[bangla_time] | [bangla_day] | [english_date] | [bangla_date]

তেলময় নয় ! বাস্তবতার নিরিখে

মো: রাবিউল ইসলাম

সত্যিই কবিতার মাধ্যমে মহান আল্লাহ্ আমাকে অনেক অজানাকে জানাতে এবং অচেনাকে চেনাতে সাহায্য করেছেন। ফেসবুক আইডি চালু করার পর থেকে মনের খোরাক হিসেবে কবিতা লেখার অভ্যাসকে নতুন করে জাগ্রত করেছি। খুব বেশি সময় নয়, মাত্র পনেরো সাল থেকে। এরমধ্যেই পেয়েছি অনেকের স্বচ্ছ ভালোবাসা, হয়েছে অনেক অচেনা মানুষের সাথে আত্মিক সম্পর্ক।

মানুষের ভালো কার্যক্রম দেখলেই তাকে নিয়ে আমার কবিতা লেখার ইচ্ছে জাগে। সে কারণেই হয়তো সর্বপ্রথম শ্রীবরদীর মেয়র বাঘের সাথে লড়াই করতে গিয়ে আহত হলে তাকে নিয়ে লিখেছিলাম “বাঘা নেতা”।
যদিও কেউ কেউ বলেছিলেন ” কুইত্তে কামড়াইলে তার নাম কী দিতেন?”এমন তাচ্ছিল্যও অনেক পেয়েছিলাম। কেউ কেউ তেল মারার কথাও বলেছেন।
কারো মুখে শুনেছি” দেইকেন আহনেরে যেন আবার নেতা না বানায়”! কবিতাটি দীর্ঘদিন শ্রীবরদীর জিয়া গেইটে সুভা পেয়েছিলো। মেয়র সাহেব নিজে সেটা পেনাতে ছাপিয়ে ঝুলিয়ে রেখেছিলেন। অনেক মানুষ আমাকে কবিতাটি পড়ে বাহবা দিয়ে ফোন করে বা ম্যাসেজে অভিনন্দন জানিয়েছেন। গেইটটি একদিন ট্রাকের ধাক্কায় ভেঙে পড়লে কবিতাটিও অদৃশ্য হয়ে যায়। সেটিই ছিলো কবিতায় আমার প্রথম প্রাপ্তি। কবিতার জন্য মেয়র সাঈদের সাথে সম্ভবত দুএকদিন দেখা হওয়া ছাড়া তার দ্বারা আমার কোনো উপকার পেতে হয়নি। কবিতাটি পাঠে মুগ্ধ হয়ে মেয়েরের কাছে পৌঁছার সুযোগ করে দিয়েছিল ফেসবুক বন্ধু মোস্তাক ভাই। যাকে এর আগে কোনোদিন দেখিও নাই। পরবর্তীতে কবিতা লেখায় আমার আরো আগ্রহ বেড়ে যায়।

একদিন ফেসবুকে দেখতে পাই ডপসের কার্যক্রম। কাকতালীয়ভাবে অটোরিকসায় সরাসরি দেখাও হয়ে যায়। তিনিই আমাকে আগে চিনে ফেলেন। সম্ভবত দুই মিনিট আলাপে তার ব্যবহারে মুগ্ধ হই। ভাবতে থাকি, কীভাবে একজন সাধারণ সৈনিক ক্ষুদ্র চাকরির পাশাপাশি বিভিন্ন দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ঘুরে ঘুরে ঝরে পড়া রোধকল্পে কায়িক ও মানসিক শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন। তার কাজকে কোনো মনুষ্যত্ববোধসম্পন্ন মানুষই প্রশংসা না করে থাকতে পারবে না। আমিও থাকতে পারিনি। তার কার্যক্রমে মুগ্ধ হয়ে লিখে ফেললাম “শিক্ষার ফেরিওয়ালা” নামক কবিতাটি। এখানেও অনেকে তেল খুঁজার চেষ্টা করলেন। কিন্তু যে যাই বলুক, অন্তর থেকে তার কার্যক্রমকে ভালোবেসেই কবিতাটি লিখেছিলাম। আমার লেখা ” স্বচ্ছ ভালোবাসা” কাব্যগ্রন্থেও কবিতাটিকে স্থান দিয়েছি।
এতে শাহীন মিয়ার কার্যক্রমের সাথে আত্মিক সম্পর্ক বৃদ্ধি ছাড়া আমার কোনো প্রাপ্তির আকাঙ্ক্ষা নেই। আমি তার কার্যক্রমকে নিয়ে একটি গানও রচনা করেছি এবং সুর দিয়েছি। খুব শীঘ্রই তা প্রকাশ পাবে।
আমার খুব ইচ্ছা ছিলো কবিতাটি শাহীন মিয়ার হাতে তুলে দিবো। যেটি ঝুলে ধাকবে ডপসের অফিসে। সেদিন হঠাৎ শুনতে পেলাম ১৬ আগস্ট ২০১৯ খ্রিস্টাব্দে শেরপুর জেলা শহরের খরমপুরস্থ ডপস্ -এর কার্যালয়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ডপস সদস্যদের দ্বারা কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় উদ্বুদ্ধকরণ অনুষ্ঠান চলবে। অনুষ্ঠানে শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোগাম্মদ বিল্লাল হোসেন মহোদয়ের আগমন ঘটবে। কবি হিসেবে আমিও অনুষ্ঠানে থাকার জন্য আমন্ত্রণ পেলাম। মনে সুপ্ত থাকা ইচ্ছাটি পূরণ করার জন্য একটি সুদৃশ্য সোনালি ফ্রেমে কবিতাটি বাধাই করে কয়েকদিন আগেই কবি ও সাংবাদিক রফিক মজিদের ঘরে নিরাপদে রেখে দেই। অনুষ্ঠানের আগের দিন রাতে রফিক মজিদ ভারত চলে যাবেন বলে সেটা তার নিকট হতে নিয়ে অন্য স্থানে রাখি। সময়মত অনুষ্ঠানের দিন প্রধান অতিথি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন মহোদয়ের মাধ্যমে শাহীন মিয়ার হাতে তুলে দেই। মুহূর্তটা ছিলো আমার জন্য খুবই আনন্দঘন এবং স্মৃতিময়। তবে সেদিনের একটি মুহূর্ত খুবই কষ্টের স্মৃতি হয়ে থাকবে। যখন বাধাই করা কবিতাটি প্যাকেট থেকে বের করি তখন দেখি সেটার কাঁচটির কিছু অংশ চৌচির হয়ে গিয়েছে। অথচ আমি কয়েকদিন থেকে তা খুব যত্ন করে নিরাপদ স্থানে রেখে রেখে আসছিলাম। প্রয়োজন মুহূর্তে যখন এমন অবস্থা দেখলাম তখন যেন আমার হৃদয়টাতেও চৌচির হওয়ার শব্দ অনুভব করছিলাম। আমার সত্যিই যেন কান্না আসছিলো। তবে সেখানেও একটি শিক্ষা পেয়েছি। আমরা যতই সতর্কতা অবলম্বন করি, যা ভাগ্যে লেখা তা ঘটবেই। ভেবেছিলাম ছবি তুললে তাতে হয়তো গ্লাস ভাঙা বুঝা যাবে। সেটা হয়তো ফেসবুকে পোস্ট করতে পারবো না। আহা! পুলিশ সুপার মহোদয়ের সাথে সেই স্মৃতিময় ছবি। এসব অনেক ভেবেছি। কিন্তু সেই সুদক্ষ সৈনিক শাহীন মিয়া ম্যাসেনন্জারে আমাকে একটি চমৎকার ছবি পাঠালেন। ছবিটা খুবই সুন্দর হয়েছে। সেটা দেখে আমার ব্যথাতুর শুকনো হৃদয়নদীতে যেন খুশির জোয়ার সৃষ্টি হলো।

সত্যিই, কবিতার মাধ্যমে আল্লাহ্ আমাকে অনেক বড় মানুষদের সান্নিধ্য পাবার সুযোগ করে দিয়েছেন। যে এসপি মহোদয়ের কাছে জীবনে যাওয়ার চিন্তাও করতে পারতাম না সেই এসপি মহোদয়কে বইমেলায় বই দিয়েছি, ডিসি মহোদয়কে দিয়েছি, মাননীয় হুইপ মহোদয়কে দিয়েছি, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মহোদয়কে এখনো সুযোগ পাইনি,তবে ইচ্ছা রয়েছে। মেয়র মহোদয় নিজে ক্রয় করে অামাকে উদ্বুদ্ধ করেছেন। তাছাড়া গত বছর ডিসি মল্লিক আনোয়ার স্যারের প্রকৃতি ও মানব প্রেমে মুগ্ধ হয়ে তাকে নিয়েও একটি কবিতা লিখে উপহার দিয়েছি। ডিসি স্যার যে স্বচ্ছ ভালোবাসা আমাকে দিয়েছেন তা এখনো আমার ঘরে শোভা পাচ্ছে। তার কর্মকাণ্ডের জন্য প্রাণভরে প্রার্থনা করি। উনার যেন কোনো নৈতিক পদস্খলনের খবর না শুনতে হয়। ডিসি মল্লিক আনোয়ার স্যারের সাথে সেদিনের মুহূর্তটাও ছিলো আমার জীবনে প্রথম কোনো বড় অফিসারের সাথে স্মৃতিমাখা মূল্যবান ক্ষণ। সেখানে যেতেও আমাকে শাহীন মিয়া নানাভাবে উদ্বুদ্ধকরণ পরামর্শ দিয়েছেন এবং আমার সঙ্গী হয়েছেন। যদিও সেখানেও অনেকে তেল খুঁজেছেন কিন্তু কতটুকু তেল পেয়েছিলেন জানিনা।
শ্যামলবাংলা নিউজ২৪-এর জন্মদিনের অনুষ্ঠানেও শ্রদ্ধাস্পদ সম্পাদক এ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম আধার মহোদয়ের নিকট থেকে আবৃত্তি করার আহ্বান পেয়ে শ্যামলবাংলাকে নিয়ে লেখা কবিতাটি অনুষ্ঠানে আবৃত্তি শেষে শ্যামলবাংলা পরিবারকে উপহার দেওয়ার সুযোগ পেয়েছি। পেয়েছি মনের খোরাক।
সবই সম্ভব হয়েছে কবিতার সঙ্গে সুগভীর স্বচ্ছ ভালোবাসার জন্যই। বাস্তবতার নিরিখে কৃতিসুলভ মানুষের মূল্যবান বিষয়কে সমাজের মাঝে ছড়িয়ে দিয়ে তাদের পাশাপাশি অন্যকেও উদ্বুদ্ধকরণার্থে লেখা আমার কবিতাগুলোকে অনেকে তেলময় মনে করলেও আমার নিকট তা টাকার বিনিময়ে কেনা মহামূল্যবান পুরস্কারের চেয়েও মূল্যবান।

আমার কর্মক্ষেত্র আইডিয়াল প্রিপারেটরি এন্ড হাই স্কুলের উপাধ্যক্ষ নাসরিন রহমান মহোদয় যখন জয়িতা সম্মাননা পান তখন তাকে নিয়েও “একজন জয়িতা” নামক কবিতা লিখেছি। শেরপুরের কৃতী সন্তান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর মহোদয়কে নিয়ে লিখেছি। শেরপুরের গুণী ডাক্তার নাদিম হাসান স্যারের প্রশংসনীয় সেবামূলক কার্যক্রমকে নিয়ে “গুণী ডাক্তার” শিরোনামে কবিতা লিখে তাকেও উপহার দেওয়ার সুযোগ পেয়েছি। সবই আমার শুধুই মনের তৃপ্তির জন্য, অন্য কোনো উদ্দেশ্যে নয়।

যদিও জীবন মানেই রাজনীতি তথাপি আমার রাজনীতি মোটেই পছন্দ নয়। লেখায় কিংবা প্রাত্যহিক জীবনে। যেখানেই রাজনীতি সেখান থেকেই দূরে থাকি। রাজনীতির কোনো পদেও কোনোদিন আমার বা আমার পরিবারের কারো নাম থাকুক এমন ইচ্ছে আমার ছিলো না, নেই এবং থাকবেও না। নানা কারণে ওসব আমার একদম পছন্দ নয়। তবে আমার মাতৃভাষা ও প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের জন্য যারাই কিছু করেছেন এবং করবেন তাদেরকেই আমৃত্যু শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা দ্বিধাহীন চিত্তে বিলিয়ে যাবো। নেতাদেরকে রাজনৈতিক পরিচয়ে নয়, ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষের পরিচয়ে ভালোবাসবো। চরিত্র মিলিয়ে দেখবো অন্যান্য প্রাণিকুলের সঙ্গে। আমৃত্যু লিখে যাব মানুষের কর্মকাণ্ডকে নিয়ে। তুলে ধরার চেষ্টা করবো সমাজের বাস্তব চিত্র। ভালো থাকুক আমার মনোরাজ্যে বসবাসরত মনুষ্যত্ববোধসম্পন্ন সকল মানুষ।
জ্ঞানবানগণ আমার লেখাতে খুঁজে নিক সকল দোষ। নিন্দার কল্যাণেই শুধরে নিতে চাই আমার নিজেকে।

লেখক : কবি ও শিক্ষক, শেরপুর।

অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ খবর



» ১০৬ রানে অলআউট বাংলাদেশ

» দুর্ঘটনায় বরযাত্রীবাহী বাস, নিহত বেড়ে ১০

» শেরপুরে বাসচালকদের ধর্মঘট প্রত্যাহার : জনমনে স্বস্তি

» শেরপুরে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সম্মেলন ॥ সভাপতি দেবাশীষ, সম্পাদক কানু

» সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধেও জিরো টলারেন্স নীতির বাস্তবায়ন চাই ॥ রানা দাস গুপ্ত

» শেরপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বৃদ্ধা খুন

» গুজব বন্ধে বিধিমালা হচ্ছে : তথ্যমন্ত্রী

» মুন্সীগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় ৮ বরযাত্রী নিহত

» ঘণ্টা বাজালেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্বর্ণের মুদ্রায় টস

» শেরপুরে জেলা প্রশাসনের আর্থিক সহায়তা পেল ৩ হতদরিদ্র শিক্ষার্থীসহ ৫ জন

» শেখ ফয়জুর রহমান’র কবিতাগুচ্ছ

» নালিতাবাড়ীতে ১ হাজার পিস ইয়াবাসহ ২ যুবক গ্রেফতার

» দিবা-রাত্রির টেষ্ট ম্যাচ : ‘পিঙ্ক সিটি’তে রুপ নিয়েছে কলকাতা

» যুবলীগের সম্মেলন ২৩ নবেম্বর

» অস্ট্রেলিয়ায় ভয়ানক রূপ ধারণ করেছে দাবানল : ৩ রাজ্যে সর্বোচ্চ সতর্কতা

সম্পাদক-প্রকাশক : রফিকুল ইসলাম আধার
উপদেষ্টা সম্পাদক : সোলায়মান খাঁন মজনু
নির্বাহী সম্পাদক : মোহাম্মদ জুবায়ের রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১ : ফারহানা পারভীন মুন্নী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : আলমগীর কিবরিয়া কামরুল
বার্তা সম্পাদক-১ : রেজাউল করিম বকুল
বার্তা সম্পাদক-২ : মোঃ ফরিদুজ্জামান।
যোগাযোগ : সম্পাদক : ০১৭২০০৭৯৪০৯
নির্বাহী সম্পাদক : ০১৯১২০৪৯৯৪৬
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১: ০১৭১৬৪৬২২৫৫
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : ০১৭১৪২৬১৩৫০
বার্তা সম্পাদক-১ : ০১৭১৩৫৬৪২২৫
বার্তা সম্পাদক -২ : ০১৯২১-৯৫৫৯০৬
বিজ্ঞাপন : ০১৭১২৮৫৩৩০৩
ইমেইল : shamolbangla2013@gmail.com.

কারিগরি সহযোগিতায় BD iT Zone

,

তেলময় নয় ! বাস্তবতার নিরিখে

মো: রাবিউল ইসলাম

সত্যিই কবিতার মাধ্যমে মহান আল্লাহ্ আমাকে অনেক অজানাকে জানাতে এবং অচেনাকে চেনাতে সাহায্য করেছেন। ফেসবুক আইডি চালু করার পর থেকে মনের খোরাক হিসেবে কবিতা লেখার অভ্যাসকে নতুন করে জাগ্রত করেছি। খুব বেশি সময় নয়, মাত্র পনেরো সাল থেকে। এরমধ্যেই পেয়েছি অনেকের স্বচ্ছ ভালোবাসা, হয়েছে অনেক অচেনা মানুষের সাথে আত্মিক সম্পর্ক।

মানুষের ভালো কার্যক্রম দেখলেই তাকে নিয়ে আমার কবিতা লেখার ইচ্ছে জাগে। সে কারণেই হয়তো সর্বপ্রথম শ্রীবরদীর মেয়র বাঘের সাথে লড়াই করতে গিয়ে আহত হলে তাকে নিয়ে লিখেছিলাম “বাঘা নেতা”।
যদিও কেউ কেউ বলেছিলেন ” কুইত্তে কামড়াইলে তার নাম কী দিতেন?”এমন তাচ্ছিল্যও অনেক পেয়েছিলাম। কেউ কেউ তেল মারার কথাও বলেছেন।
কারো মুখে শুনেছি” দেইকেন আহনেরে যেন আবার নেতা না বানায়”! কবিতাটি দীর্ঘদিন শ্রীবরদীর জিয়া গেইটে সুভা পেয়েছিলো। মেয়র সাহেব নিজে সেটা পেনাতে ছাপিয়ে ঝুলিয়ে রেখেছিলেন। অনেক মানুষ আমাকে কবিতাটি পড়ে বাহবা দিয়ে ফোন করে বা ম্যাসেজে অভিনন্দন জানিয়েছেন। গেইটটি একদিন ট্রাকের ধাক্কায় ভেঙে পড়লে কবিতাটিও অদৃশ্য হয়ে যায়। সেটিই ছিলো কবিতায় আমার প্রথম প্রাপ্তি। কবিতার জন্য মেয়র সাঈদের সাথে সম্ভবত দুএকদিন দেখা হওয়া ছাড়া তার দ্বারা আমার কোনো উপকার পেতে হয়নি। কবিতাটি পাঠে মুগ্ধ হয়ে মেয়েরের কাছে পৌঁছার সুযোগ করে দিয়েছিল ফেসবুক বন্ধু মোস্তাক ভাই। যাকে এর আগে কোনোদিন দেখিও নাই। পরবর্তীতে কবিতা লেখায় আমার আরো আগ্রহ বেড়ে যায়।

একদিন ফেসবুকে দেখতে পাই ডপসের কার্যক্রম। কাকতালীয়ভাবে অটোরিকসায় সরাসরি দেখাও হয়ে যায়। তিনিই আমাকে আগে চিনে ফেলেন। সম্ভবত দুই মিনিট আলাপে তার ব্যবহারে মুগ্ধ হই। ভাবতে থাকি, কীভাবে একজন সাধারণ সৈনিক ক্ষুদ্র চাকরির পাশাপাশি বিভিন্ন দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ঘুরে ঘুরে ঝরে পড়া রোধকল্পে কায়িক ও মানসিক শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন। তার কাজকে কোনো মনুষ্যত্ববোধসম্পন্ন মানুষই প্রশংসা না করে থাকতে পারবে না। আমিও থাকতে পারিনি। তার কার্যক্রমে মুগ্ধ হয়ে লিখে ফেললাম “শিক্ষার ফেরিওয়ালা” নামক কবিতাটি। এখানেও অনেকে তেল খুঁজার চেষ্টা করলেন। কিন্তু যে যাই বলুক, অন্তর থেকে তার কার্যক্রমকে ভালোবেসেই কবিতাটি লিখেছিলাম। আমার লেখা ” স্বচ্ছ ভালোবাসা” কাব্যগ্রন্থেও কবিতাটিকে স্থান দিয়েছি।
এতে শাহীন মিয়ার কার্যক্রমের সাথে আত্মিক সম্পর্ক বৃদ্ধি ছাড়া আমার কোনো প্রাপ্তির আকাঙ্ক্ষা নেই। আমি তার কার্যক্রমকে নিয়ে একটি গানও রচনা করেছি এবং সুর দিয়েছি। খুব শীঘ্রই তা প্রকাশ পাবে।
আমার খুব ইচ্ছা ছিলো কবিতাটি শাহীন মিয়ার হাতে তুলে দিবো। যেটি ঝুলে ধাকবে ডপসের অফিসে। সেদিন হঠাৎ শুনতে পেলাম ১৬ আগস্ট ২০১৯ খ্রিস্টাব্দে শেরপুর জেলা শহরের খরমপুরস্থ ডপস্ -এর কার্যালয়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ডপস সদস্যদের দ্বারা কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় উদ্বুদ্ধকরণ অনুষ্ঠান চলবে। অনুষ্ঠানে শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোগাম্মদ বিল্লাল হোসেন মহোদয়ের আগমন ঘটবে। কবি হিসেবে আমিও অনুষ্ঠানে থাকার জন্য আমন্ত্রণ পেলাম। মনে সুপ্ত থাকা ইচ্ছাটি পূরণ করার জন্য একটি সুদৃশ্য সোনালি ফ্রেমে কবিতাটি বাধাই করে কয়েকদিন আগেই কবি ও সাংবাদিক রফিক মজিদের ঘরে নিরাপদে রেখে দেই। অনুষ্ঠানের আগের দিন রাতে রফিক মজিদ ভারত চলে যাবেন বলে সেটা তার নিকট হতে নিয়ে অন্য স্থানে রাখি। সময়মত অনুষ্ঠানের দিন প্রধান অতিথি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন মহোদয়ের মাধ্যমে শাহীন মিয়ার হাতে তুলে দেই। মুহূর্তটা ছিলো আমার জন্য খুবই আনন্দঘন এবং স্মৃতিময়। তবে সেদিনের একটি মুহূর্ত খুবই কষ্টের স্মৃতি হয়ে থাকবে। যখন বাধাই করা কবিতাটি প্যাকেট থেকে বের করি তখন দেখি সেটার কাঁচটির কিছু অংশ চৌচির হয়ে গিয়েছে। অথচ আমি কয়েকদিন থেকে তা খুব যত্ন করে নিরাপদ স্থানে রেখে রেখে আসছিলাম। প্রয়োজন মুহূর্তে যখন এমন অবস্থা দেখলাম তখন যেন আমার হৃদয়টাতেও চৌচির হওয়ার শব্দ অনুভব করছিলাম। আমার সত্যিই যেন কান্না আসছিলো। তবে সেখানেও একটি শিক্ষা পেয়েছি। আমরা যতই সতর্কতা অবলম্বন করি, যা ভাগ্যে লেখা তা ঘটবেই। ভেবেছিলাম ছবি তুললে তাতে হয়তো গ্লাস ভাঙা বুঝা যাবে। সেটা হয়তো ফেসবুকে পোস্ট করতে পারবো না। আহা! পুলিশ সুপার মহোদয়ের সাথে সেই স্মৃতিময় ছবি। এসব অনেক ভেবেছি। কিন্তু সেই সুদক্ষ সৈনিক শাহীন মিয়া ম্যাসেনন্জারে আমাকে একটি চমৎকার ছবি পাঠালেন। ছবিটা খুবই সুন্দর হয়েছে। সেটা দেখে আমার ব্যথাতুর শুকনো হৃদয়নদীতে যেন খুশির জোয়ার সৃষ্টি হলো।

সত্যিই, কবিতার মাধ্যমে আল্লাহ্ আমাকে অনেক বড় মানুষদের সান্নিধ্য পাবার সুযোগ করে দিয়েছেন। যে এসপি মহোদয়ের কাছে জীবনে যাওয়ার চিন্তাও করতে পারতাম না সেই এসপি মহোদয়কে বইমেলায় বই দিয়েছি, ডিসি মহোদয়কে দিয়েছি, মাননীয় হুইপ মহোদয়কে দিয়েছি, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মহোদয়কে এখনো সুযোগ পাইনি,তবে ইচ্ছা রয়েছে। মেয়র মহোদয় নিজে ক্রয় করে অামাকে উদ্বুদ্ধ করেছেন। তাছাড়া গত বছর ডিসি মল্লিক আনোয়ার স্যারের প্রকৃতি ও মানব প্রেমে মুগ্ধ হয়ে তাকে নিয়েও একটি কবিতা লিখে উপহার দিয়েছি। ডিসি স্যার যে স্বচ্ছ ভালোবাসা আমাকে দিয়েছেন তা এখনো আমার ঘরে শোভা পাচ্ছে। তার কর্মকাণ্ডের জন্য প্রাণভরে প্রার্থনা করি। উনার যেন কোনো নৈতিক পদস্খলনের খবর না শুনতে হয়। ডিসি মল্লিক আনোয়ার স্যারের সাথে সেদিনের মুহূর্তটাও ছিলো আমার জীবনে প্রথম কোনো বড় অফিসারের সাথে স্মৃতিমাখা মূল্যবান ক্ষণ। সেখানে যেতেও আমাকে শাহীন মিয়া নানাভাবে উদ্বুদ্ধকরণ পরামর্শ দিয়েছেন এবং আমার সঙ্গী হয়েছেন। যদিও সেখানেও অনেকে তেল খুঁজেছেন কিন্তু কতটুকু তেল পেয়েছিলেন জানিনা।
শ্যামলবাংলা নিউজ২৪-এর জন্মদিনের অনুষ্ঠানেও শ্রদ্ধাস্পদ সম্পাদক এ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম আধার মহোদয়ের নিকট থেকে আবৃত্তি করার আহ্বান পেয়ে শ্যামলবাংলাকে নিয়ে লেখা কবিতাটি অনুষ্ঠানে আবৃত্তি শেষে শ্যামলবাংলা পরিবারকে উপহার দেওয়ার সুযোগ পেয়েছি। পেয়েছি মনের খোরাক।
সবই সম্ভব হয়েছে কবিতার সঙ্গে সুগভীর স্বচ্ছ ভালোবাসার জন্যই। বাস্তবতার নিরিখে কৃতিসুলভ মানুষের মূল্যবান বিষয়কে সমাজের মাঝে ছড়িয়ে দিয়ে তাদের পাশাপাশি অন্যকেও উদ্বুদ্ধকরণার্থে লেখা আমার কবিতাগুলোকে অনেকে তেলময় মনে করলেও আমার নিকট তা টাকার বিনিময়ে কেনা মহামূল্যবান পুরস্কারের চেয়েও মূল্যবান।

আমার কর্মক্ষেত্র আইডিয়াল প্রিপারেটরি এন্ড হাই স্কুলের উপাধ্যক্ষ নাসরিন রহমান মহোদয় যখন জয়িতা সম্মাননা পান তখন তাকে নিয়েও “একজন জয়িতা” নামক কবিতা লিখেছি। শেরপুরের কৃতী সন্তান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর মহোদয়কে নিয়ে লিখেছি। শেরপুরের গুণী ডাক্তার নাদিম হাসান স্যারের প্রশংসনীয় সেবামূলক কার্যক্রমকে নিয়ে “গুণী ডাক্তার” শিরোনামে কবিতা লিখে তাকেও উপহার দেওয়ার সুযোগ পেয়েছি। সবই আমার শুধুই মনের তৃপ্তির জন্য, অন্য কোনো উদ্দেশ্যে নয়।

যদিও জীবন মানেই রাজনীতি তথাপি আমার রাজনীতি মোটেই পছন্দ নয়। লেখায় কিংবা প্রাত্যহিক জীবনে। যেখানেই রাজনীতি সেখান থেকেই দূরে থাকি। রাজনীতির কোনো পদেও কোনোদিন আমার বা আমার পরিবারের কারো নাম থাকুক এমন ইচ্ছে আমার ছিলো না, নেই এবং থাকবেও না। নানা কারণে ওসব আমার একদম পছন্দ নয়। তবে আমার মাতৃভাষা ও প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের জন্য যারাই কিছু করেছেন এবং করবেন তাদেরকেই আমৃত্যু শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা দ্বিধাহীন চিত্তে বিলিয়ে যাবো। নেতাদেরকে রাজনৈতিক পরিচয়ে নয়, ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষের পরিচয়ে ভালোবাসবো। চরিত্র মিলিয়ে দেখবো অন্যান্য প্রাণিকুলের সঙ্গে। আমৃত্যু লিখে যাব মানুষের কর্মকাণ্ডকে নিয়ে। তুলে ধরার চেষ্টা করবো সমাজের বাস্তব চিত্র। ভালো থাকুক আমার মনোরাজ্যে বসবাসরত মনুষ্যত্ববোধসম্পন্ন সকল মানুষ।
জ্ঞানবানগণ আমার লেখাতে খুঁজে নিক সকল দোষ। নিন্দার কল্যাণেই শুধরে নিতে চাই আমার নিজেকে।

লেখক : কবি ও শিক্ষক, শেরপুর।

সর্বশেষ খবর



অন্যান্য খবর



সম্পাদক-প্রকাশক : রফিকুল ইসলাম আধার
উপদেষ্টা সম্পাদক : সোলায়মান খাঁন মজনু
নির্বাহী সম্পাদক : মোহাম্মদ জুবায়ের রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১ : ফারহানা পারভীন মুন্নী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : আলমগীর কিবরিয়া কামরুল
বার্তা সম্পাদক-১ : রেজাউল করিম বকুল
বার্তা সম্পাদক-২ : মোঃ ফরিদুজ্জামান।
যোগাযোগ : সম্পাদক : ০১৭২০০৭৯৪০৯
নির্বাহী সম্পাদক : ০১৯১২০৪৯৯৪৬
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১: ০১৭১৬৪৬২২৫৫
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : ০১৭১৪২৬১৩৫০
বার্তা সম্পাদক-১ : ০১৭১৩৫৬৪২২৫
বার্তা সম্পাদক -২ : ০১৯২১-৯৫৫৯০৬
বিজ্ঞাপন : ০১৭১২৮৫৩৩০৩
ইমেইল : shamolbangla2013@gmail.com.

কারিগরি সহযোগিতায় BD iT Zone

error: Content is protected !!