সকাল ৬:৪৬ | মঙ্গলবার | ২৪শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

জীবন বাঁচানোর বাজেট এটি ॥ সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী

শ্যামলবাংলা ডেস্ক : করোনা থেকে মানুষের জীবন বাঁচাতে এবারের বাজেট করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, মানুষকে রক্ষা করার জন্যই বাজেট। দেশের মানুষকে খাবার দিতে হবে, চাকরিহারাদের চাকরি দিতে হবে, চিকিৎসা দিতে হবে। এবারের বাজেটে আমরা এসব গুরুত্ব দিয়েছি। আর এ কারণে ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট দেয়া হয়েছে। কিছু অসঙ্গতির কথা স্বীকার করে তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়নযোগ্য। আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, এ বাজেট যেভাবে সাজিয়েছি, সেভাবেই বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হব। অর্থমন্ত্রী বলেন, করোনার কারণে দেশে এখন স্বাভাবিক অবস্থা নেই। ফলে স্বাভাবিক নিয়মে বাজেটও তৈরি করা সম্ভব হয়নি। এটি কোন গতানুগতিক বাজেট নয়। চ্যালেঞ্জ সামনে রেখে ক্রান্তিকালীন বাজেট দিতে হয়েছে।
তবে আমাদের প্রত্যাশা হলো করোনা বেশিদিন প্রলম্বিত হবে না। করোনা মোকাবেলায় জীবন বাঁচাতে কাজ করবে স্বাস্থ্য খাত। আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে- আমাদের শেকড় কৃষি খাত। কৃষিকে এমনভাবে সাজানো হবে যাতে এ খাতের ওপর নির্ভর করে অর্থনীতি আলোকিত করতে পারি। তিনি বলেন, আমরা এখনও ভাল অবস্থায় আছি। সবল অর্থনীতি বিবেচনায় বিশ্বে বাংলাদেশ নবম স্থানে রয়েছে। ১২ জুন শুক্রবার বেলা ৩টায় প্রথমবারের মতো ভার্চুয়াল কনফারেন্সের মাধ্যমে বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এসব কথা বলেন। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে অর্থমন্ত্রী এবার ভিডিও কনফারেন্সে আসলেন। ওইসময় প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান ও জ্বালানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই এলাহী চৌধুরী, কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গবর্নর ফজলে কবির, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড. সামসুল আলম, অর্থ বিভাগের সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার, এনবিআর চেয়ারম্যান রহমাতুল মুনিম, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলাম ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে সংযুক্ত ছিলেন।
গণমাধ্যম কর্মীরাও জুম ব্যবহারের মাধ্যমে অর্থমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহণের সুযোগ পান। অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষ আমাদেরকে নিয়ে কিভাবে, কী স্বপ্ন দেখে বাংলাদেশের মানুষ, এগিয়ে যাওয়ার জন্য তাদের যে প্রত্যয় সবকিছু আমরা মূল্যায়ন করেছি। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) কী বলেছে, বিশ্বব্যাংক কী বলেছে এবং আমাদের আরও দাতাগোষ্ঠী যারা আছে, ইকোনমিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক যারা আছেন এবং দেশী-বিদেশী সব থিঙ্ক ট্যাঙ্কের মতামত নিয়ে আমরা ওই বাজেট দাঁড় করাবার চেষ্টা করেছি। মোস্তফা কামাল বলেন, করোনা সঙ্কট উত্তরণে দুটি খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আমরা এগিয়ে যাবে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে স্বাস্থ্য খাত ও অন্যটি হচ্ছে কৃষি।

img-add

তিনি বলেন, এর পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতে অতীত অর্জন একটি বড় বিষয়। অতীতে আমরা যা অর্জন করেছি, তা অস্বাভাবিক। গত ১০ বছরে আমরা বিশ্বের সবার ওপরে আমাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে। শুধু তাই নয়, গত ৫ বছরে আমাদের মাথাপিছু আয় বিশ্বে সেরা। আমাদের সামনে ছিল শুধু ভারত ও চীন। এই অর্জনকে আমরা বিবেচনায় নিয়েছি। করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পরে আমাদেরকে নিয়ে সারাবিশ্ব নতুন করে কী ভাবছে, সেটা বিবেচনায় নিয়েছি। সবার মতামত নিয়ে এবারের বাজেট দেয়া হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, কৃষির কারণে সভ্যতা এগিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথা উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, শেকড়ের সন্ধানে বেরিয়ে পড়। ৫ হাজার বছর আগে থেকে আমাদের সভ্যতা, এগিয়ে যাওয়া, যার মাধ্যমে এগিয়েছি, সেটা হলো কৃষি। কৃষির হাত ধরেই টাইগ্রিস নদীর এপার-ওপার ধরে, নীল নদীর এপার-ওপার ধরে আমরা এগিয়ে গিয়েছি। সভ্যতা এগিয়েছে। কারণ হলো কৃষি। এসব দিক বিবেচনায় নিয়ে করোনা মোকাবেলায় স্বাস্থ্যসেবার পরই গুরুত্ব পাবে কৃষি। আমরাও কৃষি সভ্যতার ওপর নির্ভর করে এগিয়ে যেতে চাই। এ কারণে করোনা মোকাবেলায় স্বাস্থ্যসেবার পরই গুরুত্ব পাবে কৃষি। সেটি আমাদের শেকড়। কৃষিই দেশের অর্থনীতিকে আলোকিত করবে। মেস্তাফা কামাল বলেন, সত্তরের দশকে চাল উৎপাদন ১০ লাখ মেট্রিক টন, এখন যা ৫ গুণ বেড়েছে।
এছাড়া আগামী ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ৮ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, এর আগে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৮ শতাংশ। অর্জন হয়েছে তার চেয়ে বেশি। আশা করি এবারও লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে। করোনা আসার আগে ইতিপূর্বে আইএমএফ বলছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে। সেভাবেই আমাদের ভৌত অবকাঠামো তৈরি করা আছে। সুতরাং আমরা বিশ্বাস করি, ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট আমরা বাস্তবায়ন করতে পারব। তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি প্রজেকশন অনুযায়ী ছিল। বিনিয়োগ জিডিপি অনুপাতে ছিল। পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার সঙ্গে মিল রেখে প্রাক্কলন অনুযায়ী অর্জন করেছি।
মুস্তফা কামাল বলেন, করোনার কারণে যেহেতু স্বাভাবিক পথ আমাদের জন্য ছিল রুদ্ধ, তাই এবার একটু ভিন্ন পথেই আমাদেরকে কাজটি করতে হয়েছে। সেজন্য হয়ত আপনারা দেখবেন, অনেকের কাছে অনেক অসঙ্গতি মনে হবে। কিন্তু উপায় ছিল না আমাদের। অসঙ্গতি হলেও আমাদের কিন্তু উপায় ছিল না। বাজেট না থাকলে কোন অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে নেয়া যায় না। এখন আমাদের দেশের মানুষ মারা যাচ্ছে, অনেকে না খেয়ে কষ্ট পাবে, যারা চাকরি হারিয়েছেন তারা কষ্ট পাবে, যারা রিক্সা শ্রমিক তারা কষ্ট পাবেন। এসব মানুষের কষ্ট দূর করার জন্য প্রধানমন্ত্রী কোন সময় নষ্ট না করে দ্রুত ছুটে আসলেন। আমাদেরকে নির্দেশনা দিলেন যে, আমরা যেন প্রধানমন্ত্রী যেভাবে নির্দেশনা দেন, সেই নির্দেশনা মেনে সবাইকে সহযোগিতা করি। সেই কাজটি আমরা করে যাচ্ছি। অর্থমন্ত্রী তার বক্তব্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। করোনাভাইরাসে যারা মারা গেছেন তাদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান তিনি। যারা আক্রান্ত হয়েছেন তাদের রোগমুক্তি কামনা করেন অর্থমন্ত্রী।
এদিকে, সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, এবারের বাজেটে কৃষি খাতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছি। কারণ কোন না কোনভাবে আমরা সবাই কৃষির সঙ্গে জড়িত। আমরা সবাই কৃষকের সন্তান। তাই এবার কেউ বলেনি গরিব মারার বাজেট। আমরা কাউকে মারার জন্য বাজেট করি না। মানুষকে রক্ষা করার জন্য বাজেট করছি। তিনি বলেন, আমরা ভাল অবস্থায় আছি। সবল অর্থনীতি বিবেচনায় বিশ্বে আমরা নবম। আমাদের ঋণের বোঝা নেই। আমরা দেশের মানুষের জন্য রাজনীতি করি। আমরা দেশের মানুষের জন্য সবকিছু দেব। আমরা ১০০টি বিশেষ জোন করেছি। এখানে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হবে। মহামারী করোনাভাইরাস প্রসঙ্গে মুস্তফা কামাল বলেন, এটা আর বেশি সম্প্রসারণ হবে না। ধীরে ধীরে কমে যাবে।
জীবন বাঁচাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব ॥ অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, এবারের বাজেট মানুষকে রক্ষা করার জন্য। প্রধানমন্ত্রী চিন্তা করেননি, টাকা কোথা থেকে আসবে। আগে টাকা আয় করে খরচের চিন্তা করতে হতো। এবার কিন্তু উল্টোটা করেছি। মানুষকে বাঁচাতে হবে। তাই আয়ের অপেক্ষা না করে খরচের হিসাব করেছি। অর্থমন্ত্রী বলেন, মানুষকে খাবার দিতে হবে। গ্রামীণ অবকাঠামো ঠিক করতে হবে। অর্থ যা-ই লাগবে, ব্যবস্থা করতে হবে। প্রথমে খরচ করব, তারপর আয় করব। আয় অবশ্যই করব। আয়ের জন্য অপেক্ষা না করেই খরচ করেছি। তিনি আরও বলেন, এ যাত্রায় দেশের সব মানুষের সহযোগিতা চাই। সাংবাদিক, অর্থনীতিবিদ, সবাইকে বলতে চাই, সবার প্রতি দায়িত্ব আছে। আল্লাহ বলেছেন, আমি একজন নারী ও একজন পুরুষ থেকে মানুষ তৈরি করেছি। ছোট গোত্রে বিভক্ত করেছি যাতে একে অন্যকে চিনতে পার। দেশের মানুষের দায়িত্ব অন্যদের রক্ষা করা। যে যার জায়গা থেকে সাহায্যের হাত সম্প্রসারণ করবেন এটি চাই। সবার পাশে দাঁড়িয়ে করোনা মোকাবেলা করতে হবে। অন্ধকার মোকাবেলা করে আসুন আলোর পথের যাত্রী হয়।’
বাংলাদেশ গরিব নয় ॥ বাংলাদেশ গরিব নয় বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী। বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনের প্রশ্নোত্তর পর্বে একজন গণমাধ্যমকর্মী প্রশ্ন করার সময় বাংলাদেশকে গরিব দেশ হিসেবে উল্লেখ করায় চটেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এ সময় তিনি আত্ম প্রত্যয়ের সঙ্গে বলেন, বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ এবং এই বিষয়টি সবার-ই মনে রাখা উচিত। আমরা উন্নয়নশীল দেশ। ভারত ও চীন কিন্তু আমাদের কাতারে রয়েছে। তবে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হলেও এখনও দেশের ২০ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করছে। অনেক দেশই বাংলাদেশের চেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে। আমেরিকার অবস্থা তো আমাদের চেয়েও খারাপ। ক্যালিফোর্নিয়ায় কত মানুষ দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাস করছেন, জানেন? আমেরিকা তো গরিব দেশ নয়। আমরাও গরিব দেশ নেই। আমরা উন্নয়নশীল দেশ।
তিনি বলেন, এই ভাইরাসকে মোকাবেলা করতে পারলে, আমরা আলোর পথের দিকে এগিয়ে যেতে পারব। সবাইকে মনে রাখতে হবে, এবারের বাজেট আমরা স্বাভাবিক নিয়মে করতে পারিনি। এটি গতানুগতিক বাজেট নয়। তিনি বলেন, ‘অন্য সময় আমরা আগে আয় করতাম, পরে খরচ করতাম। করোনা আমাদের সেই পুরনো সিস্টেম উল্টে দিয়েছে। করোনা মোকাবেলায় এখন আমরা আগে খরচ করব, পরে আয় করব। আমি আশা করি, করোনার এই দুর্দিন বেশি সময় থাকবে না। তার পরেও যদি করোনাকাল দীর্ঘ হয় সেক্ষেত্রেও আমাদের কাছে পথ খোলা রয়েছে।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জন্য টাকার অভাব হবে না। কিন্তু চিকিৎসার মান বাড়াতে হবে। সেবা বাড়ানো মানে নামে সেবা বাড়ানো নয়। কার্যকরভাবে দ্রুত মান বাড়াতে হবে। অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা হচ্ছে স্বাস্থ্য খাতে সেবা বাড়ানোর জন্য যা কিছু করার দরকার, তা করা হবে। সেবা বাড়ানো মানে নামে সেবা বাড়ানো নয়। ইফেকটিভলি সেবা যতক্ষণ বাড়ানো যাবে এবং সুযোগ থাকে বাড়ানোর, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা কখনও না করব না। একটি মিনিস্ট্রির কাছে ১০ হাজার কোটি টাকা, এটা অনেক টাকা। এটা খরচ করতে অনেক দিন লাগবে। তাদের টাকার অভাব হবে না। এবার যে বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে সেটাতে মূলত মানুষকে রক্ষা করাকেই গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। টাকা কোথা থেকে আসবে সেটা পরে দেখা যাবে। আগে আমরা খরচ করতে চাই। পরে আয় করব।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ব্যাংকের কাছে অনেক টাকা থাকতে হবে, তা নট নেসেসারি (প্রয়োজনীয় নয়)। তিনি আরও বলেন, আমি দায়িত্ব নেয়ার আগে ব্যাংকিং খাত দেখেছি। আমার আগে ব্যাংকের নন-পারফরমিং লোনের পরিমাণ বেশি ছিল। সে কারণে ব্যাংকগুলো মাঝে মধ্যে লক্ষ্য করতাম, তাদের লিকুইডিটির অবস্থা একটু খারাপ হয়ে যেত। ইদানিং কোন ব্যাংকের লিকুইডিটি খারাপ, এ কথা শুনিনি। এখন কেউ বলতে পারবে না, ব্যাংকে গিয়ে টাকা পাইনি, ফিরে আসছে। কোনরকম খারাপ ব্যবহার করেছে গ্রাহকের সঙ্গে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এটা আমার সময় পাইনি।
দেশের সব কৃষক উপকৃত হবেন ॥ প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের সব কৃষক উপকৃত হবেন বলে মন্তব্য করেছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, উপকূলীয় এলাকায় কৃষক যাতে নিজেদের জমিতে ফসল উৎপাদন করতে পারে প্রস্তাবিত বাজেটে সে ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমাদের কৃষি বিজ্ঞানীরা দেশের উপকূলবর্তী এলাকার জন্য কক্সবাজার থেকে শুরু করে সাতক্ষীরা পর্যন্ত এলাকার প্রায় ২০ লাখ হেক্টর জমিতে মাত্র একটি ফসল হতো। এজন্য তারা লবণসহিষ্ণু জাত আবিষ্কার করেছে। আগামী রবি মৌসুমের জন্য প্রস্তুতি চলছে। বিনামূল্যে চাষীদের জন্য উপকরণ হিসেবে আমরা বীজ, সার ও প্রযুক্তি দেব। যাতে কৃষকরা আমফান ও করোনার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবে। কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমানে কোভিড-১৯ মহামারীর ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এর মধ্যেই গতকাল জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপন করতে হয়েছে। বর্তমানে দেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা, স্থবিরতা ও একটা মহামন্দার কথা চিন্তা করতে হচ্ছে। তারপরও আমরা সামনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি। আমাদের ২০২০ থেকে ২০৪১ ভিশন ও এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সামনে নিয়েই বাজেট হয়েছে। গত তিন মাস কোভিডের কারণে অর্থনীতির অনেক ক্ষতি হয়েছে। চলতি অর্থবছরে চলতি আমাদের তেমন অর্জন হয়নি। আগামী অর্থবছরের কার্যক্রম সাধারণত শুরু হয় সেপ্টেম্বরের পর থেকে। আমি বিশ্বাস করি কোভিড আমাদের নিয়ন্ত্রণে আসবে। তখন আমরা আগের অবস্থায় ফিরতে সর্বাত্মক চেষ্টা করব। বাজেট বাস্তবায়নেও কাজ করে যাব। তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রী অবশ্যই একটি বাস্তবধর্মী বাজেট দিয়েছেন। তারপরও যদি কোন ঝড় বা দুর্যোগ আসে সে পরিস্থিতি মোকাবেলা করা যাবে। তারপরও আমাদের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক রাখতে হবে। আমফান ঝড়ে দেশের ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলের জন্য বাজেটে সুনির্দিষ্ট কোন প্রকল্প দেখতে পাইনি- এমন প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী বলেন, উপকূলের বাঁধগুলো কোন কোন এলাকায় এমনভাবে ভেঙ্গে যায় যা দীর্ঘদিনের জন্য পানির নিচে চলে যায়। সেজন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সেনাবাহিনী কাজ করছে। পাশাপাশি পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় তো রয়েছে।
মোবাইল কলরেট কম তাই শুল্ক বাড়ানো হয়েছে ॥ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মোঃ রহমাতুল মুনিম বলেছেন, বর্তমানে কলরেট অনেক কম তাই অপ্রয়োজনীয় কথা বলার প্রবণতা বেড়ে গেছে। তবে কথা বলার প্রবণতা কমানোর জন্য কলরেটে আরও ৫ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়নি। বরং কলরেট কম তাই মাত্র ৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে, যা ব্যয়ের সক্ষমতা মানুষের আছে। অর্থবছরের (২০২০-২১) প্রস্তাবিত বাজেট-উত্তর এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে মোবাইলে খরচ বাড়ানো হলো কেন এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের কাছে প্রশ্ন করা হলে তিনি জবাব না দিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যানকে উত্তর দিতে বলেন। উত্তরে এনবিআরের চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আমাদের একটা সমস্যা হচ্ছে কত শতাংশ বাড়ানো হলে সেটা বিবেচনা না করেই এর বিরোধিতা করা হয়। এক্ষেত্রে মাত্র ৫ শতাংশ শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। এটাতে মানুষের তেমন ক্ষতি হবে না। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে মোবাইল কলরেটের হার এত কম যে অপ্রয়োজনীয় কথা বলার পরিমাণ বেড়ে গেছে। এতে কথা বলতে বলতে ট্রেনের সঙ্গে এ্যাকসিডেন্ট করার ঘটনাও আছে। তবে আমরা কথা বেশি বলাকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য এ শুল্ক বাড়াইনি। বরং কলরেট খুব কম। তাই এক্ষেত্রে মাত্র ৫ শতাংশ শুল্ক বাড়ানো হয়েছে।
এদিকে ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য বাজেটে মোবাইল সিম বা রিম কার্ড ব্যবহারের মাধ্যমে সেবার বিপরীতে সম্পূরক শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন কর হারে মোবাইল সেবার ওপর মূল্য সংযোজন কর (মূসক বা ভ্যাট) ১৫ শতাংশ, সম্পূরক শুল্ক ১৫ শতাংশ ও সারচার্জ ১ শতাংশ হলো। ফলে মোট করভার দাঁড়াবে ৩৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতি ১০০ টাকা রিচার্জে সরকারের কাছে কর হিসাবে যাবে ২৫ টাকার কিছু বেশি। এতদিন তা ২২ টাকার মতো ছিল। ফলে মোবাইল ফোনে কথা বলা, এসএমএস পাঠানো এবং ডাটা ব্যবহারের খরচও বেড়ে যাবে।
ব্যাংক থেকে ঋণ নিলে সমস্যা হবে না ॥ বাজেটে ঘাটতি পূরণে সরকারের লক্ষ্য অনুযায়ী ব্যাংক থেকে ঋণ নিলে কোন সমস্যা হবে না বলে মনে করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গবর্নর ফজলে কবির। অর্থবছরের (২০২০-২১) প্রস্তাবিত বাজেট-উত্তর ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতি পূরণে ব্যাংক খাত থেকে ঋণ হিসাবে ৮৪ হাজার ৯৮৩ কোটি টাকা নেয়ার পরিকল্পনা করেছে সরকার। এটি তেমন কোন প্রভাব ফেলবে না। কারণ চলতি অর্থবছরের ইতোমধ্যে সরকার ব্যাংক খাত থেকে ৭৪ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। কোন সমস্যা হয়নি। চলতি অর্থবছর ৮২ হাজার কোটি টাকা নেয়ার লক্ষ্য ঠিক করেছে। এতেও সমস্যা হবে না। ব্যাংক খাতে বর্তমানে পর্যাপ্ত তারল্য রয়েছে দাবি করে গবর্নর বলেন, গত ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ব্যাংক খাতে ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি নগদ তারল্য উদ্বৃত্ত রয়েছে। এছাড়া রিজার্ভ রয়েছে আরও ৬২ হাজার কোটি টাকা। ফলে ব্যাংক খাতের তারল্য সমস্যা নেই ঋণ নিলে এ খাতের কোন সমস্যা হবে না। কনোরাভাইরাসের প্রার্দুভাবে আর্থিক ক্ষতি মোকাবেলায় সরকারের ঘোষিত প্রণোদনা বাস্তবায়নেও কোন সমস্যা হবে না জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে প্রণোদনা বাস্তবায়নে কেন্দ্রীয় ব্যাংক রি-ফাইন্যান্স হিসাবে পুনর্অর্থায়ন তহবিল গঠন করে ৪০ হাজার কোটি টাকা দেয়া হচ্ছে।
এছাড়া সিআরআর (ব্যাংকগুলোর নগদ জমা সংরক্ষণ) ছাড় দেয়া হয়েছে এতে ১৮ হাজার কোটি টাকাসহ প্রায় ৭২ হাজার কোটি টাকা সহযোগিতা করা হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে এতে করে প্রণোদনা বাস্তবায়নে সমস্যা হবে না। বাজেটে আবগারি শুল্ক বাড়ানোর বিষয়ে গবর্নর বলেন, ১০ লাখ টাকার ওপরে ও এর চেয়ে বেশি যাদের আমানত আছে তাদের আবগারি শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। তবে ১০ লাখ টাকার নিচে যাদের আমানত তাদের শুল্ক বাড়ানো হয়নি। এতে আমানতের কোন সমস্যা হবে না। আগে সঞ্চয়পত্রের কারণে ব্যাংকে আমানতের চাপ কম ছিল তাও এখন আর নেই। বিদেশী বিনিয়োগকারীরা সঙ্কটকালে লভ্যাংশ নিয়ে যাচ্ছে এ বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নেয়া হবে কিনা না জানতে চাইলে গবর্নর বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক লভ্যাংশ নেয়ার বিষয়ে কোন হস্তক্ষেপ করে না। যদি বিক্রি করে নিয়ে যায় তখন দেখে।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে দেশের ৫০তম বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ২০২০-২১ অর্থবছরের এই বাজটের সম্ভাব্য আকার ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা। সে হিসাবে গত ৪৯ বছরের ব্যবধানে দেশের বাজেটের আকার বাড়ছে ৭২২ গুণ। টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় আসা আওয়ামী লীগ সরকারের এটি দ্বাদশ বাজেট। ২০০৯ সালের ১১ জুন দেশের ৩৯তম বাজেট সংসদে উত্থাপন করেছিলেন তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। সেটি ছিল এক লাখ কোটি টাকা ছাড়ানো দেশের প্রথম বাজেট। এবারের বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। ঘাটতির পরিমাণ জিডিপির ৬ শতাংশ। বাজেটে মোট জিডিপির আকার ৩১ লাখ ৭১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। এবারের বাজেটে এনবিআর থেকে আয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। এনবিআরের কর বহির্ভূত রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ১৫ হাজার কোটি টাকা। অনান্য খাত থেকে আয় ধরা হয়েছে ৩৩ হাজার কোটি টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটে প্রবৃদ্ধি নিয়ে দেশবাসীকে আবারও স্বপ্ন দেখিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি করোনা পরিস্থিতির মাঝেও নতুন ২০২০-২১ অর্থবছরের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ২ শতাংশ নির্ধারণ করেছেন। টাকার অঙ্কে যার পরিমাণ হচ্ছে ৩১ লাখ ৭১ হাজার ৮০০ কোটি টাকার। যা সংশোধিত জিডিপির তুলনায় নতুন জিডিপি ৩ লাখ ৬৬ হাজার ১০০ কোটি টাকা বেশি।

Print Friendly, PDF & Email
এ সংক্রান্ত আরও খবর

অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ খবর



» ঝিনাইগাতীতে নির্মাণের ১৩ মাসেই ভেঙে গেল বক্স কালভার্ট

» স্বাস্থ্যসম্মত ও পরিবেশবান্ধব সিটি গড়তে মসিক কাজ করছে ॥ মেয়র টিটু

» বাবার সেবা করতে গিয়ে ফারুকের মেয়ে করোনায় আক্রান্ত

» জেনে নিন ভিটামিন ডি-এর প্রয়োজনীয়তা

» ফারিয়ার নতুন গান ‘এ বাঁধন যাবে না ছিঁড়ে’

» ফ্রিল্যান্সাররা ‘ভার্চুয়াল আইডি কার্ড’ পাচ্ছেন বুধবার থেকে

» জাতীয় দলের নেতৃত্বকে আবারও ‘না’ মুশফিকের

» প্রাথমিকে পড়ুয়ারা পরের ক্লাসে উঠবে একই রোল নিয়ে

» শ্রীবরদীতে তুচ্ছ ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধার ওপর হামলা ॥ দোকান ভাঙচুর

» এক বছর পর মাঠে নামছেন সাকিব

» ময়মনসিংহ বিভাগে করোনায় আক্রান্ত ৭ হাজার ছাড়ালো, মৃত্যু ৮২

» নালিতাবাড়ীতে ইয়াবাসহ যুবক গ্রেফতার

» দেশে করোনায় ২৮ মৃত্যু, শনাক্ত ২৪১৯

» শেরপুরে আরও এলাকায় মেয়র মনোনয়নপ্রত্যাশী আ’লীগ নেতা আধারের গণসংযোগ

» শেরপুর পৌরসভার নির্বাচন ॥ তৃণমূলে গড়ালো আ’লীগের মেয়রপ্রার্থী বাছাই

সম্পাদক-প্রকাশক : রফিকুল ইসলাম আধার
উপদেষ্টা সম্পাদক : সোলায়মান খাঁন মজনু
নির্বাহী সম্পাদক : মোহাম্মদ জুবায়ের রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১ : ফারহানা পারভীন মুন্নী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : আলমগীর কিবরিয়া কামরুল
বার্তা সম্পাদক-১ : রেজাউল করিম বকুল
বার্তা সম্পাদক-২ : মোঃ ফরিদুজ্জামান।
যোগাযোগ : সম্পাদক : ০১৭২০০৭৯৪০৯
নির্বাহী সম্পাদক : ০১৯১২০৪৯৯৪৬
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১: ০১৭১৬৪৬২২৫৫
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : ০১৭১৪২৬১৩৫০
বার্তা সম্পাদক-১ : ০১৭১৩৫৬৪২২৫
বার্তা সম্পাদক -২ : ০১৯২১-৯৫৫৯০৬
বিজ্ঞাপন : ০১৭১২৮৫৩৩০৩
ইমেইল : shamolbangla2013@gmail.com.

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । ওয়েবসাইট তৈরি করেছে- BD iT Zone

  সকাল ৬:৪৬ | মঙ্গলবার | ২৪শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

জীবন বাঁচানোর বাজেট এটি ॥ সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী

শ্যামলবাংলা ডেস্ক : করোনা থেকে মানুষের জীবন বাঁচাতে এবারের বাজেট করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, মানুষকে রক্ষা করার জন্যই বাজেট। দেশের মানুষকে খাবার দিতে হবে, চাকরিহারাদের চাকরি দিতে হবে, চিকিৎসা দিতে হবে। এবারের বাজেটে আমরা এসব গুরুত্ব দিয়েছি। আর এ কারণে ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট দেয়া হয়েছে। কিছু অসঙ্গতির কথা স্বীকার করে তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়নযোগ্য। আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, এ বাজেট যেভাবে সাজিয়েছি, সেভাবেই বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হব। অর্থমন্ত্রী বলেন, করোনার কারণে দেশে এখন স্বাভাবিক অবস্থা নেই। ফলে স্বাভাবিক নিয়মে বাজেটও তৈরি করা সম্ভব হয়নি। এটি কোন গতানুগতিক বাজেট নয়। চ্যালেঞ্জ সামনে রেখে ক্রান্তিকালীন বাজেট দিতে হয়েছে।
তবে আমাদের প্রত্যাশা হলো করোনা বেশিদিন প্রলম্বিত হবে না। করোনা মোকাবেলায় জীবন বাঁচাতে কাজ করবে স্বাস্থ্য খাত। আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে- আমাদের শেকড় কৃষি খাত। কৃষিকে এমনভাবে সাজানো হবে যাতে এ খাতের ওপর নির্ভর করে অর্থনীতি আলোকিত করতে পারি। তিনি বলেন, আমরা এখনও ভাল অবস্থায় আছি। সবল অর্থনীতি বিবেচনায় বিশ্বে বাংলাদেশ নবম স্থানে রয়েছে। ১২ জুন শুক্রবার বেলা ৩টায় প্রথমবারের মতো ভার্চুয়াল কনফারেন্সের মাধ্যমে বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এসব কথা বলেন। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে অর্থমন্ত্রী এবার ভিডিও কনফারেন্সে আসলেন। ওইসময় প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান ও জ্বালানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই এলাহী চৌধুরী, কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গবর্নর ফজলে কবির, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড. সামসুল আলম, অর্থ বিভাগের সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার, এনবিআর চেয়ারম্যান রহমাতুল মুনিম, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলাম ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে সংযুক্ত ছিলেন।
গণমাধ্যম কর্মীরাও জুম ব্যবহারের মাধ্যমে অর্থমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহণের সুযোগ পান। অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষ আমাদেরকে নিয়ে কিভাবে, কী স্বপ্ন দেখে বাংলাদেশের মানুষ, এগিয়ে যাওয়ার জন্য তাদের যে প্রত্যয় সবকিছু আমরা মূল্যায়ন করেছি। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) কী বলেছে, বিশ্বব্যাংক কী বলেছে এবং আমাদের আরও দাতাগোষ্ঠী যারা আছে, ইকোনমিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক যারা আছেন এবং দেশী-বিদেশী সব থিঙ্ক ট্যাঙ্কের মতামত নিয়ে আমরা ওই বাজেট দাঁড় করাবার চেষ্টা করেছি। মোস্তফা কামাল বলেন, করোনা সঙ্কট উত্তরণে দুটি খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আমরা এগিয়ে যাবে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে স্বাস্থ্য খাত ও অন্যটি হচ্ছে কৃষি।

img-add

তিনি বলেন, এর পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতে অতীত অর্জন একটি বড় বিষয়। অতীতে আমরা যা অর্জন করেছি, তা অস্বাভাবিক। গত ১০ বছরে আমরা বিশ্বের সবার ওপরে আমাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে। শুধু তাই নয়, গত ৫ বছরে আমাদের মাথাপিছু আয় বিশ্বে সেরা। আমাদের সামনে ছিল শুধু ভারত ও চীন। এই অর্জনকে আমরা বিবেচনায় নিয়েছি। করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পরে আমাদেরকে নিয়ে সারাবিশ্ব নতুন করে কী ভাবছে, সেটা বিবেচনায় নিয়েছি। সবার মতামত নিয়ে এবারের বাজেট দেয়া হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, কৃষির কারণে সভ্যতা এগিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথা উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, শেকড়ের সন্ধানে বেরিয়ে পড়। ৫ হাজার বছর আগে থেকে আমাদের সভ্যতা, এগিয়ে যাওয়া, যার মাধ্যমে এগিয়েছি, সেটা হলো কৃষি। কৃষির হাত ধরেই টাইগ্রিস নদীর এপার-ওপার ধরে, নীল নদীর এপার-ওপার ধরে আমরা এগিয়ে গিয়েছি। সভ্যতা এগিয়েছে। কারণ হলো কৃষি। এসব দিক বিবেচনায় নিয়ে করোনা মোকাবেলায় স্বাস্থ্যসেবার পরই গুরুত্ব পাবে কৃষি। আমরাও কৃষি সভ্যতার ওপর নির্ভর করে এগিয়ে যেতে চাই। এ কারণে করোনা মোকাবেলায় স্বাস্থ্যসেবার পরই গুরুত্ব পাবে কৃষি। সেটি আমাদের শেকড়। কৃষিই দেশের অর্থনীতিকে আলোকিত করবে। মেস্তাফা কামাল বলেন, সত্তরের দশকে চাল উৎপাদন ১০ লাখ মেট্রিক টন, এখন যা ৫ গুণ বেড়েছে।
এছাড়া আগামী ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ৮ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, এর আগে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৮ শতাংশ। অর্জন হয়েছে তার চেয়ে বেশি। আশা করি এবারও লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে। করোনা আসার আগে ইতিপূর্বে আইএমএফ বলছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে। সেভাবেই আমাদের ভৌত অবকাঠামো তৈরি করা আছে। সুতরাং আমরা বিশ্বাস করি, ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট আমরা বাস্তবায়ন করতে পারব। তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি প্রজেকশন অনুযায়ী ছিল। বিনিয়োগ জিডিপি অনুপাতে ছিল। পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার সঙ্গে মিল রেখে প্রাক্কলন অনুযায়ী অর্জন করেছি।
মুস্তফা কামাল বলেন, করোনার কারণে যেহেতু স্বাভাবিক পথ আমাদের জন্য ছিল রুদ্ধ, তাই এবার একটু ভিন্ন পথেই আমাদেরকে কাজটি করতে হয়েছে। সেজন্য হয়ত আপনারা দেখবেন, অনেকের কাছে অনেক অসঙ্গতি মনে হবে। কিন্তু উপায় ছিল না আমাদের। অসঙ্গতি হলেও আমাদের কিন্তু উপায় ছিল না। বাজেট না থাকলে কোন অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে নেয়া যায় না। এখন আমাদের দেশের মানুষ মারা যাচ্ছে, অনেকে না খেয়ে কষ্ট পাবে, যারা চাকরি হারিয়েছেন তারা কষ্ট পাবে, যারা রিক্সা শ্রমিক তারা কষ্ট পাবেন। এসব মানুষের কষ্ট দূর করার জন্য প্রধানমন্ত্রী কোন সময় নষ্ট না করে দ্রুত ছুটে আসলেন। আমাদেরকে নির্দেশনা দিলেন যে, আমরা যেন প্রধানমন্ত্রী যেভাবে নির্দেশনা দেন, সেই নির্দেশনা মেনে সবাইকে সহযোগিতা করি। সেই কাজটি আমরা করে যাচ্ছি। অর্থমন্ত্রী তার বক্তব্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। করোনাভাইরাসে যারা মারা গেছেন তাদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান তিনি। যারা আক্রান্ত হয়েছেন তাদের রোগমুক্তি কামনা করেন অর্থমন্ত্রী।
এদিকে, সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, এবারের বাজেটে কৃষি খাতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছি। কারণ কোন না কোনভাবে আমরা সবাই কৃষির সঙ্গে জড়িত। আমরা সবাই কৃষকের সন্তান। তাই এবার কেউ বলেনি গরিব মারার বাজেট। আমরা কাউকে মারার জন্য বাজেট করি না। মানুষকে রক্ষা করার জন্য বাজেট করছি। তিনি বলেন, আমরা ভাল অবস্থায় আছি। সবল অর্থনীতি বিবেচনায় বিশ্বে আমরা নবম। আমাদের ঋণের বোঝা নেই। আমরা দেশের মানুষের জন্য রাজনীতি করি। আমরা দেশের মানুষের জন্য সবকিছু দেব। আমরা ১০০টি বিশেষ জোন করেছি। এখানে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হবে। মহামারী করোনাভাইরাস প্রসঙ্গে মুস্তফা কামাল বলেন, এটা আর বেশি সম্প্রসারণ হবে না। ধীরে ধীরে কমে যাবে।
জীবন বাঁচাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব ॥ অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, এবারের বাজেট মানুষকে রক্ষা করার জন্য। প্রধানমন্ত্রী চিন্তা করেননি, টাকা কোথা থেকে আসবে। আগে টাকা আয় করে খরচের চিন্তা করতে হতো। এবার কিন্তু উল্টোটা করেছি। মানুষকে বাঁচাতে হবে। তাই আয়ের অপেক্ষা না করে খরচের হিসাব করেছি। অর্থমন্ত্রী বলেন, মানুষকে খাবার দিতে হবে। গ্রামীণ অবকাঠামো ঠিক করতে হবে। অর্থ যা-ই লাগবে, ব্যবস্থা করতে হবে। প্রথমে খরচ করব, তারপর আয় করব। আয় অবশ্যই করব। আয়ের জন্য অপেক্ষা না করেই খরচ করেছি। তিনি আরও বলেন, এ যাত্রায় দেশের সব মানুষের সহযোগিতা চাই। সাংবাদিক, অর্থনীতিবিদ, সবাইকে বলতে চাই, সবার প্রতি দায়িত্ব আছে। আল্লাহ বলেছেন, আমি একজন নারী ও একজন পুরুষ থেকে মানুষ তৈরি করেছি। ছোট গোত্রে বিভক্ত করেছি যাতে একে অন্যকে চিনতে পার। দেশের মানুষের দায়িত্ব অন্যদের রক্ষা করা। যে যার জায়গা থেকে সাহায্যের হাত সম্প্রসারণ করবেন এটি চাই। সবার পাশে দাঁড়িয়ে করোনা মোকাবেলা করতে হবে। অন্ধকার মোকাবেলা করে আসুন আলোর পথের যাত্রী হয়।’
বাংলাদেশ গরিব নয় ॥ বাংলাদেশ গরিব নয় বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী। বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনের প্রশ্নোত্তর পর্বে একজন গণমাধ্যমকর্মী প্রশ্ন করার সময় বাংলাদেশকে গরিব দেশ হিসেবে উল্লেখ করায় চটেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এ সময় তিনি আত্ম প্রত্যয়ের সঙ্গে বলেন, বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ এবং এই বিষয়টি সবার-ই মনে রাখা উচিত। আমরা উন্নয়নশীল দেশ। ভারত ও চীন কিন্তু আমাদের কাতারে রয়েছে। তবে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হলেও এখনও দেশের ২০ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করছে। অনেক দেশই বাংলাদেশের চেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে। আমেরিকার অবস্থা তো আমাদের চেয়েও খারাপ। ক্যালিফোর্নিয়ায় কত মানুষ দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাস করছেন, জানেন? আমেরিকা তো গরিব দেশ নয়। আমরাও গরিব দেশ নেই। আমরা উন্নয়নশীল দেশ।
তিনি বলেন, এই ভাইরাসকে মোকাবেলা করতে পারলে, আমরা আলোর পথের দিকে এগিয়ে যেতে পারব। সবাইকে মনে রাখতে হবে, এবারের বাজেট আমরা স্বাভাবিক নিয়মে করতে পারিনি। এটি গতানুগতিক বাজেট নয়। তিনি বলেন, ‘অন্য সময় আমরা আগে আয় করতাম, পরে খরচ করতাম। করোনা আমাদের সেই পুরনো সিস্টেম উল্টে দিয়েছে। করোনা মোকাবেলায় এখন আমরা আগে খরচ করব, পরে আয় করব। আমি আশা করি, করোনার এই দুর্দিন বেশি সময় থাকবে না। তার পরেও যদি করোনাকাল দীর্ঘ হয় সেক্ষেত্রেও আমাদের কাছে পথ খোলা রয়েছে।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জন্য টাকার অভাব হবে না। কিন্তু চিকিৎসার মান বাড়াতে হবে। সেবা বাড়ানো মানে নামে সেবা বাড়ানো নয়। কার্যকরভাবে দ্রুত মান বাড়াতে হবে। অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা হচ্ছে স্বাস্থ্য খাতে সেবা বাড়ানোর জন্য যা কিছু করার দরকার, তা করা হবে। সেবা বাড়ানো মানে নামে সেবা বাড়ানো নয়। ইফেকটিভলি সেবা যতক্ষণ বাড়ানো যাবে এবং সুযোগ থাকে বাড়ানোর, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা কখনও না করব না। একটি মিনিস্ট্রির কাছে ১০ হাজার কোটি টাকা, এটা অনেক টাকা। এটা খরচ করতে অনেক দিন লাগবে। তাদের টাকার অভাব হবে না। এবার যে বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে সেটাতে মূলত মানুষকে রক্ষা করাকেই গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। টাকা কোথা থেকে আসবে সেটা পরে দেখা যাবে। আগে আমরা খরচ করতে চাই। পরে আয় করব।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ব্যাংকের কাছে অনেক টাকা থাকতে হবে, তা নট নেসেসারি (প্রয়োজনীয় নয়)। তিনি আরও বলেন, আমি দায়িত্ব নেয়ার আগে ব্যাংকিং খাত দেখেছি। আমার আগে ব্যাংকের নন-পারফরমিং লোনের পরিমাণ বেশি ছিল। সে কারণে ব্যাংকগুলো মাঝে মধ্যে লক্ষ্য করতাম, তাদের লিকুইডিটির অবস্থা একটু খারাপ হয়ে যেত। ইদানিং কোন ব্যাংকের লিকুইডিটি খারাপ, এ কথা শুনিনি। এখন কেউ বলতে পারবে না, ব্যাংকে গিয়ে টাকা পাইনি, ফিরে আসছে। কোনরকম খারাপ ব্যবহার করেছে গ্রাহকের সঙ্গে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এটা আমার সময় পাইনি।
দেশের সব কৃষক উপকৃত হবেন ॥ প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের সব কৃষক উপকৃত হবেন বলে মন্তব্য করেছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, উপকূলীয় এলাকায় কৃষক যাতে নিজেদের জমিতে ফসল উৎপাদন করতে পারে প্রস্তাবিত বাজেটে সে ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমাদের কৃষি বিজ্ঞানীরা দেশের উপকূলবর্তী এলাকার জন্য কক্সবাজার থেকে শুরু করে সাতক্ষীরা পর্যন্ত এলাকার প্রায় ২০ লাখ হেক্টর জমিতে মাত্র একটি ফসল হতো। এজন্য তারা লবণসহিষ্ণু জাত আবিষ্কার করেছে। আগামী রবি মৌসুমের জন্য প্রস্তুতি চলছে। বিনামূল্যে চাষীদের জন্য উপকরণ হিসেবে আমরা বীজ, সার ও প্রযুক্তি দেব। যাতে কৃষকরা আমফান ও করোনার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবে। কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমানে কোভিড-১৯ মহামারীর ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এর মধ্যেই গতকাল জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপন করতে হয়েছে। বর্তমানে দেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা, স্থবিরতা ও একটা মহামন্দার কথা চিন্তা করতে হচ্ছে। তারপরও আমরা সামনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি। আমাদের ২০২০ থেকে ২০৪১ ভিশন ও এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সামনে নিয়েই বাজেট হয়েছে। গত তিন মাস কোভিডের কারণে অর্থনীতির অনেক ক্ষতি হয়েছে। চলতি অর্থবছরে চলতি আমাদের তেমন অর্জন হয়নি। আগামী অর্থবছরের কার্যক্রম সাধারণত শুরু হয় সেপ্টেম্বরের পর থেকে। আমি বিশ্বাস করি কোভিড আমাদের নিয়ন্ত্রণে আসবে। তখন আমরা আগের অবস্থায় ফিরতে সর্বাত্মক চেষ্টা করব। বাজেট বাস্তবায়নেও কাজ করে যাব। তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রী অবশ্যই একটি বাস্তবধর্মী বাজেট দিয়েছেন। তারপরও যদি কোন ঝড় বা দুর্যোগ আসে সে পরিস্থিতি মোকাবেলা করা যাবে। তারপরও আমাদের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক রাখতে হবে। আমফান ঝড়ে দেশের ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলের জন্য বাজেটে সুনির্দিষ্ট কোন প্রকল্প দেখতে পাইনি- এমন প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী বলেন, উপকূলের বাঁধগুলো কোন কোন এলাকায় এমনভাবে ভেঙ্গে যায় যা দীর্ঘদিনের জন্য পানির নিচে চলে যায়। সেজন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সেনাবাহিনী কাজ করছে। পাশাপাশি পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় তো রয়েছে।
মোবাইল কলরেট কম তাই শুল্ক বাড়ানো হয়েছে ॥ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মোঃ রহমাতুল মুনিম বলেছেন, বর্তমানে কলরেট অনেক কম তাই অপ্রয়োজনীয় কথা বলার প্রবণতা বেড়ে গেছে। তবে কথা বলার প্রবণতা কমানোর জন্য কলরেটে আরও ৫ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়নি। বরং কলরেট কম তাই মাত্র ৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে, যা ব্যয়ের সক্ষমতা মানুষের আছে। অর্থবছরের (২০২০-২১) প্রস্তাবিত বাজেট-উত্তর এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে মোবাইলে খরচ বাড়ানো হলো কেন এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের কাছে প্রশ্ন করা হলে তিনি জবাব না দিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যানকে উত্তর দিতে বলেন। উত্তরে এনবিআরের চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আমাদের একটা সমস্যা হচ্ছে কত শতাংশ বাড়ানো হলে সেটা বিবেচনা না করেই এর বিরোধিতা করা হয়। এক্ষেত্রে মাত্র ৫ শতাংশ শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। এটাতে মানুষের তেমন ক্ষতি হবে না। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে মোবাইল কলরেটের হার এত কম যে অপ্রয়োজনীয় কথা বলার পরিমাণ বেড়ে গেছে। এতে কথা বলতে বলতে ট্রেনের সঙ্গে এ্যাকসিডেন্ট করার ঘটনাও আছে। তবে আমরা কথা বেশি বলাকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য এ শুল্ক বাড়াইনি। বরং কলরেট খুব কম। তাই এক্ষেত্রে মাত্র ৫ শতাংশ শুল্ক বাড়ানো হয়েছে।
এদিকে ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য বাজেটে মোবাইল সিম বা রিম কার্ড ব্যবহারের মাধ্যমে সেবার বিপরীতে সম্পূরক শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন কর হারে মোবাইল সেবার ওপর মূল্য সংযোজন কর (মূসক বা ভ্যাট) ১৫ শতাংশ, সম্পূরক শুল্ক ১৫ শতাংশ ও সারচার্জ ১ শতাংশ হলো। ফলে মোট করভার দাঁড়াবে ৩৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতি ১০০ টাকা রিচার্জে সরকারের কাছে কর হিসাবে যাবে ২৫ টাকার কিছু বেশি। এতদিন তা ২২ টাকার মতো ছিল। ফলে মোবাইল ফোনে কথা বলা, এসএমএস পাঠানো এবং ডাটা ব্যবহারের খরচও বেড়ে যাবে।
ব্যাংক থেকে ঋণ নিলে সমস্যা হবে না ॥ বাজেটে ঘাটতি পূরণে সরকারের লক্ষ্য অনুযায়ী ব্যাংক থেকে ঋণ নিলে কোন সমস্যা হবে না বলে মনে করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গবর্নর ফজলে কবির। অর্থবছরের (২০২০-২১) প্রস্তাবিত বাজেট-উত্তর ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতি পূরণে ব্যাংক খাত থেকে ঋণ হিসাবে ৮৪ হাজার ৯৮৩ কোটি টাকা নেয়ার পরিকল্পনা করেছে সরকার। এটি তেমন কোন প্রভাব ফেলবে না। কারণ চলতি অর্থবছরের ইতোমধ্যে সরকার ব্যাংক খাত থেকে ৭৪ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। কোন সমস্যা হয়নি। চলতি অর্থবছর ৮২ হাজার কোটি টাকা নেয়ার লক্ষ্য ঠিক করেছে। এতেও সমস্যা হবে না। ব্যাংক খাতে বর্তমানে পর্যাপ্ত তারল্য রয়েছে দাবি করে গবর্নর বলেন, গত ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ব্যাংক খাতে ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি নগদ তারল্য উদ্বৃত্ত রয়েছে। এছাড়া রিজার্ভ রয়েছে আরও ৬২ হাজার কোটি টাকা। ফলে ব্যাংক খাতের তারল্য সমস্যা নেই ঋণ নিলে এ খাতের কোন সমস্যা হবে না। কনোরাভাইরাসের প্রার্দুভাবে আর্থিক ক্ষতি মোকাবেলায় সরকারের ঘোষিত প্রণোদনা বাস্তবায়নেও কোন সমস্যা হবে না জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে প্রণোদনা বাস্তবায়নে কেন্দ্রীয় ব্যাংক রি-ফাইন্যান্স হিসাবে পুনর্অর্থায়ন তহবিল গঠন করে ৪০ হাজার কোটি টাকা দেয়া হচ্ছে।
এছাড়া সিআরআর (ব্যাংকগুলোর নগদ জমা সংরক্ষণ) ছাড় দেয়া হয়েছে এতে ১৮ হাজার কোটি টাকাসহ প্রায় ৭২ হাজার কোটি টাকা সহযোগিতা করা হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে এতে করে প্রণোদনা বাস্তবায়নে সমস্যা হবে না। বাজেটে আবগারি শুল্ক বাড়ানোর বিষয়ে গবর্নর বলেন, ১০ লাখ টাকার ওপরে ও এর চেয়ে বেশি যাদের আমানত আছে তাদের আবগারি শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। তবে ১০ লাখ টাকার নিচে যাদের আমানত তাদের শুল্ক বাড়ানো হয়নি। এতে আমানতের কোন সমস্যা হবে না। আগে সঞ্চয়পত্রের কারণে ব্যাংকে আমানতের চাপ কম ছিল তাও এখন আর নেই। বিদেশী বিনিয়োগকারীরা সঙ্কটকালে লভ্যাংশ নিয়ে যাচ্ছে এ বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নেয়া হবে কিনা না জানতে চাইলে গবর্নর বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক লভ্যাংশ নেয়ার বিষয়ে কোন হস্তক্ষেপ করে না। যদি বিক্রি করে নিয়ে যায় তখন দেখে।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে দেশের ৫০তম বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ২০২০-২১ অর্থবছরের এই বাজটের সম্ভাব্য আকার ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা। সে হিসাবে গত ৪৯ বছরের ব্যবধানে দেশের বাজেটের আকার বাড়ছে ৭২২ গুণ। টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় আসা আওয়ামী লীগ সরকারের এটি দ্বাদশ বাজেট। ২০০৯ সালের ১১ জুন দেশের ৩৯তম বাজেট সংসদে উত্থাপন করেছিলেন তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। সেটি ছিল এক লাখ কোটি টাকা ছাড়ানো দেশের প্রথম বাজেট। এবারের বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। ঘাটতির পরিমাণ জিডিপির ৬ শতাংশ। বাজেটে মোট জিডিপির আকার ৩১ লাখ ৭১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। এবারের বাজেটে এনবিআর থেকে আয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। এনবিআরের কর বহির্ভূত রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ১৫ হাজার কোটি টাকা। অনান্য খাত থেকে আয় ধরা হয়েছে ৩৩ হাজার কোটি টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটে প্রবৃদ্ধি নিয়ে দেশবাসীকে আবারও স্বপ্ন দেখিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি করোনা পরিস্থিতির মাঝেও নতুন ২০২০-২১ অর্থবছরের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ২ শতাংশ নির্ধারণ করেছেন। টাকার অঙ্কে যার পরিমাণ হচ্ছে ৩১ লাখ ৭১ হাজার ৮০০ কোটি টাকার। যা সংশোধিত জিডিপির তুলনায় নতুন জিডিপি ৩ লাখ ৬৬ হাজার ১০০ কোটি টাকা বেশি।

Print Friendly, PDF & Email
এ সংক্রান্ত আরও খবর

সর্বশেষ খবর



অন্যান্য খবর



সম্পাদক-প্রকাশক : রফিকুল ইসলাম আধার
উপদেষ্টা সম্পাদক : সোলায়মান খাঁন মজনু
নির্বাহী সম্পাদক : মোহাম্মদ জুবায়ের রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১ : ফারহানা পারভীন মুন্নী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : আলমগীর কিবরিয়া কামরুল
বার্তা সম্পাদক-১ : রেজাউল করিম বকুল
বার্তা সম্পাদক-২ : মোঃ ফরিদুজ্জামান।
যোগাযোগ : সম্পাদক : ০১৭২০০৭৯৪০৯
নির্বাহী সম্পাদক : ০১৯১২০৪৯৯৪৬
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১: ০১৭১৬৪৬২২৫৫
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : ০১৭১৪২৬১৩৫০
বার্তা সম্পাদক-১ : ০১৭১৩৫৬৪২২৫
বার্তা সম্পাদক -২ : ০১৯২১-৯৫৫৯০৬
বিজ্ঞাপন : ০১৭১২৮৫৩৩০৩
ইমেইল : shamolbangla2013@gmail.com.

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । ওয়েবসাইট তৈরি করেছে- BD iT Zone

error: Content is protected !!