[bangla_time] | [bangla_day] | [english_date] | [bangla_date]

জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ সড়ক ১০ লেনের সর্বাধুনিক এক্সপ্রেসওয়েতে উন্নীত করার পরিকল্পনা

পিপিপি’তে জিটুজি’র মাধ্যমে অর্থায়নের প্রস্তাব দক্ষিণ কোরিয়ার
দক্ষিণ এশিয়ায় এই প্রথম সর্বাধুনিক এক্সপ্রেসওয়ে

মো. নজরুল ইসলাম, ময়মনসিংহ ॥ মহাসড়কে সর্বাধুনিক নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্য, ব্যয় সাশ্রয়ী ও দ্রুত গতিসম্পন্ন সমন্বিত গণপরিবহন চলাচল নিশ্চিত করাসহ সড়ক নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে স্বপ্নের এক্সপ্রেসওয়ে সড়ক নির্মাণের দিকে ঝুঁকছে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার। এটি বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায় এই প্রথম। দেশে প্রথম পর্যায়ে নির্মিত চারলেন জয়দেবপুর-ময়মনসিংহের ৮৭.১৮ কিলোমিটার সড়কটি এখন এক্সপ্রেসওয়ে ১০ লেনে উন্নীত করে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। ইতিমধ্যেই কোরিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দশ লেন বিশিষ্ট এক্সপ্রেসওয়ে সড়ক নির্মাণে অর্থ যোগান দেয়ার আশ্বাস দিয়েছে। বাংলাদেশ ও কোরিয়ান সরকারের মধ্যে জিটুজি’র ভিত্তিতে পিপিপির মাধ্যমে অর্থায়ন করা হবে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।
এক্সপ্রেসওয়ে সড়ক নির্মাণের লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় তথ্য উপাত্ত্ব বা ডাটা কোরিয়ান কর্তৃপক্ষকে দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও ময়মনসিংহ সফর করে গেছেন। খুব শিগগির কোরিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সরজমিনে ময়মনসিংহ সফর করার কথা রয়েছে। এরপর সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে সমীক্ষা, পরিকল্পণা, ডিজাইন গ্রহনের মাধ্যমে প্রকল্প গ্রহন ও অনুমোদন সাপেক্ষে একনেকে পাস হওয়ার পর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানে কার্যাদেশ দেয়ার পর মূল কার্যক্রম শুরু হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এছাড়াও ঢাকা-চট্রগ্রাম ও ঢাকা সিলেট মহাসড়কও এক্সপ্রেসওয়ে ১০ লেনে উন্নীত করে নির্মাণের পরিকল্পণা রয়েছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের।
টেকসই মহাসড়ক ও নিরাপদ সড়ক পরিবহন গড়ে তোলার লক্ষ্যে আধুনিক এক্সপ্রেসওয়ে বিশেষজ্ঞ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের পিপিপি সেলের তত্ত্ববধায়ক প্রকৌশলী শিশির কুমার রাউত জানান, বর্তমানে বিদ্যমান চারলেন বিশিষ্ট জয়দেবপুর-ময়মনসিংহের ৮৭.১৮ কিলোমিটার সড়কটি এখন এক্সপ্রেসওয়ের মাধ্যমে, ১০ লেনে উন্নীত করে নির্মাণের পরিকল্পণার মধ্যে থাকতে পারে বিদ্যমান চারলেনের পাশাপাশি ১০ ফুট প্রশস্ত দু’পাশে ব্যারিয়ার দিয়ে ইমারজেন্সী/জরুরি লেন যা দিয়ে শুধুমাত্র এ্যাম্বুলেন্স, নিরাপত্তা গাড়ি, ভিআইপিসহ যে কোনো জরুরি প্রয়োজনীয় গাড়ি চলাচল করবে। এরপর আরো প্রায় ১৮ থেকে ২৪ ফুট করে স্বল্প গতি যান চলাচলের জন্য আলাদা দুটি লেন নির্মাণ করা হবে। একপাশে ৫টি সড়ক লেনসহ দু’পাশে মোট দশ লেনের সড়ক নির্মাণের পরিকল্পণা করা হচ্ছে। প্রতি ২/৩ কিলোমিটার পর পর আন্ডারপাস ইউটার্ণ নির্মিত হবে। দুপাশের অন্য সড়ক হতে এক্সপ্রেসওয়ে সড়কে উঠতে ও বের হতে ইন্টারচেঞ্জ ( যা আন্ডার পাস ও ওভার পাস সিস্টেমে কোনো গাড়ি মুখোমূখি হবে না ) থাকবে প্রয়োজনীয় ফ্লাইওভার ।
প্রকৌশলী শিশির কুমার রাউত আরো জানান, সড়কে অত্যাধুনিক ইন্টিলিজেন্ট ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম (আইটিএস) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। সড়কের প্রতিটি ইঞ্চি জায়গা সার্বক্ষণিক মনিটরিং সিস্টেমে আসবে। কোনো দুর্ঘটনা, মাত্রারিরিক্ত গতি বা কোনো ট্রাফিক লংঘণ করলে সাথে সাথেই ব্যবস্থা। রাস্তায় কোনো সমস্যা হলে দূর থেকেই সংকেত দেবে। দুপাশে সর্বাধুনিক দুটি রেস্ট হাউস, শপিং, রেস্তোরা, খাবারের দোকান, গাড়ির তেল ভর্তিরসহ নানা সুবিধার ব্যবস্থা থাকবে। যেহেতু বিদ্যমান মহাসড়কের উভয় পাশে সওজ’র পর্যাপ্ত ভূমি রয়েছে, সেহেতু এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে নতুন করে ভূমি অধিগ্রহণের পরিমান খুবই কম হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
পিপিপি সেলের তত্ত্ববধায়ক প্রকৌশলী শিশির কুমার রাউত আরো জানান, মহাসড়কটি ২০১৬ সালে দু’লেন হতে চার লেনে উন্নীত করা হলেও দ্রুতগতি সম্পন্ন যান্ত্রিক যানবাহনের পাশাপাশি স্বল্প গতিসম্পন্ন যান্ত্রিক ও অযান্ত্রিক যানবাহন চলাচলের কারণে এ মহাসড়কে প্রায়শই মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনা দেখা দেয়। এছাড়া সড়কের উভয় পাশে গড়ে ওঠা হাট-বাজার এবং অসংখ্য সংযোগ সড়ক থাকার কারণে মহাসড়কে যানবাহন কাঙ্খিত গতিতে চলাচল করতে পারে না। ফলে যাত্রি ও পণ্য পরিবহনেও বেশী সময়ের প্রয়োজন হয়।
২০১৭ সালে সরকার কর্তৃক গৃহীত জিটুজি পিপিপি নীতিমালার আওতায় দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে পিপিপি ভিত্তিতে এই এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। পিপিপি ভিত্তিতে এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের লক্ষ্যে শিগরিই একটি প্রস্তাব সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির নীতিগত অনুমোদনের জন্য প্রেরণ করা হবে। নীতিগত অনুমোদন পাওয়া গেলে বিস্তারিত সমীক্ষার আলোকে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।
তত্ত্ববধায়ক প্রকৌশলী শিশির কুমার রাউত জানান, ঢাকা-ময়মনসিংহ জাতীয় মহাসড়ক (এন-৩) দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক করিডোর। ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর, নেত্রকোনাসহ গাজীপুর ও কিশোরগঞ্জ জেলার সাথে সংযোগ প্রদানকারী এই মহাসড়কে যানবাহনের সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই সড়ক করিডোর সংলগ্ন এলাকাসমূহে ব্যাপক শিল্প স্থাপনা গড়ে ওঠায় ভারী যানবাহনের চলাচলও সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া সরকারের গৃহীত পরিকল্পনা অনুসারে গাজীপুর, ময়মনসিংহ, শেরপুর ও জামালপুর জেলায় মোট ১০টি অর্থনৈতিক জোন নির্মিত হচ্ছে। এসব অর্থনৈতিক জোনের কারণেও ভবিষ্যতে এই সড়ক করিডোরে যানবাহন চলাচল উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে। শেরপুর, জামালপুর ও ময়মনসিংহ জেলায় অবস্থিত মোট ৪টি স্থল-বন্দরের মাধ্যমে ভারতের সাথে বাংলাদেশের স্থলপথে বাণিজ্যের কারণেও এই সড়ক করিডোরে যানবাহন ইতোমধ্যে বৃদ্ধি পেয়েছে। ক্রমবর্ধমান যানবাহনের নিরাপদ ও দ্রুত চলাচল নিশ্চিত করার মাধ্যমে যাত্রি ও পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় হ্রাস করার লক্ষ্যে সরকার গাজীপুর হতে ময়মনসিংহ পর্যন্ত ৮৭ কিলোমিটার মহাসড়ক সম্পূর্ণ প্রবেশ-নিয়ন্ত্রিত এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। দ্রুতগতির মোটরযানের অবাধ চলাচলের জন্য আংশিক অথবা সম্পূর্ণ ভূমিতে বা ভূমির উপরে (এলিভেটেড) নির্মিত প্রবেশ নিয়ন্ত্রিত বহু-লেন বিশিষ্ট মহাসড়ককে সাধারণত এক্সপ্রেসওয়ে বলা হয়। উভয়মুখী যানবাহনের নির্বিঘœ চলাচলের সুবিধার্থে এরূপ এক্সপ্রেসওয়ের মাঝামাঝি নিরবচ্ছিন্ন সড়ক বিভাজকের সংস্থান রাখা হয়।
ময়মনসিংহ সড়ক সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোঃ আতাউর রহমান বলেন, জয়দেবপুর-ময়মনসিংহের ৮৭.১৮ কিলোমিটার সড়কটি এখন এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের কথা ভাবছে সরকার। এটি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের লক্ষ্যে গত ২১ অক্টোবর সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের তত্ত্ববধায়ক প্রকৌশলী শিশির কুমার রাউত ও সড়ক ট্রেনিং সেন্টারের তত্ত্ববধায়ক প্রকৌশলী বিকাশ চন্দ্র দাস সরজমিনে ময়মনসিংহ সফর করে গেছেন। কোরিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সরজমিনে সফর করবেন। তারা সম্মত হলে বাকী প্রক্রিয়া এগুবে। এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে।
বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা শম্ভুগঞ্জ গণকণ্যাণ পরিষদ (জিকেপি) নির্বাহী পরিচালক, জিকেপি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও গভর্নিং বডির সভাপতি বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সমাজসেবক ড. মোঃ সিরাজুল ইসলাম বলেন মাদার অব হিউম্যানিটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ময়মনসিংহ বিভাগ, সিটি কর্পোরেশন, শিক্ষারোর্ড ও ব্রহ্মপূত্র নদ খননসহ আরো অনেক উন্নয়নের ডালা নিয়ে ময়মনসিংহ বিভাগের সার্বিক আর্থসামাজিক উন্নয়নে বিশাল অবদান রাখছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া বিশাল উন্নয়নযজ্ঞের পরশে এই বিভাগবাসী আজীবন স্বরণে রাখবেন বলে দৃঢ় বিশ্বাস। জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ সড়কটি এক্সপ্রেসওয়ের মাধ্যমে ১০ লেনে উন্নীত করে নির্মাণ হলে রাজধানীর উত্তরের সমস্ত এলাকায় আর্থসামাজিকভাবে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটবে। এক্সপ্রেসওয়ে সড়ক নির্মাণের পাশাপাশি বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত ডিজিটাল ই-ট্রাফিকিং ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহবান জানান। এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ সম্পন্ন হলে উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণের কাজ আরো ত্বরান্বিত হবে। সমৃদ্ধ বাংলাদেশ নির্মাণের নিরবচ্ছিন্ন কারিগর বিশ্ববন্ধু জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কণ্যা মাদার অব হিউম্যানিটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন ড. মোঃ সিরাজুল ইসলাম ।
ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ নজরুল ইসলাম জানান, গাজীপুর থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত সড়কের দুপাশে শত শত শিল্পকারখানা গড়ে উঠায় এবং গাড়ির সংখ্যা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় ইতিমধ্যেই চারলেনের সড়কটিও তার ধারণ ক্ষমতা অনেকটা হারিয়ে ফেলছে। তাই ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে অবিলম্বে এ´প্রেসওয়ের মতো সময়োপযোগী পরিকল্পণা গ্রহন এবং তা মানসম্মতভাবে দ্রুত বাস্তবায়ন দেখতে চায় ময়মনসিংহ বিভাগবাসী। তাছাড়া নাকুঁগাও ও গোবড়াকুড়া- কড়ইতলী স্থল বন্দরটিও রাজধানী থেকে খুব কাছে। এই দুটি স্থলবন্দর দিয়ে দুদেশের মাঝে আমদানী-রপ্তানীর পরিমাণ বৃদ্ধি করলে উভয় দেশই উপকৃত হবে।

অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ খবর



» শেরপুরে জেলা প্রশাসনের আর্থিক সহায়তা পেল ৩ হতদরিদ্র শিক্ষার্থীসহ ৫ জন

» শেখ ফয়জুর রহমান’র কবিতাগুচ্ছ

» নালিতাবাড়ীতে ১ হাজার পিস ইয়াবাসহ ২ যুবক গ্রেফতার

» দিবা-রাত্রির টেষ্ট ম্যাচ : ‘পিঙ্ক সিটি’তে রুপ নিয়েছে কলকাতা

» যুবলীগের সম্মেলন ২৩ নবেম্বর

» অস্ট্রেলিয়ায় ভয়ানক রূপ ধারণ করেছে দাবানল : ৩ রাজ্যে সর্বোচ্চ সতর্কতা

» আমন মৌসুমে ছয় লাখ টন ধান কিনবে সরকার : কৃষিমন্ত্রী

» পিইসিতে শিশুদের বহিষ্কার কেন অবৈধ নয় জানতে চেয়ে হাইকোর্টের রুল

» ইমার্জিং কাপের ফাইনালে বাংলাদেশ

» শ্রীলঙ্কার অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন মাহিন্দা রাজাপাকসে

» পরিবহন শ্রমিকদের দাবিতে অসঙ্গতি আছে কিনা খতিয়ে দেখা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

» অপপ্রচারে কান না দেওয়ার অনুরোধ প্রধানমন্ত্রীর

» নালিতাবাড়ীতে ইয়াবাসহ ২ সাবেক নারী ইউপি সদস্য গ্রেফতার

» শেরপুরে মেজবান রেঁস্তোরার উদ্বোধন

» রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনে গুগলের কড়াকড়ি

সম্পাদক-প্রকাশক : রফিকুল ইসলাম আধার
উপদেষ্টা সম্পাদক : সোলায়মান খাঁন মজনু
নির্বাহী সম্পাদক : মোহাম্মদ জুবায়ের রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১ : ফারহানা পারভীন মুন্নী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : আলমগীর কিবরিয়া কামরুল
বার্তা সম্পাদক-১ : রেজাউল করিম বকুল
বার্তা সম্পাদক-২ : মোঃ ফরিদুজ্জামান।
যোগাযোগ : সম্পাদক : ০১৭২০০৭৯৪০৯
নির্বাহী সম্পাদক : ০১৯১২০৪৯৯৪৬
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১: ০১৭১৬৪৬২২৫৫
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : ০১৭১৪২৬১৩৫০
বার্তা সম্পাদক-১ : ০১৭১৩৫৬৪২২৫
বার্তা সম্পাদক -২ : ০১৯২১-৯৫৫৯০৬
বিজ্ঞাপন : ০১৭১২৮৫৩৩০৩
ইমেইল : shamolbangla2013@gmail.com.

কারিগরি সহযোগিতায় BD iT Zone

,

জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ সড়ক ১০ লেনের সর্বাধুনিক এক্সপ্রেসওয়েতে উন্নীত করার পরিকল্পনা

পিপিপি’তে জিটুজি’র মাধ্যমে অর্থায়নের প্রস্তাব দক্ষিণ কোরিয়ার
দক্ষিণ এশিয়ায় এই প্রথম সর্বাধুনিক এক্সপ্রেসওয়ে

মো. নজরুল ইসলাম, ময়মনসিংহ ॥ মহাসড়কে সর্বাধুনিক নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্য, ব্যয় সাশ্রয়ী ও দ্রুত গতিসম্পন্ন সমন্বিত গণপরিবহন চলাচল নিশ্চিত করাসহ সড়ক নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে স্বপ্নের এক্সপ্রেসওয়ে সড়ক নির্মাণের দিকে ঝুঁকছে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার। এটি বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায় এই প্রথম। দেশে প্রথম পর্যায়ে নির্মিত চারলেন জয়দেবপুর-ময়মনসিংহের ৮৭.১৮ কিলোমিটার সড়কটি এখন এক্সপ্রেসওয়ে ১০ লেনে উন্নীত করে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। ইতিমধ্যেই কোরিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দশ লেন বিশিষ্ট এক্সপ্রেসওয়ে সড়ক নির্মাণে অর্থ যোগান দেয়ার আশ্বাস দিয়েছে। বাংলাদেশ ও কোরিয়ান সরকারের মধ্যে জিটুজি’র ভিত্তিতে পিপিপির মাধ্যমে অর্থায়ন করা হবে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।
এক্সপ্রেসওয়ে সড়ক নির্মাণের লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় তথ্য উপাত্ত্ব বা ডাটা কোরিয়ান কর্তৃপক্ষকে দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও ময়মনসিংহ সফর করে গেছেন। খুব শিগগির কোরিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সরজমিনে ময়মনসিংহ সফর করার কথা রয়েছে। এরপর সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে সমীক্ষা, পরিকল্পণা, ডিজাইন গ্রহনের মাধ্যমে প্রকল্প গ্রহন ও অনুমোদন সাপেক্ষে একনেকে পাস হওয়ার পর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানে কার্যাদেশ দেয়ার পর মূল কার্যক্রম শুরু হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এছাড়াও ঢাকা-চট্রগ্রাম ও ঢাকা সিলেট মহাসড়কও এক্সপ্রেসওয়ে ১০ লেনে উন্নীত করে নির্মাণের পরিকল্পণা রয়েছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের।
টেকসই মহাসড়ক ও নিরাপদ সড়ক পরিবহন গড়ে তোলার লক্ষ্যে আধুনিক এক্সপ্রেসওয়ে বিশেষজ্ঞ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের পিপিপি সেলের তত্ত্ববধায়ক প্রকৌশলী শিশির কুমার রাউত জানান, বর্তমানে বিদ্যমান চারলেন বিশিষ্ট জয়দেবপুর-ময়মনসিংহের ৮৭.১৮ কিলোমিটার সড়কটি এখন এক্সপ্রেসওয়ের মাধ্যমে, ১০ লেনে উন্নীত করে নির্মাণের পরিকল্পণার মধ্যে থাকতে পারে বিদ্যমান চারলেনের পাশাপাশি ১০ ফুট প্রশস্ত দু’পাশে ব্যারিয়ার দিয়ে ইমারজেন্সী/জরুরি লেন যা দিয়ে শুধুমাত্র এ্যাম্বুলেন্স, নিরাপত্তা গাড়ি, ভিআইপিসহ যে কোনো জরুরি প্রয়োজনীয় গাড়ি চলাচল করবে। এরপর আরো প্রায় ১৮ থেকে ২৪ ফুট করে স্বল্প গতি যান চলাচলের জন্য আলাদা দুটি লেন নির্মাণ করা হবে। একপাশে ৫টি সড়ক লেনসহ দু’পাশে মোট দশ লেনের সড়ক নির্মাণের পরিকল্পণা করা হচ্ছে। প্রতি ২/৩ কিলোমিটার পর পর আন্ডারপাস ইউটার্ণ নির্মিত হবে। দুপাশের অন্য সড়ক হতে এক্সপ্রেসওয়ে সড়কে উঠতে ও বের হতে ইন্টারচেঞ্জ ( যা আন্ডার পাস ও ওভার পাস সিস্টেমে কোনো গাড়ি মুখোমূখি হবে না ) থাকবে প্রয়োজনীয় ফ্লাইওভার ।
প্রকৌশলী শিশির কুমার রাউত আরো জানান, সড়কে অত্যাধুনিক ইন্টিলিজেন্ট ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম (আইটিএস) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। সড়কের প্রতিটি ইঞ্চি জায়গা সার্বক্ষণিক মনিটরিং সিস্টেমে আসবে। কোনো দুর্ঘটনা, মাত্রারিরিক্ত গতি বা কোনো ট্রাফিক লংঘণ করলে সাথে সাথেই ব্যবস্থা। রাস্তায় কোনো সমস্যা হলে দূর থেকেই সংকেত দেবে। দুপাশে সর্বাধুনিক দুটি রেস্ট হাউস, শপিং, রেস্তোরা, খাবারের দোকান, গাড়ির তেল ভর্তিরসহ নানা সুবিধার ব্যবস্থা থাকবে। যেহেতু বিদ্যমান মহাসড়কের উভয় পাশে সওজ’র পর্যাপ্ত ভূমি রয়েছে, সেহেতু এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে নতুন করে ভূমি অধিগ্রহণের পরিমান খুবই কম হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
পিপিপি সেলের তত্ত্ববধায়ক প্রকৌশলী শিশির কুমার রাউত আরো জানান, মহাসড়কটি ২০১৬ সালে দু’লেন হতে চার লেনে উন্নীত করা হলেও দ্রুতগতি সম্পন্ন যান্ত্রিক যানবাহনের পাশাপাশি স্বল্প গতিসম্পন্ন যান্ত্রিক ও অযান্ত্রিক যানবাহন চলাচলের কারণে এ মহাসড়কে প্রায়শই মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনা দেখা দেয়। এছাড়া সড়কের উভয় পাশে গড়ে ওঠা হাট-বাজার এবং অসংখ্য সংযোগ সড়ক থাকার কারণে মহাসড়কে যানবাহন কাঙ্খিত গতিতে চলাচল করতে পারে না। ফলে যাত্রি ও পণ্য পরিবহনেও বেশী সময়ের প্রয়োজন হয়।
২০১৭ সালে সরকার কর্তৃক গৃহীত জিটুজি পিপিপি নীতিমালার আওতায় দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে পিপিপি ভিত্তিতে এই এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। পিপিপি ভিত্তিতে এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের লক্ষ্যে শিগরিই একটি প্রস্তাব সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির নীতিগত অনুমোদনের জন্য প্রেরণ করা হবে। নীতিগত অনুমোদন পাওয়া গেলে বিস্তারিত সমীক্ষার আলোকে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।
তত্ত্ববধায়ক প্রকৌশলী শিশির কুমার রাউত জানান, ঢাকা-ময়মনসিংহ জাতীয় মহাসড়ক (এন-৩) দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক করিডোর। ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর, নেত্রকোনাসহ গাজীপুর ও কিশোরগঞ্জ জেলার সাথে সংযোগ প্রদানকারী এই মহাসড়কে যানবাহনের সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই সড়ক করিডোর সংলগ্ন এলাকাসমূহে ব্যাপক শিল্প স্থাপনা গড়ে ওঠায় ভারী যানবাহনের চলাচলও সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া সরকারের গৃহীত পরিকল্পনা অনুসারে গাজীপুর, ময়মনসিংহ, শেরপুর ও জামালপুর জেলায় মোট ১০টি অর্থনৈতিক জোন নির্মিত হচ্ছে। এসব অর্থনৈতিক জোনের কারণেও ভবিষ্যতে এই সড়ক করিডোরে যানবাহন চলাচল উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে। শেরপুর, জামালপুর ও ময়মনসিংহ জেলায় অবস্থিত মোট ৪টি স্থল-বন্দরের মাধ্যমে ভারতের সাথে বাংলাদেশের স্থলপথে বাণিজ্যের কারণেও এই সড়ক করিডোরে যানবাহন ইতোমধ্যে বৃদ্ধি পেয়েছে। ক্রমবর্ধমান যানবাহনের নিরাপদ ও দ্রুত চলাচল নিশ্চিত করার মাধ্যমে যাত্রি ও পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় হ্রাস করার লক্ষ্যে সরকার গাজীপুর হতে ময়মনসিংহ পর্যন্ত ৮৭ কিলোমিটার মহাসড়ক সম্পূর্ণ প্রবেশ-নিয়ন্ত্রিত এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। দ্রুতগতির মোটরযানের অবাধ চলাচলের জন্য আংশিক অথবা সম্পূর্ণ ভূমিতে বা ভূমির উপরে (এলিভেটেড) নির্মিত প্রবেশ নিয়ন্ত্রিত বহু-লেন বিশিষ্ট মহাসড়ককে সাধারণত এক্সপ্রেসওয়ে বলা হয়। উভয়মুখী যানবাহনের নির্বিঘœ চলাচলের সুবিধার্থে এরূপ এক্সপ্রেসওয়ের মাঝামাঝি নিরবচ্ছিন্ন সড়ক বিভাজকের সংস্থান রাখা হয়।
ময়মনসিংহ সড়ক সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোঃ আতাউর রহমান বলেন, জয়দেবপুর-ময়মনসিংহের ৮৭.১৮ কিলোমিটার সড়কটি এখন এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের কথা ভাবছে সরকার। এটি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের লক্ষ্যে গত ২১ অক্টোবর সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের তত্ত্ববধায়ক প্রকৌশলী শিশির কুমার রাউত ও সড়ক ট্রেনিং সেন্টারের তত্ত্ববধায়ক প্রকৌশলী বিকাশ চন্দ্র দাস সরজমিনে ময়মনসিংহ সফর করে গেছেন। কোরিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সরজমিনে সফর করবেন। তারা সম্মত হলে বাকী প্রক্রিয়া এগুবে। এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে।
বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা শম্ভুগঞ্জ গণকণ্যাণ পরিষদ (জিকেপি) নির্বাহী পরিচালক, জিকেপি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও গভর্নিং বডির সভাপতি বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সমাজসেবক ড. মোঃ সিরাজুল ইসলাম বলেন মাদার অব হিউম্যানিটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ময়মনসিংহ বিভাগ, সিটি কর্পোরেশন, শিক্ষারোর্ড ও ব্রহ্মপূত্র নদ খননসহ আরো অনেক উন্নয়নের ডালা নিয়ে ময়মনসিংহ বিভাগের সার্বিক আর্থসামাজিক উন্নয়নে বিশাল অবদান রাখছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া বিশাল উন্নয়নযজ্ঞের পরশে এই বিভাগবাসী আজীবন স্বরণে রাখবেন বলে দৃঢ় বিশ্বাস। জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ সড়কটি এক্সপ্রেসওয়ের মাধ্যমে ১০ লেনে উন্নীত করে নির্মাণ হলে রাজধানীর উত্তরের সমস্ত এলাকায় আর্থসামাজিকভাবে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটবে। এক্সপ্রেসওয়ে সড়ক নির্মাণের পাশাপাশি বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত ডিজিটাল ই-ট্রাফিকিং ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহবান জানান। এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ সম্পন্ন হলে উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণের কাজ আরো ত্বরান্বিত হবে। সমৃদ্ধ বাংলাদেশ নির্মাণের নিরবচ্ছিন্ন কারিগর বিশ্ববন্ধু জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কণ্যা মাদার অব হিউম্যানিটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন ড. মোঃ সিরাজুল ইসলাম ।
ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ নজরুল ইসলাম জানান, গাজীপুর থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত সড়কের দুপাশে শত শত শিল্পকারখানা গড়ে উঠায় এবং গাড়ির সংখ্যা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় ইতিমধ্যেই চারলেনের সড়কটিও তার ধারণ ক্ষমতা অনেকটা হারিয়ে ফেলছে। তাই ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে অবিলম্বে এ´প্রেসওয়ের মতো সময়োপযোগী পরিকল্পণা গ্রহন এবং তা মানসম্মতভাবে দ্রুত বাস্তবায়ন দেখতে চায় ময়মনসিংহ বিভাগবাসী। তাছাড়া নাকুঁগাও ও গোবড়াকুড়া- কড়ইতলী স্থল বন্দরটিও রাজধানী থেকে খুব কাছে। এই দুটি স্থলবন্দর দিয়ে দুদেশের মাঝে আমদানী-রপ্তানীর পরিমাণ বৃদ্ধি করলে উভয় দেশই উপকৃত হবে।

সর্বশেষ খবর



অন্যান্য খবর



সম্পাদক-প্রকাশক : রফিকুল ইসলাম আধার
উপদেষ্টা সম্পাদক : সোলায়মান খাঁন মজনু
নির্বাহী সম্পাদক : মোহাম্মদ জুবায়ের রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১ : ফারহানা পারভীন মুন্নী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : আলমগীর কিবরিয়া কামরুল
বার্তা সম্পাদক-১ : রেজাউল করিম বকুল
বার্তা সম্পাদক-২ : মোঃ ফরিদুজ্জামান।
যোগাযোগ : সম্পাদক : ০১৭২০০৭৯৪০৯
নির্বাহী সম্পাদক : ০১৯১২০৪৯৯৪৬
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১: ০১৭১৬৪৬২২৫৫
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : ০১৭১৪২৬১৩৫০
বার্তা সম্পাদক-১ : ০১৭১৩৫৬৪২২৫
বার্তা সম্পাদক -২ : ০১৯২১-৯৫৫৯০৬
বিজ্ঞাপন : ০১৭১২৮৫৩৩০৩
ইমেইল : shamolbangla2013@gmail.com.

কারিগরি সহযোগিতায় BD iT Zone

error: Content is protected !!