সকাল ৮:৩০ | বুধবার | ৫ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রী মোদির লাদাখ সফর যথাস্থানেই আঘাত

শ্যামলবাংলা ডেস্ক : লাদাখ সীমান্তে সীমা লঙ্ঘনের পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের জোরালো ও যথাযথ পদক্ষেপে যারপরনাই কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছে চীন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজেই এই ড্রাগনকে (চীন) পিছু হটতে ভারতের সর্বাত্মক পদক্ষেপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ভারতীয় সেনাদের মনোবল বাড়াতে লেহ সীমান্ত অঞ্চলে প্রধানমন্ত্রী মোদির আচমকা সফরের পর চীনা কর্মকর্তারা প্রতিক্রিয়া দেখানোর শক্তি হারিয়ে তারা এই সফরকে এখন হজম করার চেষ্টা করছেন। ১৫ জুন গালওয়ানে অবৈধভাবে ঢোকা চীনা সেনাদের হাতে ২০ ভারতীয় সেনা নিহত হওয়ার পর এই প্রথম বিপাকে পড়তে দেখা গেল তাদের।
বিশ্বজুড়ে চীনবিরোধী মনোভাব বৃদ্ধির বিষয়টিও প্রধানমন্ত্রী মোদি আমলে নিয়েছেন। কভিড-পরবর্তী বিশ্বে চীন লজ্জার মুখে পড়তে যাচ্ছে। এক কথায়, লাদাখের আগ্রাসনকে চীনের বৈশ্বিক সম্প্রসারণবাদের পরিকল্পনা হিসেবে চীনবিরোধী মনোভাবের সঙ্গে সুনির্দিষ্টভাবে যুক্ত করতে পেরেছেন তিনি।
লেহ সীমান্তে উপস্থিত হয়ে নাম উচ্চারণ না করেই চীনকে সাবধান করেছেন মোদি। সেখানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘সম্প্রসারণবাদের আমল শেষ, এখন উন্নয়নবাদের সময়। ইতিহাস সাক্ষী, সম্প্রসারণবাদী নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে অথবা পাততাড়ি গোটাতে বাধ্য হয়েছে।’ এতটুকু বলেই শেষ করেন তিনি। মোদি বলেন, ‘দুর্বলেরা কখনও শান্তি আনতে পারে না, সাহসীরাই পারে।’

img-add

সম্প্রসারণবাদের উদাহরণকে তুলে ধরে কৌশলগত আঘাত হেনেছেন মোদি। এটি শুধু লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোলের (এলএসি) লাদাখে ভারতীয় অংশে চীনের অবৈধ প্রবেশের ঘটনাকে তুলে ধরে না, বরং সীমান্ত নিয়ে যেসব দেশের সঙ্গে চীনের বিরোধ রয়েছে, সেসব প্রতিবেশির অবস্থাকে ইঙ্গিত করে। এক বাক্যে বলতে গেলে, সীমান্ত বিরোধ ইস্যুতে চীনকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে চান মোদি। ভারতসহ ২১টি দেশ ও অঞ্চল চীনের অবৈধ তৎপরতার শিকার।
মোদির লাদাখ সফরের দিন থেকে চুপচাপ রয়েছে চীন। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চীন সমর্থকরা নীরব। ওইদিন দুপুর নাগাদ এক বিবৃতির মাধ্যমে মুখ খোলে দেশটি। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান তাতে বলেন, ‘সামরিক ও কূটনৈতিক চ্যানেলে যোগাযোগ ও সমঝোতার মাধ্যমে উত্তেজনা প্রশমিত করতে কাজ করছে ভারত ও চীন। এ অবস্থায় কোনো পক্ষেরই এমন কোনো কাজ করা উচিত নয়, যাতে পরিস্থিতির অবনতি হয়।’
২১ ভারতীয় সেনাকে হত্যার পরের দিন যে ধরনের বক্তব্য দিয়েছিল চীন, তার সঙ্গে চীনের এই সূক্ষ্ণ, পশ্চাদমুখী ও নিরপেক্ষা বার্তার সঙ্গে মিল রয়েছে। পিপলস লিবারেশন আর্মির ওয়েস্টার্ন কমান্ড থিয়েটারের মুখপাত্র ঝাং শিউলি বলেছিলেন, ‘গালওয়ান ভ্যালি সব সময়ই চীনের সার্বভৌমত্বের অংশ।’ দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাওও একই ভাষা ব্যবহার করেছেন, যা সাধারণ কূটনৈতিক পর্যায়ে শোনা যায় না। তিনি ভারতীয় সেনাদের ‘সাহসী কর্মকাণ্ডকে’ দায়ী করেছেন, যা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিচালনার মৌলিক ভিত্তিকে ক্ষুণ্ণ করেছে। তিনি ভারতীয় কর্মকাণ্ডকে এভাবে ব্যাখ্যা করেছেন, তারা হীন প্রকৃতি এবং এর কঠিন পরিণতি রয়েছে।
মোদির সীমান্ত সফর নিয়ে এ ধরনের কোনো বেফাঁস মন্তব্য করেনি চীন। তবে ১৫ জুনের সংঘাতের পর চীনের ৫৯টি অ্যাপ ভারত বন্ধ করে দেওয়ার পর ভেবেচিন্তে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে চীন। এ সম্পর্কে ঝাও বলেন, ‘চীন গভীরভাবে উদ্বিগ্ন ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।’ সুর নরম করে তিনি আরও বলেন, আমরা জোর দিয়ে বলছি, চীনা ব্যবসায়ীদের আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় আইন মেনে চলতে চীন সরকার সবসময় জোর দেয়। চীনসহ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার দায়িত্ব ভারতের রয়েছে। চীন অবশ্যই শক্তিশালী একটি পক্ষ। তবে তার অপকৌশলও রয়েছে। ভারত গত এক সপ্তাহে এ বিষয়টি সামনে এনেছে। মোদির লেহ সফরে তাদের এই চেহারা আরও সামনে এসেছে।
সীমান্তে মুখোমুখি অবস্থানকে কেন্দ্র করে গত এক সপ্তাহে কূটনৈতিক, সামরিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে ভারত যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তার মাশুল দিতে হচ্ছে চীনকে। উল্লেখযোগ্যভাবে বলতে গেলে, চীন অন্তত বুঝতে পেরেছে এই সময় ভারত মানেই ব্যবসার ক্ষেত্র।
এতদিন হংকংয়ের বিক্ষোভ নিয়ে ভারত চীনের পক্ষে বা বিপক্ষে কোনো অবস্থান নেয়নি। এবার হংকংয়ে জাতীয় নিরাপত্তা আইন আরোপের পর হংকংবাসীর গণতন্ত্রের দাবির পক্ষে এবং চীনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিপক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছে নয়াদিল্লি।
জাতিসংঘ হাইকমিশনারের কাছে কভিড-১৯ পরিস্থিতিতে মানবাধিকার বিষয়ে দেওয়া রিপোর্টে চীনের আরোপিত নতুন নিরাপত্তা আইনের বিষয়টি তুলে ধরেছে। জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি রাজীব চানদার বলেছেন, চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হংকংয়ে ভারতীয় কমিউনিটির কথা বিবেচনায় নিয়ে সেখানকার সাম্প্রতিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে ভারত।
প্রধানমন্ত্রী মোদির বক্তব্য ও লেহ সফর সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলোর মধ্যে অন্যতম, যেখানে ভারতের অভ্যন্তরে একটি বিষয় বারবার উঠে আসছে যে, চীন সঠিক পথে নেই। সীমান্তে চীন যেন আর না এগোয়, সেজন্য লাদাখে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করছে ভারত। একই সঙ্গে স্বাধীনভাবে চীনা প্রতিষ্ঠানের সরাসরি বিনিয়োগ (এফডিএ) বন্ধ করে দিয়েছে ভারত। করোনার উৎস ও বিস্তার সম্পর্কে আন্তর্জাতিক তদন্তের জন্য ভারত একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে। উত্তর প্রদেশে রেলওয়ের জন্য সিগন্যা ও টেলিকম বিষয়ক বিশাল চুক্তি বাতিল করেছে ভারতের রেলওয়ে মন্ত্রণালয়। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ও চীন থেকে আমদানি বন্ধের বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। আঞ্চলিক সরকারগুলোও কেন্দ্রীয় সরকারকে অনুসরণ করে চীনা পণ্য আমদানি বন্ধের দিকে যাচ্ছে। চীনা কোম্পানির সঙ্গে মহারাষ্ট্র সরকার পাঁচ হাজার কোটি রুপির একটি চুক্তি বাতিল করেছে। ভারত এখন রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক, বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক বৃদ্ধি করছে। চীনের ৫৯টি অ্যাপ বন্ধ করার পরের দিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও ভারতের এই পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। জাপানের সঙ্গেও পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্ক বাড়াচ্ছে নয়াদিল্লি।

Print Friendly, PDF & Email
এ সংক্রান্ত আরও খবর

অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ খবর



» শেরপুরে পৃথক ঘটনায় একদিনে পাঁচ শিশুসহ ৭ জনের মৃত্যু

» ঝিনাইগাতীতে ফাঁসিতে ঝুলে কৃষকের আত্মহত্যা

» নালিতাবাড়ীতে ইজিবাইকের চাপায় শিশুর মৃত্যু

» শ্রীবরদীতে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

» নালিতাবাড়ীতে নিখোঁজের ১২ ঘন্টা পর ১০ মাসের শিশুর লাশ উদ্ধার

» শেরপুরে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু

» সিনহা রাশেদের মাকে প্রধানমন্ত্রীর ফোন, বিচারের আশ্বাস

» জামালপুরে পানিতে ডুবে ৩ শিশুর মৃত্যু

» শেরপুরে বন্যার্তদের মধ্যে প্রথম আলোর পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ

» দেশে করোনায় আরও ৫০ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১৯১৮

» ঝিনাইগাতীতে বজ্রপাতে স্কুলছাত্রীর মৃত্যু

» শেরপুরে অনলাইন নিউজপোর্টাল কালেরডাক২৪ডটকম’র উদ্বোধন করলেন হুইপ আতিক

» শেরপুরে সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন জেলা প্রশাসক

» নালিতাবাড়ীতে শ্বশুরবাড়ি থেকে জামাইয়ের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

» নালিতাবাড়ীতে বজ্রপাতে কলেজছাত্রের মৃত্যু

সম্পাদক-প্রকাশক : রফিকুল ইসলাম আধার
উপদেষ্টা সম্পাদক : সোলায়মান খাঁন মজনু
নির্বাহী সম্পাদক : মোহাম্মদ জুবায়ের রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১ : ফারহানা পারভীন মুন্নী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : আলমগীর কিবরিয়া কামরুল
বার্তা সম্পাদক-১ : রেজাউল করিম বকুল
বার্তা সম্পাদক-২ : মোঃ ফরিদুজ্জামান।
যোগাযোগ : সম্পাদক : ০১৭২০০৭৯৪০৯
নির্বাহী সম্পাদক : ০১৯১২০৪৯৯৪৬
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১: ০১৭১৬৪৬২২৫৫
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : ০১৭১৪২৬১৩৫০
বার্তা সম্পাদক-১ : ০১৭১৩৫৬৪২২৫
বার্তা সম্পাদক -২ : ০১৯২১-৯৫৫৯০৬
বিজ্ঞাপন : ০১৭১২৮৫৩৩০৩
ইমেইল : shamolbangla2013@gmail.com.

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । ওয়েবসাইট তৈরি করেছে- BD iT Zone

  সকাল ৮:৩০ | বুধবার | ৫ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রী মোদির লাদাখ সফর যথাস্থানেই আঘাত

শ্যামলবাংলা ডেস্ক : লাদাখ সীমান্তে সীমা লঙ্ঘনের পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের জোরালো ও যথাযথ পদক্ষেপে যারপরনাই কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছে চীন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজেই এই ড্রাগনকে (চীন) পিছু হটতে ভারতের সর্বাত্মক পদক্ষেপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ভারতীয় সেনাদের মনোবল বাড়াতে লেহ সীমান্ত অঞ্চলে প্রধানমন্ত্রী মোদির আচমকা সফরের পর চীনা কর্মকর্তারা প্রতিক্রিয়া দেখানোর শক্তি হারিয়ে তারা এই সফরকে এখন হজম করার চেষ্টা করছেন। ১৫ জুন গালওয়ানে অবৈধভাবে ঢোকা চীনা সেনাদের হাতে ২০ ভারতীয় সেনা নিহত হওয়ার পর এই প্রথম বিপাকে পড়তে দেখা গেল তাদের।
বিশ্বজুড়ে চীনবিরোধী মনোভাব বৃদ্ধির বিষয়টিও প্রধানমন্ত্রী মোদি আমলে নিয়েছেন। কভিড-পরবর্তী বিশ্বে চীন লজ্জার মুখে পড়তে যাচ্ছে। এক কথায়, লাদাখের আগ্রাসনকে চীনের বৈশ্বিক সম্প্রসারণবাদের পরিকল্পনা হিসেবে চীনবিরোধী মনোভাবের সঙ্গে সুনির্দিষ্টভাবে যুক্ত করতে পেরেছেন তিনি।
লেহ সীমান্তে উপস্থিত হয়ে নাম উচ্চারণ না করেই চীনকে সাবধান করেছেন মোদি। সেখানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘সম্প্রসারণবাদের আমল শেষ, এখন উন্নয়নবাদের সময়। ইতিহাস সাক্ষী, সম্প্রসারণবাদী নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে অথবা পাততাড়ি গোটাতে বাধ্য হয়েছে।’ এতটুকু বলেই শেষ করেন তিনি। মোদি বলেন, ‘দুর্বলেরা কখনও শান্তি আনতে পারে না, সাহসীরাই পারে।’

img-add

সম্প্রসারণবাদের উদাহরণকে তুলে ধরে কৌশলগত আঘাত হেনেছেন মোদি। এটি শুধু লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোলের (এলএসি) লাদাখে ভারতীয় অংশে চীনের অবৈধ প্রবেশের ঘটনাকে তুলে ধরে না, বরং সীমান্ত নিয়ে যেসব দেশের সঙ্গে চীনের বিরোধ রয়েছে, সেসব প্রতিবেশির অবস্থাকে ইঙ্গিত করে। এক বাক্যে বলতে গেলে, সীমান্ত বিরোধ ইস্যুতে চীনকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে চান মোদি। ভারতসহ ২১টি দেশ ও অঞ্চল চীনের অবৈধ তৎপরতার শিকার।
মোদির লাদাখ সফরের দিন থেকে চুপচাপ রয়েছে চীন। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চীন সমর্থকরা নীরব। ওইদিন দুপুর নাগাদ এক বিবৃতির মাধ্যমে মুখ খোলে দেশটি। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান তাতে বলেন, ‘সামরিক ও কূটনৈতিক চ্যানেলে যোগাযোগ ও সমঝোতার মাধ্যমে উত্তেজনা প্রশমিত করতে কাজ করছে ভারত ও চীন। এ অবস্থায় কোনো পক্ষেরই এমন কোনো কাজ করা উচিত নয়, যাতে পরিস্থিতির অবনতি হয়।’
২১ ভারতীয় সেনাকে হত্যার পরের দিন যে ধরনের বক্তব্য দিয়েছিল চীন, তার সঙ্গে চীনের এই সূক্ষ্ণ, পশ্চাদমুখী ও নিরপেক্ষা বার্তার সঙ্গে মিল রয়েছে। পিপলস লিবারেশন আর্মির ওয়েস্টার্ন কমান্ড থিয়েটারের মুখপাত্র ঝাং শিউলি বলেছিলেন, ‘গালওয়ান ভ্যালি সব সময়ই চীনের সার্বভৌমত্বের অংশ।’ দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাওও একই ভাষা ব্যবহার করেছেন, যা সাধারণ কূটনৈতিক পর্যায়ে শোনা যায় না। তিনি ভারতীয় সেনাদের ‘সাহসী কর্মকাণ্ডকে’ দায়ী করেছেন, যা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিচালনার মৌলিক ভিত্তিকে ক্ষুণ্ণ করেছে। তিনি ভারতীয় কর্মকাণ্ডকে এভাবে ব্যাখ্যা করেছেন, তারা হীন প্রকৃতি এবং এর কঠিন পরিণতি রয়েছে।
মোদির সীমান্ত সফর নিয়ে এ ধরনের কোনো বেফাঁস মন্তব্য করেনি চীন। তবে ১৫ জুনের সংঘাতের পর চীনের ৫৯টি অ্যাপ ভারত বন্ধ করে দেওয়ার পর ভেবেচিন্তে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে চীন। এ সম্পর্কে ঝাও বলেন, ‘চীন গভীরভাবে উদ্বিগ্ন ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।’ সুর নরম করে তিনি আরও বলেন, আমরা জোর দিয়ে বলছি, চীনা ব্যবসায়ীদের আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় আইন মেনে চলতে চীন সরকার সবসময় জোর দেয়। চীনসহ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার দায়িত্ব ভারতের রয়েছে। চীন অবশ্যই শক্তিশালী একটি পক্ষ। তবে তার অপকৌশলও রয়েছে। ভারত গত এক সপ্তাহে এ বিষয়টি সামনে এনেছে। মোদির লেহ সফরে তাদের এই চেহারা আরও সামনে এসেছে।
সীমান্তে মুখোমুখি অবস্থানকে কেন্দ্র করে গত এক সপ্তাহে কূটনৈতিক, সামরিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে ভারত যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তার মাশুল দিতে হচ্ছে চীনকে। উল্লেখযোগ্যভাবে বলতে গেলে, চীন অন্তত বুঝতে পেরেছে এই সময় ভারত মানেই ব্যবসার ক্ষেত্র।
এতদিন হংকংয়ের বিক্ষোভ নিয়ে ভারত চীনের পক্ষে বা বিপক্ষে কোনো অবস্থান নেয়নি। এবার হংকংয়ে জাতীয় নিরাপত্তা আইন আরোপের পর হংকংবাসীর গণতন্ত্রের দাবির পক্ষে এবং চীনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিপক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছে নয়াদিল্লি।
জাতিসংঘ হাইকমিশনারের কাছে কভিড-১৯ পরিস্থিতিতে মানবাধিকার বিষয়ে দেওয়া রিপোর্টে চীনের আরোপিত নতুন নিরাপত্তা আইনের বিষয়টি তুলে ধরেছে। জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি রাজীব চানদার বলেছেন, চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হংকংয়ে ভারতীয় কমিউনিটির কথা বিবেচনায় নিয়ে সেখানকার সাম্প্রতিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে ভারত।
প্রধানমন্ত্রী মোদির বক্তব্য ও লেহ সফর সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলোর মধ্যে অন্যতম, যেখানে ভারতের অভ্যন্তরে একটি বিষয় বারবার উঠে আসছে যে, চীন সঠিক পথে নেই। সীমান্তে চীন যেন আর না এগোয়, সেজন্য লাদাখে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করছে ভারত। একই সঙ্গে স্বাধীনভাবে চীনা প্রতিষ্ঠানের সরাসরি বিনিয়োগ (এফডিএ) বন্ধ করে দিয়েছে ভারত। করোনার উৎস ও বিস্তার সম্পর্কে আন্তর্জাতিক তদন্তের জন্য ভারত একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে। উত্তর প্রদেশে রেলওয়ের জন্য সিগন্যা ও টেলিকম বিষয়ক বিশাল চুক্তি বাতিল করেছে ভারতের রেলওয়ে মন্ত্রণালয়। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ও চীন থেকে আমদানি বন্ধের বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। আঞ্চলিক সরকারগুলোও কেন্দ্রীয় সরকারকে অনুসরণ করে চীনা পণ্য আমদানি বন্ধের দিকে যাচ্ছে। চীনা কোম্পানির সঙ্গে মহারাষ্ট্র সরকার পাঁচ হাজার কোটি রুপির একটি চুক্তি বাতিল করেছে। ভারত এখন রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক, বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক বৃদ্ধি করছে। চীনের ৫৯টি অ্যাপ বন্ধ করার পরের দিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও ভারতের এই পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। জাপানের সঙ্গেও পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্ক বাড়াচ্ছে নয়াদিল্লি।

Print Friendly, PDF & Email
এ সংক্রান্ত আরও খবর

সর্বশেষ খবর



অন্যান্য খবর



সম্পাদক-প্রকাশক : রফিকুল ইসলাম আধার
উপদেষ্টা সম্পাদক : সোলায়মান খাঁন মজনু
নির্বাহী সম্পাদক : মোহাম্মদ জুবায়ের রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১ : ফারহানা পারভীন মুন্নী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : আলমগীর কিবরিয়া কামরুল
বার্তা সম্পাদক-১ : রেজাউল করিম বকুল
বার্তা সম্পাদক-২ : মোঃ ফরিদুজ্জামান।
যোগাযোগ : সম্পাদক : ০১৭২০০৭৯৪০৯
নির্বাহী সম্পাদক : ০১৯১২০৪৯৯৪৬
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১: ০১৭১৬৪৬২২৫৫
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : ০১৭১৪২৬১৩৫০
বার্তা সম্পাদক-১ : ০১৭১৩৫৬৪২২৫
বার্তা সম্পাদক -২ : ০১৯২১-৯৫৫৯০৬
বিজ্ঞাপন : ০১৭১২৮৫৩৩০৩
ইমেইল : shamolbangla2013@gmail.com.

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । ওয়েবসাইট তৈরি করেছে- BD iT Zone

error: Content is protected !!