প্রকাশকাল: 8 নভেম্বর, 2018

তারামন বিবির অবস্থা আশংকাজনক, ময়মনসিংহ থেকে হেলিকপ্টারে ঢাকা সিএমএইচ প্রেরণ

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি ॥ মহান মুক্তিযুদ্ধের জীবন্ত কিংবদন্তি তারামন বিবির অবস্থা আশংকাজনক। তাই চিকিৎসকের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য ৮ নভেম্বর বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচে) হেলিকপ্টারে করে প্রেরণ করা হয়েছে। তারামন বিবির ছেলে আবু তাহের জানান, বছরের বেশিরভাগ সময়েই মাকে হাসপাতালে রাখতে হয়। ময়মনসিংহে আনার পর ডায়াবেটিস ধরা পড়েছে। দেশের বাইরে নিয়ে চিকিৎসা করানো হলে আমার মা সুস্থ হয়ে উঠতো। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদৃষ্টি কামনা করেন।
তারামন বিবির পূত্র আবু তাহের জানান, তারামন বিবির রক্তচাপ কমে গেছে এবং শ্বাসকষ্ট ও ফুসফুসের সমস্যা তার বহু পুরনো। এতে কথাই বলতে পারছেন না বীরপ্রতীক খেতাব পাওয়া অকুতোভয় এই নারী মুক্তিযোদ্ধা। তারামনের জীবন নিয়ে নতুন করে শঙ্কিত তার পরিবার। বৃহস্পতিবার (৮ নভেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে কুড়িগ্রামের রাজীবপুরের বাসা থেকে ময়মনসিংহ সিএমএইচে (সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল) ভর্তি করা হয় তাকে। এখানে সার্বক্ষণিক তার পাশে রয়েছেন একমাত্র ছেলে আবু তাহের। বিকেলে জাতির এই বীর কন্যার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে এ তথ্য জানান ছেলে আবু তাহের।
তারামন বিবির পূত্র আবু তাহের বলেন, আমার মায়ের একটি ফুসফুস অনেক আগে থেকেই নষ্ট। আরেকটিও প্রায় অকার্যকর। আর শ্বাসকষ্টের সমস্যা তো আছেই। মাঝেমধ্যে শ্বাসকষ্ট অনেক বেড়ে যায়। আবার কোনো সময় নিয়ন্ত্রণে থাকে। সকাল ৮টা থেকে দুপুর দেড়টা এই দীর্ঘপথে অ্যাম্বুলেন্সে করে ময়মনসিংহে আসার পথে একটি কথাও বলেননি তারামন, এমন তথ্য জানিয়ে তার সন্তান বলেন, কথা বলার মতো মায়ের অবস্থা নেই। রোগে-শোকে তিনি কাতর।
এর আগে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহের দিকে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন পাকিস্তানিদের সঙ্গে লড়াই করে বাঙালি জাতিকে লাল-সবুজের পতাকা এনে দেওয়া তারামন বিবি। বাঙালির জাতির গৌরবময় স্বাধীনতা অর্জনের অন্যতম দিকপাল হিসেবেও বিবেচনা করা হয় তাকে।
২০১৪ সালের দিকে তারামন বিবির ফুসফুসের সমস্যা ধরা পড়ে। এরপর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করানো হয়। কিন্তু উন্নতি হয়নি অবস্থার। এরপর ২০১৬ সালের ওই সময়ে রংপুর থেকে সরাসরি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) থেকে কুড়িগ্রামের রাজীবপুর কাচারিপাড়ার বাড়িতে ফিরলেও শ্বাসকষ্টের সমস্যা থেকে মুক্তি মেলেনি মাত্র ১৪ বছর বয়সে সম্মুখ সমরে লড়াই করা এই বীর মুক্তিযোদ্ধা।

আপনার মতামত দিন

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

error: Content is protected !!