রাত ১১:৪০ | রবিবার | ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

এবার ঝিনাইগাতীর সেই অধ্যক্ষের বিচার চান নির্যাতিতা বিধবা নারী

গাছে বেধে নির্যাতন, মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানী ও বসতভিটাসহ জমি দখলের অভিযোগ

খোরশেদ আলম, ঝিনাইগাতী (শেরপুর) ॥ শেরপুরের ঝিনাইগাতীর সেই বহুল আলোচিত মহিলা আদর্শ ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে এবার বিচার দাবি করেছেন তার হাতে নির্যাতন ও হয়রানীর শিকার এক অসহায় বিধবা নারী। অন্যদিকে জামায়াত সমর্থক দুর্নীতিপরায়ণ ওই অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ার সুবাদে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনসহ অনেকেই তার বিষয়ে মুখ খোলার পাশাপাশি ফুঁসে ওঠায় হঠাৎ চুপসে গেছেন তিনি। এছাড়া তার অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়টিই এখন ঝিনাইগাতীতে ব্যাপক আলোচিত হচ্ছে। সেইসাথে সচেতন মহলের অনেকেই আশা করছেন সীমাহীন অনিয়ম-দুর্নীতির পাশাপাশি সরকারি প্রতিষ্ঠানের সভায় প্রকাশ্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবমাননাকারী সেই অধ্যক্ষের খুটির জোরও এবার নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। আর এজন্য শাস্তিসহ বিচারের মুখোমুখি হতে হবে তাকে।

img-add

গত ৫ জুলাই শেরপুরের জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগে ঝিনাইগাতী উপজেলার তামাগাও এলাকার মৃত হায়দার আলীর স্ত্রী ছবিরন নেছা (৫০) জানান, তার এলাকায় ঝিনাইগাতী মহিলা আদর্শ ডিগ্রি কলেজ প্রতিষ্ঠার পূর্ব থেকে তিনি ১০ শতাংশ জমি ক্রয় করে ওই জমিতে দু’টি ঘর নির্মাণ করে দরিদ্র অসুস্থ স্বামী ও ৩ নাবালক পুত্র সন্তানসহ বসবাস করে আসছিলেন। কিন্তু ওই জমির প্রতি হঠাৎ লোভ জাগে কলেজ অধ্যক্ষ খলিলুর রহমানের। তিনি জমিটি ক্রয় করার জন্য প্রস্তাব দিলে ছবিরন নেছা তা বিক্রি করতে অস্বীকৃতি জানান। এরপর তার কনিষ্ঠ পুত্র শরাফত আলীকে কলেজের অফিস সহকারী পদে চাকরি দেওয়ার প্রলোভনে টালবাহানা শুরু করে এবং এক পর্যায়ে তার ওই অসহায় পরিবারকে বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ করতে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন অধ্যক্ষ খলিলুর রহমান। ইতোমধ্যে ছবিরন নেছার স্বামী হায়দার আলী মারা গেলে পরিবারটি আরও অসহায় হয়ে পড়ে। ওই অবস্থায় ২০১৮ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সকালে ছবিরন নেছাকে বাড়িতে একা পেয়ে অধ্যক্ষ খলিলুর রহমান, তার স্ত্রী মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকাসহ কলেজের কতিপয় কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের ফুসলিয়ে নিয়ে ছবিরনের পরিবারকে বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা করে। ওই অবস্থায় ছবিরন নেছা ডাক-চিৎকার দিয়ে তাদের বাধা হয়ে দাঁড়ালে অধ্যক্ষ খলিলুর রহমানের নির্দেশে ছবিরন নেছাকে তারই বসতবাড়ির একটি কাঠাল গাছে বেধে ফেলা হয়। সেইসাথে চালানো হয় তার প্রতি শারীরিক নির্যাতন। খবর পেয়ে ছবিরনের মেজো ছেলে সোহেল মিয়া বাড়িতে ছুটে গেলে থানা পুলিশে খবর দিয়ে ছবিরন নেছা ও তার ছেলে সোহেলকে আটক করা হয় এবং পরদিন ছবিরন নেছা ও তার ছেলে সোহেলসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেল হাজতে পাঠায়। অন্যদিকে মা-পুত্রকে হাজতে পাঠানোসহ পরিবার-স্বজনদের বিরুদ্ধে মামলা থাকায় তারাও পালিয়ে থাকার সুবাদে অধ্যক্ষ খলিল ও তার লোকজন ছবিরন নেছার বসতবাড়ির দু’টি ঘরের মালামাল লুটপাট করে অন্যান্য সবকিছু গুড়িয়ে দেয়। কেবল তাই নয়, ওই মামলার সুবাদে অধ্যক্ষ খলিল ও তার লোকজন কয়েকদিনের মধ্যেই ছবিরন নেছার বসতবাড়ি নিশ্চিহ্ন করে দিয়ে বসতভিটার জায়গাটুকুতে কলেজের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করে।
এদিকে মিথ্যা মামলায় দীর্ঘ ১৪ দিন হাজতবাসের পর ছবিরন নেছা ও তার এক ছেলে এবং পরবর্তীতে অন্যান্য আসামিরা আদালতে স্বেচ্ছায় হাজির হয়ে জামিন পেয়ে নিজেদের বসতভিটা ঘরবাড়ির চিহ্নও খুঁজে না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েন। এরপর তারা উপজেলা প্রশাসন, থানা পুলিশসহ জনপ্রতিনিধি আর সমাজপতিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেন বিচারের আশায়। কিন্তু বিধিবাম! ওই অসহায় পরিবারটির প্রতি এবং প্রভাবশালীর শেল্টারে থাকা দুর্নীতি পরায়ণ অমানবিক অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলেননি। উপরন্তু আইন-আদালতে গেলে তাদেরকে বাকী জীবন জেলেই পচে মরতে হবে- এমন হুমকির কারণে যাওয়া হয়নি তাদের সেখানেও। ফলে পরিবারটি অধ্যক্ষের সেই অমানবিক নির্যাতন, হয়রানী ও জমি দখলের ঘটনায় ন্যায়বিচার থেকে হয়েছে বঞ্চিত। আজও তার হয়নি কোন সুরাহা।
এ বিষয়ে ছবিরন নেছা আবেগতাড়িত হয়ে বলেন, আমাকে গাছে বেধে নির্যাতনসহ মিথ্যা মামলায় হাজতে ঢুকিয়ে অধ্যক্ষ খলিল বসতভিটাসহ জায়গা জমি দখল করে নিলেও আমি দ্বারে দ্বারে ঘুরে কারও কাছেই বিচার পাইনি। এতদিনে তার দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় এবং জেলা প্রশাসকের নির্দেশে তদন্ত শুরু হওয়ায় আমি বুকে বড় আশা নিয়ে বিচারের আশায় অভিযোগ দিয়েছি। আমি তার বিচার চাই। একই কথা জানিয়ে তার পুত্র হয়রানীর শিকার সোহেল মিয়া (২৫) বলেন, অধ্যক্ষ খলিলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হওয়ার সুবাদে আমার মায়ের দেওয়া অভিযোগের বিষয়েও ইউএনও মহোদয় আমাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। কাজেই এবার আমরা তার বিচার পাব বলে আশা করছি। এ ব্যাপারে অধ্যক্ষ খলিলুর রহমানের সাথে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, সীমাহীন অনিয়ম-দুর্নীতি, জাল-জালিয়াতি ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগে অধ্যক্ষ খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে এমপিওবঞ্চিত ২ নিয়মিত প্রভাষকের লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহবুবের নির্দেশনায় ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবেল মাহমুদ তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছেন। তারই আওতায় গত ৯ জুলাই তদন্ত কর্মকর্তা কলেজ মিলনায়তনে অভিযোগকারীসহ গভর্নিং বডির বর্তমান ও সাবেক সভাপতিসহ কর্মকর্তা এবং শিক্ষক-কর্মচারীসহ স্থানীয় সচেতন মহলের বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

Print Friendly, PDF & Email
এ সংক্রান্ত আরও খবর

অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ খবর



» শেরপুরে অনলাইন স্কুলের শুভেচ্ছা স্মারক পেলেন শ্যামলবাংলা২৪ডটকম’র ২ রিপোর্টার

» নেইমারের অধিনায়কত্বে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে খেলবে ব্রাজিল

» সম্মেলন ডেকে হেফাজতের আমির নির্বাচন করা হবে: বাবুনগরী

» ইউএনওর উপর হামলা : দায় স্বীকার করে রবিউলের জবানবন্দী

» শেরপুরে মুজিববর্ষ উপলক্ষে বিআরটিএ’র বিশেষ সেবা সপ্তাহ শুরু

» সিনেমা হল খোলার সিদ্ধান্ত আসছে

» শীতে করোনা পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে, প্রস্তুতি নিন: প্রধানমন্ত্রী

» শেরপুরে দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

» নকলায় ৯৯৯-এ ফোন করে বাল্যবিবাহ বন্ধ : মেয়ের বাবাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা

» করোনাকালীন মাতৃসেবায় মা-টেলিহেলথ সেন্টার

» ওসি প্রদীপ ও তার স্ত্রীর সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ

» করোনায় প্রাণ গেলো আরও ২৬ জনের

» আইপিএল: আজ মুখোমুখি দিল্লি-পাঞ্জাব

» মহেশের সিনেমায় বিদ্যা বালান

» বিএনপির গর্জন থাকলেও বর্ষণ নেই : ওবায়দুল কাদের

সম্পাদক-প্রকাশক : রফিকুল ইসলাম আধার
উপদেষ্টা সম্পাদক : সোলায়মান খাঁন মজনু
নির্বাহী সম্পাদক : মোহাম্মদ জুবায়ের রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১ : ফারহানা পারভীন মুন্নী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : আলমগীর কিবরিয়া কামরুল
বার্তা সম্পাদক-১ : রেজাউল করিম বকুল
বার্তা সম্পাদক-২ : মোঃ ফরিদুজ্জামান।
যোগাযোগ : সম্পাদক : ০১৭২০০৭৯৪০৯
নির্বাহী সম্পাদক : ০১৯১২০৪৯৯৪৬
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১: ০১৭১৬৪৬২২৫৫
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : ০১৭১৪২৬১৩৫০
বার্তা সম্পাদক-১ : ০১৭১৩৫৬৪২২৫
বার্তা সম্পাদক -২ : ০১৯২১-৯৫৫৯০৬
বিজ্ঞাপন : ০১৭১২৮৫৩৩০৩
ইমেইল : shamolbangla2013@gmail.com.

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । ওয়েবসাইট তৈরি করেছে- BD iT Zone

  রাত ১১:৪০ | রবিবার | ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

এবার ঝিনাইগাতীর সেই অধ্যক্ষের বিচার চান নির্যাতিতা বিধবা নারী

গাছে বেধে নির্যাতন, মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানী ও বসতভিটাসহ জমি দখলের অভিযোগ

খোরশেদ আলম, ঝিনাইগাতী (শেরপুর) ॥ শেরপুরের ঝিনাইগাতীর সেই বহুল আলোচিত মহিলা আদর্শ ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে এবার বিচার দাবি করেছেন তার হাতে নির্যাতন ও হয়রানীর শিকার এক অসহায় বিধবা নারী। অন্যদিকে জামায়াত সমর্থক দুর্নীতিপরায়ণ ওই অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ার সুবাদে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনসহ অনেকেই তার বিষয়ে মুখ খোলার পাশাপাশি ফুঁসে ওঠায় হঠাৎ চুপসে গেছেন তিনি। এছাড়া তার অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়টিই এখন ঝিনাইগাতীতে ব্যাপক আলোচিত হচ্ছে। সেইসাথে সচেতন মহলের অনেকেই আশা করছেন সীমাহীন অনিয়ম-দুর্নীতির পাশাপাশি সরকারি প্রতিষ্ঠানের সভায় প্রকাশ্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবমাননাকারী সেই অধ্যক্ষের খুটির জোরও এবার নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। আর এজন্য শাস্তিসহ বিচারের মুখোমুখি হতে হবে তাকে।

img-add

গত ৫ জুলাই শেরপুরের জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগে ঝিনাইগাতী উপজেলার তামাগাও এলাকার মৃত হায়দার আলীর স্ত্রী ছবিরন নেছা (৫০) জানান, তার এলাকায় ঝিনাইগাতী মহিলা আদর্শ ডিগ্রি কলেজ প্রতিষ্ঠার পূর্ব থেকে তিনি ১০ শতাংশ জমি ক্রয় করে ওই জমিতে দু’টি ঘর নির্মাণ করে দরিদ্র অসুস্থ স্বামী ও ৩ নাবালক পুত্র সন্তানসহ বসবাস করে আসছিলেন। কিন্তু ওই জমির প্রতি হঠাৎ লোভ জাগে কলেজ অধ্যক্ষ খলিলুর রহমানের। তিনি জমিটি ক্রয় করার জন্য প্রস্তাব দিলে ছবিরন নেছা তা বিক্রি করতে অস্বীকৃতি জানান। এরপর তার কনিষ্ঠ পুত্র শরাফত আলীকে কলেজের অফিস সহকারী পদে চাকরি দেওয়ার প্রলোভনে টালবাহানা শুরু করে এবং এক পর্যায়ে তার ওই অসহায় পরিবারকে বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ করতে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন অধ্যক্ষ খলিলুর রহমান। ইতোমধ্যে ছবিরন নেছার স্বামী হায়দার আলী মারা গেলে পরিবারটি আরও অসহায় হয়ে পড়ে। ওই অবস্থায় ২০১৮ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সকালে ছবিরন নেছাকে বাড়িতে একা পেয়ে অধ্যক্ষ খলিলুর রহমান, তার স্ত্রী মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকাসহ কলেজের কতিপয় কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের ফুসলিয়ে নিয়ে ছবিরনের পরিবারকে বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা করে। ওই অবস্থায় ছবিরন নেছা ডাক-চিৎকার দিয়ে তাদের বাধা হয়ে দাঁড়ালে অধ্যক্ষ খলিলুর রহমানের নির্দেশে ছবিরন নেছাকে তারই বসতবাড়ির একটি কাঠাল গাছে বেধে ফেলা হয়। সেইসাথে চালানো হয় তার প্রতি শারীরিক নির্যাতন। খবর পেয়ে ছবিরনের মেজো ছেলে সোহেল মিয়া বাড়িতে ছুটে গেলে থানা পুলিশে খবর দিয়ে ছবিরন নেছা ও তার ছেলে সোহেলকে আটক করা হয় এবং পরদিন ছবিরন নেছা ও তার ছেলে সোহেলসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেল হাজতে পাঠায়। অন্যদিকে মা-পুত্রকে হাজতে পাঠানোসহ পরিবার-স্বজনদের বিরুদ্ধে মামলা থাকায় তারাও পালিয়ে থাকার সুবাদে অধ্যক্ষ খলিল ও তার লোকজন ছবিরন নেছার বসতবাড়ির দু’টি ঘরের মালামাল লুটপাট করে অন্যান্য সবকিছু গুড়িয়ে দেয়। কেবল তাই নয়, ওই মামলার সুবাদে অধ্যক্ষ খলিল ও তার লোকজন কয়েকদিনের মধ্যেই ছবিরন নেছার বসতবাড়ি নিশ্চিহ্ন করে দিয়ে বসতভিটার জায়গাটুকুতে কলেজের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করে।
এদিকে মিথ্যা মামলায় দীর্ঘ ১৪ দিন হাজতবাসের পর ছবিরন নেছা ও তার এক ছেলে এবং পরবর্তীতে অন্যান্য আসামিরা আদালতে স্বেচ্ছায় হাজির হয়ে জামিন পেয়ে নিজেদের বসতভিটা ঘরবাড়ির চিহ্নও খুঁজে না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েন। এরপর তারা উপজেলা প্রশাসন, থানা পুলিশসহ জনপ্রতিনিধি আর সমাজপতিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেন বিচারের আশায়। কিন্তু বিধিবাম! ওই অসহায় পরিবারটির প্রতি এবং প্রভাবশালীর শেল্টারে থাকা দুর্নীতি পরায়ণ অমানবিক অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলেননি। উপরন্তু আইন-আদালতে গেলে তাদেরকে বাকী জীবন জেলেই পচে মরতে হবে- এমন হুমকির কারণে যাওয়া হয়নি তাদের সেখানেও। ফলে পরিবারটি অধ্যক্ষের সেই অমানবিক নির্যাতন, হয়রানী ও জমি দখলের ঘটনায় ন্যায়বিচার থেকে হয়েছে বঞ্চিত। আজও তার হয়নি কোন সুরাহা।
এ বিষয়ে ছবিরন নেছা আবেগতাড়িত হয়ে বলেন, আমাকে গাছে বেধে নির্যাতনসহ মিথ্যা মামলায় হাজতে ঢুকিয়ে অধ্যক্ষ খলিল বসতভিটাসহ জায়গা জমি দখল করে নিলেও আমি দ্বারে দ্বারে ঘুরে কারও কাছেই বিচার পাইনি। এতদিনে তার দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় এবং জেলা প্রশাসকের নির্দেশে তদন্ত শুরু হওয়ায় আমি বুকে বড় আশা নিয়ে বিচারের আশায় অভিযোগ দিয়েছি। আমি তার বিচার চাই। একই কথা জানিয়ে তার পুত্র হয়রানীর শিকার সোহেল মিয়া (২৫) বলেন, অধ্যক্ষ খলিলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হওয়ার সুবাদে আমার মায়ের দেওয়া অভিযোগের বিষয়েও ইউএনও মহোদয় আমাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। কাজেই এবার আমরা তার বিচার পাব বলে আশা করছি। এ ব্যাপারে অধ্যক্ষ খলিলুর রহমানের সাথে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, সীমাহীন অনিয়ম-দুর্নীতি, জাল-জালিয়াতি ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগে অধ্যক্ষ খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে এমপিওবঞ্চিত ২ নিয়মিত প্রভাষকের লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহবুবের নির্দেশনায় ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবেল মাহমুদ তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছেন। তারই আওতায় গত ৯ জুলাই তদন্ত কর্মকর্তা কলেজ মিলনায়তনে অভিযোগকারীসহ গভর্নিং বডির বর্তমান ও সাবেক সভাপতিসহ কর্মকর্তা এবং শিক্ষক-কর্মচারীসহ স্থানীয় সচেতন মহলের বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

Print Friendly, PDF & Email
এ সংক্রান্ত আরও খবর

সর্বশেষ খবর



অন্যান্য খবর



সম্পাদক-প্রকাশক : রফিকুল ইসলাম আধার
উপদেষ্টা সম্পাদক : সোলায়মান খাঁন মজনু
নির্বাহী সম্পাদক : মোহাম্মদ জুবায়ের রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১ : ফারহানা পারভীন মুন্নী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : আলমগীর কিবরিয়া কামরুল
বার্তা সম্পাদক-১ : রেজাউল করিম বকুল
বার্তা সম্পাদক-২ : মোঃ ফরিদুজ্জামান।
যোগাযোগ : সম্পাদক : ০১৭২০০৭৯৪০৯
নির্বাহী সম্পাদক : ০১৯১২০৪৯৯৪৬
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১: ০১৭১৬৪৬২২৫৫
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : ০১৭১৪২৬১৩৫০
বার্তা সম্পাদক-১ : ০১৭১৩৫৬৪২২৫
বার্তা সম্পাদক -২ : ০১৯২১-৯৫৫৯০৬
বিজ্ঞাপন : ০১৭১২৮৫৩৩০৩
ইমেইল : shamolbangla2013@gmail.com.

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । ওয়েবসাইট তৈরি করেছে- BD iT Zone

error: Content is protected !!