পর্যটকদের ভিড়ে মুখর কক্সবাজার-কুয়াকাটা

শ্যামলবাংলা ডেস্ক : ঈদুল আজহার ছুটিতে পর্যটকদের ভিড়ে মুখর হয়ে উঠেছে কক্সবাজার, কুয়াকাটাসহ দেশের ছোট-বড় সব পর্যটনকেন্দ্র। ওইসব স্থানে আনন্দমুখর মানুষের উপচে পড়া ভিড় রয়েছে। ঈদের ছুটিতে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন অনেকে। এবার ঈদের দিন থেকেই বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার পর্যটকে ভরে আছে। হাজার হাজার মানুষ কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে বেড়াতে গেছেন।

কক্সবাজার : সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্ট। শুক্রবার সকাল ৮টায় পর্যটকদের পদচারণায় কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে সাগর তীরের এই স্থানটি। শুধু সুগন্ধা পয়েন্ট নয়, সমুদ্রসৈকতের বাকি ৬টি পয়েন্টেও একই দৃশ্য। ঘুরতে আসা হাজার হাজার পর্যটক এখন মাতোয়ারা সমুদ্রসৈকতে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসা পর্যটকরা আনন্দ আর হৈহুল্লোড়ে মেতে উঠেছেন। শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ- সব বয়সের মানুষের মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে সাগরতীর। সমুদ্রসৈকতে স্নান, ঘুরে বেড়ানো, ছবি তোলা, বিচ বাইক ও জেড স্কিতে কাটছে তাদের আনন্দঘন মুহূর্তগুলো।

মানিকগঞ্জ থেকে আসা রিয়াদ-রোহানা দম্পতি বলেন, ঈদের পরদিনই কক্সবাজার আসেন তারা। গত দু’দিন ধরে রামুর বৌদ্ধবিহার, ইনানী সৈকত, হিমছড়ির ঝর্ণা ও পাহাড় দেখেছেন। এখন সবাই মিলে কক্সবাজার সৈকতে আনন্দ করছেন তারা।
সৈকতে সুগন্ধা পয়েন্টে কথা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থীর সঙ্গে। তারা বলেন, শুক্রবার রাতে গাড়িতে উঠে সকাল ৮টায় কক্সবাজার পৌঁছান। এরপর হোটেলে ব্যাগ রেখে দলবেঁধে সবাই সমুদ্রসৈকতে ছুটে আসেন। সমুদ্রে গোসল, দৌড়াদৌড়ি ও বালু নিয়ে বন্ধুরা সবাই হৈহুল্লোড়ে মেতে ওঠেন তারা। দারুণ সময় কাটছে তাদের।
লাবণী পয়েন্টে ইসমাইল-জিকু দম্পতির সঙ্গে কথা হয়। তারা জানান, ঈদুল আজহার ছুটিতে কক্সবাজারে এসেছেন তারা। বিশাল সাগর আর মুক্ত হাওয়ায় ঘুরে বেড়ানোর মজাই আলাদা। রাজধানীর মতিঝিল থেকে আসা রামিম, শুক্কুর ও রাইয়্যান বলেন, ঈদের ছুটিতে বন্ধুরা মিলে কক্সবাজার বেড়াতে এসেছেন। এবার সবাই মিলে ছুটি উপভোগ করছেন। তবে এখন আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় সাগর রয়েছে উত্তাল। তাই ঈদের ছুটিতে আসা বিপুলসংখ্যক ভ্রমণপিপাসু সৈকতে গোসল করতে গিয়ে যাতে দুর্ঘটনায় না পড়েন, সেজন্য সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে সি-সেইভ লাইফ গার্ড ও ইয়াছিন লাইফ গার্ড সংস্থা। সি-সেইভ লাইফ সংস্থার ইনচার্জ কামরুল হাসান বলেন, এই সময়টায় সাগর উত্তাল থাকে। তাই সব পয়েন্টে লাইফ গার্ড কর্মীরা সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করছেন। কারণ ঈদের এই ছুটিতে বিপুলসংখ্যক পর্যটকের কক্সবাজারে আগমন ঘটেছে। তাদের সমুদ্র স্নানে যাতে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে, এজন্য আমরা সজাগ রয়েছি।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বী বলেন, লাখো পর্যটকের ঢল নেমেছে সমুদ্রসৈকত শহর কপবাজারে। তাই অল্পসংখ্যক ট্যুরিস্ট পুলিশ দিয়ে পর্যটকদের নিরাপত্তা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তার পরও পোশাকি পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। যাতে আগত পর্যটকরা নির্বিঘ্নে ঘোরাফেরা করতে পারেন।
হোটেল মালিক সমিতির দেওয়া তথ্যমতে, ঈদুল আজহার ছুটিতে গত দু’দিনে কক্সবাজারে দুই লক্ষাধিক পর্যটক এসেছেন। সব মিলিয়ে আগামী শনিবার পর্যন্ত প্রায় ৫ লাখ পর্যটকের সমাগম হবে বলে ধারণা করছেন তারা।

কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) : ঈদুল আজহার ছুটিতে অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে হাজারো পর্যটকের ঢল নেমেছে। সমুদ্রসৈকতসহ দর্শনীয় স্পটগুলোতে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। সৈকতের যেদিকে চোখ যায় শুধু পর্যটক আর পর্যটক। আবাসিক হোটেলগুলোতে দেখা দিয়েছে রুমের সংকট। ঝিনুকের দোকান, খাবার হোটেল, রাখাইন মার্কেট ও শুঁটকি পল্লীতে বেচাকেনার ধুম পড়ে গেছে। তবে তৃতীয় শ্রেণির আবাসিক হোটেলগুলোতে পর্যটকদের ভিড় পুঁজি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পর্যটকদের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ, থানা পুলিশসহ সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন নিয়োজিত রয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতের জিরো পয়েন্ট, লেম্বুর বন, ঝাউবাগান, গঙ্গামতির লেক, কাউয়ার চরের লাল কাঁকড়ার বিচরণস্থল, মৎস্যবন্দর আলীপুর-মহিপুরে জেলেদের জীবনচিত্র অবলোকন, মিশ্রিপাড়া বৌদ্ধ মন্দির, কুয়াকাটার কুয়া, সীমা বৌদ্ধবিহার, রাখাইন মহিলা মার্কেট সর্বত্র যেন দর্শনার্থীদের ভিড়ে জমজমাট ছিল।
পবিত্র ঈদুল আজহার দ্বিতীয় দিন বিকেল থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বাস, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকারে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের বেলাভূমি কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত অবলোকন করতে দলবেঁধে নারী-শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের ভ্রমণপিপাসু পর্যটকরা আসতে শুরু করেন। রুম সংকটের কারণে কুয়াকাটায় এসেই পর্যটকদের নানা বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে। পথে পথে গাড়িতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেছেন পর্যটকরা। তবে নানা বিড়ম্বনা সত্ত্বেও সমুদ্রসৈকতে গিয়ে তাদের মন জুড়িয়ে যাচ্ছে। সমুদ্রের ঢেউয়ের তরঙ্গ আর হিমেল বাতাস যেন শত বিড়ম্বনাকে ধুয়ে-মুছে সতেজ করে দিয়েছে পর্যটকদের মন। হৈহুল্লোড় আর সমুদ্রের ঢেউয়ের সঙ্গে নেচে-গেয়ে দিনরাত আনন্দ-ফুর্তিতে মেতে আছেন ভ্রমণপিপাসুরা।

আপনার মতামত দিন

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

error: Content is protected !!