প্রকাশকাল: 14 এপ্রিল, 2019

নববর্ষের ইতিকথা ও প্রাসঙ্গিক ভাবনা

ড. আবদুল আলীম তালুকদার

পহেলা বৈশাখ বাংলাদেশে সাড়ম্বরে নববর্ষ হিসেবে পালিত হয় যা বাংলা সনের প্রথম দিন। বর্তমান সময়ে এই দিনটি বাঙালি জাতির জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রতি বছর এ দিনটি সার্বজনীন লোক উৎসবের আমেজে পালিত হয়। এদিন উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আনন্দঘন পরিবেশে বরণ করে নেওয়া হয় নতুন বছরকে। কল্যাণ ও নতুন জীবনের প্রতীক হলো নববর্ষ। অতীতের ভুলত্রুটি ও ব্যর্থতার গ্লানি ভুলে নতুন করে সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় উদ্যাপিত হয় নববর্ষ।
মানুষ তার প্রয়োজনে সময় ও কাল গণনার রীতি আবিষ্কার করে নিয়েছিল প্রাগৈতিহাসিক যুগেই; এটি মানবজাতির আদিমকালের প্রবৃত্তি এবং মানুষের সহজাত সংস্কৃতির অংশ। পৃথিবীর দেশে দেশে জাতিতে জাতিতে নানা সন গণনার যে ঐতিহ্য গড়ে উঠেছে এর পেছনেও রয়েছে স্বয়ং মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ্ পাকের বিশ্বজনীন নিয়ম। আল্লাহ্ তায়ালা কুরআনে পাকে ঘোষণা করেন, ‘আকাশ এবং পৃথিবী সৃষ্টির প্রথম দিন থেকেই বছর গণনার মাস বারটি’। আল কুরআনের সেই শাশ্বত ঘোষণার আলোকেই পৃথিবীর দেশে দেশে সন এবং বছর গণনার নানা পন্থা আবিষ্কৃত হয়েছে। আর পৃথিবীতে যত সন আছে সবগুলোরই বছর গণনা করা হয় ১২ মাসে। অবশ্য সৌরমাস ভিত্তিক এবং চান্দ্রমাস ভিত্তিক গণনার ভিন্নতায় এসব সনের পরিধিগত বেশ-কমও রয়েছে। সব গণনার সেই বিশ্বজনীন সংস্কৃতির পথ ধরেই আমাদের বাংলাদেশেও নানা যুগে নানা সন প্রবর্তিত হয়েছে। প্রাচীন শক সনের পথ ধরে এখানে প্রবর্তিত হয়েছে সম্বৎ, মঘী সন, নেপাল সম্বৎ, ত্রিপুরাবদ, লক্ষণ সম্বৎ, পরগণাতি সন, শাহুর সন, হিজরী সন, ঈসায়ী সন বা খ্রিস্টীয় সন, বাংলা সন, জালালী সন ইত্যাদি। এর কোন কোনটি সৌরবর্ষে আবার কোন কোনটি চান্দ্রবর্ষে গণনা করা হয়ে থাকে।
ঐতিহাসিকদের মতে, নববর্ষের উৎসব ২০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মেসোপটেমিয়ায় প্রথম শুরু হয়। প্রায় সমসাময়িককালে ব্যাবিলনে স্পিংকুইনক্স বা মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময়ে চান্দ্র মাসের প্রথম তারিখে আকিতু বা নববর্ষ উদ্যাপিত হতো। অ্যাশরীয় নববর্ষের তারিখ ছিল অটাম ইকুইনক্স অর্থাৎ মধ্য সেপ্টেম্বরে। মিশর, ফিনিশিয়, পারস্যে অটাম ইকুইনক্স বা সেপ্টেম্বরের ২১ তারিখে নববর্ষের উৎসব উদ্যাপিত হতো।
প্রাচীন গ্রীসে এ উৎসব পালন করা হতো উইন্টার সোলাসটিস বা ডিসেম্বরের ২১ তারিখে। আর প্রাচীন রোমান রিপাবলিকান ক্যালেন্ডার অনুসারে নববর্ষের তারিখ ছিল ১ মার্চ এবং ১৫৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দের ১ জানুয়ারি তারা দাপ্তরিকভাবে নববর্ষ ঘোষণা করে। ৪৫ খ্রিস্টপূর্বাব্দে জুলিয়ান ক্যালেন্ডার প্রবর্তিত না হওয়া পর্যন্ত রোমান রিপাবলিকান ক্যালেন্ডার বহাল ছিল।
মধ্যযুগের প্রথম দিকে অধিকাংশ ইউরোপীয় খ্রিস্ট সম্প্রদায় ২৫ মার্চ তারিখকে এনান্সিয়েশন উৎসব দিবস হিসেবে শ্রদ্ধা করতো। তারা এ দিবসটিকেই নববর্ষরূপে পালন করতো। অপরদিকে, ইংল্যান্ডে এ্যাংলো-স্যাক্সন যুগে ডিসেম্বরের ২৫ তারিখে নববর্ষের উৎসব উদ্যাপন করতো। পরবর্তী সময়ে বিজয়ী উইলিয়াম ১ জানুয়ারি নববর্ষ ঘোষনা করেন। তারপর ইংল্যান্ডও অন্যান্য সম্প্রদায়ের মতো ২৫ মার্চকে নববর্ষ হিসেবে গ্রহণ করে। ১৫৮২ খ্রিস্টাব্দে রোমান ক্যাথলিক চার্চ গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসারে ১ জানুয়ারি নববর্ষ হিসেবে ঘোষণা করে এবং অধিকাংশ ইউরোপীয় দেশে তা অনুসৃত হয়। ১৬৬০ খ্রিস্টাব্দে স্কটল্যান্ড, ১৭০০ খ্রি. জার্মানি ও ডেনমার্ক এবং ১৭৫২ খ্রি. রাশিয়া গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার গ্রহণ করে। অপরদিকে, ধর্মীয় ও সংস্কৃতিগত কারণে যারা চান্দ্র বর্ষ অনুসরণ করতো, তারা গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসারে সৌরবর্ষের ১ জানুয়ারিকে নববর্ষ হিসেবে গ্রহণ করেনি। তাদের প্রচলিত তারিখ তারা বহাল রাখে। যেমন, ইহুদীদের ধর্মীয় ক্যালেন্ডার অনুসারে ‘রোজহাসানা’ বা নববর্ষ ‘তিসরি’ মাসের প্রথম তারিখে। গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসারে তাদের নববর্ষ উদ্যাপিত হয় ৬ সেপ্টেম্বর হতে ৫ অক্টোবর এর মধ্যবর্তী সময়ে।
মুসলিম সম্প্রদায়ের ক্যালেন্ডারবর্ষ সাধারণত ৩৫৪ দিনে হয়ে থাকে। আর বছর শুরু হয় মুর্হারম মাস হতে। চৈনিক নববর্ষ শুরু হয় জানুয়ারির শেষে অথবা ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে। এশিয়ার অন্যান্য দেশে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের বিভিন্ন সময়ে তাদের নিজ নিজ নববর্ষ শুরু হয়। দক্ষিণ ভারতের তামিলরা উইন্টার সোলাসটিস বা ডিসেম্বরের ২১ তারিখে নববর্ষ উদ্যাপন করে থাকে। তিব্বতে ফেব্রুয়ারি মাসে আর থাইল্যান্ডে মার্চ অথবা এপ্রিল মাসে নববর্ষের উৎসব পালন করে। জাপানে এ উৎসব ১-৩ জানুয়ারি পালিত হয়।
নববর্ষের উৎসব উদ্যাপনে বিভিন্ন দেশে যুগপৎ হর্ষ-বিষাদের অনুভূতি লক্ষ্য করা যায়। প্রাচীন গ্রিসে শিশুকে নববর্ষের ও বৃদ্ধকে পুরাতন বর্ষের প্রতীকরূপে গণ্য করা হতো। রোমানগণ ‘জানুস’ দেবতার নামে জানুয়ারি মাসের নাম রাখে। এ দেবতার দু’টি মুখ ছিল। একটি সামনের দিকে অপরটি পেছনে। প্রাচীনকালে নববর্ষের প্রথম দিবসে রোমানরা মন্দ অভ্যাস ত্যাগ ও ভাল অভ্যাস গ্রহণ করার প্রতিজ্ঞা করতো। স্কটিশরা এ দিনে অতীত স্মৃতিচারণ করতে অধিকতর পছন্দ করতো ।
অনেক দেশের অনেকে নববর্ষের উৎসব উদ্যাপনে প্রতীকি খাবার গ্রহণ করে থাকে। যেমন: ইউরোপের অনেক দেশে নববর্ষে সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে বাঁধাকপি খেয়ে থাকে। দক্ষিণ আমেরিকায় সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে কালো জাতের সীম খেতে পছন্দ করে। এশিয়ার বিভিন্ন দেশে পান্তা ভাত, নুডল্স, পিঠা-পায়েশ ইত্যাদি খাবার দীর্ঘজীবন, সুখ, সমৃদ্ধি ও সুন্দর ভবিষ্যতের প্রতীক হিসেবে খেয়ে থাকে।
হিন্দু সৌরপঞ্জি মতে, বাংলায় ১২টি মাস অনেক আগে থেকেই পালিত হয়ে আসছে। কিন্তু গ্রেগরীয় পঞ্জিকায় দেখা যায়, এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে এই সৌর বছর গণনা শুরু হতো। সৌর বছরের প্রথম দিন আসাম, বঙ্গ, কেরালা, মনিপুর, নেপাল, ঊড়িষ্যা, পাঞ্জাব, তামিলনাড়– এবং ত্রিপুরার সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে অনেক আগে থেকে নববর্ষ পালিত হতো। এখন যেমন নববর্ষ নতুন বছরের সূচনার নিমিত্তে পালিত একটি সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে, এক সময় এমনটি ছিল না। তখন নববর্ষ পালিত হতো আর্তব উৎসব বা ঋতুধর্মী উৎসব হিসেবে। তখন এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল কৃষির, কারণ কৃষিকাজ ছিল ঋতুনির্ভর। ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, ভারতবর্ষে মুগল সা¤্রাজ্য প্রতিষ্ঠার পর থেকেই আরবী হিজরী পঞ্জিকা অনুযায়ী তারা কৃষি পণ্যের খাজনা আদায় করত। কিন্তু হিজরী সাল চাঁদের সাথে সম্পর্কযুক্ত হওয়ায় কৃষি ফলনের সাথে এর কোন মিল পাওয়া যেত না। আর তখনই এই কৃষিকাজের সুবিধার্থেই মুগল স¤্রাট জালালুদ্দীন মুহাম্মদ আকবর ১৫৮৪ খ্রিষ্টাব্দের ১০/১১ মার্চ বাংলা সন প্রবর্তনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। স¤্রাটের আদেশ অনুযায়ী সে সময়কার বিখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও চিন্তাবিদ আমীর ফতেহ্উল্লাহ্ সিরাজী সৌর বছর ও আরবী হিজরী সালের ওপর ভিত্তি করে নতুন বাংলা সনের নিয়ম তৈরির কাজ শুরু করেন এবং তা কার্যকর হয় তার সিংহাসনে আরোহণের সময় থেকে (৫ নভেম্বর ১৫৫৬ খ্রি.)। সে সময় বঙ্গ অঞ্চলে শক বর্ষপঞ্জি অনুসরণ করা হতো আর চৈত্র ছিল শক বর্ষের প্রথম মাস। হিজরী চান্দ্রসন ও বাংলা সৌরসনকে ভিত্তি করে বাংলা সন প্রবর্তিত হয়। নতুন সনটি প্রথমে ‘ফসলি সন’ নামে পরিচিত ছিল, পরে তা বঙ্গাব্দ বা বাংলা সন বা সাল নামে পরিচিতি লাভ করে।
বাংলা নববর্ষ পালনের সূচনা হয় মূলত স¤্রাট আকবরের শাসনামল থেকেই। সে সময় বাংলার কৃষকরা চৈত্র্যমাসের শেষদিন পর্যন্ত জমিদার, তালুকদার এবং অন্যান্য ভূ-স্বামীর খাজনা পরিশোধ করত। পরদিন নববর্ষে ভূ-স্বামীরা তাদের মিষ্টিমুখ করাতেন। এ উপলক্ষে তখন মেলা এবং অন্যান্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হতো। ক্রমান্বয়ে পারিবারিক ও সামাজিক জীবনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে মিশে পহেলা বৈশাখ আনন্দময় ও উৎসবমুখী হয়ে ওঠে এবং বাংলা নববর্ষ শুভদিন হিসেবে পালিত হতে থাকে।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায়, বাংলা মাসের নামগুলো বিভিন্ন তারকারাজির নাম থেকে নেয়া হয়েছে। যেমন: বিশাখা থেকে বৈশাখ, জেষ্ঠ্যা থেকে জ্যৈষ্ঠ, আষাঢ়া থেকে আষাঢ়, শ্রবণা থেকে শ্রাবণ, ভাদ্রপদ থেকে ভাদ্র, কৃত্তিকা থেকে কার্তিক, অগ্রহইনী থেকে অগ্রহায়ন, পূষ্যা থেকে পৌষ, মঘা থেকে মাঘ, ফল্গুনি থেকে ফাল্গুন এবং চিত্রা থেকে চৈত্র। প্রাচীনকালে অগ্রহায়ন মাসে ধান কাটা শুরু হতো বলে এই মাসকে বছরের প্রথম মাস ধরা হতো। তাই এই মাসের নাম হয়েছে অগ্রহায়ন। অগ্র অর্থ প্রথম আর হায়ন অর্থ বর্ষ বা ধান।
স¤্রাট আকবর কর্তৃক প্রবর্তিত তারিখ-ই-ইলাহীর মাসের নামগুলো প্রচলিত ছিল ফার্সি ভাষায় যথা- ১. কারওয়াদিন ২. আর্দিভিহিসু ৩. মিহির ৪. খোরদাদ ৫. তির ৬. আমরারদাদ ৭. শাহরিয়ার ৮. আবান ৯. আযুর ১০. দায় ১১. বাহমান ১২. ইসকান্দার মিয।
আবুল ফযল ‘আকবরনামা’ গ্রন্থে বলেন, স¤্রাট আকবরের শাসন আমলে একটি বিষয় ছিল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য, তা হলো মাসের প্রত্যেকটি দিনের জন্য আলাদা আলাদা নাম ছিল। যা কিনা প্রজা সাধারণের মনে রাখা খুবই কষ্টকর ছিল। তাই স¤্রাট শাহজাহান ৭ দিনে সপ্তাহ ভিত্তিক বাংলায় দিনের নামকরণের কাজ শুরু করেন এবং এদিনের নামগুলো অন্যান্য সনের মতোই তারকাম-লীর ওপর ভিত্তি করেই করা হয়েছে। ইংরেজি বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় ইংরেজি ৭ দিনের নামের সাথে কিছুটা সাদৃশ্য রেখে বাংলায় ৭ দিনের নামকরণ করা হয়। যেমন : সানডে-রবিবার। সান অর্থ রবি বা সূর্য আর ডে অর্থ দিন। এভাবে বর্ষ গণনার রীতিকে বাংলায় প্রবর্তনের সংস্কার শুরু হয় মুগল আমলে।
বাংলা দিনপঞ্জির সাথে হিজরী ও খ্রিস্টীয় সনের মৌলিক কিছু পার্থক্য রয়েছে। তা হলো হিজরী সাল সম্পর্কিত চাঁদের সাথে আর খ্রিষ্টীয় সাল সম্পর্কিত সূর্যের সাথে। একারণে হিজরী সনের নতুন তারিখ শুরু হয় সন্ধ্যায় নতুন চাঁদের আগমনের মধ্য দিয়ে, ইংরেজি দিন শুরু হয় মধ্য রাতে আর বাংলা সনের শুরু হয় ভোরের সূর্য ওঠার সাথে সাথে।
পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি জাতিই নিজেদের ইতিহাস সংস্কৃতিকে বরণের জন্য বিশেষ বিশেষ দিনকে স্মরণীয় করে রাখে। যেমন: প্রাচীন আরবীয়রা ‘উকাজ মেলা’, ইরান বা পারস্যের লোকেরা ‘নওরোজ উৎসব’ ও প্রাচীন ভারতীয়রা ‘দোলপূর্ণিমা’য় নববর্ষ উদ্যাপন করে থাকত।
সমাজের সর্বনি¤œ স্তর পর্যন্ত বাংলা সন ব্যবহৃত হবার কারণে মানুষের প্রতিদিনের সুখ-দু:খ, আনন্দ-বেদনার সাথে ওতোপ্রোতভাবে জড়িয়ে পড়েছে এ সনটি। প্রাচীনকালে পারস্যের লোকেরা ‘নওরোজ’ ও ‘মিহিরজান’ নামক যে দুটি উৎসব পালন করতো এর প্রথমটি ছিল সন কেন্দ্রিক। এ দু’টি উৎসবের পরিবর্তেই মুসলমানদের জন্য নবী করীম (স.) এর নির্দেশনা চালু হয় দুই ঈদ উৎসব। ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আয্হা। উপমহাদেশে দীর্ঘদিন মুগল শাসন থাকায় এখানেও নওরোজ উৎসব পালিত হতো। কিন্তু বাংলা সন প্রবর্তনের পর নওরোজ উৎসবের স্থলে স্থান করে নিয়েছে পহেলা বৈশাখের উৎসব।
আধুনিক নববর্ষ পালনের তত্ত্ব অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯১৭ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশদের বিজয় কামনা করে সে বছর পহেলা বৈশাখে হোমকীর্ত্তণ ও পূজার আয়োজন করা হয়েছিল। এরপরে ১৯৮৩ সালে একইভাবে ভাল কিছু উদ্যোগ নেয়া হয় নববর্ষ পালনের জন্য। মোদ্দাকথা ১৯৬৭ সালের আগে ঘটা করে পহেলা বৈশাখ পালন করা হয়নি। এরপর থেকে প্রতিবছরই বাংলাদেশের গ্রামে-গঞ্জে, শহরে-নগরে বাড়তে থাকে পহেলা বৈশাখের সাড়ম্বরতা যা বর্তমানে ধর্ম-বর্ণ, ধনি-গরীব, আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা নির্বিশেষে বাঙালির প্রাণের উৎসবে পরিণত হয়েছে।
পরিশেষে, আবহমান কাল থেকে বিশ্বের নানা দেশে জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণি নির্বিশেষে নববর্ষের উৎসব বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালিত হয়ে থাকে। এ উৎসবের বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতায় কমবেশি কুসংস্কার বা নিজস্ব প্রথাগত বিশ্বাস ঐতিহ্যগতভাবে পালিত হয়ে থাকলেও তা যে অন্য কারোর ক্ষতির কারণ নয়; তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে সার্বজনীনভাবে এ উৎসব পালন করার মধ্য দিয়ে একটি মহৎ উদ্দেশ্য সাধিত হয়। আর তা হলো-মানুষে মানুষে সম্প্রীতি ও ভালোবাসার বন্ধন সুদৃঢ় হয়। হিংসা-বিদ্বেষ, দ্বন্দ্ব-সংঘাত ভুলে সবাইকে এক কাতারে দাঁড় করাতে সক্ষম হয় এই সার্বজনীন উৎসব। নতুন বছর দু:খ-জরা-যাতনা ভুলিয়ে সকলের জীবনকে রঙিন করুক এই প্রত্যাশা নিরন্তর। শুভ নববর্ষ-১৪২৬।
লেখক: কবি, গবেষক ও বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডার কর্মকর্তা। email: dr.alim1978@gmail.com

আপনার মতামত দিন

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

error: Content is protected !!