রাত ১১:২৭ | মঙ্গলবার | ২৬শে মে, ২০২০ ইং | ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ঘরে অবস্থান ও সামাজিক দূরত্বই হোক করোনায় রক্ষাকবচ ॥ রফিকুল ইসলাম আধার

‘শেরপুরে ২৪ ঘন্টায় ২ চিকিৎসক ও পুলিশ কর্মকর্তাসহ ৬ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত’- গত ১৭ এপ্রিলের এমন খবর শেরপুরে করোনা ভাইরাসজনিত পরিস্থিতিতে আতঙ্কের মাত্রা আরও একধাপ বাড়িয়ে দেয়। কারণ সেদিন পর্যন্ত জেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে কোন প্রাণহানির ঘটনা না ঘটলেও, একদিনে সর্বোচ্চ ওই আক্রান্তের মধ্যেই রয়েছেন ২ চিকিৎসকসহ ৪ জন (নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ২ চিকিৎসক, সিভিল সার্জন অফিসের এক এমএলএসএস ও জেলা সদর হাসপাতালের এক এ্যাম্বুল্যান্স চালক) এবং সেদিন পর্যন্ত জেলায় মোট আক্রান্ত ১৫ জনের মধ্যে কেবল স্বাস্থ্য বিভাগেরই ৮ জন। এছাড়া একই সাথে নতুন করে যোগ হয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর এক কর্মকর্তা। অর্থাৎ মোট আক্রান্তের বেশিরভাগই স্বস্থ্য বিভাগের লোক। সঙ্গত কারণে আক্রান্তের ওই ফলাফল পাওয়ার পর পরই জেলা সদর হাসপাতাল ও নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্যক্রম লকডাউনের আদলে স্থগিত করা হয়। প্রায় একই পর্যায়ে পৌঁছে ঝিনাইগাতী থানার কার্যক্রমও। সেইসাথে ২ হাসপাতালসহ ওই থানার দায়িত্ব পালনকারী অধিকাংশ জনবলকে পাঠানো হয় কোয়ারেন্টিনে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড় উঠলে পরে অবশ্য জীবাণুমুক্তকরণ সাপেক্ষে ২টি হাসপাতালে জরুরী সেবা এবং থানায় জেলা সদর থেকে নতুন জনবল নিয়ে কার্যক্রম সচল করা হয়। সুতরাং ওই অবস্থায় জেলায় খোদ নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকন্ঠার পাশাপাশি আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়াটাই স্বাভাবিক।
বলাবাহুল্য পৃথিবীর ঘূর্ণায়মান গতিতে একবিংশ শতাব্দীর রজতজয়ন্তীর দিকে এগিয়ে যাওয়া পরিবর্তনশীল আধুনিক বিশ্বের এই সময়ে সর্বাধিক আলোচিত, উচ্চারিত ও আতঙ্কিত শব্দের অপর নাম ‘কোভিড-১৯’ বা ‘নভেল করোনা ভাইরাস’। এ ভাইরাসের সংক্রমণের আশংকায় দেশের কয়েকটি জেলার মতো শেরপুরেও প্রথম ভাগ থেকেই প্রতিরোধে সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক-স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করে- যা এখনও চলমান রয়েছে। আর সংক্রমণ শুরুর সাথে সাথে স্বাস্থ্যবিভাগে চিকিৎসক-নার্সদের দায়িত্ব পালনে টানাপোড়েন শুরু হলেও পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ ঘোষণার প্রেক্ষিতে তারাও দায়িত্ব পালনে তৎপর হয়ে উঠেন। ফলে এখন সার্বিক পরিস্থিতি মোকাবেলায় জেলা প্রশাসনের সর্বাত্মক প্রচেষ্টায় চিকিৎসা খাতে চিকিৎসক-নার্সদের পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে পুলিশ, সেনাবাহিনী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক নেতা (বলতে গেলে এককভাবে আওয়ামী লীগ)সহ অন্যান্য কিছু প্রতিষ্ঠান-সংগঠন অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের আওতায় প্রশাসনের কর্মকর্তারা লকডাউনে কর্মহীন হয়ে পড়া অসহায় হতদরিদ্রদের মাঝে ঘরে ঘরে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন। এছাড়া জেলা পুলিশ বিভাগ, জনপ্রতিনিধি ও অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানসহ ব্যক্তি উদ্যোগেও বাড়ানো হচ্ছে সহায়তার হাত। তবে করোনা সেবায় সরাসরি যেমন কাজ করছে স্বাস্থ্য বিভাগ, ঠিক তেমনই সার্বিক পরিস্থিতি সামাল দিতে করোনায় আক্রান্ত রোগী ও তার পরিবারের লোকজনসহ আশেপাশের লোকজনদের সেবায় কাজ করছে প্রশাসন ও পুলিশের লোকজন। আর ঘটনা পরস্পরায় সব জায়গায় দৌড়ে কাজ করছেন গণমাধ্যম কর্মীরা। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে সর্বাগ্রে যাদের অবদান, সেই করোনা যোদ্ধা চিকিৎসক ও প্রশাসনের কোন কর্মকর্তা আক্রান্ত হওয়ার খবর সচেতন মহলের পাশাপাশি স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদেরও ভাবিয়ে তুলেছে। তবে শেরপুরের ওই অবস্থার বিপরীতে সুসংবাদও রয়েছে। আর তা হচ্ছে তখন পর্যন্ত আক্রান্ত ১৫ জনের মধ্যে ৫ জনই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন এবং আক্রান্তের দিক দিয়ে ময়মনসিংহ বিভাগে শেরপুর চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে।
সে-তো গেলো শেরপুরের চিত্র। কিন্তু পরিস্থিতি এখন এমন পর্যাযে যে, রাজধানী ঢাকার পর নারায়ণগঞ্জ এবং নারায়ণঞ্জের পর গাজীপুর, নরসিংদী, মুন্সিগঞ্জসহ দেশের দুই-তৃতীয়াংশ জেলাতেই সংক্রমণের বিস্তৃতি ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে ওইসব এলাকাসহ দেশের সর্বত্র এখন আতঙ্ক পেয়ে বসে প্রতিদিন দুঃসংবাদ বয়ে আনছে।

img-add

আর আর্ন্তজাতিক অঙ্গণের চিত্র তো আরও ভয়াবহ। কারণ বিশ্বের পরাক্রমশালী আধুনিক ও উন্নত রাষ্ট্র চীন থেকে উৎপত্তি হওয়া মরণঘাতী এই ভাইরাসের সংক্রমণে ইতোমধ্যে বিশ্বের ২১০ টি দেশ আক্রান্ত হয়েছে। আর চীনসহ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, স্পেন, ইতালি, ইরান, জার্মানীসহ বিভিন্ন দেশের প্রায় দেড় লাখেরও বেশী মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। আক্রান্ত হয়েছে প্রায় সাড়ে ২২ লাখ মানুষ। চলমান পরিস্থিতি এখন এমন পর্যায়ে উপনীত হয়েছে যে, পৃথিবীর সীমানা পেড়িয়ে এবার মহাকাশেও থাবা বসিয়েছে প্রাণঘাতী ভাইরাস করোনা। মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এভজিমি মিকরিন নামে এক রুশ নভোচারী। গত শুক্রবার মহাকাশ থেকে ফেরার পর তার শরীরে করোনা পজেটিভ পাওয়া যায়। তিনি কিভাবে আক্রান্ত হলেন তার স্পষ্ট ধারণা পাওয়া না গেলেও, ওই ঘটনার পর উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন মহাকাশ বিজ্ঞানীরা। অন্যদিকে তারই ধারাবাহিকতায় আমাদের অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় এগিয়ে চলা বাংলাদেশও আজ শতাব্দীর উর্ধ্বকালের নজিরবিহীন এক কঠিন সময় পার করছে। ২০ এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র দেড় মাসের ব্যবধানে দেশটিতে মৃত্যুবরণ করেছে ৯১ জন এবং আক্রান্ত হয়েছে প্রায় সাড়ে ২২শ মানুষ। অর্থাৎ বাংলাদেশে এখন শুরু হয়েছে সংক্রমণ পরিস্থিতির ক্রান্তিকাল। দেশ সংক্রমণের তৃতীয় স্তর থেকে চতুর্থ স্তরের দিকে যাচ্ছে বা সংক্রমণের চতুর্থ ধাপ মহামারীর দ্বারপ্রান্তে রয়েছে দেশের করোনা পরিস্থিতি। অনির্দিষ্ট হয়ে পড়ছে করোনা সংক্রমণের বাহক। ফলে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধসহ সার্বিক পরিস্থিতি মোকাবেলায় দেশে চলছে লকডাউনসহ সচেতনতামূলক নানা কর্মসূচি। ইতোমধ্যে সারাদেশকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে সরকার। পরিস্থিতি মোকাবেলায় তথা করোনা প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে সর্বাত্মক চেষ্টা করছে। ইত্যকার অবস্থায় পরিস্থিতি সামাল দিতে নাগরিক সচেতনতার প্রয়োজন যতোটা, দুর্ভাগ্যজনক হলেও ঠিক তার ততোটার বহিঃপ্রকাশ ঘটছে না। যদিও বিশ্বাসে কারও ঘাটতি নেই যে, পরিবারের কেউ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে তিনি কেবল সুস্থ হয়ে ফিরে না আসা পর্যন্ত আইসোলেশনে ভর্তি, চিকিৎসা ও মৃত্যুর পর কাফন-দাফন পর্যন্ত তাকে আর একনজর দেখার সুযোগটা পর্যন্ত নেই বা হবে না। সুতরাং উদ্ভূত অবস্থায় আমরা ঠিক কেমন সময় অতিবাহিত করছি তা সহজেই অনুমেয়। ফলে তাড়া করে ফেরা এই কঠিন সময়ে মনের ভেতর খোড়ল করে বসা ‘ভয়’র কারণে আত্মীয়-স্বজন দূরে থাক, সন্তান যাচ্ছে না বা যেতে দেওয়া হচ্ছে না পিতার লাশ বহন ও তার দাফন-কাফনে, কিংবা পিতা যাচ্ছে না বা যেতে দেওয়া হচ্ছে না সন্তানের লাশ বহন ও তার দাফন-কাফনে। ঢাকা বা করোনা ভাইরাস সংক্রমিত এলাকা ফেরত স্বামীকে ঘরে তুলছে না স্ত্রী। অন্যদিকে সেই ভয়কে জয় করতে আর্ন্তজাতিক বিশ্বে এখনও আবিস্কৃত হয়নি করোনার কোন ঔষধ বা ভ্যাকসিন। বিশ্বের অনেক পরাক্রমশালী রাষ্ট্রের চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা রাতদিন চেষ্টা করেও আবিস্কারের কিনারায় পৌঁছতে পারছেন না। আর এর মধ্য দিয়ে সহসা বা আদৌ সেই ভ্যাকসিন আবিস্কৃত হবে কিনা, বা পাওয়া যাবে কিনা, খোদ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতামতেও রয়েছে সংশয়। যে কারণে করোনা নিয়ে ভয় বাড়ছে বৈ কমছে না।
আর এমনই অবস্থায় সরকারের বিশেষ কড়াকড়িতেও স্বাস্থ্য বিভাগ ঘোষিত সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন, লোকজনের ভিড় বা সমাবেশ ত্যাগ করুন, অনিবার্য প্রয়োজন ছাড়া ঘরে অবস্থান করুন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুনসহ বিধি-নিষেধ বা সরকারি নির্দেশনা মানছেন না আমাদের দেশের সিংহভাগ নাগরিক। সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নেও সাধারণ মানুষের আন্তরিকতা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। সামাজিক দূরত্ব সৃষ্টির উদ্দেশ্যে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হলেও ছুটি পেয়ে মানুষ হেলাফেলায় দলবেধে যত্রতত্র যাতায়াত বা অবস্থান করছে, ভিড় করছে অলিগলিতে। ত্রাণ বা খাদ্য সহায়তা নিতেও মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। বাসার বাইরে যাতে বের হতে না পারে, সেজন্য দণ্ডনীয় বিধিনিষেধ প্রয়োগ করেও জনসমাগম থামানো যাচ্ছে না। মানুষের এমন ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে অনেকটাই অন্তরায় এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করাটাও কঠিন হয়ে পড়ছে। ফলে উল্টো করোনা সংক্রমণের উর্বর পরিবেশ তৈরী হচ্ছে। অর্থাৎ শহরসহ হাট-বাজারে যাতায়াত, গ্রামে-গঞ্জে চায়ের দোকানের আড্ডায় মেতে থেকে সামাজিক দূরত্বসহ স্বাস্থ্যবিধি না মেনে ঝুঁকির মুখে পড়ছেন অনেকেই।
ওই অবস্থায় করোনা ভাইরাসের বর্তমান পরিস্থিতি বৈশ্বিক মহামারী প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে বিশ্বের উন্নত দেশগুলোও আজ অসহায় হয়ে পড়ছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও আতংকমুক্ত থাকতে পারছে না। দেশে করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর করোনা প্রতিরোধে একের পর এক কার্যকর ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করেও এখন কঠিন হুমকির সম্মুখীন। ইতোমধ্যে সাধারণ ছুটি তৃতীয় দফায় বাড়ানো হয়েছে। ফের চলছে বাড়ানোর চিন্তা। ছুটির সময়ে কাঁচাবাজার, ঔষুধের দোকান ও হাসপাতালসহ জরুরী সেবা ব্যতিত অফিস আদালত থেকে শুরু করে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানসহ গণপরিবহন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ ৩১ দফা নির্দেশনা প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একের পর এক বাসা-বাড়ি এলাকা ও জেলা লকডাউন করা হচ্ছে। মাঝে-মধ্যে লকডাউন থেকে বাদ যাচ্ছেন না মানুয়ের জরুরী সেবা কেন্দ্র হাসপাতালও। মূলতঃ করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের গতি থামিয়ে দেওয়াই ওইসব উদ্যোগ গ্রহণের একমাত্র লক্ষ্য। আর তাই দেশের মানুষ সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে ওইসব উদ্যোগে যদি সাড়া না দেয়, সরকারি বিধি নিষেধগুলো পালন না করে, সামাজিক সংক্রমণের বিস্তার যদি থামানো না যায়, তবে প্রতিদিন করোনায় মৃত্যুর যে রেকর্ড গড়ছে, তাতে অচিরেই দেশের করোনা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেবে। তাই বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী বলা যায়, দেশের বর্তমান করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারি নির্দেশনাসমূহ পালনের কোন বিকল্প নেই। করোনা নিরাময়ে এখনও যেহেতু আবিস্কৃত হয়নি কোন ঔষধ বা ভ্যাকসিন, সেহেতু এমন অবস্থায় নিজেকে, নিজের পরিবারকে ও দেশবাসীকে বাঁচাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতেই হবে, ঘরে অবস্থান করতেই হবে। সেইসাথে করোনা সংকটের মুহূর্তে জাতি হিসেবে আমাদের বিভক্ত হলেও চলবে না। আমাদের মনে রাখতে হবে- এ লড়াই সবার বাঁচার লড়াই- যে লড়াইয়ে জেতা কোন অস্ত্র বা মারণাস্ত্র দ্বারা সম্ভব নয়, যে লড়াই- সর্বোপরি সতর্কতার, সচেতনতার ও নিজেদের সুরক্ষার। সুতরাং এ লড়াইয়ে নিজে বাঁচতে হবে এবং অপরকেও বাঁচাতে হবে। পরস্পর পরস্পরকে সুরক্ষা না দিলে, নিজেদের সুরক্ষাই হুমকির মুখে পড়বে। তাই সম্মিলিতভাবে করোনা মোকাবেলায় ঘরে ঘরে সচেতনতার দূর্গ গড়ে তুলতে হবে। আর এমনই অবস্থায় ‘ঘরে থাকা’ ও ‘সামাজিক দূরত্বই হোক করোনায় রক্ষাকবচ’- ‘সচেতনতা আর স্বাস্থ্যবিধিই হোক করোনায় বাঁচার মহৌষধ।
তাং : ২০/০৪/২০২০ ইং।
লেখক : সাংবাদিক, আইনজীবী ও রাজনীতিক, শেরপুর, ই-মেইল : press.adhar@gmail.com

অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ খবর



» শেরপুরে প্রেমের অভিনয়ে মোবাইল ফোনে স্কুলছাত্রীকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ : ধর্ষকসহ গ্রেফতার ৩

» ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়ার স্ত্রী আনোয়ারা বেগমের মৃত্যু

» এবার বিয়ে বিতর্কে নোবেল

» ভারত মহাসাগরের টেকটনিক প্লেট ভেঙে দু’টুকরা, ভয়াবহ ভূমিকম্পের আশঙ্কা

» সিরাজগঞ্জে নৌকাডুবি, শিশুসহ ৩ জনের লাশ উদ্ধার, নিখোঁজ ৩০

» মালদ্বীপ থেকে ফিরলেন ১২০০ জন

» ঈদের দিনও বিষোদগার থেকে বেরুতে পারেনি বিএনপি : তথ্যমন্ত্রী

» ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা আক্রান্ত ১১৬৬, মৃত্যু ২১

» করোনায় নিলুফার মঞ্জুরের মৃত্যু

» ঝিনাইগাতীতে কালবৈশাখীর ছোবলে ঘরবাড়ি ও সবজি ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি

» শেরপুরে করোনা পরিস্থিতে মসজিদে মসজিদে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায়

» ভিন্ন এক আবহে অন্যরকম ঈদ উদযাপন

» সম্প্রীতির শিক্ষা ছড়িয়ে পড়ুক, গড়ে উঠুক সমৃদ্ধ দেশ : রাষ্ট্রপতি

» শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে ঈদ পালন করুন : কাদের

» তিনটি জীবন্ত ‘করোনা ভাইরাস’ ছিল উহানের ল্যাবে!

সম্পাদক-প্রকাশক : রফিকুল ইসলাম আধার
উপদেষ্টা সম্পাদক : সোলায়মান খাঁন মজনু
নির্বাহী সম্পাদক : মোহাম্মদ জুবায়ের রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১ : ফারহানা পারভীন মুন্নী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : আলমগীর কিবরিয়া কামরুল
বার্তা সম্পাদক-১ : রেজাউল করিম বকুল
বার্তা সম্পাদক-২ : মোঃ ফরিদুজ্জামান।
যোগাযোগ : সম্পাদক : ০১৭২০০৭৯৪০৯
নির্বাহী সম্পাদক : ০১৯১২০৪৯৯৪৬
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১: ০১৭১৬৪৬২২৫৫
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : ০১৭১৪২৬১৩৫০
বার্তা সম্পাদক-১ : ০১৭১৩৫৬৪২২৫
বার্তা সম্পাদক -২ : ০১৯২১-৯৫৫৯০৬
বিজ্ঞাপন : ০১৭১২৮৫৩৩০৩
ইমেইল : shamolbangla2013@gmail.com.

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । ওয়েবসাইট তৈরি করেছে- BD iT Zone

  রাত ১১:২৭ | মঙ্গলবার | ২৬শে মে, ২০২০ ইং | ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ঘরে অবস্থান ও সামাজিক দূরত্বই হোক করোনায় রক্ষাকবচ ॥ রফিকুল ইসলাম আধার

‘শেরপুরে ২৪ ঘন্টায় ২ চিকিৎসক ও পুলিশ কর্মকর্তাসহ ৬ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত’- গত ১৭ এপ্রিলের এমন খবর শেরপুরে করোনা ভাইরাসজনিত পরিস্থিতিতে আতঙ্কের মাত্রা আরও একধাপ বাড়িয়ে দেয়। কারণ সেদিন পর্যন্ত জেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে কোন প্রাণহানির ঘটনা না ঘটলেও, একদিনে সর্বোচ্চ ওই আক্রান্তের মধ্যেই রয়েছেন ২ চিকিৎসকসহ ৪ জন (নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ২ চিকিৎসক, সিভিল সার্জন অফিসের এক এমএলএসএস ও জেলা সদর হাসপাতালের এক এ্যাম্বুল্যান্স চালক) এবং সেদিন পর্যন্ত জেলায় মোট আক্রান্ত ১৫ জনের মধ্যে কেবল স্বাস্থ্য বিভাগেরই ৮ জন। এছাড়া একই সাথে নতুন করে যোগ হয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর এক কর্মকর্তা। অর্থাৎ মোট আক্রান্তের বেশিরভাগই স্বস্থ্য বিভাগের লোক। সঙ্গত কারণে আক্রান্তের ওই ফলাফল পাওয়ার পর পরই জেলা সদর হাসপাতাল ও নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্যক্রম লকডাউনের আদলে স্থগিত করা হয়। প্রায় একই পর্যায়ে পৌঁছে ঝিনাইগাতী থানার কার্যক্রমও। সেইসাথে ২ হাসপাতালসহ ওই থানার দায়িত্ব পালনকারী অধিকাংশ জনবলকে পাঠানো হয় কোয়ারেন্টিনে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড় উঠলে পরে অবশ্য জীবাণুমুক্তকরণ সাপেক্ষে ২টি হাসপাতালে জরুরী সেবা এবং থানায় জেলা সদর থেকে নতুন জনবল নিয়ে কার্যক্রম সচল করা হয়। সুতরাং ওই অবস্থায় জেলায় খোদ নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকন্ঠার পাশাপাশি আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়াটাই স্বাভাবিক।
বলাবাহুল্য পৃথিবীর ঘূর্ণায়মান গতিতে একবিংশ শতাব্দীর রজতজয়ন্তীর দিকে এগিয়ে যাওয়া পরিবর্তনশীল আধুনিক বিশ্বের এই সময়ে সর্বাধিক আলোচিত, উচ্চারিত ও আতঙ্কিত শব্দের অপর নাম ‘কোভিড-১৯’ বা ‘নভেল করোনা ভাইরাস’। এ ভাইরাসের সংক্রমণের আশংকায় দেশের কয়েকটি জেলার মতো শেরপুরেও প্রথম ভাগ থেকেই প্রতিরোধে সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক-স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করে- যা এখনও চলমান রয়েছে। আর সংক্রমণ শুরুর সাথে সাথে স্বাস্থ্যবিভাগে চিকিৎসক-নার্সদের দায়িত্ব পালনে টানাপোড়েন শুরু হলেও পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ ঘোষণার প্রেক্ষিতে তারাও দায়িত্ব পালনে তৎপর হয়ে উঠেন। ফলে এখন সার্বিক পরিস্থিতি মোকাবেলায় জেলা প্রশাসনের সর্বাত্মক প্রচেষ্টায় চিকিৎসা খাতে চিকিৎসক-নার্সদের পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে পুলিশ, সেনাবাহিনী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক নেতা (বলতে গেলে এককভাবে আওয়ামী লীগ)সহ অন্যান্য কিছু প্রতিষ্ঠান-সংগঠন অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের আওতায় প্রশাসনের কর্মকর্তারা লকডাউনে কর্মহীন হয়ে পড়া অসহায় হতদরিদ্রদের মাঝে ঘরে ঘরে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন। এছাড়া জেলা পুলিশ বিভাগ, জনপ্রতিনিধি ও অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানসহ ব্যক্তি উদ্যোগেও বাড়ানো হচ্ছে সহায়তার হাত। তবে করোনা সেবায় সরাসরি যেমন কাজ করছে স্বাস্থ্য বিভাগ, ঠিক তেমনই সার্বিক পরিস্থিতি সামাল দিতে করোনায় আক্রান্ত রোগী ও তার পরিবারের লোকজনসহ আশেপাশের লোকজনদের সেবায় কাজ করছে প্রশাসন ও পুলিশের লোকজন। আর ঘটনা পরস্পরায় সব জায়গায় দৌড়ে কাজ করছেন গণমাধ্যম কর্মীরা। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে সর্বাগ্রে যাদের অবদান, সেই করোনা যোদ্ধা চিকিৎসক ও প্রশাসনের কোন কর্মকর্তা আক্রান্ত হওয়ার খবর সচেতন মহলের পাশাপাশি স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদেরও ভাবিয়ে তুলেছে। তবে শেরপুরের ওই অবস্থার বিপরীতে সুসংবাদও রয়েছে। আর তা হচ্ছে তখন পর্যন্ত আক্রান্ত ১৫ জনের মধ্যে ৫ জনই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন এবং আক্রান্তের দিক দিয়ে ময়মনসিংহ বিভাগে শেরপুর চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে।
সে-তো গেলো শেরপুরের চিত্র। কিন্তু পরিস্থিতি এখন এমন পর্যাযে যে, রাজধানী ঢাকার পর নারায়ণগঞ্জ এবং নারায়ণঞ্জের পর গাজীপুর, নরসিংদী, মুন্সিগঞ্জসহ দেশের দুই-তৃতীয়াংশ জেলাতেই সংক্রমণের বিস্তৃতি ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে ওইসব এলাকাসহ দেশের সর্বত্র এখন আতঙ্ক পেয়ে বসে প্রতিদিন দুঃসংবাদ বয়ে আনছে।

img-add

আর আর্ন্তজাতিক অঙ্গণের চিত্র তো আরও ভয়াবহ। কারণ বিশ্বের পরাক্রমশালী আধুনিক ও উন্নত রাষ্ট্র চীন থেকে উৎপত্তি হওয়া মরণঘাতী এই ভাইরাসের সংক্রমণে ইতোমধ্যে বিশ্বের ২১০ টি দেশ আক্রান্ত হয়েছে। আর চীনসহ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, স্পেন, ইতালি, ইরান, জার্মানীসহ বিভিন্ন দেশের প্রায় দেড় লাখেরও বেশী মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। আক্রান্ত হয়েছে প্রায় সাড়ে ২২ লাখ মানুষ। চলমান পরিস্থিতি এখন এমন পর্যায়ে উপনীত হয়েছে যে, পৃথিবীর সীমানা পেড়িয়ে এবার মহাকাশেও থাবা বসিয়েছে প্রাণঘাতী ভাইরাস করোনা। মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এভজিমি মিকরিন নামে এক রুশ নভোচারী। গত শুক্রবার মহাকাশ থেকে ফেরার পর তার শরীরে করোনা পজেটিভ পাওয়া যায়। তিনি কিভাবে আক্রান্ত হলেন তার স্পষ্ট ধারণা পাওয়া না গেলেও, ওই ঘটনার পর উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন মহাকাশ বিজ্ঞানীরা। অন্যদিকে তারই ধারাবাহিকতায় আমাদের অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় এগিয়ে চলা বাংলাদেশও আজ শতাব্দীর উর্ধ্বকালের নজিরবিহীন এক কঠিন সময় পার করছে। ২০ এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র দেড় মাসের ব্যবধানে দেশটিতে মৃত্যুবরণ করেছে ৯১ জন এবং আক্রান্ত হয়েছে প্রায় সাড়ে ২২শ মানুষ। অর্থাৎ বাংলাদেশে এখন শুরু হয়েছে সংক্রমণ পরিস্থিতির ক্রান্তিকাল। দেশ সংক্রমণের তৃতীয় স্তর থেকে চতুর্থ স্তরের দিকে যাচ্ছে বা সংক্রমণের চতুর্থ ধাপ মহামারীর দ্বারপ্রান্তে রয়েছে দেশের করোনা পরিস্থিতি। অনির্দিষ্ট হয়ে পড়ছে করোনা সংক্রমণের বাহক। ফলে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধসহ সার্বিক পরিস্থিতি মোকাবেলায় দেশে চলছে লকডাউনসহ সচেতনতামূলক নানা কর্মসূচি। ইতোমধ্যে সারাদেশকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে সরকার। পরিস্থিতি মোকাবেলায় তথা করোনা প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে সর্বাত্মক চেষ্টা করছে। ইত্যকার অবস্থায় পরিস্থিতি সামাল দিতে নাগরিক সচেতনতার প্রয়োজন যতোটা, দুর্ভাগ্যজনক হলেও ঠিক তার ততোটার বহিঃপ্রকাশ ঘটছে না। যদিও বিশ্বাসে কারও ঘাটতি নেই যে, পরিবারের কেউ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে তিনি কেবল সুস্থ হয়ে ফিরে না আসা পর্যন্ত আইসোলেশনে ভর্তি, চিকিৎসা ও মৃত্যুর পর কাফন-দাফন পর্যন্ত তাকে আর একনজর দেখার সুযোগটা পর্যন্ত নেই বা হবে না। সুতরাং উদ্ভূত অবস্থায় আমরা ঠিক কেমন সময় অতিবাহিত করছি তা সহজেই অনুমেয়। ফলে তাড়া করে ফেরা এই কঠিন সময়ে মনের ভেতর খোড়ল করে বসা ‘ভয়’র কারণে আত্মীয়-স্বজন দূরে থাক, সন্তান যাচ্ছে না বা যেতে দেওয়া হচ্ছে না পিতার লাশ বহন ও তার দাফন-কাফনে, কিংবা পিতা যাচ্ছে না বা যেতে দেওয়া হচ্ছে না সন্তানের লাশ বহন ও তার দাফন-কাফনে। ঢাকা বা করোনা ভাইরাস সংক্রমিত এলাকা ফেরত স্বামীকে ঘরে তুলছে না স্ত্রী। অন্যদিকে সেই ভয়কে জয় করতে আর্ন্তজাতিক বিশ্বে এখনও আবিস্কৃত হয়নি করোনার কোন ঔষধ বা ভ্যাকসিন। বিশ্বের অনেক পরাক্রমশালী রাষ্ট্রের চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা রাতদিন চেষ্টা করেও আবিস্কারের কিনারায় পৌঁছতে পারছেন না। আর এর মধ্য দিয়ে সহসা বা আদৌ সেই ভ্যাকসিন আবিস্কৃত হবে কিনা, বা পাওয়া যাবে কিনা, খোদ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতামতেও রয়েছে সংশয়। যে কারণে করোনা নিয়ে ভয় বাড়ছে বৈ কমছে না।
আর এমনই অবস্থায় সরকারের বিশেষ কড়াকড়িতেও স্বাস্থ্য বিভাগ ঘোষিত সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন, লোকজনের ভিড় বা সমাবেশ ত্যাগ করুন, অনিবার্য প্রয়োজন ছাড়া ঘরে অবস্থান করুন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুনসহ বিধি-নিষেধ বা সরকারি নির্দেশনা মানছেন না আমাদের দেশের সিংহভাগ নাগরিক। সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নেও সাধারণ মানুষের আন্তরিকতা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। সামাজিক দূরত্ব সৃষ্টির উদ্দেশ্যে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হলেও ছুটি পেয়ে মানুষ হেলাফেলায় দলবেধে যত্রতত্র যাতায়াত বা অবস্থান করছে, ভিড় করছে অলিগলিতে। ত্রাণ বা খাদ্য সহায়তা নিতেও মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। বাসার বাইরে যাতে বের হতে না পারে, সেজন্য দণ্ডনীয় বিধিনিষেধ প্রয়োগ করেও জনসমাগম থামানো যাচ্ছে না। মানুষের এমন ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে অনেকটাই অন্তরায় এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করাটাও কঠিন হয়ে পড়ছে। ফলে উল্টো করোনা সংক্রমণের উর্বর পরিবেশ তৈরী হচ্ছে। অর্থাৎ শহরসহ হাট-বাজারে যাতায়াত, গ্রামে-গঞ্জে চায়ের দোকানের আড্ডায় মেতে থেকে সামাজিক দূরত্বসহ স্বাস্থ্যবিধি না মেনে ঝুঁকির মুখে পড়ছেন অনেকেই।
ওই অবস্থায় করোনা ভাইরাসের বর্তমান পরিস্থিতি বৈশ্বিক মহামারী প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে বিশ্বের উন্নত দেশগুলোও আজ অসহায় হয়ে পড়ছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও আতংকমুক্ত থাকতে পারছে না। দেশে করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর করোনা প্রতিরোধে একের পর এক কার্যকর ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করেও এখন কঠিন হুমকির সম্মুখীন। ইতোমধ্যে সাধারণ ছুটি তৃতীয় দফায় বাড়ানো হয়েছে। ফের চলছে বাড়ানোর চিন্তা। ছুটির সময়ে কাঁচাবাজার, ঔষুধের দোকান ও হাসপাতালসহ জরুরী সেবা ব্যতিত অফিস আদালত থেকে শুরু করে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানসহ গণপরিবহন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ ৩১ দফা নির্দেশনা প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একের পর এক বাসা-বাড়ি এলাকা ও জেলা লকডাউন করা হচ্ছে। মাঝে-মধ্যে লকডাউন থেকে বাদ যাচ্ছেন না মানুয়ের জরুরী সেবা কেন্দ্র হাসপাতালও। মূলতঃ করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের গতি থামিয়ে দেওয়াই ওইসব উদ্যোগ গ্রহণের একমাত্র লক্ষ্য। আর তাই দেশের মানুষ সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে ওইসব উদ্যোগে যদি সাড়া না দেয়, সরকারি বিধি নিষেধগুলো পালন না করে, সামাজিক সংক্রমণের বিস্তার যদি থামানো না যায়, তবে প্রতিদিন করোনায় মৃত্যুর যে রেকর্ড গড়ছে, তাতে অচিরেই দেশের করোনা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেবে। তাই বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী বলা যায়, দেশের বর্তমান করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারি নির্দেশনাসমূহ পালনের কোন বিকল্প নেই। করোনা নিরাময়ে এখনও যেহেতু আবিস্কৃত হয়নি কোন ঔষধ বা ভ্যাকসিন, সেহেতু এমন অবস্থায় নিজেকে, নিজের পরিবারকে ও দেশবাসীকে বাঁচাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতেই হবে, ঘরে অবস্থান করতেই হবে। সেইসাথে করোনা সংকটের মুহূর্তে জাতি হিসেবে আমাদের বিভক্ত হলেও চলবে না। আমাদের মনে রাখতে হবে- এ লড়াই সবার বাঁচার লড়াই- যে লড়াইয়ে জেতা কোন অস্ত্র বা মারণাস্ত্র দ্বারা সম্ভব নয়, যে লড়াই- সর্বোপরি সতর্কতার, সচেতনতার ও নিজেদের সুরক্ষার। সুতরাং এ লড়াইয়ে নিজে বাঁচতে হবে এবং অপরকেও বাঁচাতে হবে। পরস্পর পরস্পরকে সুরক্ষা না দিলে, নিজেদের সুরক্ষাই হুমকির মুখে পড়বে। তাই সম্মিলিতভাবে করোনা মোকাবেলায় ঘরে ঘরে সচেতনতার দূর্গ গড়ে তুলতে হবে। আর এমনই অবস্থায় ‘ঘরে থাকা’ ও ‘সামাজিক দূরত্বই হোক করোনায় রক্ষাকবচ’- ‘সচেতনতা আর স্বাস্থ্যবিধিই হোক করোনায় বাঁচার মহৌষধ।
তাং : ২০/০৪/২০২০ ইং।
লেখক : সাংবাদিক, আইনজীবী ও রাজনীতিক, শেরপুর, ই-মেইল : press.adhar@gmail.com

সর্বশেষ খবর



অন্যান্য খবর



সম্পাদক-প্রকাশক : রফিকুল ইসলাম আধার
উপদেষ্টা সম্পাদক : সোলায়মান খাঁন মজনু
নির্বাহী সম্পাদক : মোহাম্মদ জুবায়ের রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১ : ফারহানা পারভীন মুন্নী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : আলমগীর কিবরিয়া কামরুল
বার্তা সম্পাদক-১ : রেজাউল করিম বকুল
বার্তা সম্পাদক-২ : মোঃ ফরিদুজ্জামান।
যোগাযোগ : সম্পাদক : ০১৭২০০৭৯৪০৯
নির্বাহী সম্পাদক : ০১৯১২০৪৯৯৪৬
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১: ০১৭১৬৪৬২২৫৫
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : ০১৭১৪২৬১৩৫০
বার্তা সম্পাদক-১ : ০১৭১৩৫৬৪২২৫
বার্তা সম্পাদক -২ : ০১৯২১-৯৫৫৯০৬
বিজ্ঞাপন : ০১৭১২৮৫৩৩০৩
ইমেইল : shamolbangla2013@gmail.com.

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । ওয়েবসাইট তৈরি করেছে- BD iT Zone

error: Content is protected !!