বিকাল ৫:৫৩ | শনিবার | ৪ঠা এপ্রিল, ২০২০ ইং | ২১শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ঝিনাইগাতীতে গভীর নলকুপ স্থাপনের অনুমতি মিললেও মিলছে না বিদ্যুৎ সংযোগ

ঝিনাইগাতী (শেরপুর) প্রতিনিধি ॥ শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় সেচ কমিটির অনুমোদন পেলেও পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় মিলছে না বিদ্যুৎ সংযোগ। বিদ্যুৎ সংযোগ না পাওয়ায় বোরো মৌসুমে জমিতে সেচ দিতে পারছেন না কৃষকেরা। এতে প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমি অনাবাদি থেকে যাবে বলে দাবি করেছেন এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। কৃষি বিভাগ বলছে, উপজেলায় এ মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে। তার মধ্যে প্রায় ৮ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো রোপিত হয়েছে। অন্যদিকে পল্লী বিদ্যুৎ কৃর্তপক্ষ বলছে, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেয়া হচ্ছে বিদ্যুৎ সংযোগ।
জানা যায়, গত বছরের আবেদনসহ চলতি বোরো মৌসুমে প্রায় ১১৫টি সেচ কমিটির কাছে আবেদন জমা দিয়েছিলেন কৃষকেরা। আর এসব আবেদনের পরিপেক্ষিতে বিএডিসির কর্মকর্তাদের তদন্ত প্রতিবেদন দেখে এ উপজেলায় ৮৪টি সেচ কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়। তন্মধ্যে কাংশা ইউনিয়নেই ২৯টি সেচ কমিটির অনুমোদন মেলে। কিন্তু সেচ কমিটির অনুমোদন পেলেও মিলছে না বিদ্যুৎ সংযোগ।
সরেজমিনে গেলে কাংশা ইউনিয়নের কয়েকজন কৃষক জানান, আবেদন করার পর উপজেলা সেচ কমিটির অনুমোদন পাওয়ার পর থেকেই বিদ্যুৎ-সংযোগের জন্য কৃষকরা ধার-দেনা করে কয়েক লক্ষ টাকা খরচ করে গভীর নলকুপ স্থাপন করলেও মাসের পর মাস অপেক্ষা করে মিলছে না তাদের সেচ পাম্পের বিদ্যুৎ সংযোগ। কৃষকদের অভিযোগ, শুধূমাত্র পল্লী বিদ্যুতের গাফিলতির কারনেই মিলছে না তাদের বিদ্যু সংযোগ। সরকার যেখানে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে চাইছে, সেখানে আমাদের পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ আমাদের হয়রানী করছে।
এ ব্যাপারে কৃষি সস্প্রসারণ কর্মকর্তা ফয়জুন নাহার নিপা জানান, এমনিতেই এ উপজেলা পাহাড়ী এলাকা হওয়ায় পানির লেয়ার খুব গভীরে এবং মাটিতে পাথর থাকায় গভীর নলকুপ ছাড়া সেচ কার্যক্রম চালানো কঠিন। তবে যেসব এলাকায় গভীর নলকুপ স্থাপন করা হয়েছে সেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন করা হলে ইরি মৌসুমে আবাদের পরিমাণ বাড়বে। উপজেলায় এবার ইরির লক্ষ্যমাত্রা হলো ১৪ হাজার ৪শ ২৩ হেক্টর জমিতে এর মধ্যে ৮ হাজার ৩ শ হেক্টরের মত আবাদ হয়েছে। এর পরিমাণ বাড়বে এবং আশা করছি আমাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাদশা বলেন, এ মৌসুমে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় কৃষকরা চরম দুর্ভোগে পড়ে যায়। তার মধ্যে পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের গাফিলতির কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ না হওয়ায় শত শত একর জমি অনাবাদি থেকে যাবে। আমি এলাকার জনপ্রতিনিধি হিসেবে সদাশয় সরকার ও সংশ্লিষ্ট বিভাগকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনের অনুরোধ জানাচ্ছি।
তবে এ ব্যাপারে শেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মাশরুল হক খান মুঠোফোনে বলেন, সাদা কাগজে আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে। আমরা ইতোমধ্যে ২০১৮ সালের আবেদনগুলোতে সংযোগ দিয়েছি। পর্যায়ক্রমে ২০১৯ সালের আবেদনগুলো সার্ভে করে দেখে প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হবে। গ্রাহকদের হয়রানী হচ্ছে এবং আবেদন গ্রহণের সময় কোন ধরণের রশিদ প্রদান করা হয়নি বলে তাকে জানালে তিনি জানান, সার্ভে শেষে আমরা আবার ১০০ টাকার ফর্মে আবেদন নেব।

অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ খবর



» শেরপুরে ১০ জনের করোনার নমুনা পরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভ ॥ আরও ৫ জনের নমুনা সংগ্রহ

» জরুরিভিত্তিতে ৮৬০ কোটি টাকা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

» করোনার প্রভাব : বেড়েছে মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহার

» করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত সংবাদমাধ্যমকে ১০০ মিলিয়ন ডলার অনুদানের ঘোষণা ফেসবুকের

» ‘প্যারাসাইট’ নিয়ে ঊর্বশীর ‘টুইট চুরি’

» এখন কাঁদা ছোঁড়াছুড়ির সময় নয় : তাপসী

» আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের সিরিজ স্থগিত

» করোনায় মৃতের সংখ্যা ৫৮ হাজার ছাড়াল

» ১১ এপ্রিল পর্যন্ত গণপরিবহণ বন্ধের সিদ্ধান্ত

» শেরপুরে সামাজিক দূরত্ব না মানায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ২২ হাজার টাকা জরিমানা

» দেশে নতুন আক্রান্তদের মধ্যে রয়েছে ২ শিশু ॥ আইইডিসিআর

» করোনার এ সময়ে খাবারের তালিকায় যেসব পরিবর্তন আনবেন

» ৮ এপ্রিল কোয়ারেন্টাইন শেষ হবে খালেদা জিয়ার

» ভারতে জন্মনো যমজ শিশুর নাম দেওয়া হলো ‘কোভিড’ ও ‘করোনা’

» জার্মানির সবচেয়ে বড় স্টেডিয়াম এখন করোনা চিকিৎসা কেন্দ্র

সম্পাদক-প্রকাশক : রফিকুল ইসলাম আধার
উপদেষ্টা সম্পাদক : সোলায়মান খাঁন মজনু
নির্বাহী সম্পাদক : মোহাম্মদ জুবায়ের রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১ : ফারহানা পারভীন মুন্নী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : আলমগীর কিবরিয়া কামরুল
বার্তা সম্পাদক-১ : রেজাউল করিম বকুল
বার্তা সম্পাদক-২ : মোঃ ফরিদুজ্জামান।
যোগাযোগ : সম্পাদক : ০১৭২০০৭৯৪০৯
নির্বাহী সম্পাদক : ০১৯১২০৪৯৯৪৬
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১: ০১৭১৬৪৬২২৫৫
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : ০১৭১৪২৬১৩৫০
বার্তা সম্পাদক-১ : ০১৭১৩৫৬৪২২৫
বার্তা সম্পাদক -২ : ০১৯২১-৯৫৫৯০৬
বিজ্ঞাপন : ০১৭১২৮৫৩৩০৩
ইমেইল : shamolbangla2013@gmail.com.

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । ওয়েবসাইট তৈরি করেছে- BD iT Zone

  বিকাল ৫:৫৩ | শনিবার | ৪ঠা এপ্রিল, ২০২০ ইং | ২১শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ঝিনাইগাতীতে গভীর নলকুপ স্থাপনের অনুমতি মিললেও মিলছে না বিদ্যুৎ সংযোগ

ঝিনাইগাতী (শেরপুর) প্রতিনিধি ॥ শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় সেচ কমিটির অনুমোদন পেলেও পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় মিলছে না বিদ্যুৎ সংযোগ। বিদ্যুৎ সংযোগ না পাওয়ায় বোরো মৌসুমে জমিতে সেচ দিতে পারছেন না কৃষকেরা। এতে প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমি অনাবাদি থেকে যাবে বলে দাবি করেছেন এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। কৃষি বিভাগ বলছে, উপজেলায় এ মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে। তার মধ্যে প্রায় ৮ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো রোপিত হয়েছে। অন্যদিকে পল্লী বিদ্যুৎ কৃর্তপক্ষ বলছে, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেয়া হচ্ছে বিদ্যুৎ সংযোগ।
জানা যায়, গত বছরের আবেদনসহ চলতি বোরো মৌসুমে প্রায় ১১৫টি সেচ কমিটির কাছে আবেদন জমা দিয়েছিলেন কৃষকেরা। আর এসব আবেদনের পরিপেক্ষিতে বিএডিসির কর্মকর্তাদের তদন্ত প্রতিবেদন দেখে এ উপজেলায় ৮৪টি সেচ কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়। তন্মধ্যে কাংশা ইউনিয়নেই ২৯টি সেচ কমিটির অনুমোদন মেলে। কিন্তু সেচ কমিটির অনুমোদন পেলেও মিলছে না বিদ্যুৎ সংযোগ।
সরেজমিনে গেলে কাংশা ইউনিয়নের কয়েকজন কৃষক জানান, আবেদন করার পর উপজেলা সেচ কমিটির অনুমোদন পাওয়ার পর থেকেই বিদ্যুৎ-সংযোগের জন্য কৃষকরা ধার-দেনা করে কয়েক লক্ষ টাকা খরচ করে গভীর নলকুপ স্থাপন করলেও মাসের পর মাস অপেক্ষা করে মিলছে না তাদের সেচ পাম্পের বিদ্যুৎ সংযোগ। কৃষকদের অভিযোগ, শুধূমাত্র পল্লী বিদ্যুতের গাফিলতির কারনেই মিলছে না তাদের বিদ্যু সংযোগ। সরকার যেখানে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে চাইছে, সেখানে আমাদের পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ আমাদের হয়রানী করছে।
এ ব্যাপারে কৃষি সস্প্রসারণ কর্মকর্তা ফয়জুন নাহার নিপা জানান, এমনিতেই এ উপজেলা পাহাড়ী এলাকা হওয়ায় পানির লেয়ার খুব গভীরে এবং মাটিতে পাথর থাকায় গভীর নলকুপ ছাড়া সেচ কার্যক্রম চালানো কঠিন। তবে যেসব এলাকায় গভীর নলকুপ স্থাপন করা হয়েছে সেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন করা হলে ইরি মৌসুমে আবাদের পরিমাণ বাড়বে। উপজেলায় এবার ইরির লক্ষ্যমাত্রা হলো ১৪ হাজার ৪শ ২৩ হেক্টর জমিতে এর মধ্যে ৮ হাজার ৩ শ হেক্টরের মত আবাদ হয়েছে। এর পরিমাণ বাড়বে এবং আশা করছি আমাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাদশা বলেন, এ মৌসুমে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় কৃষকরা চরম দুর্ভোগে পড়ে যায়। তার মধ্যে পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের গাফিলতির কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ না হওয়ায় শত শত একর জমি অনাবাদি থেকে যাবে। আমি এলাকার জনপ্রতিনিধি হিসেবে সদাশয় সরকার ও সংশ্লিষ্ট বিভাগকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনের অনুরোধ জানাচ্ছি।
তবে এ ব্যাপারে শেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মাশরুল হক খান মুঠোফোনে বলেন, সাদা কাগজে আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে। আমরা ইতোমধ্যে ২০১৮ সালের আবেদনগুলোতে সংযোগ দিয়েছি। পর্যায়ক্রমে ২০১৯ সালের আবেদনগুলো সার্ভে করে দেখে প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হবে। গ্রাহকদের হয়রানী হচ্ছে এবং আবেদন গ্রহণের সময় কোন ধরণের রশিদ প্রদান করা হয়নি বলে তাকে জানালে তিনি জানান, সার্ভে শেষে আমরা আবার ১০০ টাকার ফর্মে আবেদন নেব।

সর্বশেষ খবর



অন্যান্য খবর



সম্পাদক-প্রকাশক : রফিকুল ইসলাম আধার
উপদেষ্টা সম্পাদক : সোলায়মান খাঁন মজনু
নির্বাহী সম্পাদক : মোহাম্মদ জুবায়ের রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১ : ফারহানা পারভীন মুন্নী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : আলমগীর কিবরিয়া কামরুল
বার্তা সম্পাদক-১ : রেজাউল করিম বকুল
বার্তা সম্পাদক-২ : মোঃ ফরিদুজ্জামান।
যোগাযোগ : সম্পাদক : ০১৭২০০৭৯৪০৯
নির্বাহী সম্পাদক : ০১৯১২০৪৯৯৪৬
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১: ০১৭১৬৪৬২২৫৫
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : ০১৭১৪২৬১৩৫০
বার্তা সম্পাদক-১ : ০১৭১৩৫৬৪২২৫
বার্তা সম্পাদক -২ : ০১৯২১-৯৫৫৯০৬
বিজ্ঞাপন : ০১৭১২৮৫৩৩০৩
ইমেইল : shamolbangla2013@gmail.com.

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । ওয়েবসাইট তৈরি করেছে- BD iT Zone

error: Content is protected !!