ঢাকা থেকে বাসে নকলায় এলেন মতিয়া চৌধুরী

স্টাফ রিপোর্টার ॥ এবার মন্ত্রীত্ব না থাকায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রায় ৩ মাস পর দূরপাল্লার বাসে চেপে নিজ নির্বাচনী এলাকায় এলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, কৃষি মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি, সাবেক কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী। তিনি শুক্রবার মধ্যরাতে রাজধানী ঢাকার মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে নালিতাবাড়ীগামী ‘নিলয় পরিবহন’ নামে একটি বাসে চড়ে সাধারণ যাত্রীর মতো নকলায় পৌঁছান। ততক্ষণ পর্যন্ত স্থানীয় দলীয় নেতা-কর্মীসহ প্রশাসনের লোকজন তার অপেক্ষায় ছিলেন। নকলা সদরে সেই বাস থামার পর এবং বেগম মতিয়া চৌধুরী তার পিএস (উপ-সচিব) মোঃ শাহজালাল ও গানম্যান রেজাউল করিমকে নিয়ে বাস থেকে নামার পর আবারও একজন মতিয়াকে নতুন করে দেখে অবাক তাকিয়ে রয় উপস্থিত সবাই।
জানা যায়, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের ৩ দফায় সফল কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসন থেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ৫ দফায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর মন্ত্রী পরিষদে অর্ন্তভূক্ত না হলেও সংসদ উপনেতা হচ্ছেন- রাজনৈতিক অঙ্গনে এমন গুঞ্জন চাউর হয়েছিল। কিন্তু রাজনীতির নানা গ্যাড়াকলে তা শেষটায় ফসকে যাওয়ায় দলের সিনিয়র আরও কয়েক নেতার মতো তার ভাগ্যে জুটে কৃষি মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ। মর্যাদাপূর্ণ এ পদটি মন্ত্রীর পদমর্যাদা দেওয়ার পরিকল্পনা এখনও চূড়ান্ত না হওয়ায় অন্যদের মতো একজন পিএস ও গানম্যানসহ আনুষঙ্গিক সহায়তা নিয়েই স্বভাবসুলভ নীরবতায় স্বাভাবিকভাবেই চলছিলেন মতিয়া চৌধুরী। সেই থেকে নির্বাচনের পর আর নিজ এলাকায় আসাও হয়নি তার। কিন্তু নকলার চন্দ্রকোনার রাজলক্ষ্মী উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষপূর্তি উৎসবে উদ্বোধক হিসেবে যোগ দিতে নেন এলাকায় পোঁছার সিদ্ধান্ত। কিন্তু সরকারি গাড়ি না থাকলেও যেখানে দলের নেতা-কর্মী-শোভাকাক্সক্ষীদের মধ্যে থেকে ব্যক্তি মালিকানাধীন গাড়ি সংগ্রহ করাটা মতিয়া চৌধুরীর জন্য কোন বিষয় নয়, ঠিক সেখানে তিনি তা না করে বরং নিজস্ব স্বাতন্ত্রটাই বজায় রাখলেন। আর তাই মহাখালী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টায় নিজের পিএস ও গানম্যানকে সাথে নিয়ে ৩শ টাকা মূল্যের ৩টি টিকেট ক্রয় করে সাধারণ যাত্রীদের মতোই ঢাকা থেকে নালিতাবাড়ীগামী বাসে উঠেন নকলার উদ্দেশ্যে। বাস এসে নকলায় পৌঁছায় রাত আড়াইটায়। কেবল এ বিষয়টিই নয়, শনিবার দুপুরে রাজলক্ষ্মী উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষী উৎসবে যোগ দিতে শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপুমনি নকলায় পৌঁছালেও তার সরকারি গাড়িতেও উঠেননি তিনি। সাধারণদের মতো দলের নেতা-কর্মীদের সাথেই অনুষ্ঠানে পৌঁছান অন্য গাড়িতে।
এ প্রসঙ্গে নকলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল ইসলাম জিন্নাহ শ্যামলবাংলা২৪ডটকমকে বলেন, বাংলার অগ্নিকন্যা খ্যাত বেগম মতিয়া চৌধুরী একজনই। ছাত্রজীবন থেকে শুরু করে প্রগতিশীল বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় বিএনপি-জামায়াত জোটবিরোধী আন্দোলনে তিনি এক সাহসী ও পরীক্ষিত নেতৃত্ব। আমাদের লোভ-লালসার রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে মিতব্যয়, সততা, নিষ্ঠা, সাহসিকতা ও ত্যাগ স্বীকার প্রশ্নে তার তুলনা তিনি নিজেই। যে কারণে তিনি খুব সহজ ও স্বাভাবিক জীবনে অভ্যস্ত। আর তাই দলের একজন কেন্দ্রীয় প্রভাবশালী নেতা হবার পরও তার মাঝে কোন অহমিকা ও উচ্চাভিলাস নেই। পরিবর্তিত অবস্থায় লোকাল বাসে চেপে নির্বাচনী এলাকায় ফেরা- তার জীবন পাতারই এক বৈশিষ্ট্য। নকলা পৌরসভার মেয়র হাফিজুর রহমান লিটন বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মন্ত্রী থাকার পরও আচরণবিধির প্রতি খেয়াল রেখে তিনি কখনও এলাকায় সরকারি গাড়িতে চলাচল করেননি। কেবল তাই নয়, নির্বাচনের পরও এলাকার সীমানা পেরিয়ে সরকারি গাড়িতে উঠে ঢাকায় গেছেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান মতিয়া চৌধুরীর ত্যাগ ও প্রাপ্তির মূল্যায়ন প্রশ্নে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের তনয়া ৪ দফার প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা কারও উপযুক্ত মূল্যায়ন করতে ভুলেন না। কাজেই এখনও আমরা আশাবাদী মতিয়া চৌধুরীর উপযুক্ত মূল্যায়ন সহসাই হবে।

Displaying 1 Comments
Have Your Say

আপনার মতামত দিন

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

error: Content is protected !!