রাত ১২:০৫ | সোমবার | ২৫শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

দেশী প্রজাতির বৃক্ষরোপণে আবারও প্রাণবৈচিত্র্য ফিরে পাচ্ছে শেরপুরের গারো পাহাড়

খোরশেদ আলম, স্টাফ রিপোর্টার ॥ দেশী প্রজাতির বৃক্ষরোপণে আবারও প্রাণ ও জীববৈচিত্র্য ফিরে পাচ্ছে শেরপুরের সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়। ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের অর্থায়নে সুফল প্রকল্পের নামে টেকসই বনায়ন জীবিকায়ন প্রকল্পের আওতায় শুরু হয়েছে দেশীয় প্রজাতির বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি।
জানা যায়, এক সময় এ গারো পাহাড়ে দেখা যেতো বিভিন্ন প্রজাতির পশু পাখির অভয়ারণ্য। শোনা যেতো পশু পাখির কোলাহল। কিন্তু নির্বিচারে বৃক্ষ লুটপাটের কারনে কালের আবর্তে উজাড় হয়ে গেছে বন। ফলে গারো পাহাড়ের এসব প্রাণ ও জীববৈচিত্র বিলুপ্তি হয়ে গেছে। এখন আর গারো পাহাড়ে চোখে পরে না পশু পাখির অভয়ারণ্য। শোনা যায় না মধুর সুরের পশু পাখির কোলাহল। জনসংখ্যার আনুপাতিক হারে যে পরিমাণে বন থাকার কথা সে পরিমাণে বন নেই গারো পাহাড়ে।

img-add

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, গত ৯০ দশকেও গারো পাহাড়ে শালগজারিসহ দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা ছিল। ছিল নানান রঙ বেরঙের পশু পাখির অভয়ারণ্য। কিন্তু দেশীয় প্রজাতির বৃক্ষ ধ্বংস করে গারো পাহাড়ে গড়ে তোলা হয় সামাজিক বনায়ন। বন অধিদপ্তরের উদ্যোগে বিদেশী এ উডলট বাগানের গাছে বসতে দেখা যায় না কোন পশু পাখি। ফলে গারো পাহাড়ের পশু পাখির অভয়ারন্য দিনে দিনে বিলুপ্তি হয়ে যায়। শুধু তাই নয় এসব উডলট বাগান প্রচুর পরিমানে পানি শোষণ করায় গারো পাহাড়ের ভূগর্ভস্থ পানির স্তরও নিচে নেমে গেছে। এতে গারো পাহাড়ে দেখা দিয়েছে প্রকৃতির বিরুপ প্রভাব। শীত মৌসুমে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি ও গ্রীন্মকালে প্রচন্ড তাপ মাত্রায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে প্রাণবৈচিত্র্য বিলুপ্তি হয়ে গেছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তোরনের লক্ষে আওয়ামী লীগ সরকার গারো পাহাড়ে দেশী প্রজাতির বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হাতে নেয়। ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের অর্থে সুফল প্রকল্পের নামে টেকসই বনায়ন জীবিকায়ন প্রকল্পের আওতায় শুরু হয়েছে দেশীয় প্রজাতির বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি।
জানা গেছে, ২০১৯/২০ অর্থ বছরে শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলার বালিজুড়ি, ঝিনাইগাতী উপজেলার রাংটিয়া ও নালিতাবাড়ি উপজেলার মধুটিলা ফরেষ্ট রেঞ্জ এলাকায় প্রায় ১ হাজার হেক্টর বনের জমিতে রোপণ করা হয়েছে দেশীয় প্রজাতির ফল মূল ও ওষুধী গাছের চারা। দেশী প্রজাতির কাজু বাদাম, বহেড়া, চাপালিশ, কানাইডিঙ্গি, সোনালু, জাম্বুরা, তেলসুর, গামার, বাটনা, ঢাকী জাম, ক্ষুদিজাম, গাব, তেতুল, চিকরাশি, জলপাই, লাল চন্দন, নিম, জামরুল, ডেওয়া, অর্জুন, নাগেশ্বর, গর্জন, কুম্ভি, শাল, বেল, কাঠবাদাম, হোচা, লটকন, হরিতকি, আমলকি, ভাদী, পলাশ, ডুমুর ও কদমসহ প্রায় ৫০ প্রজাতির চারা প্রতি হেক্টর জমিতে রোপণ করা হয় ২ হাজার ৫শ’ করে চারা। ইতিমধ্যেই চারাগুলো বেড়ে উঠতে শুরু করেছে। ফিরে আসতে শুরু হয়েছে গারো পাহাড়ের আদিচিত্র।
এ ব্যাপারে শেরপুরের সহকারী বন সংরক্ষক ড. প্রানতোষ রায় বলেন, সুফল টেকসই বনায়ন জীবিকায়ন বৃক্ষরোপণের উদ্দেশ্য হচ্ছে বনের বৃক্ষ আর নিধন হবে না। বৃক্ষের ফলগুলো এলাকাবাসী ও বনের পশু পাখির খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হবে। এতে গারো পাহাড়ে আবার ও জীববৈচিত্র্যের অভয়ারণ্যে পরিণত হবে। ফিরে আসবে গারো পাহাড়ের সৌন্দর্য্য ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য। তিনি আরও বলেন, গাছ বড় হবার পর তা নিলামে বিক্রি করা হবে। কিন্তু কোন গাছ কাটা হবে না। ধনী দেশগুলো জলবায়ু তহবিলের অর্থে তা নিলামে ক্রয় করবে। মেয়াদোত্তীর্ণ হবার পর আবারও নিলামে বিক্রি করা হবে। এভাবে এসব বৃক্ষ থেকে প্রতিবছর সরকারের ঘরে আসবে বিপুল পরিমাণের রাজস্ব।

Print Friendly, PDF & Email
এ সংক্রান্ত আরও খবর

অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ খবর



» উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে খান টমেটো

» টানা লোকসানে স্মার্টফোন ব্যবসা বন্ধ করছে এলজি

» তৃণমূলে যোগ দিলেন কৌশানী

» ‘অসুবিধা নাই, ইনশাআল্লাহ নেক্সট টাইম হবে’

» ‘ভোট দিয়ে আবার নির্বাচিত করুন, পুরো নকলা শহর সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে’

» বিশ্বের সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর নগরী মদিনা

» বাইডেনের সঙ্গে ‘চমৎকার সম্পর্কের’ আশা সৌদি আরবের

» পরীক্ষা ছাড়াই ফল ঘোষণার সুযোগ রেখে সংসদে বিল পাস

» দেশবিরোধী অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান কাদেরের

» দেশে করোনায় আরও ২০ মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৪৭৩

» ঝিনাইগাতীতে বণিক সমিতির নির্বাচন : মোখলেছ সভাপতি, ফারুক সম্পাদক নির্বাচিত

» কৃষির উন্নতি না হলে মানুষের আয় বাড়বে না : কৃষিমন্ত্রী

» শেরপুরে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার উদ্যোগে গরিব-অসহায় মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ

» শ্রীবরদীতে ইজিবাইকের চাকার নিচে পড়ে শিশুর মৃত্যু

» একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না, মুজিববর্ষে এটাই বড় উৎসব : প্রধানমন্ত্রী

সম্পাদক-প্রকাশক : রফিকুল ইসলাম আধার
উপদেষ্টা সম্পাদক : সোলায়মান খাঁন মজনু
নির্বাহী সম্পাদক : মোহাম্মদ জুবায়ের রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১ : ফারহানা পারভীন মুন্নী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : আলমগীর কিবরিয়া কামরুল
বার্তা সম্পাদক-১ : রেজাউল করিম বকুল
বার্তা সম্পাদক-২ : মোঃ ফরিদুজ্জামান।
যোগাযোগ : সম্পাদক : ০১৭২০০৭৯৪০৯
নির্বাহী সম্পাদক : ০১৯১২০৪৯৯৪৬
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১: ০১৭১৬৪৬২২৫৫
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : ০১৭১৪২৬১৩৫০
বার্তা সম্পাদক-১ : ০১৭১৩৫৬৪২২৫
বার্তা সম্পাদক -২ : ০১৯২১-৯৫৫৯০৬
বিজ্ঞাপন : ০১৭১২৮৫৩৩০৩
ইমেইল : shamolbangla2013@gmail.com.

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । ওয়েবসাইট তৈরি করেছে- BD iT Zone

  রাত ১২:০৫ | সোমবার | ২৫শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

দেশী প্রজাতির বৃক্ষরোপণে আবারও প্রাণবৈচিত্র্য ফিরে পাচ্ছে শেরপুরের গারো পাহাড়

খোরশেদ আলম, স্টাফ রিপোর্টার ॥ দেশী প্রজাতির বৃক্ষরোপণে আবারও প্রাণ ও জীববৈচিত্র্য ফিরে পাচ্ছে শেরপুরের সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়। ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের অর্থায়নে সুফল প্রকল্পের নামে টেকসই বনায়ন জীবিকায়ন প্রকল্পের আওতায় শুরু হয়েছে দেশীয় প্রজাতির বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি।
জানা যায়, এক সময় এ গারো পাহাড়ে দেখা যেতো বিভিন্ন প্রজাতির পশু পাখির অভয়ারণ্য। শোনা যেতো পশু পাখির কোলাহল। কিন্তু নির্বিচারে বৃক্ষ লুটপাটের কারনে কালের আবর্তে উজাড় হয়ে গেছে বন। ফলে গারো পাহাড়ের এসব প্রাণ ও জীববৈচিত্র বিলুপ্তি হয়ে গেছে। এখন আর গারো পাহাড়ে চোখে পরে না পশু পাখির অভয়ারণ্য। শোনা যায় না মধুর সুরের পশু পাখির কোলাহল। জনসংখ্যার আনুপাতিক হারে যে পরিমাণে বন থাকার কথা সে পরিমাণে বন নেই গারো পাহাড়ে।

img-add

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, গত ৯০ দশকেও গারো পাহাড়ে শালগজারিসহ দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা ছিল। ছিল নানান রঙ বেরঙের পশু পাখির অভয়ারণ্য। কিন্তু দেশীয় প্রজাতির বৃক্ষ ধ্বংস করে গারো পাহাড়ে গড়ে তোলা হয় সামাজিক বনায়ন। বন অধিদপ্তরের উদ্যোগে বিদেশী এ উডলট বাগানের গাছে বসতে দেখা যায় না কোন পশু পাখি। ফলে গারো পাহাড়ের পশু পাখির অভয়ারন্য দিনে দিনে বিলুপ্তি হয়ে যায়। শুধু তাই নয় এসব উডলট বাগান প্রচুর পরিমানে পানি শোষণ করায় গারো পাহাড়ের ভূগর্ভস্থ পানির স্তরও নিচে নেমে গেছে। এতে গারো পাহাড়ে দেখা দিয়েছে প্রকৃতির বিরুপ প্রভাব। শীত মৌসুমে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি ও গ্রীন্মকালে প্রচন্ড তাপ মাত্রায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে প্রাণবৈচিত্র্য বিলুপ্তি হয়ে গেছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তোরনের লক্ষে আওয়ামী লীগ সরকার গারো পাহাড়ে দেশী প্রজাতির বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হাতে নেয়। ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের অর্থে সুফল প্রকল্পের নামে টেকসই বনায়ন জীবিকায়ন প্রকল্পের আওতায় শুরু হয়েছে দেশীয় প্রজাতির বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি।
জানা গেছে, ২০১৯/২০ অর্থ বছরে শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলার বালিজুড়ি, ঝিনাইগাতী উপজেলার রাংটিয়া ও নালিতাবাড়ি উপজেলার মধুটিলা ফরেষ্ট রেঞ্জ এলাকায় প্রায় ১ হাজার হেক্টর বনের জমিতে রোপণ করা হয়েছে দেশীয় প্রজাতির ফল মূল ও ওষুধী গাছের চারা। দেশী প্রজাতির কাজু বাদাম, বহেড়া, চাপালিশ, কানাইডিঙ্গি, সোনালু, জাম্বুরা, তেলসুর, গামার, বাটনা, ঢাকী জাম, ক্ষুদিজাম, গাব, তেতুল, চিকরাশি, জলপাই, লাল চন্দন, নিম, জামরুল, ডেওয়া, অর্জুন, নাগেশ্বর, গর্জন, কুম্ভি, শাল, বেল, কাঠবাদাম, হোচা, লটকন, হরিতকি, আমলকি, ভাদী, পলাশ, ডুমুর ও কদমসহ প্রায় ৫০ প্রজাতির চারা প্রতি হেক্টর জমিতে রোপণ করা হয় ২ হাজার ৫শ’ করে চারা। ইতিমধ্যেই চারাগুলো বেড়ে উঠতে শুরু করেছে। ফিরে আসতে শুরু হয়েছে গারো পাহাড়ের আদিচিত্র।
এ ব্যাপারে শেরপুরের সহকারী বন সংরক্ষক ড. প্রানতোষ রায় বলেন, সুফল টেকসই বনায়ন জীবিকায়ন বৃক্ষরোপণের উদ্দেশ্য হচ্ছে বনের বৃক্ষ আর নিধন হবে না। বৃক্ষের ফলগুলো এলাকাবাসী ও বনের পশু পাখির খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হবে। এতে গারো পাহাড়ে আবার ও জীববৈচিত্র্যের অভয়ারণ্যে পরিণত হবে। ফিরে আসবে গারো পাহাড়ের সৌন্দর্য্য ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য। তিনি আরও বলেন, গাছ বড় হবার পর তা নিলামে বিক্রি করা হবে। কিন্তু কোন গাছ কাটা হবে না। ধনী দেশগুলো জলবায়ু তহবিলের অর্থে তা নিলামে ক্রয় করবে। মেয়াদোত্তীর্ণ হবার পর আবারও নিলামে বিক্রি করা হবে। এভাবে এসব বৃক্ষ থেকে প্রতিবছর সরকারের ঘরে আসবে বিপুল পরিমাণের রাজস্ব।

Print Friendly, PDF & Email
এ সংক্রান্ত আরও খবর

সর্বশেষ খবর



অন্যান্য খবর



সম্পাদক-প্রকাশক : রফিকুল ইসলাম আধার
উপদেষ্টা সম্পাদক : সোলায়মান খাঁন মজনু
নির্বাহী সম্পাদক : মোহাম্মদ জুবায়ের রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১ : ফারহানা পারভীন মুন্নী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : আলমগীর কিবরিয়া কামরুল
বার্তা সম্পাদক-১ : রেজাউল করিম বকুল
বার্তা সম্পাদক-২ : মোঃ ফরিদুজ্জামান।
যোগাযোগ : সম্পাদক : ০১৭২০০৭৯৪০৯
নির্বাহী সম্পাদক : ০১৯১২০৪৯৯৪৬
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১: ০১৭১৬৪৬২২৫৫
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : ০১৭১৪২৬১৩৫০
বার্তা সম্পাদক-১ : ০১৭১৩৫৬৪২২৫
বার্তা সম্পাদক -২ : ০১৯২১-৯৫৫৯০৬
বিজ্ঞাপন : ০১৭১২৮৫৩৩০৩
ইমেইল : shamolbangla2013@gmail.com.

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । ওয়েবসাইট তৈরি করেছে- BD iT Zone

error: Content is protected !!