রাত ৩:৪৪ | শুক্রবার | ৭ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ঝিনাইগাতী মহিলা কলেজ অধ্যক্ষের সীমাহীন দুর্নীতি ॥ দীর্ঘদিন কর্মরত ২ প্রভাষক এমপিও বঞ্চিত!

অচেনা ও অন্যত্র চাকরিজীবীরা তুলছেন বেতন
জাল সনদে নিয়োগ অধ্যক্ষের স্ত্রীসহ কয়েকজন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ শেরপুরের ঝিনাইগাতী আদর্শ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যক্ষ মুহাম্মদ খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে সীমাহীন জাল-জালিয়াতি ও অনিয়ম-দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তার ওইসব দুর্নীতির কারণে দীর্ঘদিন স্ব-স্ব পদে এককভাবে নিয়মিত কর্মরত থেকেও এমপিও থেকে বাদ পড়ছেন ২ নিয়মিত শিক্ষক। অন্যদিকে ওই দুর্নীতির কারণে কলেজে একদিন ক্লাস না নিয়েও অচেনা ও অন্যত্র চাকরিজীবী শিক্ষকরা তুলছেন বেতন। এছাড়া নিবন্ধনসহ জাল সনদে চাকুরিতে প্রবেশ করা অধ্যক্ষের স্ত্রীসহ কয়েকজন শিক্ষকও অবৈধভাবে ভোগ করছেন একই সুবিধা। অভিযোগ ওঠেছে, অধ্যক্ষ মুহাম্মদ খলিলুর রহমান গভর্নিং বডির সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিকে অন্ধকারে রেখে ওইসব দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছেন। সম্প্রতি অধ্যক্ষ সীমাহীন স্বেচ্ছাচারিতায় নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে এ্যাডহক কমিটিকেও উল্টেপাল্টে গঠন করেছেন গভর্নিং কমিটি, যাতে রয়েছেন অধ্যক্ষের স্ত্রী, ভগ্নিপতি, ভাগনে ও বেয়াইসহ নিকট আত্মীয়রাই। কেবল তাই নয়, ঘোর জামায়াত সমর্থক ওই অধ্যক্ষ উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির এক সভায় ‘শেখের ভাষণ, আইয়ুবের শাসন’ উল্লেখ করে বিতর্কের মুখে ওই কমিটির সদস্যপদ হারালেও অদৃশ্য শক্তির তদবিরে নেওয়া যায়নি তার বিরুদ্ধে কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা। ফলে কলেজ অধ্যক্ষের ওই সীমাহীন দুর্নীতি নিয়ে এলাকায় এখন ব্যাপক তোলপাড় চলছে। এ বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন খোদ সরকারদলীয় স্থানীয় সংসদ সদস্য প্রকৌশলী একেএম ফজলুল হক চাঁনসহ স্থানীয় সচেতন মহল। অন্যদিকে ওই ঘটনায় ময়মনসিংহ অঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের পরিচালক এবং শেরপুরের জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দায়িত্বশীল মহলে লিখিত অভিযোগ করা হলেও এখনও ওইসব দুর্নীতি তদন্তে নেওয়া হয়নি কোন পদক্ষেপ।
জানা যায়, নারী শিক্ষার প্রসারে ২০০২ সালে সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলা সদরে প্রতিষ্ঠিত হয় ঝিনাইগাতী মহিলা আদর্শ ডিগ্রি কলেজ। এরপর ২০১২ সালে কলেজটি ডিগ্রি শাখা খোলার অনুমতি লাভ করে। ওই সময় সৃষ্ট পদে জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলে আবেদন করে সকল পরীক্ষায় অংশ নিয়ে প্রথম স্থান অজর্ন করে নিয়োগ পেয়ে ডিগ্রি শাখায় ইংরেজী প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন উপজেলার খৈলকুড়া এলাকার পি.আর মুহাম্মদ রাহুল। ওই নিয়োগের পর থেকে তিনি ডিগ্রি শাখায় ইংরেজী বিভাগে একমাত্র প্রভাষক হিসাবে এমপিওবিহীন বিনাবেতনেও নিয়মিত ক্লাস গ্রহণ এবং প্রশাসনিক কাজকর্মে সহায়তাসহ প্রচুর মেধা ও শ্রম দিয়ে শিক্ষার উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রাখেন। তার অবদানে কলেজের ডিগ্রি পরীক্ষায় ইংরেজী বিষয়ে প্রতিবছর প্রায় শতভাগ পাশও নিশ্চিত হয়। যেকারণে শিক্ষার্থী-অভিভাবক ও এলাকাবাসীর কাছে তিনি একজন জনপ্রিয় ও আদর্শ শিক্ষক হিসেবেও ব্যাপক পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি কলেজটি ডিগ্রি পর্যায়ে এমপিওভুক্ত হলে প্রভাষক পি.আর মুহাম্মদ রাহুলকে সম্প্রতি অধ্যক্ষ খলিলুর রহমান ডেকে নিয়ে তার কাছে এমপিওর জন্য ১৫ লক্ষ টাকা দাবি করেন। কিন্তু বৈধভাবে নিয়োগ পেয়ে বিনাবেতনে দীর্ঘ ৮ বছর নিয়মিত শিক্ষকতা করে আসায় তিনি ওই মোটা অংকের টাকা দিতে অস্বীকার করলে অধ্যক্ষ তাকে জানান যে, ‘ওই পদের জন্য ২০ লক্ষ টাকা দেওয়ার জন্য অনেক লোক রয়েছেন’। এছাড়া একই কলেজে একইভাবে ২০১৫ সালে ডিগ্রি শাখায় সৃষ্ট প্রভাষক (দর্শন) পদে যোগদান করেন শেরপুর শহরের দমদমা মহল্লার যমুনা খাতুন। যোগদানের পর থেকে তিনিও দীর্ঘ ৫ বছর যাবত বিনাবেতনে নিয়মিত ক্লাস নেওয়াসহ অন্যান্য দায়িত্ব পালন করে আসছেন। কিন্তু ডিগ্রি পর্যায়ে এমপিও ঘোষণার পর পরই কলেজ অধ্যক্ষ তাকেও ডেকে নিয়ে এমপিও জন্য ১০ লক্ষ টাকা দাবি করেন। তিনি পারিবারিক অবস্থার কারণে ওই টাকা দিতে অস্বীকার করলে তাকে বাদ দিয়ে ওই পদে ফুলপুর উপজেলার কাতুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন যাবত কর্মরত আফরোজা আক্তার নামে এক প্রার্থীকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানিয়ে দেন।

img-add

এরপর দাবি আদায় না হওয়ায় কলেজ অধ্যক্ষ মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিয়ে প্রভাষক মুহাম্মদ রাহুলের স্থলে কলেজে একদিনও ক্লাস না নেওয়া দীর্ঘ প্রায় প্রায় ১৭/১৮ বছর যাবত ময়মনসিংহ নগরীতে বসবাস করে টিউশনি ও ও কোচিং পরিচালনা এবং প্রায় ৩ বছর যাবত স্থানীয় মেট্রোপলিটন মডেল স্কুলে কর্মরত আবু হানিফকে এবং প্রভাষক যমুনা খাতুনের স্থলে আফরোজা আক্তারকে ‘ব্যাকডেটে’ ভূয়া কাগজপত্রে নিয়মিত শিক্ষক হিসেবে দেখিয়ে ময়মনসিংহ অঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের পরিচালক বরাবর এমপিও এর আবেদন পাঠিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, আবু হানিফ ও আফরোজা আক্তার একদিনও ওই কলেজে ক্লাশ নেননি। তারা দু’জনই কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ সকলের কাছে অচেনা। তদুপরি তাদের দু’জনেরই শিক্ষক নিবন্ধন জাল বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগমতে, অধ্যক্ষের স্ত্রী মাহমুদা সিদ্দিকার স্নাতক ও শিক্ষক নিবন্ধন সনদসহ আরও একাধিক শিক্ষককে চাকরিতে ঢুকানো হয়েছে জাল সনদে। আর স্থানীয় ডাকাবর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি করেও আসমাউল আলিয়া প্রভাষক (বাংলা), সিলেটের একটি হাইস্কুলে প্রায় ৫ বছর যাবত চাকরিরত আব্দুর রহিম প্রভাষক (রাষ্ট্রবিজ্ঞান) ও ঝিনাইগাতী উপজেলা বিআরডিবিতে প্রায় ৫ বছর যাবত চাকরিরত মুজিবুর রহমান প্রভাষক (অর্থনীতি) হিসেবে অন্তর্ভূক্ত হয়েছেন। তারাসহ অচেনা শিক্ষক আবু হানিফ ও আসমাউল আলিয়া কলেজে একদিন ক্লাশ না নিলেও ইতোমধ্যে তুলে নিয়েছেন এমপিওভূক্তির প্রথম দফার বেতন-ভাতাদি বাবদ প্রায় ৩ লক্ষ করে টাকা।
এদিকে অধ্যক্ষ খলিলুর রহমান ছাত্রজীবনে মাদ্রাসা শিক্ষার্থী থেকে আরবী (এ্যারাবিক) বিষয়ে মাস্টার্স করলেও ওই কলেজে নেই নিজের আরবী পাঠ্য বিষয়। কলেজে রয়েছে ইসলামিক স্টাডিজ- যা নিয়োগবিধির পরিপন্থী। তিনি ওই দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে পরবর্তীতে একদিন ক্লাশ না করেও বিতর্কিত দারুল এহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামিক স্টাডিজ এবং এক পর্যায়ে ইংরেজি সনদও হাসিল করেছেন। অন্যদিকে আর্থিক দূরাবস্থায় অনেকটা শূন্য থেকে যাত্রা শুরু করলেও অধ্যক্ষ খলিলুর রহমান নিয়োগ বাণিজ্য ও জাল-জালিয়াতির সুবাদে ইতোমধ্যে নিজ এলাকা ও জেলা শহরে একাধিক বাসা-বাড়িসহ রাতারাতি অনেক বিত্ত-বৈভবের মালিক তথা কোটিপতি বনে গেছেন- এমন অভিযোগও রয়েছে।
শ্যামলবাংলা২৪ডটকম’র তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, ছাত্রজীবনে ছাত্রশিবির এবং পরবর্তীতে জামায়াতের রাজনীতির সাথে জড়িত অধ্যক্ষ খলিলুর রহমান আওয়ামী লীগ, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের একজন চরম বিদ্বেষী লোক হিসেবে এলাকায় সমধিক পরিচিত। তিনি কলেজ অঙ্গনসহ বিভিন্ন জায়গায় সুযোগ পেলেই বঙ্গবন্ধুকে ‘এই লোকটা’ বা ‘শেখ’ বলে তাচ্ছিল্য করেন এবং পাকিস্তানের শাসনকে উত্তম শাসন বলে মন্তব্য করেন। কেবল তাই নয়, নিজ এলাকাসহ প্রশাসনিক সভা-সমাবেশেও তিনি বঙ্গবন্ধুর সমালোচনা করতে কুণ্ঠাবোধ করেন না। অভিযোগ রয়েছে, ২০১৮ সালের ১৩ আগস্ট ঝিনাইগাতী উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে অধ্যক্ষ খলিলুর রহমান ‘শেখের ভাষণ, আইয়ুবের শাসন’ মর্মে উল্লেখ করে স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে একজন কুখ্যাত স্বৈরশাসক আইয়ুবের শাসনের সাথে তুলনা করেন। তার ওই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে সভায় তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। কিন্তু তারপরও তিনি রয়ে যান ধরাছোঁয়ার বাইরে। বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী সভায় (৯ অক্টোবর) সরগরম আলোচনার প্রেক্ষিতে তাকে সর্বসম্মতিক্রমে উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সদস্য পদ হতে অপসারণসহ তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর পত্র প্রেরণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। কিন্তু এরপর উপজেলা আইন-শ্ঙ্খৃলা কমিটির সদস্য পদ হারালেও রহস্যজনক কারণ বা অদৃশ্য খুটির জোরেই পার পেয়ে যান জাতির পিতাকে অবমাননাকারী জামায়াত সমর্থক ওই অধ্যক্ষ।
কলেজের ডিগ্রি পর্যায়ে টানা ৮ বছর যাবত কর্মরত থাকার পরও এমপিও তালিকায় নিজের নাম না পাঠানো প্রসঙ্গে ইংরেজী প্রভাষক পি.আর মুহম্মদ রাহুল বলেন, তিনি আওয়ামী লীগ সমর্থক হওয়ার কারণে তাকে সহ্য করতে পারেন না অধ্যক্ষ। তার সীমাহীন দুর্নীতি ও জাল-জালিয়াতির বিষয়টি ‘ওপেন সিক্রেট’ হওয়ার পরও তিনি বহাল তবিয়তে থেকে এবার অনৈতিক দাবি আদায়ে ব্যর্থ হয়ে তার প্রতি চরম অন্যায় করেছেন। বিষয়টি গভর্নিং বর্ডির সভাপতিকে জানানোর পরও তিনি ওই বিষয়ে কোন পদক্ষেপ না নিয়ে উল্টো অধ্যক্ষের সাথেই কথা বলে নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে তাকে নিরাশ করেছেন। এজন্য তিনি অধ্যক্ষের ওই সীমাহীন দুর্নীতি তদন্তের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি জীবন-জীবিকার প্রশ্নে তাকে এমপিওভূক্তির দাবি জানান। একই কথা জানিয়ে বর্তমানে মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকা টানা ৫ বছর যাবত কর্মরত দর্শন প্রভাষক যমুনা খাতুন বলেন, জাল-জালিয়াতি ও নিয়োগ বাণিজ্যে অভ্যস্ত অধ্যক্ষ দাবিকৃত টাকা না পেয়েই এখন তাদের জীবনকে চরম অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিয়েছেন।
এদিকে অধ্যক্ষের অনিয়ম-দুর্নীতি প্রসঙ্গে স্থানীয় সংসদ সদস্যের পাশাপাশি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও দাতা সদস্য, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাদশাও বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, অধ্যক্ষের সীমাহীন অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়টি এলাকায় এখন ‘ওপেন সিক্রেট’ বিষয়। একদিকে তিনি অভিযোগকারী নিয়মিত শিক্ষকদের বাদ দিয়ে প্রতিষ্ঠানে একদিনও ক্লাশ না নেওয়া অচেনাদের নাম এমপিও তালিকায় পাঠিয়েছেন। অন্যদিকে তার স্ত্রীসহ বেশ কয়েকজনের জাল সনদে চাকরির সুযোগ করে দিয়েছেন। এরপরও তার বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় না, তার খুটির জোরই বা কোথায়- এমন প্রশ্নই এখন এলাকার সচেতন মহলের। অভিযোগকারী ওই ২ প্রভাষক নিয়োগদানকালীন সাবেক সভাপতি আওয়ামী লীগ নেতা একেএম বেলায়েত হোসেনও একই কথা জানিয়ে বলেন, গলধঃকরণ দুর্নীতির পাশাপাশি একটি প্রশাসনিক সভায় প্রকাশ্যে জাতির পিতার অবমাননা করার পরও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় না- এ কেমন দুর্বলতা আমাদের দায়িত্বশীলদের। এছাড়া একইভাবে উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক আবুল হাশেম, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিটের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার শামসুল আলম, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আবু বকর সিদ্দিক, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি জাকির হোসেন, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম, উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক ও জেলা পরিষদ সদস্য আয়েশা সিদ্দিকা রূপালী, সদর ইউপি চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন চাঁন, হাতিবান্ধা ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আমিন দোলা, মালিঝিকান্দা ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম তোতাসহ স্থানীয় সচেতন মহলের অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করে তার বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। সেইসাথে তারা অধ্যক্ষের দুর্নীতির পাশাপাশি জাতির পিতার অবমাননা করার বিষয়ে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপও কামনা করেন।
অন্যদিকে সব ধরনের অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে কলেজ অধ্যক্ষ খলিলুর রহমান বলেন, সকল নিয়ম-কানুন অনুসরণ করেই ডিগ্রি পর্যায়ের এমপিও তালিকা পাঠানো হয়েছে। তার দাবি, অভিযোগকারী পি.আর মুহম্মদ রাহুল ও যমুনা খাতুনের নামও অপেক্ষমান তালিকায় রয়েছে। কিছু সমস্যার কারণে আফরোজা আক্তারের এমপিও স্থগিত রাখা হয়েছে। তার স্ত্রী ও নিজেরসহ কয়েকজন শিক্ষকের জাল সনদের অভিযোগের বিষয়টি সুকৌশলে পাশ কেটে গিয়ে তিনি ক্লাশ না নেওয়া অচেনা ও অন্যত্র চাকরিজীবীদের নাম এমপিও তালিকা পাঠানোর বিষয়ে উল্টো প্রশ্ন রেখে বলেন, সারাদেশেই এরকম হয়ে থাকে। এমপিও’র আগে শিক্ষক-ছাত্র ক’জন থাকেন কোন প্রতিষ্ঠানে ? এছাড়া জাতির পিতার প্রতি তাচ্ছিল্যতার অভিযোগ অস্বীকার করলেও তাকে স্বৈরশাসক আইয়ুবের সাথে তুলনা প্রসঙ্গে বলেন, তিনি একভাবে বুঝাতে চেয়েছেন, অন্যরা তা ভিন্নভাবে বুঝেছেন। তবে ওই ঘটনার পরপরই তিনি তার বক্তব্য প্রত্যাহারসহ দুঃখ প্রকাশ করেছেন। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সদস্যপদ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে কি না জানি না। তবে তারপর থেকে কোন চিঠি পাই না বলে যাই না। আর অধ্যক্ষের অনিয়ম-দুনীতি প্রসঙ্গে গভর্নিং বডির সভাপতি, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এসএম আব্দুল্লাহেল ওয়ারেজ নাইম বলেন, নিয়মিত শিক্ষকদের বাদ দিয়ে এমপিও তালিকা পাঠানোসহ নানা অভিযোগের বিষয়ে তাকে লিখিতভাবে জানানো হয়নি। তবে তিনি বিষয়টি শুনেছেন এবং অধ্যক্ষকে সকল নিয়োগ সংক্রান্ত কাগজপত্রসহ উপস্থাপন সাপেক্ষে দ্রুত গভর্নিং বডির সভা ডাকতে বলেছেন। সেরকম কিছু পাওয়া গেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তার মতে, শিক্ষকদের কারও নিয়োগই তার মেয়াদে হয়নি। তিনি দলের পাশাপাশি উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে করোনা পরিস্থিতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এজন্য অধ্যক্ষসহ কমিটির অন্যান্যরাই দেখেশুনে কাজ করছেন। অন্যদিকে তিনি অধ্যক্ষের জামায়াত সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়ে জাতির পিতার অবমাননার বিষয়ে বলেন, ওই ঘটনার পরপরই তিনি দুঃখ প্রকাশ করে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।
অভিযোগ প্রসঙ্গে ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবেল মাহমুদ বলেন, ওই কলেজের শিক্ষক এমপিও তালিকাসহ অধ্যক্ষের অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই বিষয়ে খুব দ্রুতই তদন্ত শুরু করা হবে। আর ভারপ্রাপ্ত জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোকসেদুর রহমান জানান, ওই কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি অবগত। তবে এখন কলেজগুলোর কার্যক্রম দেখভাল করছেন সরাসরি অঞ্চলের পরিচালক। কাজেই ওই অভিযোগ পাওয়ার পরপরই তা পরিচালক বরাবর পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) এবিএম এহছানুল মামুন বলেন, ওই অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ব্যাপারে শেরপুরের জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহবুব ২ জুলাই বৃহস্পতিবার দুপুরে শ্যামলবাংলা২৪ডটকমকে বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে এমনিতেই প্রশাসন কঠিন অবস্থায় কাজ করছে। তারপরও অভিযোগ যেহেতু গুরুতর, সেহেতু অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে প্রতিবেদন প্রেরণের জন্য স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email
এ সংক্রান্ত আরও খবর

অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ খবর



» বঙ্গবন্ধুর নীতি আদর্শ অনুসরণ করতে হবে ॥ পররাষ্ট্রমন্ত্রী

» স্বর্ণের দাম বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে

» কক্সবাজারে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ টহল চলবে: আইএসপিআর

» বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সর্বোচ্চ আন্তরিকতায় কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

» শ্রীবরদীতে দিনমজুর আইয়ুব আলী হত্যার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন ও বিক্ষোভ মিছিল

» নকলায় জাতীয় শোক দিবসের প্রস্তুতিমূলক সভা

» গারো পাহাড়ের হতদরিদ্র শিশুর পরিবাররা পেল খাদ্য সহায়তা

» দেশে করোনায় আরও ৩৯ মৃত্যু, শনাক্ত ২৯৭৭

» শেরপুরে প্রয়াত আলোকচিত্রী এস এ শাহরিয়ার রিপনের স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল

» শ্রীবরদীতে আদিবাসী নারীর ওপর হামলা

» নকলায় ইউএনও’র হস্তক্ষেপে বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পেল শিক্ষার্থী

» শেরপুরে শেখ কামালের ৭১ তম জন্মদিন উপলক্ষে দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

» শেখ কামালের জন্মদিনে শেরপুরে ১০ অসচ্ছল ক্রীড়াবিদকে অনুদান দিলেন জেলা প্রশাসক

» সেনা ও পুলিশপ্রধানের যৌথ সংবাদ সম্মেলন : সিনহার মৃত্যু বিচ্ছিন্ন ঘটনা

» নকলায় ইয়াবাসহ গ্রেফতার ২

সম্পাদক-প্রকাশক : রফিকুল ইসলাম আধার
উপদেষ্টা সম্পাদক : সোলায়মান খাঁন মজনু
নির্বাহী সম্পাদক : মোহাম্মদ জুবায়ের রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১ : ফারহানা পারভীন মুন্নী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : আলমগীর কিবরিয়া কামরুল
বার্তা সম্পাদক-১ : রেজাউল করিম বকুল
বার্তা সম্পাদক-২ : মোঃ ফরিদুজ্জামান।
যোগাযোগ : সম্পাদক : ০১৭২০০৭৯৪০৯
নির্বাহী সম্পাদক : ০১৯১২০৪৯৯৪৬
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১: ০১৭১৬৪৬২২৫৫
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : ০১৭১৪২৬১৩৫০
বার্তা সম্পাদক-১ : ০১৭১৩৫৬৪২২৫
বার্তা সম্পাদক -২ : ০১৯২১-৯৫৫৯০৬
বিজ্ঞাপন : ০১৭১২৮৫৩৩০৩
ইমেইল : shamolbangla2013@gmail.com.

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । ওয়েবসাইট তৈরি করেছে- BD iT Zone

  রাত ৩:৪৪ | শুক্রবার | ৭ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ঝিনাইগাতী মহিলা কলেজ অধ্যক্ষের সীমাহীন দুর্নীতি ॥ দীর্ঘদিন কর্মরত ২ প্রভাষক এমপিও বঞ্চিত!

অচেনা ও অন্যত্র চাকরিজীবীরা তুলছেন বেতন
জাল সনদে নিয়োগ অধ্যক্ষের স্ত্রীসহ কয়েকজন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ শেরপুরের ঝিনাইগাতী আদর্শ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যক্ষ মুহাম্মদ খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে সীমাহীন জাল-জালিয়াতি ও অনিয়ম-দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তার ওইসব দুর্নীতির কারণে দীর্ঘদিন স্ব-স্ব পদে এককভাবে নিয়মিত কর্মরত থেকেও এমপিও থেকে বাদ পড়ছেন ২ নিয়মিত শিক্ষক। অন্যদিকে ওই দুর্নীতির কারণে কলেজে একদিন ক্লাস না নিয়েও অচেনা ও অন্যত্র চাকরিজীবী শিক্ষকরা তুলছেন বেতন। এছাড়া নিবন্ধনসহ জাল সনদে চাকুরিতে প্রবেশ করা অধ্যক্ষের স্ত্রীসহ কয়েকজন শিক্ষকও অবৈধভাবে ভোগ করছেন একই সুবিধা। অভিযোগ ওঠেছে, অধ্যক্ষ মুহাম্মদ খলিলুর রহমান গভর্নিং বডির সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিকে অন্ধকারে রেখে ওইসব দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছেন। সম্প্রতি অধ্যক্ষ সীমাহীন স্বেচ্ছাচারিতায় নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে এ্যাডহক কমিটিকেও উল্টেপাল্টে গঠন করেছেন গভর্নিং কমিটি, যাতে রয়েছেন অধ্যক্ষের স্ত্রী, ভগ্নিপতি, ভাগনে ও বেয়াইসহ নিকট আত্মীয়রাই। কেবল তাই নয়, ঘোর জামায়াত সমর্থক ওই অধ্যক্ষ উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির এক সভায় ‘শেখের ভাষণ, আইয়ুবের শাসন’ উল্লেখ করে বিতর্কের মুখে ওই কমিটির সদস্যপদ হারালেও অদৃশ্য শক্তির তদবিরে নেওয়া যায়নি তার বিরুদ্ধে কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা। ফলে কলেজ অধ্যক্ষের ওই সীমাহীন দুর্নীতি নিয়ে এলাকায় এখন ব্যাপক তোলপাড় চলছে। এ বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন খোদ সরকারদলীয় স্থানীয় সংসদ সদস্য প্রকৌশলী একেএম ফজলুল হক চাঁনসহ স্থানীয় সচেতন মহল। অন্যদিকে ওই ঘটনায় ময়মনসিংহ অঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের পরিচালক এবং শেরপুরের জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দায়িত্বশীল মহলে লিখিত অভিযোগ করা হলেও এখনও ওইসব দুর্নীতি তদন্তে নেওয়া হয়নি কোন পদক্ষেপ।
জানা যায়, নারী শিক্ষার প্রসারে ২০০২ সালে সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলা সদরে প্রতিষ্ঠিত হয় ঝিনাইগাতী মহিলা আদর্শ ডিগ্রি কলেজ। এরপর ২০১২ সালে কলেজটি ডিগ্রি শাখা খোলার অনুমতি লাভ করে। ওই সময় সৃষ্ট পদে জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলে আবেদন করে সকল পরীক্ষায় অংশ নিয়ে প্রথম স্থান অজর্ন করে নিয়োগ পেয়ে ডিগ্রি শাখায় ইংরেজী প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন উপজেলার খৈলকুড়া এলাকার পি.আর মুহাম্মদ রাহুল। ওই নিয়োগের পর থেকে তিনি ডিগ্রি শাখায় ইংরেজী বিভাগে একমাত্র প্রভাষক হিসাবে এমপিওবিহীন বিনাবেতনেও নিয়মিত ক্লাস গ্রহণ এবং প্রশাসনিক কাজকর্মে সহায়তাসহ প্রচুর মেধা ও শ্রম দিয়ে শিক্ষার উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রাখেন। তার অবদানে কলেজের ডিগ্রি পরীক্ষায় ইংরেজী বিষয়ে প্রতিবছর প্রায় শতভাগ পাশও নিশ্চিত হয়। যেকারণে শিক্ষার্থী-অভিভাবক ও এলাকাবাসীর কাছে তিনি একজন জনপ্রিয় ও আদর্শ শিক্ষক হিসেবেও ব্যাপক পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি কলেজটি ডিগ্রি পর্যায়ে এমপিওভুক্ত হলে প্রভাষক পি.আর মুহাম্মদ রাহুলকে সম্প্রতি অধ্যক্ষ খলিলুর রহমান ডেকে নিয়ে তার কাছে এমপিওর জন্য ১৫ লক্ষ টাকা দাবি করেন। কিন্তু বৈধভাবে নিয়োগ পেয়ে বিনাবেতনে দীর্ঘ ৮ বছর নিয়মিত শিক্ষকতা করে আসায় তিনি ওই মোটা অংকের টাকা দিতে অস্বীকার করলে অধ্যক্ষ তাকে জানান যে, ‘ওই পদের জন্য ২০ লক্ষ টাকা দেওয়ার জন্য অনেক লোক রয়েছেন’। এছাড়া একই কলেজে একইভাবে ২০১৫ সালে ডিগ্রি শাখায় সৃষ্ট প্রভাষক (দর্শন) পদে যোগদান করেন শেরপুর শহরের দমদমা মহল্লার যমুনা খাতুন। যোগদানের পর থেকে তিনিও দীর্ঘ ৫ বছর যাবত বিনাবেতনে নিয়মিত ক্লাস নেওয়াসহ অন্যান্য দায়িত্ব পালন করে আসছেন। কিন্তু ডিগ্রি পর্যায়ে এমপিও ঘোষণার পর পরই কলেজ অধ্যক্ষ তাকেও ডেকে নিয়ে এমপিও জন্য ১০ লক্ষ টাকা দাবি করেন। তিনি পারিবারিক অবস্থার কারণে ওই টাকা দিতে অস্বীকার করলে তাকে বাদ দিয়ে ওই পদে ফুলপুর উপজেলার কাতুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন যাবত কর্মরত আফরোজা আক্তার নামে এক প্রার্থীকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানিয়ে দেন।

img-add

এরপর দাবি আদায় না হওয়ায় কলেজ অধ্যক্ষ মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিয়ে প্রভাষক মুহাম্মদ রাহুলের স্থলে কলেজে একদিনও ক্লাস না নেওয়া দীর্ঘ প্রায় প্রায় ১৭/১৮ বছর যাবত ময়মনসিংহ নগরীতে বসবাস করে টিউশনি ও ও কোচিং পরিচালনা এবং প্রায় ৩ বছর যাবত স্থানীয় মেট্রোপলিটন মডেল স্কুলে কর্মরত আবু হানিফকে এবং প্রভাষক যমুনা খাতুনের স্থলে আফরোজা আক্তারকে ‘ব্যাকডেটে’ ভূয়া কাগজপত্রে নিয়মিত শিক্ষক হিসেবে দেখিয়ে ময়মনসিংহ অঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের পরিচালক বরাবর এমপিও এর আবেদন পাঠিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, আবু হানিফ ও আফরোজা আক্তার একদিনও ওই কলেজে ক্লাশ নেননি। তারা দু’জনই কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ সকলের কাছে অচেনা। তদুপরি তাদের দু’জনেরই শিক্ষক নিবন্ধন জাল বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগমতে, অধ্যক্ষের স্ত্রী মাহমুদা সিদ্দিকার স্নাতক ও শিক্ষক নিবন্ধন সনদসহ আরও একাধিক শিক্ষককে চাকরিতে ঢুকানো হয়েছে জাল সনদে। আর স্থানীয় ডাকাবর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি করেও আসমাউল আলিয়া প্রভাষক (বাংলা), সিলেটের একটি হাইস্কুলে প্রায় ৫ বছর যাবত চাকরিরত আব্দুর রহিম প্রভাষক (রাষ্ট্রবিজ্ঞান) ও ঝিনাইগাতী উপজেলা বিআরডিবিতে প্রায় ৫ বছর যাবত চাকরিরত মুজিবুর রহমান প্রভাষক (অর্থনীতি) হিসেবে অন্তর্ভূক্ত হয়েছেন। তারাসহ অচেনা শিক্ষক আবু হানিফ ও আসমাউল আলিয়া কলেজে একদিন ক্লাশ না নিলেও ইতোমধ্যে তুলে নিয়েছেন এমপিওভূক্তির প্রথম দফার বেতন-ভাতাদি বাবদ প্রায় ৩ লক্ষ করে টাকা।
এদিকে অধ্যক্ষ খলিলুর রহমান ছাত্রজীবনে মাদ্রাসা শিক্ষার্থী থেকে আরবী (এ্যারাবিক) বিষয়ে মাস্টার্স করলেও ওই কলেজে নেই নিজের আরবী পাঠ্য বিষয়। কলেজে রয়েছে ইসলামিক স্টাডিজ- যা নিয়োগবিধির পরিপন্থী। তিনি ওই দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে পরবর্তীতে একদিন ক্লাশ না করেও বিতর্কিত দারুল এহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামিক স্টাডিজ এবং এক পর্যায়ে ইংরেজি সনদও হাসিল করেছেন। অন্যদিকে আর্থিক দূরাবস্থায় অনেকটা শূন্য থেকে যাত্রা শুরু করলেও অধ্যক্ষ খলিলুর রহমান নিয়োগ বাণিজ্য ও জাল-জালিয়াতির সুবাদে ইতোমধ্যে নিজ এলাকা ও জেলা শহরে একাধিক বাসা-বাড়িসহ রাতারাতি অনেক বিত্ত-বৈভবের মালিক তথা কোটিপতি বনে গেছেন- এমন অভিযোগও রয়েছে।
শ্যামলবাংলা২৪ডটকম’র তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, ছাত্রজীবনে ছাত্রশিবির এবং পরবর্তীতে জামায়াতের রাজনীতির সাথে জড়িত অধ্যক্ষ খলিলুর রহমান আওয়ামী লীগ, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের একজন চরম বিদ্বেষী লোক হিসেবে এলাকায় সমধিক পরিচিত। তিনি কলেজ অঙ্গনসহ বিভিন্ন জায়গায় সুযোগ পেলেই বঙ্গবন্ধুকে ‘এই লোকটা’ বা ‘শেখ’ বলে তাচ্ছিল্য করেন এবং পাকিস্তানের শাসনকে উত্তম শাসন বলে মন্তব্য করেন। কেবল তাই নয়, নিজ এলাকাসহ প্রশাসনিক সভা-সমাবেশেও তিনি বঙ্গবন্ধুর সমালোচনা করতে কুণ্ঠাবোধ করেন না। অভিযোগ রয়েছে, ২০১৮ সালের ১৩ আগস্ট ঝিনাইগাতী উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে অধ্যক্ষ খলিলুর রহমান ‘শেখের ভাষণ, আইয়ুবের শাসন’ মর্মে উল্লেখ করে স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে একজন কুখ্যাত স্বৈরশাসক আইয়ুবের শাসনের সাথে তুলনা করেন। তার ওই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে সভায় তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। কিন্তু তারপরও তিনি রয়ে যান ধরাছোঁয়ার বাইরে। বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী সভায় (৯ অক্টোবর) সরগরম আলোচনার প্রেক্ষিতে তাকে সর্বসম্মতিক্রমে উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সদস্য পদ হতে অপসারণসহ তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর পত্র প্রেরণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। কিন্তু এরপর উপজেলা আইন-শ্ঙ্খৃলা কমিটির সদস্য পদ হারালেও রহস্যজনক কারণ বা অদৃশ্য খুটির জোরেই পার পেয়ে যান জাতির পিতাকে অবমাননাকারী জামায়াত সমর্থক ওই অধ্যক্ষ।
কলেজের ডিগ্রি পর্যায়ে টানা ৮ বছর যাবত কর্মরত থাকার পরও এমপিও তালিকায় নিজের নাম না পাঠানো প্রসঙ্গে ইংরেজী প্রভাষক পি.আর মুহম্মদ রাহুল বলেন, তিনি আওয়ামী লীগ সমর্থক হওয়ার কারণে তাকে সহ্য করতে পারেন না অধ্যক্ষ। তার সীমাহীন দুর্নীতি ও জাল-জালিয়াতির বিষয়টি ‘ওপেন সিক্রেট’ হওয়ার পরও তিনি বহাল তবিয়তে থেকে এবার অনৈতিক দাবি আদায়ে ব্যর্থ হয়ে তার প্রতি চরম অন্যায় করেছেন। বিষয়টি গভর্নিং বর্ডির সভাপতিকে জানানোর পরও তিনি ওই বিষয়ে কোন পদক্ষেপ না নিয়ে উল্টো অধ্যক্ষের সাথেই কথা বলে নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে তাকে নিরাশ করেছেন। এজন্য তিনি অধ্যক্ষের ওই সীমাহীন দুর্নীতি তদন্তের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি জীবন-জীবিকার প্রশ্নে তাকে এমপিওভূক্তির দাবি জানান। একই কথা জানিয়ে বর্তমানে মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকা টানা ৫ বছর যাবত কর্মরত দর্শন প্রভাষক যমুনা খাতুন বলেন, জাল-জালিয়াতি ও নিয়োগ বাণিজ্যে অভ্যস্ত অধ্যক্ষ দাবিকৃত টাকা না পেয়েই এখন তাদের জীবনকে চরম অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিয়েছেন।
এদিকে অধ্যক্ষের অনিয়ম-দুর্নীতি প্রসঙ্গে স্থানীয় সংসদ সদস্যের পাশাপাশি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও দাতা সদস্য, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাদশাও বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, অধ্যক্ষের সীমাহীন অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়টি এলাকায় এখন ‘ওপেন সিক্রেট’ বিষয়। একদিকে তিনি অভিযোগকারী নিয়মিত শিক্ষকদের বাদ দিয়ে প্রতিষ্ঠানে একদিনও ক্লাশ না নেওয়া অচেনাদের নাম এমপিও তালিকায় পাঠিয়েছেন। অন্যদিকে তার স্ত্রীসহ বেশ কয়েকজনের জাল সনদে চাকরির সুযোগ করে দিয়েছেন। এরপরও তার বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় না, তার খুটির জোরই বা কোথায়- এমন প্রশ্নই এখন এলাকার সচেতন মহলের। অভিযোগকারী ওই ২ প্রভাষক নিয়োগদানকালীন সাবেক সভাপতি আওয়ামী লীগ নেতা একেএম বেলায়েত হোসেনও একই কথা জানিয়ে বলেন, গলধঃকরণ দুর্নীতির পাশাপাশি একটি প্রশাসনিক সভায় প্রকাশ্যে জাতির পিতার অবমাননা করার পরও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় না- এ কেমন দুর্বলতা আমাদের দায়িত্বশীলদের। এছাড়া একইভাবে উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক আবুল হাশেম, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিটের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার শামসুল আলম, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আবু বকর সিদ্দিক, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি জাকির হোসেন, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম, উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক ও জেলা পরিষদ সদস্য আয়েশা সিদ্দিকা রূপালী, সদর ইউপি চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন চাঁন, হাতিবান্ধা ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আমিন দোলা, মালিঝিকান্দা ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম তোতাসহ স্থানীয় সচেতন মহলের অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করে তার বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। সেইসাথে তারা অধ্যক্ষের দুর্নীতির পাশাপাশি জাতির পিতার অবমাননা করার বিষয়ে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপও কামনা করেন।
অন্যদিকে সব ধরনের অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে কলেজ অধ্যক্ষ খলিলুর রহমান বলেন, সকল নিয়ম-কানুন অনুসরণ করেই ডিগ্রি পর্যায়ের এমপিও তালিকা পাঠানো হয়েছে। তার দাবি, অভিযোগকারী পি.আর মুহম্মদ রাহুল ও যমুনা খাতুনের নামও অপেক্ষমান তালিকায় রয়েছে। কিছু সমস্যার কারণে আফরোজা আক্তারের এমপিও স্থগিত রাখা হয়েছে। তার স্ত্রী ও নিজেরসহ কয়েকজন শিক্ষকের জাল সনদের অভিযোগের বিষয়টি সুকৌশলে পাশ কেটে গিয়ে তিনি ক্লাশ না নেওয়া অচেনা ও অন্যত্র চাকরিজীবীদের নাম এমপিও তালিকা পাঠানোর বিষয়ে উল্টো প্রশ্ন রেখে বলেন, সারাদেশেই এরকম হয়ে থাকে। এমপিও’র আগে শিক্ষক-ছাত্র ক’জন থাকেন কোন প্রতিষ্ঠানে ? এছাড়া জাতির পিতার প্রতি তাচ্ছিল্যতার অভিযোগ অস্বীকার করলেও তাকে স্বৈরশাসক আইয়ুবের সাথে তুলনা প্রসঙ্গে বলেন, তিনি একভাবে বুঝাতে চেয়েছেন, অন্যরা তা ভিন্নভাবে বুঝেছেন। তবে ওই ঘটনার পরপরই তিনি তার বক্তব্য প্রত্যাহারসহ দুঃখ প্রকাশ করেছেন। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সদস্যপদ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে কি না জানি না। তবে তারপর থেকে কোন চিঠি পাই না বলে যাই না। আর অধ্যক্ষের অনিয়ম-দুনীতি প্রসঙ্গে গভর্নিং বডির সভাপতি, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এসএম আব্দুল্লাহেল ওয়ারেজ নাইম বলেন, নিয়মিত শিক্ষকদের বাদ দিয়ে এমপিও তালিকা পাঠানোসহ নানা অভিযোগের বিষয়ে তাকে লিখিতভাবে জানানো হয়নি। তবে তিনি বিষয়টি শুনেছেন এবং অধ্যক্ষকে সকল নিয়োগ সংক্রান্ত কাগজপত্রসহ উপস্থাপন সাপেক্ষে দ্রুত গভর্নিং বডির সভা ডাকতে বলেছেন। সেরকম কিছু পাওয়া গেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তার মতে, শিক্ষকদের কারও নিয়োগই তার মেয়াদে হয়নি। তিনি দলের পাশাপাশি উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে করোনা পরিস্থিতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এজন্য অধ্যক্ষসহ কমিটির অন্যান্যরাই দেখেশুনে কাজ করছেন। অন্যদিকে তিনি অধ্যক্ষের জামায়াত সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়ে জাতির পিতার অবমাননার বিষয়ে বলেন, ওই ঘটনার পরপরই তিনি দুঃখ প্রকাশ করে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।
অভিযোগ প্রসঙ্গে ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবেল মাহমুদ বলেন, ওই কলেজের শিক্ষক এমপিও তালিকাসহ অধ্যক্ষের অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই বিষয়ে খুব দ্রুতই তদন্ত শুরু করা হবে। আর ভারপ্রাপ্ত জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোকসেদুর রহমান জানান, ওই কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি অবগত। তবে এখন কলেজগুলোর কার্যক্রম দেখভাল করছেন সরাসরি অঞ্চলের পরিচালক। কাজেই ওই অভিযোগ পাওয়ার পরপরই তা পরিচালক বরাবর পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) এবিএম এহছানুল মামুন বলেন, ওই অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ব্যাপারে শেরপুরের জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহবুব ২ জুলাই বৃহস্পতিবার দুপুরে শ্যামলবাংলা২৪ডটকমকে বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে এমনিতেই প্রশাসন কঠিন অবস্থায় কাজ করছে। তারপরও অভিযোগ যেহেতু গুরুতর, সেহেতু অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে প্রতিবেদন প্রেরণের জন্য স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email
এ সংক্রান্ত আরও খবর

সর্বশেষ খবর



অন্যান্য খবর



সম্পাদক-প্রকাশক : রফিকুল ইসলাম আধার
উপদেষ্টা সম্পাদক : সোলায়মান খাঁন মজনু
নির্বাহী সম্পাদক : মোহাম্মদ জুবায়ের রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১ : ফারহানা পারভীন মুন্নী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : আলমগীর কিবরিয়া কামরুল
বার্তা সম্পাদক-১ : রেজাউল করিম বকুল
বার্তা সম্পাদক-২ : মোঃ ফরিদুজ্জামান।
যোগাযোগ : সম্পাদক : ০১৭২০০৭৯৪০৯
নির্বাহী সম্পাদক : ০১৯১২০৪৯৯৪৬
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১: ০১৭১৬৪৬২২৫৫
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : ০১৭১৪২৬১৩৫০
বার্তা সম্পাদক-১ : ০১৭১৩৫৬৪২২৫
বার্তা সম্পাদক -২ : ০১৯২১-৯৫৫৯০৬
বিজ্ঞাপন : ০১৭১২৮৫৩৩০৩
ইমেইল : shamolbangla2013@gmail.com.

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । ওয়েবসাইট তৈরি করেছে- BD iT Zone

error: Content is protected !!