প্রকাশকাল: 15 জুলাই, 2019

ঝিনাইগাতীতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ॥ ৪০ গ্রামের অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি

ঝিনাইগাতী (শেরপুর) প্রতিনিধি ॥ টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকায় শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বন্যার পানিতে প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ৪০ গ্রামের প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ। পানির তোড়ে বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট ও ব্রিজ কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এদিকে উপজেলার প্রায় ২০টি বিদ্যালয়ে পানি উঠায় সেগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
জানা যায়, অবিরাম বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে ঝিনাইগাতী উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ/কালভার্ট বিধ্বস্ত হয়েছে। কৃষকদের বীজতলা, পুকুরের মাছ ও শাক-সবজি বাগান পানিতে তলিয়ে ক্ষতি সাধিত হয়েছে। ঢলের পানির তোড়ে রাস্তা-ঘাট বিধ্বস্ত হয়ে অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি প্রবেশ করায় বিদ্যালয়গুলোতে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। গবাদি পশু নিয়ে কৃষকরা পড়েছে বিপাকে। পানিবন্দি এলাকাগুলোতে কোথাও নৌকা, কোথাও কলার ভেলা দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। পানিবন্দি এলাকাগুলোতে দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট। পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশু-কিশোর, বৃদ্ধরা। রবিবার বিকেলে উপজেলার তেঁতুলতলা এলাকায় মাহিম নামে এক বছর বয়সের এক শিশু পানিতে ডুবে মারা গেছে। ফাহিম ওই এলাকার নুর ইসলামের ছেলে। ছুড়িহারা, দিঘিরপাড়, চতল, রামনগর, কালিনগর, দড়িকালিনগর, বালুরচর, বালিয়াচন্ডী, কোণাগাঁও, পাইকুরা, দারিয়ারপাড়, হাসলিগাঁও, জুলগাঁও, দেবোত্তরপাড়া, পাইকুড়া, কামারপাড়া, হাতিবান্ধা, মারুয়াপাড়া, রাঙ্গামাটি, কান্দুলী, শালধা, বেলতৈল, কুচনীপাড়া, বাগেরভিটা, দুপুরীয়া, আয়নাপুর, ধানশাইল, উত্তর ধানশাইল, নয়াপাড়া, উত্তর দারিয়াপাড়, বনগাঁও, মাটিয়াপাড়া, শাড়ী কালিনগর, মাঝাপাাড়া, বনগাঁও, জিগাতলা, কারাগাঁওসহ প্রায় ৪০টি গ্রামের অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। অতি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলের পানির তোড়ে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে রাস্তাঘাট বিধ্বস্ত হয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সরেজমিনে অনুসন্ধান ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের সাথে কথা বলে ওইসব তথ্য জানা গেছে।
কামারপাড়া গ্রামের মৎস্য চাষী সামছুল হক ও জাহাঙ্গীর আলম জানান, তাদের মৎস্য প্রজেক্টের প্রায় ১০ লাখ টাকা মূল্যের মাছ ভেসে গেছে। সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন চাঁন জানান, তার ইউনিয়নের গ্রামগুলোতে পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোফাখখারুল ইসলাম জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি প্রবেশ করায় প্রায় ২০টি বিদ্যালয় বন্ধ রাখা হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির জানান, ৬শ ৭০ হেক্টর জমির বীজতলার মধ্যে ১৫০ হেক্টর জমির বীজতলা ও ৪০ হেক্টর জমির সবজি বাগান পানির নিচে নিমজ্জিত হয়েছে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সিরাজুস সালেহীন জানান, উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ৫ হাজারের অধিক পুকুর রয়েছে। তন্মধ্যে এবার বন্যায় প্রায় ৪ হাজার পুকুর পানিতে তলিয়ে কোটি টাকা মূল্যের মাছ ভেসে গেছে। ফলে মৎস্যচাষীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। মালিঝি নদীর পাগলারমুখ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙ্গে হাতিবান্দা-কামারপাড়ার মধ্যে সড়ক যোগযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বানিয়াপাড়া এলাকায় ব্রিজ বিধ্বস্ত হয়ে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সোমেশ্বরী নদীর পানির তোড়ে বাগেরভিটা, কুচনীপাড়া সড়ক বিধ্বস্ত হয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বাগেরভিটা ব্রিজটি এখন হুমকির সম্মুখীন। মহারশি নদীর পানির তোড়ে পূর্ব দিঘীরপাড় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়লে সোমবার সকালে গ্রামবাসীরা স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে রক্ষা করে। সোমবার উপজেলা চেয়ারম্যান এসএমএ ওয়ারেজ নাইম এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবেল মাহমুদ বিভিন্ন স্থানে বিধ্বস্ত রাস্তা-ঘাট ও পানিবন্দি এলাকাগুলো পরির্দশন করেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রণয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান ইউএনও রুবেল মাহমুদ।

আপনার মতামত দিন

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

error: Content is protected !!