প্রকাশকাল: 10 অক্টোবর, 2018

ঝিনাইগাতীতে সেনা সদস্য’র স্ত্রীর ঝুলন্ত লাশ ॥ হত্যার অভিযোগ পরিবারের

ঝিনাইগাতী (শেরপুর) প্রতিনিধি ॥ শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে তাহমিনা আক্তার শিখা (২০) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ১০ অক্টোবর বুধবার সকালে উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের বাঐবাধা গ্রামে থাকা স্বামী সেনা সদস্য নবী হোসেনের বসতঘর থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়। তবে গৃহবধূর ওই ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় পরিবারের লোকজন অভিযোগ তুলেছেন, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে লাশ ফাসিতে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
জানা যায়, প্রায় ২ বছর আগে ঝিনাইগাতী উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের নলকুড়া গ্রামের নুরুজ্জামানের মেয়ে তাহমিনা আক্তার শিখাকে বিয়ে করে পার্শ্ববর্তী বাঐবাধা গ্রামের আজগর আলীর ছেলে সেনা সদস্য নবী হোসেন। বিয়ের পর থেকেই তাহমিনার উপর চলে আসছিল স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। ওই অবস্থায় বুধবার ভোরে স্বামীর বসতঘরের ধর্ণার সাথে গলায় উড়না পেচানো অবস্থায় তাহমিনার ঝুলন্ত লাশ দেখা যায়। খবর পেয়ে থানা পুলিশ তাহমিনার লাশ উদ্ধার করে। ওইসময় তার নাকে ও মুখে ক্ষতসহ রক্তক্ষরণের চিহ্ন পাওয়া যায়।
তাহমিনার ভাই আবুল কালাম আজাদ অভিযোগ করে বলেন, সেনা সদস্য নবী হোসেন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতিরেকে তাহমিনাকে বিয়ের সময় নানা অজুহাতে বিবাহের রেজিষ্ট্রি করা থেকে বিরত থাকে। আর বিয়ের পর থেকেই শুরু হয় তার উপর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। তাহমিনার পিতা নুরুজ্জামান বলেন, নবী হোসেন ঘটনার রাতে বাড়িতে ছিল এবং তার সাথে অসদাচরণের ঘটনা ঘটেছে বলেও এলাকাবাসী বলছে। তাই তাদের ধারণা, তাহমিনাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে লাশ বসতঘরের ধর্ণায় ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে স্থানীয় একাধিক সূত্রের ধারণা, স্বামী-শ্বশুরবাড়ির লোকজনদের নির্যাতনে বিপর্যস্ত হয়ে তাহমিনা আত্মহত্যা করে থাকতে পারে।
এ ব্যাপারে শেরপুরের সিভিল সার্জন ডাঃ রেজাউল করিম বলেন, ফাসিতে ঝুলে আত্মহত্যার ক্ষেত্রে রক্তক্ষরণ হওয়ার কথা নয়। ময়নাতদন্তেই বিষয়টি পরিস্কার হবে। আর ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিপ্লব কুমার বিশ্বাস বলেন, ঘটনাটিকে প্রাথমিক তদন্তে আত্মহত্যা বলেই মনে হচ্ছে। এজন্য থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্টের উপর নির্ভর করবে পরবর্তী অবস্থা।

আপনার মতামত দিন

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

error: Content is protected !!