বিকাল ৫:৩৮ | সোমবার | ৬ই এপ্রিল, ২০২০ ইং | ২৩শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির সমীকরণে ২০১৯ : রফিকুল ইসলাম আধার

আশাজাগানিয়া জাতির অনেক প্রত্যাশা নিয়েই শুরু হয়েছিলো খ্রিস্টবর্ষ ২০১৯ এর যাত্রা। ইতোমধ্যে পৃথিবীর ঘুর্ণায়মান চাকায় প্রত্যাশার সেই বছরটি কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে। আর এর মধ্য দিয়ে জাতি হিসেব করছে সেই বছরটিতে প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির সমীকরণ। তবে এ কথা নির্দ্বিধায় স্বীকার করা যায় যে, গেল বছরে আমাদের জাতীয় বা রাষ্ট্রীয় জীবনে নানা বিপদসঙ্কুল অবস্থা ও সমস্যা মোকাবেলার পরও সফলতার পাল্লা অনেকটাই ভারি। যে কারণে স্বাধীন বাংলার স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য তনয়া সফল রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার হাত ধরে প্রিয় স্বদেশ এগিয়ে যাচ্ছে দুর্বার গতিতে। বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ দাঁড়িয়েছে মাথা উঁচু করে। তবে আজকের নিবন্ধে শেরপুরবাসীর প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির সমীকরণ নিয়ে আলোকপাত করতে চাই।
২০১৯ এর প্রথম সপ্তাহে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন চতুর্থ দফা সরকারের যাত্রা শুরু হলেও এবারই প্রথম শেরপুরবাসী মন্ত্রীত্বশূন্য থাকে। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর অন্যতম সদস্য, শেরপুর-২ (নালিতাবাড়ী-নকলা) নির্বাচনী এলাকা থেকে পঞ্চম দফায় নির্বাচিত সংসদ সদস্য, সাবেক সফল কৃষিমন্ত্রী, বাংলার অগ্নিকন্যা খ্যাত বেগম মতিয়া চৌধুরী এবারের সরকারের যাত্রা থেকেই মন্ত্রীপরিষদে থাকবেন- এমনটাই প্রত্যাশা ছিল দলীয় নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি সচেতন মহলের। কিন্তু সেই প্রত্যাশায় পড়ে গুড়েবালি। অবশ্য শেরপুর সদর নির্বাচনী এলাকা থেকে টানা পঞ্চম দফায় নির্বাচিত সংসদ সদস্য, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আতিউর রহমান আতিক একাদশ সংসদেও হুইপ মনোনীত হয়ে সেই প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হয়।

img-add

নতুন সরকারের কাছে ময়মনসিংহ বিভাগের সবচেয়ে অবহেলিত জেলা হিসেবে শেরপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা এবং রেল লাইন স্থাপনের দাবি জোরালো হয়ে উঠে। নাগরিক সংগঠন জনউদ্যোগের ডাকে রাজনৈতিক নেতা-কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মানববন্ধন, পদযাত্রা, গণসাক্ষরসহ নানা কর্মসূচিতে যোগ দেয়। এক পর্যায়ে জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহবুব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে রাজধানী ঢাকায় জেলা প্রশাসক সম্মেলনে ওই দাবিগুলো তুলে ধরলে শেরপুরবাসী আশান্বিত হয়ে উঠেন। কিন্তু আশ্চর্যজনক হলেও সত্য, ময়মনসিংহ বিভাগের অপরাপর ৩টি জেলায় ওইসব প্রতিষ্ঠানের শূন্যতা ইতোমধ্যে পূরণ হলেও শেরপুরবাসীর সেই দাবি আজও দাবিতেই রয়ে গেছে।
প্রতিটি জেলাতে অর্থনৈতিক জোন গড়ে তোলার আওতায় জামালপুর ও শেরপুরে (ব্রহ্মপুত্র তীরে) একইসাথে প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। ইতোমধ্যে জামালপুরে সেই প্রকল্প বাস্তবায়নে গড়ালেও শেরপুরে এখনও সিকিভাগ কাজও এগোয়নি। যানজটমুক্ত শেরপুর শহর গড়ার লক্ষ্যে পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীমের উদ্যোগে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন মহল সাড়া দিলেও ২০১৯ এর মাঝামাঝি সময় থেকে কেন জানি ক্রমেই তা শিথিল হয়ে আসে। আবার যানজটে নাকালের অবস্থায় পড়ছে শহরবাসী। মাদকের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স ঘোষণা করায় এবং স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী তৎপর থাকার পরও মাদকের করাল গ্রাস থেকে এখনও রক্ষা করা যায়নি-যাচ্ছে না যুব সমাজকে। মাঝে-মধ্যেই প্রশাসনিক তৎপরতা ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার পরও পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না সীমান্ত অঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলন। ধাপে ধাপে খোদ জেলাকে বাল্যবিবাহ মুক্ত ঘোষণার পরও সামাজিক সচেতনতার অভাবে পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বাল্যবিবাহ। শিশু-কিশোরদের বিনোদনের জন্য উপযুক্ত স্থান বা পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় তৎকালীন জেলা প্রশাসক ড. মল্লিক আনোয়ার হোসেনের পরিকল্পনায় গড়ে ওঠা ডিসি উদ্যান সেই চাহিদা মেটানোর কেন্দ্রস্থল হয়ে ওঠার পাশাপাশি সবার উপস্থিতিতে মুখরিত হয়ে ওঠলেও গেল বছর রাতের অন্ধকারে দুর্বৃত্তদের হাতে সেই উদ্যানের সৌন্দর্যহানিসহ ব্যাপক ক্ষতিসাধন করা হয়। তবে এখনও চালু করা হয়নি লেকের কোল ঘেঁষে হাটার পথ। পরিচ্ছন্নকরণের পাশাপাশি খনন করা হয়নি লেকটি। ‘পর্যটনের আনন্দে, তুলসীমালার সুগন্ধে শেরপুর’ এ ব্র্যান্ডিং জেলাকে বিশেষ পরিচিতি দিলেও সীমান্তের পর্যটন এলাকাগুলোতে বাড়ানো হয়নি নিরাপত্তা তৎপরতা। ভাগ্যবান মেয়র গোলাম মোহাম্মদ কিবরিয়া লিটনের দ্বিতীয় মেয়াদে ঐতিহ্যবাহী শেরপুর পৌরসভার ১৫০ বছর পূর্তি উৎসব হলেও প্রাপ্তির সমীকরণ অনেকটাই জটিল। এছাড়া পৌরসভার তরফ থেকে থানামোড়ে ঘোড়সওয়ার ভাস্কর্য স্থাপন নিয়ে চলছে নানা বিতর্ক। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে অভ্যন্তরিণ দ্বন্দ্বের ধারাবাহিকতায় জেলার ৫টি উপজেলার মধ্যে ৩ টিতেই ভরাডুবি হয়েছে দলীয় প্রার্থীর এবং বিজয়ী হয়েছেন দলের বিদ্রোহীরা। দলের ২১ তম জাতীয় কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে অধিকাংশ জেলাতে সম্মেলন হলেও তাতে যোগ হয়নি শেরপুর।
অন্যদিকে বছরের শেষ দিনে একযোগে প্রকাশিত পিএসসি ও জেএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ময়মনসিংহ বিভাগের প্রথম ঘোষিত ফলাফলে শেরপুর প্রথম স্থান অর্জন করায় ‘শেষ ভালো যার সব ভালো তার’ কথাটিই উচ্চারিত হচ্ছে। গেল বছরের শেষভাগেই শেরপুরকে বাল্যবিবাহমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। সবগুলো উপজেলা না হলেও অধিকাংশই ভিক্ষুকমুক্ত ঘোষিত হয়েছে। নদী-নালা, খাল-বিল দখলমুক্তকরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। জেলা কালেক্টরেট ভবন অঙ্গণে জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহবুবের পরিকল্পনায় স্থাপিত হয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নান্দনিক ম্যুরাল ও ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের মূল অংশ। সেইসাথে পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীমের নেতৃত্বে শুরু হয়ে জেলার তৃণমূল পর্যায়ে চলমান রয়েছে সন্ত্রাস, মাদক, জঙ্গিবাদ, ইভটিজিং ও বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ এবং ওয়ারেন্ট তামিলের লক্ষ্যে জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজনদের নিয়ে বিশেষ শান্তি সমাবেশ। সরকারের যাত্রার প্রথম বছরে বজায় রয়েছে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা। গেল বছর ক্ষমতাসীনদের পরস্পরবিরোধী বিষোদগার কিছুটা হলেও ভিন্ন মতের দলের সাথে ছিলো না কোনো রাজনৈতিক হানাহানি। কিছু ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা বেশি মনে হলেও জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল তুলনামূলক শান্ত ও স্বাভাবিক। দুর্নীতি সূচকের ধারাবাহিকতায় ছেদ ঘটিয়েছে দুদকের অভিযান। শ্রীবরদীতে ঘুষের টাকাসহ সাব-রেজিস্টার এবং সর্বশেষ জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের এসএএস সুপার গ্রেফতার হয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে আর যাই হোক দুর্নীতিতে গলধঃকরণ চেয়ারগুলো কেঁপে ওঠেছে।
সুতরাং শেরপুরবাসীর বড় ধরনের কয়েকটি প্রত্যাশা পূরণ না হলেও সার্বিকভাবে কৃষি ও খাদ্যসমৃদ্ধ এ জেলা এখনও অগ্রসরমান। তাই নতুন বছরে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বড় প্রত্যাশাগুলো পূরণে সরকারপ্রধান দৃষ্টি দেবেন- বঙ্গবন্ধু ঘোষিত ৬১তম জেলা শেরপুরকে মন্ত্রীশূন্য না রেখে যোগ্যতা ও স্বচ্ছতায় মহিয়ান নেতাকে মন্ত্রীসভায় স্থান দেবেন। শেরপুরের ইতিহাস-ঐতিহ্য, ভৌগলিক ও রাজনৈতিক পরিমণ্ডলের বিবেচনায় তার যোগ্যতা ও প্রতিভা বিকাশের পথ আরও বিস্তৃত করবেন, আমাদের সেই প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির সমন্বয় নিশ্চিত করবেন-এমনটাই প্রত্যাশা। সেইসাথে আধুনিক, নান্দনিক ও ডিজিটাল শেরপুর গড়ার লক্ষ্যে সরকারের দায়িত্বশীল মহল, শীর্ষ জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সমন্বিত প্রয়াসের মাধ্যমে স্থানীয় অন্যান্য উন্নয়ন সমন্বয় নিশ্চিত করা হবে-এমনটিও প্রত্যাশা নববর্ষের সূচনালগ্নে।
লেখক  : ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, সাপ্তাহিক দশকাহনীয়া, শেরপুর।

অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ খবর



» মুসল্লিদের ঘরে নামাজ পড়ার নির্দেশ

» করোনায় দেশে আরও ৩ মৃত্যু, একদিনেই নতুন শনাক্ত ৩৫

» শেরপুরে হাসপাতালের স্টাফসহ করোনা ভাইরাসের ২ রোগী শনাক্ত

» শেরপুরে ১ হাজার কর্মহীন মানুষ পেল আ’লীগ নেতা উৎপলের খাদ্য সহায়তা

» শেরপুরে বিশেষ ওএমএসের চাল ও আটা বিক্রি শুরু

» ঢাকায় প্রবেশ ও বের হওয়া বন্ধ

» ঝিনাইগাতীতে করোনা সন্দেহে এক কিশোরের নমুনা সংগ্রহ

» করোনায় ই-রাজনীতি : হোয়াটসঅ্যাপে সভা; ভিডিও বার্তায় আহ্বান

» মোদির কাছে ম্যালেরিয়ার ওষুধ চাইলেন ট্রাম্প

» ধনী মালিকদের নয়, অসহায়দের সাহায্য করতে রাজি ফুটবলাররা

» সাধারণ ছুটি বাড়ল ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত

» শেরপুরে সামাজিক দূরত্ব ও হোম কোয়ারেন্টাইন না মানায় ৯৮ হাজার টাকা জরিমানা

» বিশ্বে করোনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪ হাজার : আক্রান্ত ১২ লাখ

» কেউ চাকরি হারাবেন না : প্রধানমন্ত্রী

» ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী

সম্পাদক-প্রকাশক : রফিকুল ইসলাম আধার
উপদেষ্টা সম্পাদক : সোলায়মান খাঁন মজনু
নির্বাহী সম্পাদক : মোহাম্মদ জুবায়ের রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১ : ফারহানা পারভীন মুন্নী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : আলমগীর কিবরিয়া কামরুল
বার্তা সম্পাদক-১ : রেজাউল করিম বকুল
বার্তা সম্পাদক-২ : মোঃ ফরিদুজ্জামান।
যোগাযোগ : সম্পাদক : ০১৭২০০৭৯৪০৯
নির্বাহী সম্পাদক : ০১৯১২০৪৯৯৪৬
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১: ০১৭১৬৪৬২২৫৫
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : ০১৭১৪২৬১৩৫০
বার্তা সম্পাদক-১ : ০১৭১৩৫৬৪২২৫
বার্তা সম্পাদক -২ : ০১৯২১-৯৫৫৯০৬
বিজ্ঞাপন : ০১৭১২৮৫৩৩০৩
ইমেইল : shamolbangla2013@gmail.com.

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । ওয়েবসাইট তৈরি করেছে- BD iT Zone

  বিকাল ৫:৩৮ | সোমবার | ৬ই এপ্রিল, ২০২০ ইং | ২৩শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির সমীকরণে ২০১৯ : রফিকুল ইসলাম আধার

আশাজাগানিয়া জাতির অনেক প্রত্যাশা নিয়েই শুরু হয়েছিলো খ্রিস্টবর্ষ ২০১৯ এর যাত্রা। ইতোমধ্যে পৃথিবীর ঘুর্ণায়মান চাকায় প্রত্যাশার সেই বছরটি কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে। আর এর মধ্য দিয়ে জাতি হিসেব করছে সেই বছরটিতে প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির সমীকরণ। তবে এ কথা নির্দ্বিধায় স্বীকার করা যায় যে, গেল বছরে আমাদের জাতীয় বা রাষ্ট্রীয় জীবনে নানা বিপদসঙ্কুল অবস্থা ও সমস্যা মোকাবেলার পরও সফলতার পাল্লা অনেকটাই ভারি। যে কারণে স্বাধীন বাংলার স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য তনয়া সফল রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার হাত ধরে প্রিয় স্বদেশ এগিয়ে যাচ্ছে দুর্বার গতিতে। বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ দাঁড়িয়েছে মাথা উঁচু করে। তবে আজকের নিবন্ধে শেরপুরবাসীর প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির সমীকরণ নিয়ে আলোকপাত করতে চাই।
২০১৯ এর প্রথম সপ্তাহে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন চতুর্থ দফা সরকারের যাত্রা শুরু হলেও এবারই প্রথম শেরপুরবাসী মন্ত্রীত্বশূন্য থাকে। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর অন্যতম সদস্য, শেরপুর-২ (নালিতাবাড়ী-নকলা) নির্বাচনী এলাকা থেকে পঞ্চম দফায় নির্বাচিত সংসদ সদস্য, সাবেক সফল কৃষিমন্ত্রী, বাংলার অগ্নিকন্যা খ্যাত বেগম মতিয়া চৌধুরী এবারের সরকারের যাত্রা থেকেই মন্ত্রীপরিষদে থাকবেন- এমনটাই প্রত্যাশা ছিল দলীয় নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি সচেতন মহলের। কিন্তু সেই প্রত্যাশায় পড়ে গুড়েবালি। অবশ্য শেরপুর সদর নির্বাচনী এলাকা থেকে টানা পঞ্চম দফায় নির্বাচিত সংসদ সদস্য, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আতিউর রহমান আতিক একাদশ সংসদেও হুইপ মনোনীত হয়ে সেই প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হয়।

img-add

নতুন সরকারের কাছে ময়মনসিংহ বিভাগের সবচেয়ে অবহেলিত জেলা হিসেবে শেরপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা এবং রেল লাইন স্থাপনের দাবি জোরালো হয়ে উঠে। নাগরিক সংগঠন জনউদ্যোগের ডাকে রাজনৈতিক নেতা-কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মানববন্ধন, পদযাত্রা, গণসাক্ষরসহ নানা কর্মসূচিতে যোগ দেয়। এক পর্যায়ে জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহবুব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে রাজধানী ঢাকায় জেলা প্রশাসক সম্মেলনে ওই দাবিগুলো তুলে ধরলে শেরপুরবাসী আশান্বিত হয়ে উঠেন। কিন্তু আশ্চর্যজনক হলেও সত্য, ময়মনসিংহ বিভাগের অপরাপর ৩টি জেলায় ওইসব প্রতিষ্ঠানের শূন্যতা ইতোমধ্যে পূরণ হলেও শেরপুরবাসীর সেই দাবি আজও দাবিতেই রয়ে গেছে।
প্রতিটি জেলাতে অর্থনৈতিক জোন গড়ে তোলার আওতায় জামালপুর ও শেরপুরে (ব্রহ্মপুত্র তীরে) একইসাথে প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। ইতোমধ্যে জামালপুরে সেই প্রকল্প বাস্তবায়নে গড়ালেও শেরপুরে এখনও সিকিভাগ কাজও এগোয়নি। যানজটমুক্ত শেরপুর শহর গড়ার লক্ষ্যে পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীমের উদ্যোগে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন মহল সাড়া দিলেও ২০১৯ এর মাঝামাঝি সময় থেকে কেন জানি ক্রমেই তা শিথিল হয়ে আসে। আবার যানজটে নাকালের অবস্থায় পড়ছে শহরবাসী। মাদকের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স ঘোষণা করায় এবং স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী তৎপর থাকার পরও মাদকের করাল গ্রাস থেকে এখনও রক্ষা করা যায়নি-যাচ্ছে না যুব সমাজকে। মাঝে-মধ্যেই প্রশাসনিক তৎপরতা ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার পরও পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না সীমান্ত অঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলন। ধাপে ধাপে খোদ জেলাকে বাল্যবিবাহ মুক্ত ঘোষণার পরও সামাজিক সচেতনতার অভাবে পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বাল্যবিবাহ। শিশু-কিশোরদের বিনোদনের জন্য উপযুক্ত স্থান বা পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় তৎকালীন জেলা প্রশাসক ড. মল্লিক আনোয়ার হোসেনের পরিকল্পনায় গড়ে ওঠা ডিসি উদ্যান সেই চাহিদা মেটানোর কেন্দ্রস্থল হয়ে ওঠার পাশাপাশি সবার উপস্থিতিতে মুখরিত হয়ে ওঠলেও গেল বছর রাতের অন্ধকারে দুর্বৃত্তদের হাতে সেই উদ্যানের সৌন্দর্যহানিসহ ব্যাপক ক্ষতিসাধন করা হয়। তবে এখনও চালু করা হয়নি লেকের কোল ঘেঁষে হাটার পথ। পরিচ্ছন্নকরণের পাশাপাশি খনন করা হয়নি লেকটি। ‘পর্যটনের আনন্দে, তুলসীমালার সুগন্ধে শেরপুর’ এ ব্র্যান্ডিং জেলাকে বিশেষ পরিচিতি দিলেও সীমান্তের পর্যটন এলাকাগুলোতে বাড়ানো হয়নি নিরাপত্তা তৎপরতা। ভাগ্যবান মেয়র গোলাম মোহাম্মদ কিবরিয়া লিটনের দ্বিতীয় মেয়াদে ঐতিহ্যবাহী শেরপুর পৌরসভার ১৫০ বছর পূর্তি উৎসব হলেও প্রাপ্তির সমীকরণ অনেকটাই জটিল। এছাড়া পৌরসভার তরফ থেকে থানামোড়ে ঘোড়সওয়ার ভাস্কর্য স্থাপন নিয়ে চলছে নানা বিতর্ক। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে অভ্যন্তরিণ দ্বন্দ্বের ধারাবাহিকতায় জেলার ৫টি উপজেলার মধ্যে ৩ টিতেই ভরাডুবি হয়েছে দলীয় প্রার্থীর এবং বিজয়ী হয়েছেন দলের বিদ্রোহীরা। দলের ২১ তম জাতীয় কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে অধিকাংশ জেলাতে সম্মেলন হলেও তাতে যোগ হয়নি শেরপুর।
অন্যদিকে বছরের শেষ দিনে একযোগে প্রকাশিত পিএসসি ও জেএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ময়মনসিংহ বিভাগের প্রথম ঘোষিত ফলাফলে শেরপুর প্রথম স্থান অর্জন করায় ‘শেষ ভালো যার সব ভালো তার’ কথাটিই উচ্চারিত হচ্ছে। গেল বছরের শেষভাগেই শেরপুরকে বাল্যবিবাহমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। সবগুলো উপজেলা না হলেও অধিকাংশই ভিক্ষুকমুক্ত ঘোষিত হয়েছে। নদী-নালা, খাল-বিল দখলমুক্তকরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। জেলা কালেক্টরেট ভবন অঙ্গণে জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহবুবের পরিকল্পনায় স্থাপিত হয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নান্দনিক ম্যুরাল ও ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের মূল অংশ। সেইসাথে পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীমের নেতৃত্বে শুরু হয়ে জেলার তৃণমূল পর্যায়ে চলমান রয়েছে সন্ত্রাস, মাদক, জঙ্গিবাদ, ইভটিজিং ও বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ এবং ওয়ারেন্ট তামিলের লক্ষ্যে জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজনদের নিয়ে বিশেষ শান্তি সমাবেশ। সরকারের যাত্রার প্রথম বছরে বজায় রয়েছে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা। গেল বছর ক্ষমতাসীনদের পরস্পরবিরোধী বিষোদগার কিছুটা হলেও ভিন্ন মতের দলের সাথে ছিলো না কোনো রাজনৈতিক হানাহানি। কিছু ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা বেশি মনে হলেও জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল তুলনামূলক শান্ত ও স্বাভাবিক। দুর্নীতি সূচকের ধারাবাহিকতায় ছেদ ঘটিয়েছে দুদকের অভিযান। শ্রীবরদীতে ঘুষের টাকাসহ সাব-রেজিস্টার এবং সর্বশেষ জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের এসএএস সুপার গ্রেফতার হয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে আর যাই হোক দুর্নীতিতে গলধঃকরণ চেয়ারগুলো কেঁপে ওঠেছে।
সুতরাং শেরপুরবাসীর বড় ধরনের কয়েকটি প্রত্যাশা পূরণ না হলেও সার্বিকভাবে কৃষি ও খাদ্যসমৃদ্ধ এ জেলা এখনও অগ্রসরমান। তাই নতুন বছরে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বড় প্রত্যাশাগুলো পূরণে সরকারপ্রধান দৃষ্টি দেবেন- বঙ্গবন্ধু ঘোষিত ৬১তম জেলা শেরপুরকে মন্ত্রীশূন্য না রেখে যোগ্যতা ও স্বচ্ছতায় মহিয়ান নেতাকে মন্ত্রীসভায় স্থান দেবেন। শেরপুরের ইতিহাস-ঐতিহ্য, ভৌগলিক ও রাজনৈতিক পরিমণ্ডলের বিবেচনায় তার যোগ্যতা ও প্রতিভা বিকাশের পথ আরও বিস্তৃত করবেন, আমাদের সেই প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির সমন্বয় নিশ্চিত করবেন-এমনটাই প্রত্যাশা। সেইসাথে আধুনিক, নান্দনিক ও ডিজিটাল শেরপুর গড়ার লক্ষ্যে সরকারের দায়িত্বশীল মহল, শীর্ষ জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সমন্বিত প্রয়াসের মাধ্যমে স্থানীয় অন্যান্য উন্নয়ন সমন্বয় নিশ্চিত করা হবে-এমনটিও প্রত্যাশা নববর্ষের সূচনালগ্নে।
লেখক  : ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, সাপ্তাহিক দশকাহনীয়া, শেরপুর।

সর্বশেষ খবর



অন্যান্য খবর



সম্পাদক-প্রকাশক : রফিকুল ইসলাম আধার
উপদেষ্টা সম্পাদক : সোলায়মান খাঁন মজনু
নির্বাহী সম্পাদক : মোহাম্মদ জুবায়ের রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১ : ফারহানা পারভীন মুন্নী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : আলমগীর কিবরিয়া কামরুল
বার্তা সম্পাদক-১ : রেজাউল করিম বকুল
বার্তা সম্পাদক-২ : মোঃ ফরিদুজ্জামান।
যোগাযোগ : সম্পাদক : ০১৭২০০৭৯৪০৯
নির্বাহী সম্পাদক : ০১৯১২০৪৯৯৪৬
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১: ০১৭১৬৪৬২২৫৫
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : ০১৭১৪২৬১৩৫০
বার্তা সম্পাদক-১ : ০১৭১৩৫৬৪২২৫
বার্তা সম্পাদক -২ : ০১৯২১-৯৫৫৯০৬
বিজ্ঞাপন : ০১৭১২৮৫৩৩০৩
ইমেইল : shamolbangla2013@gmail.com.

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । ওয়েবসাইট তৈরি করেছে- BD iT Zone

error: Content is protected !!