ঝড় ও ভূমিধসে অন্তত ১২০০ মানুষের প্রাণ যায়। ভারতের কেরালা রাজ্য এক শতাব্দির মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যার মুখোমুখি হয়।

আপনার মতামত দিন

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

error: Content is protected !!