বিকাল ৩:৪৩ | রবিবার | ৩১শে মে, ২০২০ ইং | ১৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

তরুণ লেখিকা পূজা গোমেজ’র ‘প্রেমের সমাধি’

প্রেমের সমাধি
পূঁজা গমেজ

img-add

(সত্য ঘটনা অবলম্বনে)

মফস্বল গ্রাম থেকে উঠে আসা হতদরিদ্র ঘরের ছেলে
মাধব।এবারও ক্লাসের ফাস্ট বয়।
শহরের কোটিপতির ঘরে সোনার চামচ মুখে জন্মানো
মাধবী একই ভার্সিটিতে ক্লাসের সেকেন্ড গার্ল।
শিউলি ঝড়া ভোরবেলা অথবা ধোঁয়ায় ঘেরা কোনোএক
গোধুলি সন্ধ্যা বেলায় তাদের পরিচয়-
কথা হয়-একেঅপরকে ভালো লাগে;
একে-অপরের লাবণ্যময় চেহারা-তীক্ষ্ণ মেধা
ভালো লাগা থেকেই-ভালোবাসার জন্ম নেয়।
টিএসসি মোড়ের কফি হাউস,পরীবাগের আড্ডা
আর শাহবাগ মোড়ে ফুলমতির হাতের ফুলই
ছিল তাদের প্রেমের নির্দশন।
ক্লাসের ফাস্ট বয় হওয়া সত্ত্বেও অর্থাভাবে
ভালো কোন ফ্লাট বাসায় জায়গা হয়না মাধবের।
গ্রাম থেকে আনা অল্প টাকায় থাকতে হয়
শহরের বড় বড় ফ্লাটের পিছনে
বস্তির এক ছোট রুমে-তিনজনে।

মাধবের ভালোবাসায় সিক্ত মাধবী
কোনোএক ক্লান্ত দুপুরে মাধবের কাঁধে মাথা রেখে বলে,
আমাকে তোমার বাসায় কবে নিবা?
জমানো ভালোবাসায় অতৃপ্ত মনে- এ সম্মোহন।

মাধব সপ্তাখানেক ধরে ভার্সিটিতে অাসেনা
মাধবীর মন খুব খারাপ-কী হলো মাধবের?
বিকেলে মাধবের দেওয়া ঠিকানায় মাধবী যায় মাধবের খোঁজে
বড় বড় ফ্লাটের পিছনে বস্তির দিকে যায়-
ছোটএক রুমে ঢুকে দেখে মাধব নেই-অন্য দুজন লোক
ওরা দুজন মাধবের বন্ধু;একই ভার্সিটিতে পড়ে তারা।
তিনজনে কুচকাচ করে কোনরকমে থাকে এই ছোট রুমে।
মাধবী কিছু বলার আগেই-তারা মাধবের লেখা একটা চিঠি মাধবীর হাতে গুঁজে দেয়।

তাতে লেখা-
প্রিয় মাধবী,
যখন তোমার হাতে এই চিঠিটা পাবে;
আমি তোমার থেকে অনেক দূরে চলে যাব।
ইতি
তোমার মাধব

চিঠিটা পড়েই মাধবীর চোখ বেয়ে জলে গাল ভিজে যায়।
তারপর মাধবী চলে আসে তাদের বাসায়।
আলো আঁধারে ঘেরা ভোরবেলা-শিউলি ঝড়া ভোরবেলা।
মাধবী ঘুম থেকে উঠেই মাধবদের বাড়ি শেরপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।
বাসে বসে মাধবী।সময় ঘড়ির কাটা যেন কোথাও বেঁধে রাখা হয়েছে।
তার কাছে মনে হচ্ছে কয়েকদিন ধরে বাসে
এখনো শেরপুরে বাস পৌঁছায় না কেন!
এসব কথা ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়ে বাসের সিটে বসে।
মাধবদের বাড়িতে এসে দেখে-মাধবের মা-বাবা,বোন যে যার মতো শোকে কাতর।

মাধবীর পোশাক দেখেই সবাই বুঝতে পারে যে,
মাধবী ঢাকা শহরের মেয়ে।
মাধবের বোন মাধবীর হাতে একটা চিঠি দেয়
তাতে লেখা-

‘প্রিয় মাধবী,
যখন তোমার হাতে এই চিঠিটা পাবে,
তখন আমি তোমার জগৎ থেকে অন্য
জগতের বাসিন্দা হয়ে যাবো।
আমি তোমাদের দেখতে পেলেও
তুমি আমাকে দেখতে পাবেনা।
ইতি
তোমার মাধব

চিঠিটা পড়ার পর মাধবীর মনে পড়ে মাবধের কথা,
মাধব যে বলেছিল,বিয়ের পর তারা হানিমুনে যাবে কক্সবাজার।
তবে কেনো মাধবীর সাথে ভাগ্য নির্মম খেলা খেললো?

মাধবের স্বর্গীয় আত্নার ইচ্ছা পূরণ করতেই মাধবী কক্সবাজার
সমুদ্রসৈকতে যায় তার মা-বাবার সাথে,
সমুদ্রের কিনারা দিয়ে তারা স্যাতস্যাতে পানিতে হাঁটে।
সমুদ্রের মাঝে মাধবী দেখতে পায় মাধবকে
যেন হাত উঁচু করে মাধবীকেই ডাকছে।
মাধবীও পানির মধ্যে যেতে থাকে
একসময় সমুদ্রের মাঝে পৃষ্ঠদেশে হারিয়ে যায় মাধবী।

অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ খবর



» ময়মনসিংহ বোর্ডে এসএসসিতে পাসের হার ৮০.১৩ শতাংশ ॥ পাসের হারে এগিয়ে শেরপুর

» সারাদেশে ভার্চুয়াল আদালতে শুনানী চলবে ১৫ জুন পর্যন্ত

» টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ স্থগিত রাখার সুপারিশ সাঙ্গাকারার

» নৌপথে যাত্রী পারাপার শুরু

» সৌদি আরবে মাস্ক না পরলে জরিমানা, আজ থেকে খুলছে মসজিদ

» এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস ৮২.৮৭%, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩৫৮৯৮

» শেরপুরে করোনা উপসর্গ নিয়ে ঢাকাফেরত বৃদ্ধের মৃত্যু ॥ নমুনা সংগ্রহ

» এফবিসিসিআই সভাপতির দেয়া সুরক্ষা সামগ্রী মমেক মাইক্রোয়োলজি বিভাগে হস্তান্তর

» করোনা জয় করলেন নকলা ইউএনও অফিসের নৈশ প্রহরী

» ভার্চুয়াল কোর্ট পরিচালনায় জটিলতা-সাফল্য ॥ প্রেক্ষিত শেরপুর সিজেএম মডেল

» ‘ভার্চুয়াল কোর্ট : সম্ভাবনা ও প্রায়োগিক সমস্যা’ শীর্ষক অনলাইন টকশো অনুষ্ঠিত

» শেরপুরে প্রধানমন্ত্রীর অনুদান পেল ৩ হাজার ৪ মসজিদ

» অনলাইন নিউজ পোর্টাল : নিবন্ধন পেতে থাকতে হবে ৪ যোগ্যতা

» সাবরিনা সাবার শত জনমের প্রেম

» দেশে করোনায় আরও ২৮ মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ১৭৬৪ জন

সম্পাদক-প্রকাশক : রফিকুল ইসলাম আধার
উপদেষ্টা সম্পাদক : সোলায়মান খাঁন মজনু
নির্বাহী সম্পাদক : মোহাম্মদ জুবায়ের রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১ : ফারহানা পারভীন মুন্নী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : আলমগীর কিবরিয়া কামরুল
বার্তা সম্পাদক-১ : রেজাউল করিম বকুল
বার্তা সম্পাদক-২ : মোঃ ফরিদুজ্জামান।
যোগাযোগ : সম্পাদক : ০১৭২০০৭৯৪০৯
নির্বাহী সম্পাদক : ০১৯১২০৪৯৯৪৬
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১: ০১৭১৬৪৬২২৫৫
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : ০১৭১৪২৬১৩৫০
বার্তা সম্পাদক-১ : ০১৭১৩৫৬৪২২৫
বার্তা সম্পাদক -২ : ০১৯২১-৯৫৫৯০৬
বিজ্ঞাপন : ০১৭১২৮৫৩৩০৩
ইমেইল : shamolbangla2013@gmail.com.

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । ওয়েবসাইট তৈরি করেছে- BD iT Zone

  বিকাল ৩:৪৩ | রবিবার | ৩১শে মে, ২০২০ ইং | ১৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

তরুণ লেখিকা পূজা গোমেজ’র ‘প্রেমের সমাধি’

প্রেমের সমাধি
পূঁজা গমেজ

img-add

(সত্য ঘটনা অবলম্বনে)

মফস্বল গ্রাম থেকে উঠে আসা হতদরিদ্র ঘরের ছেলে
মাধব।এবারও ক্লাসের ফাস্ট বয়।
শহরের কোটিপতির ঘরে সোনার চামচ মুখে জন্মানো
মাধবী একই ভার্সিটিতে ক্লাসের সেকেন্ড গার্ল।
শিউলি ঝড়া ভোরবেলা অথবা ধোঁয়ায় ঘেরা কোনোএক
গোধুলি সন্ধ্যা বেলায় তাদের পরিচয়-
কথা হয়-একেঅপরকে ভালো লাগে;
একে-অপরের লাবণ্যময় চেহারা-তীক্ষ্ণ মেধা
ভালো লাগা থেকেই-ভালোবাসার জন্ম নেয়।
টিএসসি মোড়ের কফি হাউস,পরীবাগের আড্ডা
আর শাহবাগ মোড়ে ফুলমতির হাতের ফুলই
ছিল তাদের প্রেমের নির্দশন।
ক্লাসের ফাস্ট বয় হওয়া সত্ত্বেও অর্থাভাবে
ভালো কোন ফ্লাট বাসায় জায়গা হয়না মাধবের।
গ্রাম থেকে আনা অল্প টাকায় থাকতে হয়
শহরের বড় বড় ফ্লাটের পিছনে
বস্তির এক ছোট রুমে-তিনজনে।

মাধবের ভালোবাসায় সিক্ত মাধবী
কোনোএক ক্লান্ত দুপুরে মাধবের কাঁধে মাথা রেখে বলে,
আমাকে তোমার বাসায় কবে নিবা?
জমানো ভালোবাসায় অতৃপ্ত মনে- এ সম্মোহন।

মাধব সপ্তাখানেক ধরে ভার্সিটিতে অাসেনা
মাধবীর মন খুব খারাপ-কী হলো মাধবের?
বিকেলে মাধবের দেওয়া ঠিকানায় মাধবী যায় মাধবের খোঁজে
বড় বড় ফ্লাটের পিছনে বস্তির দিকে যায়-
ছোটএক রুমে ঢুকে দেখে মাধব নেই-অন্য দুজন লোক
ওরা দুজন মাধবের বন্ধু;একই ভার্সিটিতে পড়ে তারা।
তিনজনে কুচকাচ করে কোনরকমে থাকে এই ছোট রুমে।
মাধবী কিছু বলার আগেই-তারা মাধবের লেখা একটা চিঠি মাধবীর হাতে গুঁজে দেয়।

তাতে লেখা-
প্রিয় মাধবী,
যখন তোমার হাতে এই চিঠিটা পাবে;
আমি তোমার থেকে অনেক দূরে চলে যাব।
ইতি
তোমার মাধব

চিঠিটা পড়েই মাধবীর চোখ বেয়ে জলে গাল ভিজে যায়।
তারপর মাধবী চলে আসে তাদের বাসায়।
আলো আঁধারে ঘেরা ভোরবেলা-শিউলি ঝড়া ভোরবেলা।
মাধবী ঘুম থেকে উঠেই মাধবদের বাড়ি শেরপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।
বাসে বসে মাধবী।সময় ঘড়ির কাটা যেন কোথাও বেঁধে রাখা হয়েছে।
তার কাছে মনে হচ্ছে কয়েকদিন ধরে বাসে
এখনো শেরপুরে বাস পৌঁছায় না কেন!
এসব কথা ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়ে বাসের সিটে বসে।
মাধবদের বাড়িতে এসে দেখে-মাধবের মা-বাবা,বোন যে যার মতো শোকে কাতর।

মাধবীর পোশাক দেখেই সবাই বুঝতে পারে যে,
মাধবী ঢাকা শহরের মেয়ে।
মাধবের বোন মাধবীর হাতে একটা চিঠি দেয়
তাতে লেখা-

‘প্রিয় মাধবী,
যখন তোমার হাতে এই চিঠিটা পাবে,
তখন আমি তোমার জগৎ থেকে অন্য
জগতের বাসিন্দা হয়ে যাবো।
আমি তোমাদের দেখতে পেলেও
তুমি আমাকে দেখতে পাবেনা।
ইতি
তোমার মাধব

চিঠিটা পড়ার পর মাধবীর মনে পড়ে মাবধের কথা,
মাধব যে বলেছিল,বিয়ের পর তারা হানিমুনে যাবে কক্সবাজার।
তবে কেনো মাধবীর সাথে ভাগ্য নির্মম খেলা খেললো?

মাধবের স্বর্গীয় আত্নার ইচ্ছা পূরণ করতেই মাধবী কক্সবাজার
সমুদ্রসৈকতে যায় তার মা-বাবার সাথে,
সমুদ্রের কিনারা দিয়ে তারা স্যাতস্যাতে পানিতে হাঁটে।
সমুদ্রের মাঝে মাধবী দেখতে পায় মাধবকে
যেন হাত উঁচু করে মাধবীকেই ডাকছে।
মাধবীও পানির মধ্যে যেতে থাকে
একসময় সমুদ্রের মাঝে পৃষ্ঠদেশে হারিয়ে যায় মাধবী।

সর্বশেষ খবর



অন্যান্য খবর



সম্পাদক-প্রকাশক : রফিকুল ইসলাম আধার
উপদেষ্টা সম্পাদক : সোলায়মান খাঁন মজনু
নির্বাহী সম্পাদক : মোহাম্মদ জুবায়ের রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১ : ফারহানা পারভীন মুন্নী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : আলমগীর কিবরিয়া কামরুল
বার্তা সম্পাদক-১ : রেজাউল করিম বকুল
বার্তা সম্পাদক-২ : মোঃ ফরিদুজ্জামান।
যোগাযোগ : সম্পাদক : ০১৭২০০৭৯৪০৯
নির্বাহী সম্পাদক : ০১৯১২০৪৯৯৪৬
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১: ০১৭১৬৪৬২২৫৫
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : ০১৭১৪২৬১৩৫০
বার্তা সম্পাদক-১ : ০১৭১৩৫৬৪২২৫
বার্তা সম্পাদক -২ : ০১৯২১-৯৫৫৯০৬
বিজ্ঞাপন : ০১৭১২৮৫৩৩০৩
ইমেইল : shamolbangla2013@gmail.com.

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । ওয়েবসাইট তৈরি করেছে- BD iT Zone

error: Content is protected !!